ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Amdocal 10 mg Tablet — Amlodipine

Tablet

Amdocal 10 mg Tablet

জেনেরিক: অ্যামলোডিপিন

প্রস্তুতকারক: Beximco Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Calcium channel blocker (dihydropyridine) — antihypertensive and anti-anginal

Amdocal এর কাজ কি?

Amdocal 10 mg Tablet-এ আছে amlodipine, যা dihydropyridine ধরনের calcium channel blocker; এটি Beximco Pharmaceuticals Ltd. তৈরি করে। এটি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহজনিত বুকব্যথা বা angina নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 8.00
Strip of 15 ৳ 120.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Amdocal কী?

Amdocal 10 mg Tablet-এ আছে amlodipine, যা dihydropyridine ধরনের calcium channel blocker; এটি Beximco Pharmaceuticals Ltd. তৈরি করে। এটি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এবং হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহজনিত বুকব্যথা বা angina নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

Amdocal 10 mg tablet হলো Beximco Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Amlodipine। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রক্তচাপের ট্যাবলেটগুলোর একটি — এককভাবে বা অন্য ওষুধের সঙ্গে দেওয়া হয়; হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল কমে বুকব্যথা (অ্যানজাইনা) হলেও ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ সময় কাজ করে বলে দিনে একবার খেলেই চলে।

অ্যামলোডিপিন একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার। ধমনির দেয়ালের পেশি সংকুচিত হতে ক্যালসিয়াম লাগে; অ্যামলোডিপিন সেই কোষে ক্যালসিয়াম ঢোকা কমিয়ে দেয়, ফলে ধমনির দেয়াল শিথিল হয়ে প্রশস্ত হয়। প্রশস্ত ও শিথিল ধমনিতে হৃদপিণ্ডকে কম বাধার বিরুদ্ধে পাম্প করতে হয় — রক্তচাপ কমে — আর হৃদপিণ্ডের পেশিও সহজে রক্ত পায়, ফলে অ্যানজাইনার ব্যথা কমে ও প্রতিরোধ হয়। এর কাজ কয়েক দিনে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, তাই রক্তচাপ হঠাৎ পড়ে যায় না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Amdocal যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • উচ্চ রক্তচাপ — প্রথম সারির ওষুধ হিসেবে; এককভাবে বা এআরবি, এসিই ইনহিবিটর, ডাইউরেটিক বা বিটা-ব্লকারের সঙ্গে।
  • ক্রনিক স্টেবল অ্যানজাইনা — করোনারি ধমনি সরু হয়ে পরিশ্রমে বুকব্যথা।
  • ভেসোস্পাস্টিক (প্রিঞ্জমেটাল) অ্যানজাইনা — করোনারি ধমনির খিঁচুনিজনিত বুকব্যথা।

দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি কমায়। এককভাবে না কম্বিনেশনে — তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

আপনার রক্তচাপের রিডিং ও সাড়া দেখে চিকিৎসক Amdocal-এর ডোজ ঠিক করবেন। সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে একবার ৫ মি.গ্রা. (বয়স্ক-দুর্বল রোগী ও লিভারের রোগে ২.৫ মি.গ্রা.); প্রয়োজনে ১–২ সপ্তাহ পর দিনে একবার ১০ মি.গ্রা. করা হয়। রক্তচাপের ওপর পূর্ণ প্রভাব এক-দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে আসে।

  • প্রতিদিন একই সময়ে একবার খান — খাবারসহ বা খালি পেটে।
  • ডোজ মিস হলে সেদিনই মনে পড়ামাত্র খান; পরের ডোজ কাছাকাছি হলে বাদ দিন — ডাবল ডোজ নয়।
  • প্রেশারের রিডিং স্বাভাবিক হলেও নিজে থেকে Amdocal বন্ধ করবেন না — রিডিং স্বাভাবিক মানে ট্যাবলেট কাজ করছে; বন্ধ করলে চাপ নীরবে আবার বেড়ে যাবে।
  • নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের জন্য রেকর্ড রাখুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Amdocal-এর বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ডোজের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সময়ের সঙ্গে প্রায়ই কমে যায়:

  • গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফোলা (ইডিমা) — সবচেয়ে পরিচিত প্রতিক্রিয়া; ছোট রক্তনালি প্রশস্ত হওয়ার কারণে হয়, কিডনি বা হার্ট ফেইলিউরের কারণে নয়। ১০ মি.গ্রা. ডোজে ও নারীদের বেশি হয়। পা উঁচু করে রাখলে আরাম হয়; বেশি অসুবিধা হলে চিকিৎসককে জানান — ডোজ কমানো বা কম্বিনেশনে যাওয়া হতে পারে।
  • মুখ-গরম ভাব, লালচে হওয়া বা মাথাব্যথা — সাধারণত প্রথম কয়েক দিনে।
  • মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি
  • বুক ধড়ফড়
  • তুলনামূলক কম: মাড়ি ফোলা, পেটের সমস্যা, পেশিতে খিঁচ বা র‍্যাশ।

বুকব্যথা বেড়ে গেলে, অজ্ঞান হলে বা মারাত্মক ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

Amdocal ব্যবহারে মনে রাখার বিষয়:

  • গোড়ালি ফোলা সাধারণ ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরীহ, তবু চিকিৎসককে অবশ্যই জানান — যেন অন্য কারণ বাদ দেওয়া যায় ও ডোজ পর্যালোচনা হয়।
  • প্রথম কয়েক দিন বসা বা শোয়া থেকে ধীরে উঠুন — মাথা ঘোরা এড়াতে।
  • লিভারের গুরুতর রোগ, মারাত্মক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক থাকলে চিকিৎসককে জানান — এসব ক্ষেত্রে ডোজ সাবধানে ঠিক করা হয়।
  • রোজা, ভ্রমণ বা ছোটখাটো অসুস্থতায়ও চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশ না থাকলে ট্যাবলেট চালিয়ে যান।
  • অতিরিক্ত লবণ কমান, ওজন ঠিক রাখুন, নিয়মিত হাঁটুন ও তামাক এড়িয়ে চলুন — জীবনযাত্রাই রক্তচাপ চিকিৎসার অর্ধেক।
  • বেশি পরিমাণ জাম্বুরা/গ্রেপফ্রুটের রস ওষুধের মাত্রা সামান্য বাড়াতে পারে; পরিমিত থাকাই ভালো।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Amdocal-এর সঙ্গে যেসব ওষুধ খান, সব চিকিৎসককে জানান:

  • অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ, নাইট্রেট, আলফা-ব্লকার এবং প্রোস্টেট বা যৌন-দুর্বলতার ওষুধ — একসঙ্গে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি।
  • CYP3A4 ইনহিবিটর — ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, এরিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির ও বেশি পরিমাণ জাম্বুরার রস অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়ায়।
  • CYP3A4 ইনডিউসার — রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
  • সিমভাস্ট্যাটিন — অ্যামলোডিপিন এর মাত্রা বাড়ায়; দৈনিক ২০ মি.গ্রা.-র বেশি সিমভাস্ট্যাটিন এড়িয়ে চলা হয়।
  • সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাস — মাত্রা বাড়তে পারে; নজরদারি দরকার।
  • NSAID ব্যথানাশক — নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Amdocal ব্যবহার করা যাবে না:

  • অ্যামলোডিপিন, অন্য ডাইহাইড্রোপিরিডিন বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • মারাত্মক নিম্ন রক্তচাপ (যেমন সিস্টোলিক ৯০ মি.মি. পারদের নিচে)।
  • শক — কার্ডিওজেনিক শকসহ।
  • মারাত্মক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস — হৃদপিণ্ডের রক্ত বের হওয়ার পথে বাধা।
  • তীব্র হার্ট অ্যাটাকের পর অস্থিতিশীল হার্ট ফেইলিউর

লিভারের রোগ ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিষেধ নয়, তবে বাড়তি সতর্কতা দরকার — কম ডোজ বেছে নেওয়া হয়।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় অ্যামলোডিপিনের নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে তবেই চিকিৎসক Amdocal দেবেন; গর্ভাবস্থার উচ্চ রক্তচাপে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অন্য ওষুধই প্রায়ই অগ্রাধিকার পায়। গর্ভধারণ জানতে পেরে রক্তচাপের ওষুধ হুট করে বন্ধ করবেন না — অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ মা ও শিশু দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। পরিকল্পিতভাবে ওষুধ বদলাতে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

স্তন্যদান: বুকের দুধে অ্যামলোডিপিন সামান্য পরিমাণে যায়। প্রাপ্ত তথ্যে দুধ-খাওয়া শিশুর ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি, তবে স্তন্যদানকালে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করুন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা খাওয়ায় অনীহা আছে কি না খেয়াল রাখুন।

সংরক্ষণ

Amdocal ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টারে রাখুন। সব ওষুধের মতো এটিও শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভালো বোধ করলে বা প্রেশারের রিডিং স্বাভাবিক হলে কি Amdocal বন্ধ করতে পারি?

না — নিজে থেকে কখনোই Amdocal বন্ধ করবেন না। উচ্চ রক্তচাপে সাধারণত কোনো উপসর্গই থাকে না; রিডিং স্বাভাবিক আছে কারণ ট্যাবলেটটি প্রতিদিন কাজ করছে। বন্ধ করলে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহেই চাপ আবার বেড়ে গিয়ে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের ওপর নীরবে চাপ ফেলবে — অনেক স্ট্রোক এভাবেই ঘটে। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা সাধারণত আজীবনের। ডোজ কমানো যায় মনে হলে বাসার রিডিংগুলো নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান — তিনি ধাপে ধাপে নিরাপদে সমন্বয় করবেন।

Amdocal শুরু করার পর গোড়ালি ফুলছে — এটা কি বিপজ্জনক?

গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফোলা অ্যামলোডিপিনের সবচেয়ে পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ওষুধটি শিরার তুলনায় ছোট ধমনিগুলো বেশি প্রশস্ত করে বলে গোড়ালির আশপাশের টিস্যুতে কিছু তরল জমে — এটি কিডনি বা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ নয়। বেশি ডোজে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ও গরমে এটি বেশি হয়। বসার সময় পা উঁচু রাখা, হালকা হাঁটা ও একটানা দাঁড়িয়ে না থাকা সাহায্য করে। চিকিৎসককে জানান — অসুবিধা হলে ডোজ কমানো বা (প্রায়ই এআরবিসহ) কম্বিনেশনে যাওয়া যায়, তাতে ফোলা কমে। তবে হঠাৎ এক পায়ে ব্যথাসহ ফোলা ভিন্ন ব্যাপার — দ্রুত চিকিৎসা নিন।

Amdocal রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে কত দিন লাগে?

অ্যামলোডিপিন ইচ্ছাকৃতভাবেই ধীরে কাজ করে। ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছুটা প্রভাব টের পেতে পারেন, কিন্তু প্রতিদিন নিয়মিত খেলে পূর্ণ রক্তচাপ-হ্রাসকারী প্রভাব আসে এক থেকে দুই সপ্তাহে; ডোজ বদলানো দরকার কি না বিচার করতে চিকিৎসক সাধারণত অন্তত এই সময়টুকু অপেক্ষা করেন। এই ধীর ও মসৃণ সূচনা আসলে সুবিধা — হঠাৎ চাপ পড়ে গিয়ে মাথা ঘোরা এড়ায়। প্রতিদিন একই সময়ে খান, বাসায় নিয়মিত প্রেশার মাপুন এবং নিজে কিছু না বদলে রেকর্ডটি ফলোআপে চিকিৎসককে দেখান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →