See in English
Tramacap 50 mg Capsule — Tramadol Hydrochloride

ক্যাপসুল

Tramacap 50 mg ক্যাপসুল

জেনেরিক: ট্রামাডল হাইড্রোক্লোরাইড

প্রস্তুতকারক: Aristopharma Limited

থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally Acting Opioid Analgesic

Tramacap এর কাজ কি?

Tramacap (ক্যাপসুল)-এর উপাদান ট্রামাডল হাইড্রোক্লোরাইড 50 mg, প্রস্তুতকারক Aristopharma Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally Acting Opioid Analgesic।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ক্যাপসুল ৳ 7.50
Capsule ৳ 7.50

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Tramacap কী?

Tramacap 50 mg Capsule-এ আছে tramadol hydrochloride, যা কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা opioid analgesic। চিকিৎসক উপযুক্ত মনে করলে এটি মাঝারি থেকে মাঝারি-তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়।

Tramacap 50 mg capsule বাংলাদেশে Aristopharma Limited কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Tramadol Hydrochloride — মাঝারি থেকে মাঝারি-তীব্র ব্যথার জন্য ব্যবহৃত একটি ওপিয়ড-জাতীয় ব্যথানাশক। Tramacap সম্পূর্ণ প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ; অপব্যবহারে ঝিমুনি, নির্ভরশীলতা ও আসক্তি তৈরি হতে পারে, তাই সাধারণ ব্যথায় নিজে নিজে এটি কেনা বা খাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

ট্রামাডল দুইভাবে কাজ করে। এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ওপিয়ড রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে ব্যথার অনুভূতি ভোঁতা করে দেয়, পাশাপাশি সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন নামের রাসায়নিক বাড়িয়ে ব্যথার পথ আরও দমন করে। এই দ্বিমুখী ক্রিয়ার কারণে এটি বড় ব্যথায় কার্যকর, আবার একই কারণে ঝিমুনি, নির্ভরশীলতা ও উইথড্রয়ালের ঝুঁকিও থাকে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

প্যারাসিটামল বা NSAID-এর মতো হালকা ব্যথানাশকে কাজ না হলে বা সেগুলো উপযুক্ত না হলে তবেই চিকিৎসক Tramacap দেন। অনুমোদিত ব্যবহার:

  • অস্ত্রোপচার বা বড় আঘাতের পরের মাঝারি থেকে মাঝারি-তীব্র ব্যথা
  • স্বল্প সময়ের জন্য তীব্র কোমর-মেরুদণ্ডের ব্যথা (যেমন ডিস্কজনিত)
  • ক্যানসারজনিত ব্যথা — পরিকল্পিত ব্যথা-ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে
  • বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথা

মাথাব্যথা বা সাধারণ গা-ব্যথার ওষুধ এটি নয়। ঘুম তাড়াতে, মন ভালো করতে বা শক্তি বাড়াতে এর ব্যবহার ভয়ংকর ও আসক্তিকর — এমন অপব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Tramacap 50 mg ক্যাপসুল-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশেষত শুরুর দিকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ দেখা যায়:

  • সাধারণ: বমিভাব, বমি, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখ শুকানো, ঘাম, মাথাব্যথা
  • কম দেখা যায়: চুলকানি, বিভ্রান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, ঝাপসা দৃষ্টি, প্রস্রাবে অসুবিধা
  • গুরুতর (জরুরি চিকিৎসা): খিঁচুনি, খুব ধীর বা অগভীর শ্বাস, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা সাড়া না দেওয়া, সেরোটোনিন সিনড্রোম (তীব্র জ্বর, অস্থিরতা, মাংসপেশি কাঁপা, দ্রুত হৃদস্পন্দন), মুখ-গলা ফুলে যাওয়া

দীর্ঘদিন ব্যবহারে সহনশীলতা, নির্ভরশীলতা ও আসক্তি তৈরি হয়। হঠাৎ বন্ধ করলে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, ঘাম, গা-ব্যথা, অনিদ্রা ও ডায়রিয়ার মতো উইথড্রয়াল হয় — তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে কমাতে হয়।

সতর্কতা

Tramacap ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা জরুরি:

  • শুধু বৈধ প্রেসক্রিপশনে এবং ঠিক নির্দেশমতো ব্যবহার করুন — বাংলাদেশে ট্রামাডলের অপব্যবহার একটি গুরুতর সমস্যা
  • ওষুধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্রপাতি চালাবেন না
  • মদ, ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোনো সিডেটিভের সঙ্গে কখনো মেশাবেন না — শ্বাস বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে
  • মৃগী, মাথায় আঘাত, শ্বাসকষ্ট, কিডনি-লিভারের রোগ, বিষণ্নতা বা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • ওষুধ অন্যদের, বিশেষত কিশোর-তরুণদের নাগালের বাইরে তালাবদ্ধ রাখুন
  • নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না — চিকিৎসকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা নিন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

বিপজ্জনক ইন্টার‍্যাকশন হতে পারে — আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান:

  • বিষণ্নতার ওষুধ (এসসিটালোপ্রাম-সারট্রালিনের মতো SSRI, SNRI, TCA) — সেরোটোনিন সিনড্রোম ও খিঁচুনির ঝুঁকি
  • MAO ইনহিবিটর — একসঙ্গে বা ১৪ দিনের মধ্যে নয়
  • সিডেটিভ: ঘুমের ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক, মদ — শ্বাস বিপজ্জনকভাবে দমে যায়
  • অন্য ওপিয়ড — ওভারডোজের ঝুঁকি বাড়ে
  • কার্বামাজেপিন — ট্রামাডলের কার্যকারিতা কমায়, খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে
  • ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়তে পারে

Tramacap চলাকালে মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষেধ।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের পরিস্থিতিতে Tramacap ব্যবহার করা যাবে না:

  • ১২ বছরের কম বয়সী শিশু (১৮ বছরের নিচে টনসিল/অ্যাডেনয়েড অপারেশনের পরও নয়)
  • তীব্র শ্বাসকষ্ট — যেমন মারাত্মক হাঁপানির টান বা শ্বাস দমে যাওয়া
  • মদ, ঘুমের ওষুধ, ওপিয়ড বা অন্য নেশাজাতীয় দ্রব্যে তাৎক্ষণিক নেশাগ্রস্ত অবস্থা
  • MAO ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ চলমান বা গত ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহৃত হলে
  • অনিয়ন্ত্রিত মৃগীরোগ
  • ট্রামাডল বা অন্য ওপিয়ডে অ্যালার্জি
  • গুরুতর কিডনি বা লিভার ফেইলিউর (বিশেষজ্ঞের সমন্বয় ছাড়া)

মাদক বা মদে আসক্তির ইতিহাস থাকলে ট্রামাডল এড়ানোই উত্তম — নিরাপদ বিকল্প আছে।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Tramadol Hydrochloride নেওয়া অনুচিত। বিশেষত শেষ দিকের নিয়মিত ব্যবহারে নবজাতকের মধ্যে জন্মের পর উইথড্রয়াল (অস্থিরতা, কাঁপুনি, দুধ টানতে না পারা, শ্বাসের সমস্যা) দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্ট বেশি মনে করলে তবেই ব্যবহারযোগ্য।

বুকের দুধ খাওয়ানো: ট্রামাডল বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে অতিরিক্ত ঘুমঘুম করে দিতে বা শ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই দুগ্ধদানকালে সাধারণত এটি দেওয়া হয় না। সত্যিই শক্তিশালী ব্যথানাশক দরকার হলে চিকিৎসক নিরাপদ বিকল্প বেছে নেবেন এবং শিশুর অতিরিক্ত ঝিমুনি বা খাওয়ার অনীহার দিকে নজর রাখতে বলবেন।

সংরক্ষণ

Tramacap মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ট্রামাডল একটি বহুল-অপব্যবহৃত ওষুধ, তাই এটি তালাবদ্ধ রাখুন এবং শিশু, কিশোর বা যাঁর জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়নি এমন কারও নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন। একই রকম ব্যথা হলেও নিজের ট্যাবলেট কাউকে দেবেন না। ট্যাবলেটের হিসাব রাখুন, বাড়তি ওষুধ সম্ভব হলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন এবং ভবিষ্যতে খাওয়ার জন্য ঘরে জমিয়ে রাখবেন না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →