Tablet
Vesium 50 50 mg Tablet
জেনেরিক: টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেট
প্রস্তুতকারক: C2C Pharma Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antispasmodic (antimuscarinic)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Tablet | ৳ 7.00 |
| Strip of 10 | ৳ 70.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Vesium 50 কী?
Vesium 50-এর সক্রিয় উপাদান Tiemonium Methylsulphate, যা ৫০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট আকারে দেওয়া হয়। এই অ্যান্টিস্পাজমোডিক ওষুধটি পরিপাকতন্ত্র, পিত্তনালি ও মূত্রনালির মসৃণ পেশির যন্ত্রণাদায়ক স্প্যাজম উপশমে ব্যবহৃত হয়।
Vesium 50 50 mg tablet হলো C2C Pharma Limited-এর তৈরি Tiemonium Methylsulphate গ্রুপের ওষুধ। এটি একটি অ্যান্টিস্পাজমোডিক, যা পরিপাকতন্ত্র, পিত্তনালি, মূত্রনালি ও জরায়ুর খিঁচুনিজনিত ব্যথা কমায়। বাংলাদেশে চিকিৎসকেরা সাধারণত পেট কামড়ানো ব্যথা, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের ব্যথাযুক্ত খিঁচুনি, পিত্ত ও কিডনির কলিক এবং মাসিকের ব্যথায় Vesium 50 দিয়ে থাকেন।
Tiemonium Methylsulphate একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক ওষুধ। এটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মসৃণ পেশির মাসকারিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টর বন্ধ করে অতিরিক্ত, ব্যথাদায়ক সংকোচন কমায় এবং পেশিকে শিথিল হতে দেয়। কোয়াটারনারি অ্যামোনিয়াম যৌগ হওয়ায় এটি মস্তিষ্কে খুব কম ঢোকে, তাই ঝিমুনির মতো কেন্দ্রীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রায় না ঘটিয়েই ভেতরের খিঁচুনি কমায়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- পরিপাকতন্ত্রজনিত খিঁচুনি বা কামড়ানো পেটব্যথা
- ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম ও স্পাস্টিক কোলনের ব্যথাযুক্ত খিঁচুনি
- চিকিৎসকের নির্দেশিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে পিত্তথলির কলিক ব্যথা
- মূত্রনালির খিঁচুনিসহ কিডনি ও ইউরেটারের কলিক
- মাসিকের ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া) ও স্ত্রীরোগজনিত অন্যান্য খিঁচুনি
- কারণের চিকিৎসার পাশাপাশি গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস বা আমাশয়ের খিঁচুনিজনিত ব্যথা
সেবনবিধি ও মাত্রা
খিঁচুনির কারণ ও তীব্রতা দেখে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই Vesium 50-এর মাত্রা ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেটের প্রচলিত মুখে খাওয়ার মাত্রা ৫০ মিলিগ্রাম দিনে দুই থেকে তিনবার, কেবল চিকিৎসকের বলে দেওয়া স্বল্প সময়ের জন্য। তীব্র কলিকে ইনজেকশন ফর্ম আছে, যা কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়।
tablet পানি দিয়ে গিলে খান, খাবারসহ বা খালি পেটে। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজনভিত্তিক মাত্রা, কেবল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে। নির্ধারিত মাত্রা ছাড়াবেন না; ব্যথা না কমলে নিজে মাত্রা না বাড়িয়ে চিকিৎসকের কাছে ফিরে যান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
টাইমোনিয়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূলত মৃদু অ্যান্টিকোলিনার্জিক ধরনের: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি ভাব ও ঘাম কমে যাওয়া। কারও কারও হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া, হালকা মাথা ঘোরা বা প্রস্রাবে অসুবিধা হতে পারে, বিশেষত প্রোস্টেট বড় থাকা বয়স্ক পুরুষদের।
এসব প্রতিক্রিয়া মাত্রানির্ভর এবং ওষুধ বন্ধ করলে সাধারণত সেরে যায়। বিরল ক্ষেত্রে র্যাশ, চুলকানি বা ফোলাসহ অ্যালার্জি হয়। ঘাম কমে যাওয়ায় শরীর বেশি গরম হয়ে যেতে পারে, তাই গরম আবহাওয়ায় সাবধান থাকুন। প্রস্রাব একেবারে না হলে, পেট ফুলে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, আলোর চারপাশে বৃত্ত দেখাসহ চোখব্যথা, বুক ধড়ফড় বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
প্রোস্টেট বড় বা প্রস্রাবে কষ্ট, গ্লকোমার ইতিহাস, হৃদরোগ বা দ্রুত হৃদ্ছন্দ, থাইরয়েডের আধিক্য, জ্বর, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা রিফ্লাক্স রোগ থাকলে আগে চিকিৎসককে জানিয়ে সতর্কভাবে টাইমোনিয়াম ব্যবহার করুন। বয়স্করা অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল, তাই মাত্রায় সাবধানতা দরকার।
অ্যান্টিস্পাজমোডিক ব্যথা কমায়, কিন্তু কারণের চিকিৎসা করে না। জ্বর, বমি, শক্ত পেট, পায়খানা বা প্রস্রাবে রক্তসহ হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা কিংবা এক দিনের বেশি স্থায়ী ব্যথা অবশ্যই উপসর্গ কমানোর আগে বা পাশাপাশি রোগ নির্ণয় করাতে হবে। চোখ ঝাপসা লাগলে গাড়ি চালাবেন না এবং ওষুধ চলাকালে গরম পরিবেশে পরিশ্রম সীমিত রাখুন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই ধরনের প্রভাবযুক্ত ওষুধের সঙ্গে টাইমোনিয়ামের অ্যান্টিকোলিনার্জিক ক্রিয়া যোগ হয় — অ্যাট্রোপিন-জাতীয় ওষুধ, অ্যামিট্রিপটাইলিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, পুরোনো অ্যান্টিহিস্টামিন, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক এবং পারকিনসন বা প্রস্রাবের তাড়নার ওষুধ। একসঙ্গে নিলে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট ও বিভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত বয়স্কদের।
অন্ত্রের গতি কমিয়ে এটি মুখে খাওয়া কিছু ওষুধের শোষণ বদলাতে পারে। অ্যামান্টাডিন বা ডিসোপিরামাইডের সঙ্গে নিলেও অ্যান্টিকোলিনার্জিক চাপ বাড়ে। মদ্যপানে মাথা ঘোরা বাড়তে পারে। সংমিশ্রণ যাচাইয়ের জন্য আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেটে অ্যালার্জি, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল (অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার) গ্লকোমা বা এর প্রবণতা, প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা প্রোস্টেটজনিত উল্লেখযোগ্য বাধা এবং অন্ত্রের গতি কমানো বিপজ্জনক এমন অবস্থায় — যেমন প্যারালাইটিক ইলিয়াস, অন্ত্রের বাধা, টক্সিক মেগাকোলন বা তীব্র আলসারেটিভ কোলাইটিস — এটি নিষিদ্ধ।
মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও উল্লেখযোগ্য অবস্ট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথিতেও এড়িয়ে চলা উচিত। গুরুতর হৃদরোগ বা ট্যাকিঅ্যারিদমিয়ায় ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের বিবেচনা দরকার। কোনো অ্যান্টিস্পাজমোডিক বা অ্যাট্রোপিন-জাতীয় ওষুধে আগে খারাপ প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে খাওয়ার আগে চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ওপর টাইমোনিয়ামের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলে, উপকার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনার পর, কেবল সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।
স্তন্যদান: বুকের দুধে টাইমোনিয়াম কতটা যায় তা ভালোভাবে জানা নেই। সতর্কতা হিসেবে স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন। অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ কখনো কখনো দুধের পরিমাণ কমাতে পারে, তাই এদিকে এবং শিশুর অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা খাওয়ায় অসুবিধায় নজর রাখুন ও চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত tablet মূল প্যাকেটে রাখুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না এবং অব্যবহৃত ওষুধ ঘরের ময়লায় না ফেলে সম্ভব হলে ফার্মেসির মাধ্যমে নিরাপদে ফেলে দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Vesium 50 কত দ্রুত পেট কামড়ানো কমায়?
প্রতি মাসে মাসিকের ব্যথায় কি Vesium 50 খাওয়া যাবে?
Vesium 50 খাওয়ার পর মুখ শুকিয়ে যায় কেন?
সর্বশেষ হালনাগাদ: