Capsule
Prazomax 40 40 mg Capsule
জেনেরিক: ওমিপ্রাজল
প্রস্তুতকারক: SMC Enterprise Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Proton Pump Inhibitor (PPI)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Capsule | ৳ 8.00 |
| Strip of 10 | ৳ 80.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Prazomax 40 কী?
প্রাজোম্যাক্স ৪০ প্রতি ক্যাপসুলে ৪০ মিগ্রা ওমিপ্রাজল ধারণ করে এবং একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর। পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ কমিয়ে এটি তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স, রিফ্লাক্স ইসোফ্যাগাইটিস ও পেপটিক আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Prazomax 40 40 mg capsule হলো SMC Enterprise Limited-এর তৈরি Omeprazole গ্রুপের একটি ওষুধ। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরগুলোর (পিপিআই) একটি, যা গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার, জিইআরডি, দীর্ঘস্থায়ী বুক জ্বালাপোড়া ও অ্যাসিডিটিতে পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে দেওয়া হয়। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নির্মূলের কম্বিনেশন চিকিৎসারও এটি একটি অংশ।
Omeprazole পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষে কাজ করে, যেখানে এটি অ্যাসিড নিঃসরণের শেষ ধাপের জন্য দায়ী হাইড্রোজেন-পটাশিয়াম পাম্প (প্রোটন পাম্প) স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিড তৈরি অনেক কমে যায়। অ্যাসিড কমলে জ্বালাপোড়া কমে, খাদ্যনালি রিফ্লাক্সের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় এবং পাকস্থলী ও ডিওডেনামের আলসার সেরে ওঠে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল (পেপটিক) আলসার
- গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) ও রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিস
- বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি ও টক ঢেকুর
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিকসহ হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নির্মূল
- এনএসএআইডিজনিত আলসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
- জলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোমসহ অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণজনিত রোগ
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসিডজনিত বদহজম
সেবনবিধি ও মাত্রা
Prazomax 40-এর মাত্রা অবশ্যই রোগ নির্ণয় ও আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য দেখে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ওমিপ্রাজলের প্রচলিত মাত্রা দিনে একবার ২০-৪০ মিলিগ্রাম, খাবারের ৩০-৬০ মিনিট আগে, সাধারণত সকালের নাশতার আগে। সাধারণ কোর্স ২ থেকে ৮ সপ্তাহ; এইচ. পাইলোরি চিকিৎসায় চিকিৎসকের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে দিনে দুবার দেওয়া হয়, আর কারও কারও সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় দীর্ঘ ব্যবহার লাগতে পারে।
capsule আস্ত গিলে খান; এন্টেরিক-কোটেড ওষুধ ভাঙবেন বা চিবাবেন না। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। নিজে থেকে মাত্রা বা মেয়াদ বদলাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ওমিপ্রাজল সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথাব্যথা, পেটব্যথা, বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য। এগুলো সাধারণত মৃদু এবং চিকিৎসা চলতে চলতে প্রায়ই কমে যায়।
কম ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, র্যাশ, চুলকানি বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে (সাধারণত এক বছরের বেশি) রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমা, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাড় ভাঙার ঝুঁকি সামান্য বাড়া এবং ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিলের মতো অন্ত্রের সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। দীর্ঘ ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করলে সাময়িক রিবাউন্ড অ্যাসিডিটি হতে পারে। মুখ-গলা ফুলে যাওয়া, ত্বকের তীব্র প্রতিক্রিয়া বা না থামা পাতলা পায়খানায় দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
ওমিপ্রাজল শুরুর আগে লিভারের রোগ, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কম, হাড় ক্ষয় বা অন্ত্রের সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস, বারবার বমি, রক্তবমি, কালো পায়খানা বা গিলতে অসুবিধার মতো বিপদচিহ্ন থাকলে আগে বা চিকিৎসা চলাকালে পরীক্ষা জরুরি, কারণ অ্যাসিড দমন ক্যানসারসহ গুরুতর রোগের লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন মাত্রা যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার চিকিৎসকের সঙ্গে পর্যালোচনা করুন। লম্বা কোর্সে মাঝে মাঝে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা লাগতে পারে। দীর্ঘ কোর্স হঠাৎ বন্ধ করবেন না। সময়মতো খাওয়া, রাতে দেরিতে ভারী খাবার না খাওয়া, ধূমপান কমানো এবং অতিরিক্ত চা-কফি ও ঝাল-তেলযুক্ত খাবার কমানো উপকারে আসে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওমিপ্রাজল অনেক ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করে। এটি ক্লোপিডোগ্রেলের কার্যকারিতা কমাতে পারে বলে এই সংমিশ্রণ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে এটি কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, আয়রন এবং আটাজানাভির ও নেলফিনাভিরের মতো কিছু এইচআইভি ওষুধের শোষণ কমায়।
এটি ডায়াজেপাম, ফেনিটয়েন, ওয়ারফারিন (রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে), মেথোট্রেক্সেট, ডিগক্সিন ও ট্যাক্রোলিমাসের রক্তমাত্রা বাড়াতে পারে; কখনো মাত্রা সমন্বয় বা পর্যবেক্ষণ লাগে। রিফাম্পিসিন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট ওমিপ্রাজলের কার্যকারিতা কমায়, তাই একসঙ্গে নেবেন না। ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টসহ আপনার সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
ওমিপ্রাজল, অন্য কোনো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি নিষিদ্ধ। কোনো পিপিআই খাওয়ার পর র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জি আগে হয়ে থাকলে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া আবার খাওয়া যাবে না।
রিলপিভিরিনযুক্ত এইচআইভি ওষুধের সঙ্গে এটি ব্যবহার করা যাবে না, এবং আটাজানাভির বা নেলফিনাভিরের সঙ্গে নেওয়াও অনুচিত। ক্লোপিডোগ্রেলের সঙ্গে ব্যবহার সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। গুরুতর লিভারের সমস্যায় কম মাত্রা ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার। শুরুর আগে ওমিপ্রাজল আপনার জন্য উপযুক্ত কি না চিকিৎসকের কাছে নিশ্চিত হন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: ওমিপ্রাজল বহু বছর ধরে গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যে শিশুর স্পষ্ট ক্ষতি দেখা যায়নি। তবু কেবল চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় খাওয়া উচিত। গর্ভাবস্থার বুক জ্বালাপোড়ায় প্রথমে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও অ্যান্টাসিড পছন্দ করা হয়।
স্তন্যদান: ওমিপ্রাজল অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধরা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। ওষুধ চলাকালে দুধ খাওয়া শিশু অস্বাভাবিক ঝিমালে বা ঠিকমতো না খেলে চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত capsule মূল ব্লিস্টার বা পাত্রে রাখুন, কারণ এর আবরণ আর্দ্রতায় নষ্ট হতে পারে। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটের মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না এবং অব্যবহৃত ওষুধ নিরাপদে, সম্ভব হলে ফার্মেসির মাধ্যমে, ফেলে দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Prazomax 40 খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
চিকিৎসক Prazomax 40-এর সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক কেন দিয়েছেন?
বছরের পর বছর প্রতিদিন Prazomax 40 খাওয়া কি নিরাপদ?
সর্বশেষ হালনাগাদ: