ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Capsule

Twicef 500 mg Capsule

জেনেরিক: সেফাড্রক্সিল

প্রস্তুতকারক: The ACME Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: First-Generation Cephalosporin Antibiotic

Twicef কী?

Twicef 500 mg capsule হল The ACME Laboratories Ltd.-এর একটি প্রথম প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক, যার জেনেরিক নাম Cefadroxil। বাংলাদেশে গলার সংক্রমণ, ফোঁড়া-সেলুলাইটিসের মতো ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ এবং প্রস্রাবের সংক্রমণে এটি বহুল ব্যবহৃত। দীর্ঘ কার্যকারিতার কারণে দিনে এক বা দুইবার খেলেই চলে, ফলে পুরো কোর্স শেষ করা সহজ হয়। এটি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রয়যোগ্য নয়।

Cefadroxil ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরির এনজাইম বন্ধ করে দেয়; দুর্বল প্রাচীর ফেটে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। মানুষের কোষে এমন প্রাচীর নেই বলে এটি মানবকোষের ক্ষতি করে না, আর সর্দি-ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত অসুখে এটি কোনো কাজ করে না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

সেফাড্রক্সিল-সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে Twicef ব্যবহৃত হয়:

  • গলার সংক্রমণ: স্ট্রেপটোকক্কাল ফ্যারিনজাইটিস ও টনসিলাইটিস
  • ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ: ফোঁড়া, ক্ষতের সংক্রমণ, ইমপেটিগো, সেলুলাইটিস
  • প্রস্রাবের সংক্রমণ (সিস্টাইটিস) ও কিছু কিডনি সংক্রমণ

ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি বা ডেঙ্গুতে এটি খাবেন না—উপকার তো হয়ই না, বরং রেজিস্ট্যান্স বাড়ে। আপনার সংক্রমণে Twicef উপযুক্ত কি না তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন, প্রয়োজনে প্রস্রাব বা ক্ষতের কালচার পরীক্ষার পর।

সেবনবিধি ও মাত্রা

চিকিৎসকের নির্দেশমতোই Twicef খান। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা:

  • গলার সংক্রমণ: ১ গ্রাম দিনে একবার বা ৫০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার, পুরো ১০ দিন
  • ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ: দৈনিক ১ গ্রাম, এক বা দুই ভাগে
  • প্রস্রাবের সংক্রমণ: তীব্রতা অনুযায়ী দৈনিক ১–২ গ্রাম

খাবারের আগে-পরে যেকোনো সময় খাওয়া যায়; পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সাথে নিন। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী (দৈনিক প্রায় ৩০ মি.গ্রা./কেজি, দুই ভাগে) চিকিৎসক ঠিক করবেন। কিডনি রোগে ডোজের ব্যবধান বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Twicef সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি বা পেটের অস্বস্তি—সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
  • চামড়ায় ফুসকুড়ি বা চুলকানি
  • দীর্ঘ কোর্সে মুখে বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ (থ্রাশ)
  • কখনও মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা

মুখ-ঠোঁট-গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ফোসকাযুক্ত ফুসকুড়ি, অবিরাম পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা চোখ-চামড়া হলুদ হলে দ্রুত হাসপাতালে যান। হালকা ডায়রিয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ খাবেন না।

সতর্কতা

Twicef প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়ার ওষুধ নয়। যেখানে-সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কেনা আর মাঝপথে কোর্স ছেড়ে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ আজ ভয়ংকর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংকটে। জ্বর-ব্যথা কয়েক দিনে কমে গেলেও পুরো কোর্স শেষ করুন—নইলে টিকে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।

  • পেনিসিলিন বা কোনো সেফালোস্পোরিনে আগে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে অবশ্যই জানান—পেনিসিলিন-অ্যালার্জিকদের একাংশ সেফাড্রক্সিলেও প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন
  • কিডনি রোগ থাকলে বলুন; ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে
  • চিকিৎসা চলাকালে বা পরে তীব্র ডায়রিয়া হলে, এবং অন্ত্রের প্রদাহের (কোলাইটিস) ইতিহাস থাকলে জানান

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

সেফাড্রক্সিলের ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া তুলনামূলক কম, তবু আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান:

  • প্রোবেনেসিড (গাউটের ওষুধ): কিডনি দিয়ে সেফাড্রক্সিল বের হওয়া কমিয়ে রক্তে এর মাত্রা বাড়ায়
  • কিডনির ওপর চাপ ফেলা ওষুধ—অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক বা শক্তিশালী ডাইউরেটিক—একসাথে চললে নজরদারি দরকার
  • ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ওষুধে মাঝে মাঝে প্রভাব পড়ে; প্রয়োজনে আইএনআর পরীক্ষা করান
  • মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে; পরামর্শমতো ব্যবধান রাখুন

ডায়াবেটিস রোগীদের কিছু প্রস্রাবের চিনি পরীক্ষায় ভুল পজিটিভ ফল আসতে পারে—পরীক্ষার আগে জানিয়ে রাখুন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Twicef খাবেন না:

  • সেফাড্রক্সিল, সেফালেক্সিন বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে
  • পেনিসিলিনে আগে তীব্র ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস, গলা ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে চাকা) হয়ে থাকলে—ক্রস-রিঅ্যাকশনের ঝুঁকি আছে
  • বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে গুরুতর চর্মপ্রতিক্রিয়ার (যেমন স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম) ইতিহাস থাকলে

উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতা বা অ্যান্টিবায়োটিকজনিত কোলাইটিসের ইতিহাস থাকলে কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কভাবে ব্যবহার করুন। অতীতের যেকোনো ওষুধ-প্রতিক্রিয়ার কথা, যত পুরোনোই হোক, চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: সেফালোস্পোরিন পরিবারের ওষুধ হিসেবে সেফাড্রক্সিলের গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের দীর্ঘ ও আশ্বস্তকারী রেকর্ড আছে; প্রাণী-গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতি দেখা যায়নি। সত্যিকারের প্রয়োজনে গর্ভবতীদের জন্য এটি তুলনামূলক উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক—তবে অবশ্যই গর্ভাবস্থার কথা জানিয়ে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে।

স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়। স্বল্প কোর্সে স্তন্যদান সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়; শিশুর পাতলা পায়খানা, ফুসকুড়ি বা মুখে ঘা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান। স্তন্যদানকালে Twicef শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সংরক্ষণ

Twicef ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন—বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় বাথরুমের তাকে রাখবেন না। ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল ব্যবহারের আগ পর্যন্ত মূল প্যাকে রাখুন এবং সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।

  • পানি মেশানোর পর সাসপেনশন ফ্রিজে (ডিপ ফ্রিজে নয়) রাখুন, প্রতিবার খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে ঝাঁকান এবং ১৪ দিন পর বাকিটা ফেলে দিন
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না
  • অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ড্রেনে বা ময়লায় না ফেলে সম্ভব হলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Twicef কি খাবারের আগে না পরে খাব?

<p>দুইভাবেই খাওয়া যায়—খাবার সেফাড্রক্সিলের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় না। ক্যাপসুল বা সাসপেনশনে পেট খারাপ বা বমিভাব হলে খাবারের সাথে বা খাওয়ার পরপরই খেলে আরাম পাবেন। আসল কথা হলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে, সমান ব্যবধানে ডোজ নেওয়া এবং চিকিৎসকের দেওয়া পুরো কোর্স শেষ করা—খাবারের সাথে সম্পর্কটা ততটা জরুরি নয়।</p>

তিন দিনেই জ্বর সেরে গেছে—Twicef কি বন্ধ করে দেব?

<p>না। উপসর্গ কমে যাওয়া মানে দুর্বল ব্যাকটেরিয়া মরেছে, কিন্তু কঠিনগুলো শরীরে রয়ে গেছে। আগেভাগে Twicef বন্ধ করলে সেগুলো আবার বাড়ে, সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে—বাংলাদেশে এ কারণেই অনেক অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও কোর্সের প্রতিটি দিন ওষুধ খান; গলার সংক্রমণে পুরো ১০ দিন।</p>

আমার পেনিসিলিনে অ্যালার্জি আছে—Twicef কি আমার জন্য নিরাপদ?

<p>আগের প্রতিক্রিয়ার ধরনের ওপর নির্ভর করে। সেফাড্রক্সিল পেনিসিলিনের কাছাকাছি গোত্রের (সেফালোস্পোরিন) ওষুধ, এবং পেনিসিলিন-অ্যালার্জিকদের অল্পসংখ্যক এতেও প্রতিক্রিয়া দেখান। আগের প্রতিক্রিয়া যদি তীব্র ও তাৎক্ষণিক হয়—শ্বাসকষ্ট, মুখ ফুলে যাওয়া, জ্ঞান হারানো বা সারা গায়ে চাকা—তাহলে Twicef খাবেন না। হালকা, দেরিতে হওয়া ফুসকুড়ি হলে চিকিৎসক সতর্কতার সাথে দিতে পারেন। শুরুর আগে অ্যালার্জির বিস্তারিত ইতিহাস জানান।</p>

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: