See in English

ট্যাবলেট

Pizo 1.5 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: পিজোটিফেন

প্রস্তুতকারক: The ACME Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Serotonin Antagonist / Migraine Prophylactic

Pizo এর কাজ কি?

Pizo (ট্যাবলেট)-এর উপাদান পিজোটিফেন 1.5 mg, প্রস্তুতকারক The ACME Laboratories Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Serotonin Antagonist / Migraine Prophylactic।

Pizo কী?

পিজো ১.৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেটে পিজোটিফেন আছে, যা The ACME Laboratories Ltd. উৎপাদিত একটি সেরোটোনিন অ্যান্টাগনিস্ট ওষুধ। এটি চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার হওয়া মাইগ্রেন প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়, শুরু হয়ে যাওয়া মাইগ্রেনের আক্রমণ সারানোর জন্য নয়।

Pizo 1.5 mg tablet তৈরি করে The ACME Laboratories Ltd.; এর মূল উপাদান Pizotifen — মাইগ্রেন ও বারবার হওয়া রক্তনালিজনিত মাথাব্যথা প্রতিরোধের ওষুধ। এটি প্রতিরোধমূলক: প্রতিদিন নিয়মিত খেলে আক্রমণ ধীরে ধীরে কমে ও হালকা হয়। এটি ব্যথানাশক নয় — শুরু হয়ে যাওয়া মাইগ্রেন থামাতে পারে না। এটি মাইগ্রেন প্রতিরোধের পুরোনো, বহু পরীক্ষিত ওষুধগুলোর একটি; বিশেষজ্ঞের পরামর্শে শিশুদেরও দেওয়া হয়।

Pizotifen মূলত মাইগ্রেনের সঙ্গে জড়িত রক্তনালি ও স্নায়ুর সেরোটোনিন ও হিস্টামিন রিসেপ্টর আটকে কাজ করে। এতে মাইগ্রেন শুরু করা ঘটনাপ্রবাহ — রক্তনালির পরিবর্তন ও স্নায়ুর অতিসংবেদনশীলতা — কমে আসে, ফলে কয়েক সপ্তাহে মাথাব্যথা কমে যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

চিকিৎসকেরা যেসব ক্ষেত্রে Pizo দেন:

  • মাইগ্রেন প্রতিরোধে — প্রাপ্তবয়স্কদের ঘন ঘন বা অচল করে দেওয়া মাইগ্রেনে; বিশেষজ্ঞের পরামর্শে শিশুদেরও
  • নির্বাচিত রোগীর বারবার হওয়া রক্তনালিজনিত মাথাব্যথায়, ক্লাস্টার-ধরনের মাথাব্যথাসহ

মাসে কয়েকবার আক্রমণ হলে, দীর্ঘ সময় থাকলে, বা ব্যথার ওষুধে ভালো কাজ না হলে সাধারণত Pizo দিয়ে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ভাবা হয়। এটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ; শুরুর সিদ্ধান্ত, মাত্রা ও মেয়াদ — সবই চিকিৎসকের, যিনি ওজন বাড়া ও ঝিমুনির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে উপকার মিলিয়ে দেখবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Pizo 1.5 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Pizo-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • ক্ষুধা ও ওজন বেড়ে যাওয়া — সবচেয়ে পরিচিত প্রভাব; নিয়মিত ওজন মাপা উচিত
  • ঝিমুনি ও ক্লান্তি — বিশেষত শুরুতে; সাধারণত সময়ের সঙ্গে কমে, আর রাতে খেলে সামলানো যায়
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা, বমি ভাব
  • কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য

কম ক্ষেত্রে পেশিব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন, বা বিরল ক্ষেত্রে শিশুদের উল্টো অস্থিরতা হতে পারে। ওজন ক্রমাগত বেশি বাড়লে, মন দীর্ঘদিন খারাপ থাকলে, ঝিমুনি না কমলে, প্রস্রাবে অসুবিধা হলে, কিংবা র‍্যাশ-ফোলা জাতীয় অ্যালার্জি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

Pizo ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:

  • ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন: মাসে একবার ওজন মাপুন, পরিমিত খান ও সক্রিয় থাকুন — ক্ষুধা বাড়া সাধারণ ও ধীরে ধীরে ঘটে।
  • গাড়ি চালানোয় সতর্কতা: ওষুধে কতটা ঝিমুনি হয় না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালানো এড়িয়ে চলুন, বিশেষত প্রথম সপ্তাহগুলোতে।
  • মদ এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি বাড়ায়।
  • গ্লুকোমা, প্রস্রাবে অসুবিধা বা প্রস্টেট বড় থাকা, কিডনির সমস্যা বা মৃগীরোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান — পিজোটিফেনের অ্যান্টিহিস্টামিন-ধরনের প্রভাবের কারণে এসব ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
  • দীর্ঘদিনের চিকিৎসা হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে কমান।
  • প্রতিরোধের উপকার চালিয়ে যাওয়ার মতো কি না তা যাচাইয়ে নিয়মিত ফলো-আপে যান।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Pizo-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‍্যাকশন:

  • মদ — ঝিমুনি বাড়ায়; এড়িয়ে চলুন।
  • ঘুমের ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন ও অন্যান্য অবসাদ-আনা ওষুধ — ঝিমুনি যোগ হয়ে বাড়ে।
  • ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন ক্লোরফেনিরামিন) — ঝিমুনি ও মুখ শুকানোর প্রভাব বেড়ে যায়।
  • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট — ট্রাইসাইক্লিক জাতীয় ওষুধে ঝিমুনি ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাব বাড়ে; তাত্ত্বিকভাবে পিজোটিফেন কিছু সেরোটোনিন-নির্ভর ওষুধের কাজ কমাতে পারে — তাই অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট খেলে অবশ্যই জানান।
  • অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ — মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবের অসুবিধা বাড়ায়।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Pizo ব্যবহার করা যাবে না:

  • Pizotifen বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা
  • প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা বাধাসহ প্রস্টেট বড় হয়ে থাকা

মৃগীরোগ, কিডনি বা লিভারের দুর্বলতা থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে — যাঁরা ঝিমুনি ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল — চিকিৎসকের পরামর্শে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। কিছু প্রস্তুতিতে ল্যাকটোজ বা চিনি থাকে — চিনিজাতীয় উপাদানে অসহিষ্ণুতা থাকলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: মানুষের গর্ভাবস্থায় Pizotifen ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় Pizo ব্যবহার করা যায় — এ সময়ে মাইগ্রেন প্রতিরোধ প্রায়ই বিরতি দেওয়া বা নিরাপদ ব্যবস্থায় বদলানো যায়। ওষুধ চলাকালীন গর্ভধারণ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান।

স্তন্যদান: Pizotifen মায়ের দুধে যেতে পারে এবং শিশুকে ঝিমঝিম বা খিটখিটে করে তুলতে পারে। Pizo চলাকালীন স্তন্যদান সাধারণত নিরুৎসাহিত; স্তন্যদান করালে নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সংরক্ষণ

Pizo ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — কিছু ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট ছোট ও চিনির আবরণযুক্ত, যা শিশুদের আকৃষ্ট করতে পারে। মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ওষুধ ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →