ইনজেকশন
Tracid 500 mg/5 ml ইনজেকশন
জেনেরিক: ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড
প্রস্তুতকারক: The ACME Laboratories Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antifibrinolytic (Haemostatic) Agent
Tracid এর কাজ কি?
Tracid (ইনজেকশন)-এর উপাদান ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড 500 mg/5 ml, প্রস্তুতকারক The ACME Laboratories Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antifibrinolytic (Haemostatic) Agent।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ইনজেকশন | ৳ 65.00 |
| Injection | ৳ 65.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Tracid কী?
Tracid 500 mg/5 ml Injection-এ আছে tranexamic acid, যা রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি antifibrinolytic ওষুধ। এটি রক্তের জমাট বাঁধা অংশ দ্রুত ভেঙে যাওয়া কমায় এবং অতিরিক্ত রক্তপাত কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।
Tracid 500 mg/5 ml injection বাংলাদেশে The ACME Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Tranexamic Acid — একটি অ্যান্টিফাইব্রিনোলাইটিক (রক্তক্ষরণ-রোধী) ওষুধ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কমাতে বা থামাতে চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার করেন — সবচেয়ে বেশি মাসিকের অতিরিক্ত রক্তস্রাবে, এছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া, অস্ত্রোপচার বা দাঁত তোলার পরের রক্তক্ষরণ এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায়।
শরীরে কোথাও ক্ষত হলে রক্ত জমাট বেঁধে তা বন্ধ করে, পরে প্লাজমিন নামের এনজাইম-ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সেই জমাট গলিয়ে দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জমাট খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যেতে পারে। ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড প্লাজমিন সক্রিয় হওয়া আটকে দেয় — ফলে সুরক্ষাকারী জমাট বেশি সময় টিকে থাকে এবং রক্তক্ষরণ দ্রুত কমে বা থামে। এটি স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ঘন করে না, তবে অস্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা থাকলে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
যেসব রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে Tracid দেওয়া হয়:
- মাসিকের অতিরিক্ত রক্তস্রাব (মেনোরেজিয়া) — বাংলাদেশে এর সবচেয়ে প্রচলিত ব্যবহার
- বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- দাঁত তোলার পরের রক্তক্ষরণ — রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলেও
- অস্ত্রোপচার, আঘাত বা প্রসবের পরের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (হাসপাতালে)
- যথাযথ পরীক্ষার পর চিকিৎসক-নির্ণীত অন্যান্য রক্তক্ষরণ, যেমন নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত
অতিরিক্ত বা অনিয়মিত রক্তক্ষরণের আগে রোগনির্ণয় জরুরি — বিশেষত ৪০ বছরের পর নতুন করে ভারী মাসিক, দুই মাসিকের মাঝে বা মেনোপজের পরে রক্তপাত — কারণ ওষুধটি রক্তক্ষরণ কমায়, কিন্তু এর মূল কারণের চিকিৎসা করে না।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Tracid 500 mg/5 ml ইনজেকশন-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Tranexamic Acid সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া:
- সাধারণ: বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি (মাত্রা কমালে প্রায়ই ভালো হয়), মাথাব্যথা, ক্লান্তি
- কম দেখা যায়: মাথা ঘোরা, মাংসপেশিতে ব্যথা, র্যাশ
- গুরুতর (ওষুধ বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন): রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ — পায়ের ডিমে ব্যথাসহ ফোলা, হঠাৎ বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশিতে রক্ত, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা কথা জড়িয়ে যাওয়া; রঙ চেনায় সমস্যা বা দৃষ্টির অন্য পরিবর্তন; মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টসহ মারাত্মক অ্যালার্জি
দৃষ্টির পরিবর্তন হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করান। জমাট বাঁধার লক্ষণ মানেই জরুরি অবস্থা — সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
সতর্কতা
Tracid ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো নিন:
- শুরুর আগে নিজের বা পরিবারের রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস (পায়ের শিরায় জমাট/DVT, ফুসফুসে জমাট, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক) চিকিৎসককে জানান
- জন্মনিয়ন্ত্রণের কম্বাইন্ড পিল এমনিতেই জমাটের ঝুঁকি বাড়ায় — দুটি একসঙ্গে খাওয়ার আগে আলোচনা করুন
- দীর্ঘ শয্যাশায়ী অবস্থা, লম্বা ফ্লাইট, সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার, স্থূলতা ও ধূমপান জমাটের ঝুঁকি বাড়ায়; এগুলো উল্লেখ করুন
- কিডনি রোগে মাত্রা কমাতে হয়
- প্রস্রাবে রক্ত গেলে কারণ নির্ণয়ের আগে নিজে খাবেন না — জমাট প্রস্রাবের পথ আটকে দিতে পারে
- স্বল্পমেয়াদের বেশি চিকিৎসা চললে মাঝে মাঝে চোখের পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে
- চক্রের পর চক্র শুধু ট্যাবলেটে ভরসা না করে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের কারণ খুঁজে বের করুন
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Tranexamic Acid-এর ওষুধ-ক্রিয়া তুলনামূলক কম, তবে গুরুত্বপূর্ণগুলো রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত:
- কম্বাইন্ড হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ (পিল, প্যাচ, রিং) — জমাটের ঝুঁকি যোগ হয়; কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে একসঙ্গে ব্যবহার করুন
- ক্লটিং-ফ্যাক্টর কনসেনট্রেট (যেমন প্রোথ্রোমবিন কমপ্লেক্স) — একসঙ্গে ব্যবহারে থ্রম্বোসিসের ঝুঁকি বাড়ে; বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপনায় চলে
- থ্রম্বোলাইটিক (জমাট-গলানো) ওষুধ — ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড সরাসরি এদের কাজের বিপরীতে কাজ করে
- ট্রেটিনয়েন (নির্দিষ্ট লিউকেমিয়া চিকিৎসায়) — জমাটজনিত জটিলতা বাড়ার তথ্য আছে
ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ওষুধ উল্টো দিকে কাজ করে; ব্লাড থিনার চললে যেকোনো রক্তক্ষরণ-রোধী ওষুধে চিকিৎসকের সমন্বিত পরিকল্পনা লাগবেই। আপনার পূর্ণ ওষুধের তালিকা সবসময় জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের কোনোটি প্রযোজ্য হলে Tracid ব্যবহার করবেন না:
- চলমান রক্ত জমাটজনিত রোগ — পায়ের গভীর শিরায় জমাট (DVT), ফুসফুসে জমাট (পালমোনারি এমবোলিজম), সাম্প্রতিক স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক
- আগে শিরা বা ধমনিতে জমাট বাঁধার ইতিহাস — বিশেষজ্ঞ সতর্কতাসহ ভিন্ন সিদ্ধান্ত না নিলে
- জন্মগত বা অর্জিত জমাট বাঁধার তীব্র প্রবণতা (থ্রম্বোফিলিয়া)
- সাবঅ্যারাকনয়েড হেমারেজ (মস্তিষ্কের বিশেষ ধরনের রক্তক্ষরণ)
- গুরুতর কিডনি ফেইলিউর
- খিঁচুনির ইতিহাস (বিশেষত বেশি মাত্রার ইনজেকশনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক)
- ট্রানেক্সামিক অ্যাসিডে অ্যালার্জি
আগের ব্যবহারে রঙ চেনায় সমস্যা হয়ে থাকলে আবার না খাওয়াই নিয়ম। সন্দেহ থাকলে প্রথম ডোজের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: Tranexamic Acid প্লাসেন্টা পার হয়, তবে প্রাপ্ত তথ্যে শিশুর ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি — নির্দিষ্ট রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায়ও এটি ব্যবহার করেন; এমনকি হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণেও। তবুও গর্ভাবস্থায় কেবল চিকিৎসকের সুস্পষ্ট পরামর্শেই এটি খাওয়া যাবে — হালকা স্পটিং বা অজানা কারণের রক্তপাতে নিজে নিজে কখনোই নয়; এসব ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই জরুরি।
বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে খুবই সামান্য পরিমাণ যায় — চিকিৎসা-মাত্রার অনেক নিচে — তাই স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত দুগ্ধদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধরা হয়। আপনি বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তা চিকিৎসককে জানান, যেন মাত্রা ও মেয়াদ আপনার ও শিশুর জন্য উপযুক্ত কি না নিশ্চিত করা যায়।
সংরক্ষণ
প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভারী মাসিকের জন্য Tracid কখন শুরু আর কখন বন্ধ করব?
Tracid কেবল তখনই শুরু করুন যখন সত্যিই ভারী রক্তস্রাব শুরু হয় — সাধারণত মাসিকের প্রথম দিন — এবং যত দিন স্রাব বেশি থাকে তত দিন খান; সাধারণত ৩–৪ দিন, এক চক্রে ৫ দিনের বেশি নয়। পুরো মাস ধরে বা প্রতিরোধমূলকভাবে এটি খাওয়ার নিয়ম নেই। প্যাডের সংখ্যা ও চক্রের দিনগুলোর সহজ হিসাব রাখুন; দুই-তিন চক্র ওষুধ খাওয়ার পরও স্রাব ভারী থাকলে বা মাসিক অনিয়মিত হলে আবার চিকিৎসকের কাছে যান — ফাইব্রয়েড, পলিপ বা হরমোনের সমস্যার ভিন্ন চিকিৎসা লাগতে পারে।