See in English

ট্যাবলেট

Relor 10 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: লোরাটাডিন

প্রস্তুতকারক: Rephco Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-sedating antihistamine (second generation)

Relor এর কাজ কি?

Relor (ট্যাবলেট)-এর উপাদান লোরাটাডিন 10 mg, প্রস্তুতকারক Rephco Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-sedating antihistamine (second generation)।

Relor কী?

Relor 10 mg Tablet-এ loratadine আছে, যা Rephco Pharmaceuticals Ltd. এর একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের non-sedating antihistamine। এটি অ্যালার্জির উপসর্গ যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক চুলকানো, চোখ চুলকানো বা পানি পড়া, এবং হাইভস বা ত্বকের চুলকানি কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Relor 10 mg tablet প্রস্তুত করে Rephco Pharmaceuticals Ltd.। এতে রয়েছে Loratadine, একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের নন-সিডেটিং অ্যান্টিহিস্টামিন। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ও ত্বকের চুলকানিসহ অ্যালার্জির উপসর্গ উপশমে এটি বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত। পুরোনো অ্যান্টিহিস্টামিনের তুলনায় এতে ঘুম-ঘুম ভাব অনেক কম হয়, তাই অফিস, পড়াশোনা বা ভ্রমণের সময় দিনের বেলায়ও ব্যবহার করা যায়।

Loratadine শরীরের এইচ-১ (H1) হিস্টামিন রিসেপ্টর ব্লক করে কাজ করে। ধুলাবালি, ফুলের রেণু বা পশুর লোমের সংস্পর্শে এলে শরীরে হিস্টামিন নামের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা হাঁচি, চুলকানি, চোখে পানি ও নাক বন্ধের জন্য দায়ী। Relor হিস্টামিনের এই কাজ আটকে দিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখে, আর মস্তিষ্কে তেমন প্রবেশ করে না বলে ঘুম-ভাব সাধারণত হয় না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Relor সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (মৌসুমি ও সারা বছরের) — ধুলাবালি, ফুলের রেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমজনিত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক চুলকানো ও চোখ দিয়ে পানি পড়া
  • হে ফিভার-এর উপসর্গ
  • দীর্ঘস্থায়ী আর্টিকেরিয়া (আমবাত) — চুলকানি ও চাকা চাকা ফুসকুড়ি কমাতে
  • অ্যালার্জিজনিত ত্বকের চুলকানি ও পোকামাকড়ের কামড়ের প্রতিক্রিয়া
  • চিকিৎসকের পরামর্শে সর্দি-কাশির সঙ্গে থাকা অ্যালার্জির উপসর্গ

চিকিৎসক প্রয়োজনে অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত সমস্যায়ও Relor দিতে পারেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Relor 10 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Relor সাধারণত নিরাপদ ও সহনীয়; বেশিরভাগ মানুষের কোনো সমস্যা হয় না। তবে কখনো কখনো হতে পারে:

  • মাথাব্যথা
  • ক্লান্তি বা অবসাদ
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • ঘুম-ঘুম ভাব (স্বাভাবিক মাত্রায় কম হয়)
  • পেট খারাপ বা বমি বমি ভাব
  • শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা

গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল। Relor খাওয়ার পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ফুসকুড়ি বা বুক ধড়ফড় করলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে বা কষ্ট দিলে চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

  • লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান — মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে
  • অ্যালার্জির স্কিন টেস্টের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে Relor বন্ধ রাখুন, নইলে পরীক্ষার ফল ভুল আসতে পারে
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেবেন না
  • ডায়াবেটিস বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সিরাপ বা ট্যাবলেটে চিনি/ল্যাকটোজ আছে কি না জেনে নিন
  • ঘুম-ভাব কম হলেও Relor আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা বোঝার আগে গাড়ি বা যন্ত্র চালানোয় সতর্ক থাকুন
  • নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না — বেশি মাত্রায় ঘুম-ভাব বা বুক ধড়ফড় হতে পারে

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনি যেসব ওষুধ, ভিটামিন বা ভেষজ পণ্য খান, সবই চিকিৎসককে জানান। Relor-এর সঙ্গে যেসব ওষুধের মিথস্ক্রিয়া হতে পারে:

  • কিটোকোনাজলসহ অ্যাজল-জাতীয় ছত্রাকনাশক ওষুধ
  • ইরাইথ্রোমাইসিন-জাতীয় ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক
  • সিমেটিডিন (গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ)

এসব ওষুধ রক্তে লোরাটাডিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, যদিও তা সাধারণত বিপজ্জনক নয়। Relor-এর সঙ্গে অন্য ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন খাবেন না এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। নতুন কোনো ওষুধ শুরুর আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Relor খাবেন না:

  • লোরাটাডিন, ডেসলোরাটাডিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • আগে এই ওষুধ খেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া (ফুসকুড়ি, ফোলা, শ্বাসকষ্ট) হয়ে থাকলে

গুরুতর লিভারের সমস্যা, ২ বছরের কম বয়সী শিশু এবং গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করুন। Relor আপনার জন্য উপযুক্ত কি না নিশ্চিত না হলে সেবনের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থায়: গর্ভাবস্থায় তুলনামূলক নিরাপদ অ্যান্টিহিস্টামিনগুলোর মধ্যে লোরাটাডিন অন্যতম বলে ধরা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধই খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই কেবল Relor ব্যবহার করুন।

স্তন্যদানকালে: সামান্য পরিমাণ লোরাটাডিন বুকের দুধে যায়। কম মাত্রায় ব্যবহৃত ও ঘুম-ভাব কম হওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রায়ই এটি স্তন্যদানকালে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তবুও ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম বা অস্থিরতা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।

সংরক্ষণ

প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Relor খেলে কি ঘুম পায়?

Relor-এ আছে লোরাটাডিন, একটি নন-সিডেটিং অ্যান্টিহিস্টামিন। তাই পুরোনো অ্যালার্জির ওষুধের (যেমন ক্লোরফেনিরামিন) তুলনায় এতে ঘুম-ভাব অনেক কম হয়। বেশিরভাগ মানুষ দিনের বেলা স্বাভাবিক কাজকর্মের ফাঁকেই এটি খেতে পারেন। তবে অল্প কিছু মানুষের হালকা ঘুম-ভাব হতে পারে, তাই ওষুধটি আপনার ওপর কেমন কাজ করে তা বোঝার আগে গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।

Relor কি দীর্ঘদিন প্রতিদিন খাওয়া যায়?

হ্যাঁ — দীর্ঘস্থায়ী আমবাত বা সারা বছরের অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস প্রতিদিন লোরাটাডিন খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি অভ্যাস বা নির্ভরশীলতা তৈরি করে না। তবে কতদিন খাবেন তা আপনার রোগের ওপর নির্ভর করে — চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং নিয়মিত Relor খাওয়ার পরও উপসর্গ না কমলে আবার দেখান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →