ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
A medicine strip and a clock showing sehri and iftar times with dates and a glass of water

রমজানে ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম

প্রতি রমজানে অনেকে নিশ্চিত না থাকায় চুপচাপ তাঁদের নিয়মিত ওষুধ বন্ধ বা বাদ দিয়ে দেন। এটিই এই মাসের সবচেয়ে সাধারণ ও বিপজ্জনক ভুলগুলোর একটি। বেশিরভাগ ওষুধই রোজা না ভেঙে ইফতার ও সেহরির সময়ে সাজিয়ে নেওয়া যায়, আর রমজানের আগে ডাক্তারের সঙ্গে অল্প একটু কথা বললেই প্রায় সব সমস্যা এড়ানো যায়।

রোজা রেখে কি দৈনিক ওষুধ খাওয়া যায়?

রোজার সময় ট্যাবলেট খাওয়া যায় না, তবে প্রায় সবসময়ই সেগুলো রোজার বাইরের সময়ে সরিয়ে নেওয়া যায়। দিনে একবারের ওষুধ সাধারণত ইফতার বা সেহরিতে চলে যায়। দিনে দুইবারের ওষুধ ইফতার ও সেহরিতে সুন্দরভাবে বসে যায়। শুধু দিনে তিনবারের কিছু ওষুধ সত্যিকার অর্থে রোজার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, আর সেগুলোর জন্য ডাক্তার প্রায়ই মাসটিতে একবার বা দুইবারের সংস্করণে বদলে দিতে পারেন।

রমজানের জন্য কি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ বন্ধ করা উচিত?

না, নিজে থেকে কখনো নয়। প্রেসার, হার্ট, থাইরয়েড, মৃগী ও মানসিক রোগের ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে, শুধু সময় ঠিক করে নিয়ে। রোজার জন্য প্রেসার বা হার্টের ওষুধ বন্ধ করলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কোন ট্যাবলেট কী জন্য তা না জানলে মেডিসিন ডিরেক্টরিতে দেখে নিন, তারপর অনুমান না করে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন কীভাবে সময় বদলাবেন।

রমজানে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে কী?

অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেভাবেই শেষ করতে হবে, রমজানেও। সময় বেমানান বলে মাঝপথে বন্ধ করলে সংক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ে। যদি দিনে তিন-চারবার অ্যান্টিবায়োটিক লাগে, শুরুর আগেই ডাক্তারকে বলুন; তিনি ইফতার-সেহরির সঙ্গে মানানসই অন্য একটি অ্যান্টিবায়োটিক বেছে দিতে পারেন, অথবা পরামর্শ দিতে পারেন যে অসুস্থতাই কয়েকদিন রোজা না রাখার বৈধ কারণ।

কোন ওষুধে রোজা ভাঙে না?

বেশিরভাগ আলেমের মতে, যেসব ওষুধ খাবার বা পানীয় হিসেবে পেটে পৌঁছায় না, সেগুলোতে রোজা ভাঙে না। সাধারণত এর মধ্যে আছে চোখ ও কানের ড্রপ, ত্বকের ক্রিম, হাঁপানির ইনহেলার এবং ইনসুলিন বা টিকার মতো ইনজেকশন। গিলে খাওয়া যেকোনো কিছু (ট্যাবলেট, সিরাপ, ক্যাপসুল) রোজা ভাঙে, তাই সেগুলো রোজার বাইরের সময়ের জন্য। ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহ থাকলে একজন জ্ঞানী আলেমকে, আর চিকিৎসার বিষয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

রমজানের দুই থেকে চার সপ্তাহ আগে আপনার সব ওষুধের তালিকা নিয়ে ডাক্তার দেখান, যাতে তিনি একটি সহজ রোজার সময়সূচি লিখে দিতে পারেন। অনেক ওষুধ খেলে, দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে বা রোজায় অসুস্থ বোধ করলে আরও আগে দেখান। আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে দ্রুত একজন ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে পারেন। একটি পরিষ্কার ওষুধের সময়সূচি হাতে থাকলে বিভ্রান্তিকর মাসটিই সহজ রুটিনে পরিণত হয়।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?