রমজানে ডায়াবেটিস নিয়ে নিরাপদে রোজা রাখা
রমজান বছরের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মাস, আর ডায়াবেটিসের বেশিরভাগ রোগীই পরিবারের সবার সঙ্গে রোজা রাখতে চান। সুখবর হলো, পরিকল্পনা ও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অনেকেই নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। আসল কথা হলো, সমস্যা শুরু হওয়ার পর নয়—রমজান শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেওয়া।
ডায়াবেটিসের সব রোগী কি রোজা রাখতে পারেন?
না, আর এটি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের ডায়াবেটিস খাদ্য বা ট্যাবলেটে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত, তাঁদের জন্য রোজা তুলনামূলক নিরাপদ। তবে টাইপ-১ ডায়াবেটিস, বারবার সুগার কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খুব বেশি সুগার, গুরুতর কিডনি রোগ বা গর্ভাবস্থায় এটি প্রকৃত ঝুঁকি বহন করে। যাঁদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, ইসলামেও তাঁদের ছাড় দেওয়া আছে। সিদ্ধান্তের আগে রমজান-পূর্ব একটি চেকআপ করান, যাতে ডাক্তার আপনাকে কম, মাঝারি বা উচ্চ ঝুঁকির গ্রুপে রাখতে পারেন।
রোজার জন্য কি ওষুধ বদলাতে হবে?
হ্যাঁ, তবে কখনোই নিজে নিজে নয়। ওষুধের সময়, আর কখনো কখনো মাত্রা, দিনের বেলা থেকে ইফতার ও সেহরির সময়ে সরিয়ে নিতে হয়। সুগার কমিয়ে দেয় এমন কিছু ট্যাবলেট (কিছু সালফোনাইলইউরিয়া) ও ইনসুলিন দীর্ঘ রোজার সময়ে বিপজ্জনকভাবে সুগার কমিয়ে দিতে পারে, তাই ডাক্তার সেগুলো কমাতে বা সময় বদলাতে পারেন। মেটফরমিন সাধারণত নিরাপদ, তবু এর সময় বদলায়। রমজানের দুই থেকে চার সপ্তাহ আগে ডাক্তারের কাছ থেকে একটি লিখিত পরিকল্পনা নিন, আর প্রতিটি ওষুধ কী কাজ করে তা মেডিসিন ডিরেক্টরিতে দেখে নিন।
সেহরি ও ইফতার কেমন হওয়া উচিত?
সেহরি যতটা সম্ভব দেরিতে, আজানের কাছাকাছি সময়ে খান এবং ধীরে হজম হয় এমন খাবার বেছে নিন: লাল বা ব্রাউন রাইস, ওটস, ডাল, ডিম, শাকসবজি ও অল্প প্রোটিন। ভারী ভাজাপোড়া ও খুব মিষ্টি সেহরি এড়িয়ে চলুন—এতে সুগার হঠাৎ বেড়ে আবার পড়ে যায়। এক-দুটি খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন, এরপর স্তূপাকার ভাজাপোড়া ও মিষ্টির বদলে সুষম খাবার খান। সব পানি একসঙ্গে না খেয়ে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ভাগ করে খান।
কোন লক্ষণে রোজা ভাঙতেই হবে?
সুগার কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) লক্ষণ চিনে রাখুন: শরীর কাঁপা, ঠান্ডা ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ ক্ষুধা, বিভ্রান্তি বা মাথা ঘোরা। এমন হলে সম্ভব হলে সুগার মেপে নিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিনি বা মিষ্টি পানীয় দিয়ে রোজা ভেঙে ফেলুন। এটি জায়েজ ও জরুরি, কারণ মারাত্মকভাবে সুগার কমে গেলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। সুগার অনেক বেড়ে গেলে বা খুব অসুস্থ বোধ করলেও রোজা ভাঙুন। আঙুলে ফুঁড়ে রক্তের সুগার মাপলে রোজা ভাঙে না।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
রোজার পরিকল্পনা ঠিক করতে রমজানের আগে ডাক্তার দেখান; আর বারবার সুগার কমা-বাড়া হলে, ওষুধের সময় নিয়ে দ্বিধায় থাকলে, কিংবা হার্ট, কিডনি বা গর্ভাবস্থার সমস্যা থাকলে আবার দেখান। ডায়াবেটিস বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিতে পারেন আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে। সঠিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীল ডায়াবেটিসের বেশিরভাগ মানুষই একটি নিরাপদ ও প্রশান্তির রমজান কাটাতে পারেন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।