Tablet
Ratirex 120 120 mg Tablet
জেনেরিক: ইটোরিকক্সিব
প্রস্তুতকারক: Biogen Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Selective COX-2 inhibitor NSAID (coxib)
Ratirex 120 কী?
Ratirex 120 হলো Biogen Pharmaceuticals Ltd. তৈরি etoricoxib যুক্ত একটি ট্যাবলেট, যা selective COX-2 inhibitor NSAID শ্রেণির ওষুধ। এটি আর্থ্রাইটিস ও acute gout-এর মতো অবস্থায় ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়, এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যথাতেও চিকিৎসক দিতে পারেন।
Ratirex 120 120 mg tablet বাংলাদেশে Biogen Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Etoricoxib, একটি আধুনিক COX-2 সিলেক্টিভ NSAID, যা আর্থ্রাইটিস, গাউটসহ প্রদাহজনিত ব্যথায় দিনে একবার খাওয়া হয়। পাকস্থলী রক্ষাকারী COX-1 এনজাইমকে এটি তুলনামূলক কম প্রভাবিত করে বলে প্রচলিত NSAID-এর চেয়ে আলসার কম হয় — তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
ইটোরিকক্সিব বেছে বেছে সাইক্লো-অক্সিজেনেজ-২ (COX-2) এনজাইম বন্ধ করে কাজ করে। প্রদাহের জায়গায় শরীর এই এনজাইম চালু করে ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। মূলত COX-2-কে লক্ষ্য করে ও COX-1-কে অনেকটা রেহাই দিয়ে এটি প্রতি ডোজে পুরো ২৪ ঘণ্টা গিঁটের ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমায়, আর পাকস্থলীর জন্য তুলনামূলক সহনীয় থাকে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Ratirex 120 যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস — সাধারণত দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা.
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস — সাধারণত দিনে একবার ৯০ মি.গ্রা.
- গাউটের তীব্র আক্রমণ — দিনে একবার ১২০ মি.গ্রা., সর্বোচ্চ ৮ দিন
- দাঁতের সার্জারির পরের ব্যথা
- চিকিৎসক উপযুক্ত মনে করলে অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি হাড়-মাংসপেশির ব্যথা
এটি ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমায়, কিন্তু মূল রোগ সারায় না — সেজন্য চিকিৎসকের ধারাবাহিক চিকিৎসা দরকার।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Ratirex 120 দিনে একবার খাওয়া হয়, খাবারসহ বা ছাড়া (খাবারের সঙ্গে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হতে পারে)। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিসে দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা.
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস বা দাঁতের সার্জারির ব্যথায় দিনে একবার ৯০ মি.গ্রা. (স্বল্পমেয়াদে)
- গাউটের তীব্র আক্রমণে দিনে একবার ১২০ মি.গ্রা. — সর্বোচ্চ ৮ দিন
সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায়, যথাসম্ভব কম সময় ব্যবহার করুন। লিভারের সমস্যায় কম মাত্রা দরকার; ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়। রক্তচাপ এবং হার্ট-কিডনির অবস্থা দেখে চিকিৎসকই মাত্রা ঠিক করবেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Ratirex 120-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- রক্তচাপ বৃদ্ধি — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত মাপুন
- পানি জমে পায়ের গোড়ালি বা পা ফোলা
- পেটের অস্বস্তি, বদহজম, বমিভাব বা ডায়রিয়া
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা বুক ধড়ফড়
- রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম বৃদ্ধি
গুরুতর কিন্তু কম দেখা যায়: হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক (মাত্রা ও মেয়াদের সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে), হার্ট ফেইলিউর খারাপ হওয়া, পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণ (পুরোনো NSAID-এর চেয়ে কম, তবে শূন্য নয়), কিডনির ক্ষতি এবং তীব্র অ্যালার্জি বা চর্ম প্রতিক্রিয়া। বুকব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল, কালো পায়খানা বা তীব্র শ্বাসকষ্টে দ্রুত হাসপাতালে যান।
সতর্কতা
Ratirex 120 ব্যবহারের প্রধান সতর্কতা:
- শুরুর আগে ও চিকিৎসা চলাকালীন নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন — ইটোরিকক্সিব রক্তচাপ বাড়াতে পারে; রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত (১৪০/৯০-এর বেশি) থাকলে শুরু করা উচিত নয়
- হৃদরোগ, স্ট্রোক, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা বা পরিবারে এসবের জোরালো ইতিহাস থাকলে আগে চিকিৎসককে জানান
- ডেঙ্গু জ্বরে বা সন্দেহে খাবেন না — নিরাপদ পছন্দ প্যারাসিটামল
- কিডনি বা লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস, ধূমপান বা উচ্চ কোলেস্টেরলে সাবধানে ব্যবহার করুন
- পানিশূন্য অবস্থায় এড়িয়ে চলুন
- সবচেয়ে কম মাত্রায় কম সময় খান; গাউটে ১২০ মি.গ্রা. ৮ দিনের বেশি নয়
- অন্য NSAID-এর সঙ্গে মেলাবেন না
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Ratirex 120-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- ওয়ারফারিন — INR বেড়ে যেতে পারে; শুরু বা বন্ধের সময় ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার
- ACE ইনহিবিটর, ARB ও ডাইউরেটিক — রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয় ও কিডনির ঝুঁকি বাড়ে
- অ্যাসপিরিন — চিকিৎসকের দেওয়া লো-ডোজ অ্যাসপিরিন চলতে পারে, তবে আলসারের ঝুঁকি বাড়ে; অন্য NSAID যোগ করবেন না
- লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা ও বিষক্রিয়া বাড়তে পারে
- রিফাম্পিসিন — ইটোরিকক্সিবের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়
- জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও হরমোন থেরাপি — হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে
- সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস — কিডনির বিষক্রিয়া বাড়ে
শুরুর আগে আপনার সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসককে দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Ratirex 120 খাবেন না:
- প্রমাণিত হৃদরোগ (আগের হার্ট অ্যাটাক, অ্যানজাইনা), স্ট্রোক বা রক্তনালির রোগ
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ (ক্রমাগত ১৪০/৯০-এর বেশি)
- মাঝারি থেকে গুরুতর হার্ট ফেইলিউর
- সক্রিয় পেপটিক আলসার বা পেটে রক্তক্ষরণ
- গুরুতর কিডনি বা লিভারের দুর্বলতা
- অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা ফোলা বা অ্যালার্জি
- ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
- গর্ভাবস্থা (বিশেষত শেষ তিন মাস) ও স্তন্যদানকাল, বিশেষজ্ঞের ভিন্ন পরামর্শ না থাকলে
- সক্রিয় আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোন'স ডিজিজ
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Ratirex 120 ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যান্য NSAID-এর মতো শেষ তিন মাসে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — গর্ভের শিশুর হার্টের রক্তনালি অসময়ে বন্ধ হওয়া, কিডনির ক্ষতি ও প্রসব বিলম্বের ঝুঁকি আছে। গর্ভধারণের চেষ্টা চলাকালেও এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ COX-2 ইনহিবিটর ডিম্বস্ফোটনে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্তন্যদান: মায়ের দুধে ইটোরিকক্সিব নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই, তাই স্তন্যদানকালে এটি সুপারিশ করা হয় না। চিকিৎসকের কাছ থেকে নিরাপদ ও বেশি গবেষিত বিকল্প নিন।
সংরক্ষণ
Ratirex 120 ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টার প্যাকেই রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Ratirex 120 কি অন্য ব্যথানাশকের চেয়ে পাকস্থলীর জন্য নিরাপদ?
তুলনামূলকভাবে, হ্যাঁ। ইটোরিকক্সিব বেছে বেছে COX-2 বন্ধ করে এবং পাকস্থলী-রক্ষাকারী COX-1 এনজাইমকে অনেকটা রেহাই দেয়, তাই ডাইক্লোফেনাক বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো প্রচলিত NSAID-এর চেয়ে এতে আলসার ও পেটের রক্তক্ষরণ কম হয়। তবে ঝুঁকি কমে, শেষ হয়ে যায় না — বিশেষত অ্যাসপিরিন খেলে, বয়স্ক হলে বা আলসারের ইতিহাস থাকলে। বিনিময়ে রক্তচাপ ও হার্টের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা লাগে, যা চিকিৎসক প্রেসক্রাইব করার আগে বিবেচনা করবেন।
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কি Ratirex 120 খেতে পারব?
শুধু চিকিৎসকের অনুমোদন ও পর্যবেক্ষণে। ইটোরিকক্সিব রক্তচাপ বাড়াতে পারে, কখনো কখনো শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, আর রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত (ক্রমাগত ১৪০/৯০-এর বেশি) থাকলে এটি শুরুই করা উচিত নয়। ওষুধে রক্তচাপ ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকলে চিকিৎসক নিয়মিত মাপার শর্তে অল্প মাত্রায় কম সময়ের জন্য দিতে পারেন। মাথাব্যথা, গোড়ালি ফোলা বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রিডিং পেলে দ্রুত জানান।
ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে গিঁটের ব্যথায় কি Ratirex 120 খাওয়া যাবে?
না। প্রচলিত NSAID-এর চেয়ে ইটোরিকক্সিব প্লাটিলেটে কম প্রভাব ফেললেও, চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর সন্দেহে COX-2 ইনহিবিটরসহ সব NSAID এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন — কারণ ডেঙ্গু নিজেই প্লাজমা লিক, প্লাটিলেট হ্রাস ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করে, আর এ অবস্থায় যেকোনো NSAID কিডনির চাপ ও পেটের রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে। চিকিৎসক ডেঙ্গু বাতিল না করা পর্যন্ত জ্বর ও গিঁটব্যথায় প্যারাসিটামল খান।
সর্বশেষ হালনাগাদ: