ট্যাবলেট
Plator Plus 75 mg + 75 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: অ্যাসপিরিন + ক্লোপিডোগ্রেল
প্রস্তুতকারক: Albion Laboratories Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Dual Antiplatelet Therapy (DAPT)
Plator Plus এর কাজ কি?
Plator Plus (ট্যাবলেট)-এর উপাদান অ্যাসপিরিন + ক্লোপিডোগ্রেল 75 mg + 75 mg, প্রস্তুতকারক Albion Laboratories Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Dual Antiplatelet Therapy (DAPT)।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 12.00 |
| Tablet | ৳ 12.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Plator Plus কী?
Plator Plus হলো aspirin ও clopidogrel সমন্বিত একটি ট্যাবলেট, যা রক্তে প্লেটলেট জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে। কিছু হৃদ্রোগজনিত ঘটনার পর বা coronary stent বসানোর পর অনাকাঙ্ক্ষিত রক্ত জমাট প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়।
Plator Plus 75 mg + 75 mg tablet হলো Albion Laboratories Ltd.-এর একটি কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে রয়েছে Aspirin + Clopidogrel — এক ট্যাবলেটে দুটি অ্যান্টিপ্লেটলেট উপাদান। এই সমন্বয়কে বলা হয় ডুয়াল অ্যান্টিপ্লেটলেট থেরাপি (DAPT) — হার্ট অ্যাটাক, হার্টে স্টেন্ট (রিং) বসানো বা অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমের পরে বিপজ্জনক রক্ত জমাট প্রতিরোধে এটি দেওয়া হয়।
উপাদান দুটি দুই দিক থেকে রক্ত জমাটে বাধা দেয়। অ্যাসপিরিন প্লেটলেটের COX-1 এনজাইম বন্ধ করে জমাট-সহায়ক রাসায়নিক থ্রম্বোক্সেন তৈরি আটকায়, আর ক্লোপিডোগ্রেল প্লেটলেটের গায়ের P2Y12 রিসেপ্টর ব্লক করে। একসাথে এরা প্লেটলেটকে অনেক কম আঠালো করে, ফলে সরু ধমনি ও স্টেন্টের ভেতর দিয়ে রক্ত অবাধে চলাচল করে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- হার্টে স্টেন্ট/রিং বসানোর পরে (PCI) — স্টেন্টের ভেতরে রক্ত জমাট (স্টেন্ট থ্রম্বোসিস) প্রতিরোধে
- অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম — আনস্টেবল অ্যানজাইনা বা হার্ট অ্যাটাক (স্টেন্ট বসানো হোক বা না হোক)
- হার্ট অ্যাটাকের পরে — পুনরায় হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে
- নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ রোগী — কিছু ছোট স্ট্রোক বা TIA-এর পরে স্বল্পমেয়াদে, কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Plator Plus 75 mg + 75 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
দুটি উপাদানই রক্ত জমাট কমায় বলে রক্তপাতই প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — একক ওষুধের চেয়ে বেশি:
- সহজে কালশিটে পড়া, ছোট কাটায় রক্ত বন্ধ হতে দেরি
- নাক ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
- পেট ব্যথা, বুক জ্বালা, বদহজম (মূলত অ্যাসপিরিনের কারণে)
- ডায়রিয়া, র্যাশ, চুলকানি
নিচের লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা নিন:
- কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি
- প্রস্রাবে রক্ত, মাসিকে অস্বাভাবিক বেশি রক্তপাত
- চাপ দিয়েও রক্তপাত না থামা
- হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা এলোমেলো কথা (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে)
- ওষুধ খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট বা বুকে সাঁই সাঁই শব্দ (অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি)
সতর্কতা
- যেকোনো অপারেশন, এন্ডোস্কপি বা দাঁত তোলার আগে প্রত্যেক চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট বা সার্জনকে জানান যে আপনি Plator Plus খাচ্ছেন — কবে বন্ধ ও কবে আবার শুরু হবে তা ঠিক করবেন কেবল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
- খাবারের পরে খান এবং পেট ব্যথা হলে দ্রুত জানান; চিকিৎসক পাকস্থলী-সুরক্ষার ওষুধ যোগ করতে পারেন।
- আলসার, পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাত, হাঁপানি, গাউট, লিভার বা কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন, সাবধানে শেভ করুন, আঘাতের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা বা কাজ এড়িয়ে চলুন।
- মদ্যপান এড়িয়ে চলুন — পাকস্থলীর রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
- সাথে একটি কার্ড বা নোট রাখুন যে আপনি ডুয়াল অ্যান্টিপ্লেটলেট থেরাপিতে আছেন — বিশেষত স্টেন্টের পর প্রথম বছরে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, রিভারক্সাবান, হেপারিন): মারাত্মক রক্তপাতের ঝুঁকি — "ট্রিপল থেরাপি" কেবল অল্প সময়ের জন্য, কঠোর বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): পাকস্থলীর রক্তপাতের ঝুঁকি অনেক বাড়ায়, আইবুপ্রোফেন অ্যাসপিরিনের কাজও কমাতে পারে — সাধারণ ব্যথায় প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন
- ওমিপ্রাজল/ইসোমিপ্রাজল: ক্লোপিডোগ্রেল অংশের কার্যকারিতা কমাতে পারে — পাকস্থলী সুরক্ষায় প্যান্টোপ্রাজল বা র্যাবিপ্রাজল ভালো
- SSRI (এসসিটালোপ্রাম, সারট্রালিন) ও স্টেরয়েড: রক্তপাতের প্রবণতা বাড়ায়
- মেথোট্রেক্সেট: অ্যাসপিরিন এর বিষাক্ততা বাড়াতে পারে
- গাউটের ওষুধ: অ্যাসপিরিন এদের কাজ কমিয়ে ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে
আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের (যেমন ফিশ অয়েল, জিংকো) কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- অ্যাসপিরিন, অন্য NSAID বা ক্লোপিডোগ্রেলে অ্যালার্জি
- চলমান রক্তপাত — রক্তক্ষরণরত পেপটিক আলসার, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
- অ্যাসপিরিনজনিত হাঁপানি বা হাঁপানিসহ নাকের পলিপ
- মারাত্মক লিভার রোগ
- ভাইরাল অসুখে আক্রান্ত ১৬ বছরের কম বয়সীরা (অ্যাসপিরিনে রাই'স সিনড্রোমের ঝুঁকি)
- গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিক
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অ্যাসপিরিন নিষিদ্ধ (রক্তপাত ও শিশুর হৃদযন্ত্রের একটি নালি অকালে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি), আর ক্লোপিডোগ্রেল নিয়ে মানুষের তথ্য সীমিত। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে সাথে সাথে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে জানান।
স্তন্যদান: অ্যাসপিরিন অল্প পরিমাণে মায়ের দুধে যায় এবং ক্লোপিডোগ্রেলের তথ্য নেই, তাই ডুয়াল অ্যান্টিপ্লেটলেট থেরাপি চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো সাধারণত নিরুৎসাহিত। নিরাপদ পরিকল্পনার জন্য চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন — আর্দ্রতায় অ্যাসপিরিন নষ্ট হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বা ট্যাবলেটে ভিনেগারের মতো গন্ধ পেলে ব্যবহার করবেন না।