See in English

ইনজেকশন

Romilac 30 mg/ml ইনজেকশন

জেনেরিক: কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন

প্রস্তুতকারক: Techno Drugs Ltd., Gazipur

থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID) — potent short-term analgesic

Romilac 30 এর কাজ কি?

Romilac 30 (ইনজেকশন)-এর উপাদান কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন 30 mg/ml, প্রস্তুতকারক Techno Drugs Ltd., Gazipur। থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID) — potent short-term analgesic।

Romilac 30 কী?

Romilac 30 হলো ketorolac tromethamine 30 mg/ml যুক্ত একটি ইনজেকশন, যা non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID) শ্রেণির ওষুধ। এটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অপারেশনের পরের মতো মাঝারি থেকে তীব্র আকস্মিক ব্যথা স্বল্পমেয়াদে কমাতে ব্যবহার করা হয়।

Romilac 30 30 mg/ml injection বাংলাদেশে Techno Drugs Ltd., Gazipur কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Ketorolac Tromethamine, যা সবচেয়ে শক্তিশালী NSAID ব্যথানাশকগুলোর একটি — এর ব্যথা কমানোর ক্ষমতা কিছু ওপিওয়েড ওষুধের কাছাকাছি। চিকিৎসকেরা এটি মাঝারি থেকে তীব্র স্বল্পমেয়াদি ব্যথায় দেন — যেমন অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার পরের ব্যথা, কিডনির পাথরের ব্যথা — সর্বোচ্চ ৫ দিনের জন্য।

কিটোরোলাক সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম শক্তভাবে বন্ধ করে ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এই শক্তিশালী ক্রিয়ার কারণেই এটি যেমন চমৎকার ব্যথা কমায়, তেমনি পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি — তাই এটি কখনোই নিত্যদিনের ব্যথানাশক হিসেবে বা ৫ দিনের বেশি ব্যবহারযোগ্য নয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Romilac 30 শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি (সর্বোচ্চ ৫ দিন) মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথায় ব্যবহৃত হয়, যেমন:

  • অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা — সিজারিয়ান ও হাড়ের অপারেশনসহ
  • দাঁত তোলা বা দাঁতের সার্জারির পরের ব্যথা
  • কিডনির পাথরের ব্যথা (রেনাল কোলিক)
  • হাড়-মাংসপেশির গুরুতর আঘাতের ব্যথা
  • তীব্র মাইগ্রেন (চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে)

হালকা ব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি আর্থ্রাইটিস, পুরোনো কোমরব্যথা বা সাধারণ জ্বরের জন্য এটি নয় — সেসবের জন্য নিরাপদ বিকল্প আছে। চিকিৎসা প্রায়ই হাসপাতালে ইনজেকশন দিয়ে শুরু হয়ে ট্যাবলেটে চলে।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Romilac 30 mg/ml ইনজেকশন-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

খুব শক্তিশালী NSAID হওয়ায় Romilac 30-এ হালকা ব্যথানাশকের চেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি:

  • পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব, বদহজম
  • ঝিমুনি, মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
  • শরীরে পানি জমা ও রক্তচাপ বৃদ্ধি
  • পাকস্থলী বা অন্ত্রের আলসার ও রক্তক্ষরণ — কয়েক দিনের মধ্যেই হতে পারে, বিশেষত বয়স্কদের
  • কিডনির ক্ষতি, বিশেষত পানিশূন্য রোগীদের
  • অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণের প্রবণতা বৃদ্ধি
  • অ্যালার্জি; অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানিতে শ্বাসকষ্ট

কালো পায়খানা, রক্তবমি, তীব্র পেটব্যথা বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

Romilac 30 ব্যবহারের প্রধান সতর্কতা:

  • মোট ৫ দিনের বেশি কখনোই ব্যবহার করবেন না — এরপর রক্তক্ষরণ ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে
  • সবসময় খাবারের সঙ্গে ও পর্যাপ্ত পানি দিয়ে খান
  • ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর সন্দেহে একদম নয় — মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি; বদলে প্যারাসিটামল
  • পানিশূন্যতায় এড়িয়ে চলুন; বয়স্কদের শুধু কম মাত্রায়, তত্ত্বাবধানে
  • অন্য কোনো NSAID, অ্যাসপিরিন বা স্টেরয়েডের সঙ্গে মেলাবেন না
  • আলসার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা রক্তক্ষরণজনিত রোগে অত্যন্ত সাবধানে
  • সার্জিক্যাল টিমের নির্দেশ ছাড়া বড় অস্ত্রোপচারের আগে বা চলাকালীন নয়

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Romilac 30-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • অন্য NSAID, অ্যাসপিরিন, স্টেরয়েড — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ; কখনোই একসঙ্গে নয়
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল) — বিপজ্জনক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি
  • SSRI (যেমন সারট্রালিন, এসসিটালোপ্রাম) — পেটে রক্তক্ষরণের বাড়তি ঝুঁকি
  • ACE ইনহিবিটর, ARB, ডাইউরেটিক — কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
  • লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া
  • প্রোবেনেসিড — কিটোরোলাকের মাত্রা অনেক বাড়ায়; একসঙ্গে নিষিদ্ধ
  • পেন্টক্সিফাইলিন — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ে

শুরুর আগে আপনার সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Romilac 30 ব্যবহার করবেন না:

  • সক্রিয় বা সাম্প্রতিক পেপটিক আলসার বা পেটে রক্তক্ষরণ, অথবা NSAID-জনিত রক্তক্ষরণের ইতিহাস
  • রক্তক্ষরণজনিত রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সন্দেহ বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী উচ্চ রক্তক্ষরণ ঝুঁকি
  • মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি দুর্বলতা বা পানিশূন্যতাজনিত কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি
  • গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়ন্ত্রিত হৃদরোগ
  • অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা ফোলা বা অ্যালার্জির ইতিহাস
  • ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
  • গর্ভাবস্থা (বিশেষত শেষ তিন মাস), প্রসবকাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া স্তন্যদানকাল
  • সার্জিক্যাল টিমের নির্দেশ ছাড়া বড় অস্ত্রোপচারের আগে বা চলাকালীন

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থাজুড়েই Romilac 30 এড়িয়ে চলা উচিত; শেষ তিন মাসে ও প্রসবের সময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — এটি গর্ভের শিশুর হার্টের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি অসময়ে বন্ধ করে দিতে পারে, শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসব বিলম্বিত করে রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে।

স্তন্যদান: বুকের দুধে অল্প পরিমাণ যায়; বিশেষত নবজাতকের ক্ষেত্রে স্তন্যদানকালে এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শই বেশি। সিজারের পর তীব্র ব্যথায় দরকার হলে কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতোই ব্যবহার করুন — তিনি নিরাপদ বিকল্পও বেছে নিতে পারেন।

সংরক্ষণ

প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Romilac 30 কি প্যারাসিটামল বা অন্য ব্যথানাশকের চেয়ে শক্তিশালী?

হ্যাঁ। কিটোরোলাক সবচেয়ে শক্তিশালী NSAID ব্যথানাশকগুলোর একটি — তীব্র ব্যথায় এর কার্যকারিতা কিছু ওপিওয়েড ইনজেকশনের কাছাকাছি। কিন্তু শক্তির সঙ্গে ঝুঁকিও আসে: প্যারাসিটামলের তুলনায় এটি পাকস্থলী, কিডনি ও রক্তক্ষরণের দিক থেকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই Romilac 30 শুধু প্রেসক্রিপশনে স্বল্পমেয়াদি মাঝারি-তীব্র ব্যথার জন্য, আর দৈনন্দিন ব্যথা ও জ্বরে প্যারাসিটামলই প্রথম পছন্দ।

ডেঙ্গু জ্বরের গা-ব্যথায় কি Romilac 30 খাওয়া যাবে?

কখনোই না। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যায় ও রক্তনালি দুর্বল হয়, আর শক্তিশালী NSAID হিসেবে কিটোরোলাক প্লাটিলেটের কাজ আরও ব্যাহত করে ও পাকস্থলীর আবরণে ক্ষত তৈরি করতে পারে। দুটো মিলে বিপজ্জনক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর সন্দেহে জ্বর ও গা-ব্যথায় শুধু প্যারাসিটামল খান, পর্যাপ্ত তরল পান করুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা ও ফলোআপ করান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →