See in English

ট্যাবলেট

Sinacid 250 mg + 400 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড + ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড

প্রস্তুতকারক: G.M. Laboratory

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antacid

Sinacid এর কাজ কি?

Sinacid (ট্যাবলেট)-এর উপাদান অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড + ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড 250 mg + 400 mg, প্রস্তুতকারক G.M. Laboratory। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antacid।

Sinacid কী?

সিনাসিড হলো অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রোক্সাইডযুক্ত একটি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট। অতিরিক্ত পাকস্থলীর অ্যাসিডের কারণে হওয়া বুকজ্বালা, অ্যাসিড বদহজম এবং টকভাব বা পেটের অস্বস্তি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।

G.M. Laboratory-এর Sinacid 250 mg + 400 mg tablet একটি প্রচলিত কম্বিনেশন অ্যান্টাসিড, যাতে রয়েছে Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide। এটি বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডজনিত বদহজম, গ্যাস ও টক ঢেকুরে দ্রুত, স্বল্পমেয়াদি আরাম দেয়। চিবানোর Sinacid গিলে ফেলার আগে ভালোভাবে চিবিয়ে নিলে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে।

উপাদান দুটি পাকস্থলীতে জমে থাকা অ্যাসিড সরাসরি প্রশমিত করে — নতুন অ্যাসিড তৈরি বন্ধ করে না। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড ধীরে অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা তৈরি করে; ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রুত কাজ করে এবং পায়খানা নরম করে। দুটি একসঙ্গে থাকায় পেটের এই বিপরীত প্রভাব দুটির ভারসাম্য হয়, আর আরাম মেলে সাধারণত কয়েক মিনিটেই।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide যেসব সমস্যার স্বল্পমেয়াদি উপশমে ব্যবহৃত হয়:

  • বুক জ্বালাপোড়া — খাবারের পর বুকের মাঝে জ্বালা
  • অ্যাসিডজনিত বদহজম ও টক ঢেকুর — ঝাল-তেলযুক্ত খাবারের পরের অস্বস্তিসহ
  • অতিরিক্ত অ্যাসিড — গ্যাস্ট্রাইটিস, পেপটিক আলসার ও রিফ্লাক্সজনিত
  • গ্যাস ও পেট ফাঁপা — সিমেথিকনযুক্ত ফর্মুলা আরও সহায়ক

এটি মাঝেমধ্যের হালকা উপসর্গের জন্য উপযোগী। দুই সপ্তাহের বেশি প্রায় প্রতিদিন অ্যান্টাসিড লাগলে ডাক্তার দেখান — বারবার ফিরে আসা উপসর্গে বারবার নিজে ওষুধ না খেয়ে অ্যাসিড-দমন চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার হতে পারে।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Sinacid 250 mg + 400 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বাভাবিক মাত্রায় Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide তেমন সমস্যা করে না। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া:

  • সাধারণ: খড়িমাটির মতো স্বাদ, হালকা কোষ্ঠকাঠিন্য বা নরম পায়খানা, ঢেকুর
  • বেশি বা দীর্ঘ ব্যবহারে: উল্লেখযোগ্য কোষ্ঠকাঠিন্য (অ্যালুমিনিয়াম) বা ডায়রিয়া (ম্যাগনেসিয়াম), রক্তে ফসফেট কমে যাওয়া, দুর্বলতা
  • কিডনি রোগে: ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম শরীরে জমে ঝিমুনি, মাংসপেশির দুর্বলতা বা আরও গুরুতর বিষক্রিয়া হতে পারে

একটানা ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন কিংবা ঠিকমতো খাওয়ার পরও আরাম না পেলে অ্যান্টাসিড বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide ব্যবহারে সতর্কতা:

  • কিডনি রোগ: চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া নিয়মিত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন — ম্যাগনেসিয়াম/অ্যালুমিনিয়াম জমার ঝুঁকি আছে
  • ওষুধের ব্যবধান: অন্য ওষুধ অ্যান্টাসিডের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান
  • অ্যান্টাসিড উপসর্গ কমায়, কিন্তু আলসার বা রিফ্লাক্স রোগ সারায় না; উপসর্গ লেগে থাকলে সঠিক রোগনির্ণয় দরকার
  • কম ফসফেটযুক্ত খাবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন অ্যালুমিনিয়াম অ্যান্টাসিড খেলে ফসফেট ঘাটতি ও হাড়ের সমস্যা হতে পারে
  • ডায়াবেটিস রোগীরা ফ্লেভারযুক্ত সাসপেনশনের চিনি দেখে নিন; কিছু পণ্যে উল্লেখযোগ্য সোডিয়ামও থাকে

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide অনেক ওষুধকে বেঁধে ফেলে বা পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বদলে তাদের শোষণ কমায়। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:

  • অ্যান্টিবায়োটিক: টেট্রাসাইক্লিন ও ফ্লুরোকুইনোলোন (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন) — অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন
  • আয়রন, থাইরয়েড হরমোন (লিভোথাইরক্সিন): শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
  • ডিগক্সিন, গ্যাবাপেন্টিন, বিসফসফোনেট, কিটোকোনাজল, আইসোনিয়াজিড: শোষণ কমতে পারে
  • এন্টেরিক-কোটেড ওষুধ: আবরণ আগেই গলে গিয়ে পেটের অস্বস্তি হতে পারে

সহজ নিয়ম: Sinacid ও অন্য যেকোনো ওষুধের মধ্যে ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন এবং ফার্মাসিস্টকে বিষয়টি মনে করিয়ে দিন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের পরিস্থিতিতে Aluminium Hydroxide + Magnesium Hydroxide এড়িয়ে চলুন:

  • অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা tablet-এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • গুরুতর কিডনি অকার্যকারিতা — ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম বিষক্রিয়ার উচ্চ ঝুঁকি
  • রক্তে ফসফেট খুব কম থাকলে
  • কারণ-নির্ণয় হয়নি এমন তীব্র পেটব্যথা বা অন্ত্র বন্ধের সন্দেহে — অ্যান্টাসিড চিত্র ঢেকে দিতে বা খারাপ করতে পারে

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের নিয়মিত দেবেন না। অ্যান্টাসিড খেয়েও উপসর্গ দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে নিজে চিকিৎসা বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরও মাঝেমধ্যে বুক জ্বালাপোড়া হলে নির্ধারিত মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম অ্যান্টাসিড গর্ভাবস্থায় সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয় — চিকিৎসকরাও প্রায়ই এ ধরনের অ্যান্টাসিডই পরামর্শ দেন। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় খাবেন না, এবং আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন।

স্তন্যদান: এই অ্যান্টাসিডগুলো রক্তে খুব সামান্যই শোষিত হয়, তাই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বুকের দুধে পৌঁছায় না। স্বাভাবিক মাত্রায় মাঝেমধ্যে ব্যবহার স্তন্যদানের সঙ্গে সাধারণত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে উপসর্গ লেগে থাকলে দীর্ঘদিন অ্যান্টাসিডে ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সংরক্ষণ

প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Sinacid ট্যাবলেট কি চিবিয়ে খাব, নাকি গোটা গিলে ফেলব?

চিবানোর Sinacid ট্যাবলেট গিলে ফেলার আগে ভালোভাবে চিবিয়ে নিন, পারলে সঙ্গে অল্প পানি খান। চিবানোর ফলে ট্যাবলেট মিহি কণায় ভেঙে পাকস্থলীর খাবারের ওপর ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটেই অ্যাসিড প্রশমিত করে; গোটা গিললে কাজ হয় ধীরে ও অসম্পূর্ণভাবে। খাবারের ১-৩ ঘণ্টা পরে ও রাতে শোয়ার আগে খান — তখনই অ্যাসিডের উপসর্গ সবচেয়ে বেশি হয়।

Sinacid কি মাসের পর মাস প্রতিদিন খাওয়া যায়?

না — Sinacid স্বল্পমেয়াদি, মাঝেমধ্যের উপশমের জন্য। প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি প্রায় প্রতিদিন অ্যান্টাসিড লাগা মানে রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের মতো কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা থাকতে পারে, যার সঠিক রোগনির্ণয় ও অ্যাসিড-দমন চিকিৎসা দরকার। দীর্ঘদিন বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, ফসফেট ঘাটতি এবং বিশেষত কিডনির সমস্যায় অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম জমার ঝুঁকিও আছে। প্রতিদিন অ্যান্টাসিড না চালিয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দেখান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →