Tablet
Partilos Plus 12.5 mg + 100 mg Tablet
জেনেরিক: লোসার্টান পটাশিয়াম + হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড
প্রস্তুতকারক: Navana Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antihypertensive Combination (ARB + Thiazide Diuretic)
Partilos Plus কী?
পার্টিলোস প্লাস (১০০/১২.৫) হলো লোসারটান পটাশিয়াম ১০০ মি.গ্রা. ও হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড ১২.৫ মি.গ্রা.-এর একটি ট্যাবলেট। এআরবি ও থায়াজাইড ডাইউরেটিকের এই সমন্বয় প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
Partilos Plus 12.5 mg + 100 mg tablet হলো Navana Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে রয়েছে Losartan Potassium + Hydrochlorothiazide। একটি ওষুধে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপে এবং উপযুক্ত রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
দুটি উপাদান একে অন্যের পরিপূরক। লোসার্টান একটি অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (ARB) — এটি অ্যানজিওটেনসিন-২ হরমোনকে রক্তনালি সংকুচিত করতে দেয় না, ফলে নালিগুলো শিথিল ও প্রশস্ত থাকে। হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড একটি থায়াজাইড ডাইউরেটিক ("পানির ট্যাবলেট") — এটি কিডনির মাধ্যমে শরীরের বাড়তি লবণ ও পানি বের করে দেয়। শরীরে তরল কম ও নালিগুলো শিথিল থাকায় রক্তচাপ স্পষ্টভাবে কমে; আর ডাইউরেটিকের কারণে পটাশিয়াম কমার প্রবণতা লোসার্টান কিছুটা পুষিয়ে দেয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- একটি ওষুধে নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)
- যাদের ARB ও ডাইউরেটিক দুটিই দরকার, তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক ট্যাবলেট
- হার্টের মাংসপেশি পুরু (লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি) এমন উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে — চিকিৎসকের বিবেচনায়
সেবনবিধি ও মাত্রা
একক ওষুধে আপনার রক্তচাপ কেমন সাড়া দেয় তা দেখে চিকিৎসক Partilos Plus-এর শক্তি ঠিক করবেন এবং ফলো-আপে প্রয়োজনমতো সমন্বয় করবেন।
- দিনে একবার, সম্ভব হলে সকালে খান (ডাইউরেটিকের কারণে প্রস্রাব বাড়ে — সকালে খেলে রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়া এড়ানো যায়)।
- খাবারের সাথে বা খালি পেটে চলে; পানি দিয়ে গিলে খান।
- ডোজ মিস হলে ওই দিনেই মনে পড়ামাত্র খান; পরের দিনের ডোজ কাছে হলে বাদ দিন — কখনো ডাবল ডোজ নয়।
এটি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ। রিডিং স্বাভাবিক দেখালেও নিজে থেকে Partilos Plus বন্ধ করবেন না — ওষুধ কাজ করছে বলেই রিডিং স্বাভাবিক; বন্ধ করলে চাপ আবার নীরবে বেড়ে যাবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব, বিশেষত দাঁড়ালে
- প্রস্রাব বেড়ে যাওয়া (ডাইউরেটিকের স্বাভাবিক প্রভাব)
- ইলেকট্রোলাইটের তারতম্য — সোডিয়াম কমা, পটাশিয়াম কমা বা বাড়া; দুর্বলতা, পেশিতে টান বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে
- রক্তে সুগার বা ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া (গাউট/গেঁটেবাত বাড়তে পারে)
- রোদে সংবেদনশীলতা — চামড়া সহজে পুড়ে যায় (হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের কারণে)
- মাথাব্যথা, ক্লান্তি, কোমরব্যথা
- অতিরিক্ত পিপাসা বা খুব গাঢ় প্রস্রাবসহ পানিশূন্যতা
- বিরল কিন্তু গুরুতর: হঠাৎ চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি কমে যাওয়া (তীব্র গ্লুকোমা প্রতিক্রিয়া), মারাত্মক চামড়ার র্যাশ, মুখ/গলা ফুলে যাওয়া — জরুরি চিকিৎসা নিন
সতর্কতা
- চিকিৎসক মাঝে মাঝে রক্তের ইলেকট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম), কিডনির কার্যকারিতা, সুগার ও ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা করবেন — এই পরীক্ষাগুলো বাদ দেবেন না।
- রোদ থেকে সুরক্ষা: ছাতা, টুপি বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন — এই ওষুধে চামড়া সহজে পুড়ে যায়।
- গরম আবহাওয়া, জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ায় দ্রুত পানিশূন্যতা হতে পারে — তরল পান করুন; দুর্বল বা অজ্ঞান-অজ্ঞান লাগলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
- বসা বা শোয়া থেকে ধীরে উঠুন।
- ডায়াবেটিস, গাউট, কিডনি বা লিভার রোগ, বা লুপাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- প্রেসক্রিপশন ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা লবণ-বিকল্প নেবেন না।
- হঠাৎ চোখে ব্যথা বা ঝাপসা দৃষ্টি হলে সাথে সাথে জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমায় ও কিডনিতে চাপ ফেলে
- লিথিয়াম: দুটি উপাদানই লিথিয়ামের মাত্রা বাড়ায় — সাধারণত একসাথে দেওয়া হয় না
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট / পটাশিয়াম-ধরে-রাখা ডাইউরেটিক: পটাশিয়ামের অনিশ্চিত ওঠানামা — শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ: প্রভাব যোগ হয়; মাথা ঘোরা হতে পারে
- ডায়াবেটিসের ওষুধ: হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড সুগার বাড়াতে পারে — মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে
- কর্টিকোস্টেরয়েড: পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়ায়
- এসিই ইনহিবিটর বা অ্যালিস্কিরেন: একসাথে সাধারণত দেওয়া হয় না
- গাউটের ওষুধ: ডাইউরেটিক ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় বলে মাত্রা পুনর্বিবেচনা লাগতে পারে
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- লোসার্টান, হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড বা সালফোনামাইড-জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জি
- গর্ভাবস্থা — লোসার্টান উপাদানটি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে
- প্রস্রাব একেবারে বন্ধ থাকা (অ্যানুরিয়া)
- লিভারের মারাত্মক অকার্যকারিতা
- চিকিৎসায় না সারা কম পটাশিয়াম, কম সোডিয়াম বা বেশি ক্যালসিয়াম
- ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যালিস্কিরেনের সাথে ব্যবহার
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লোসার্টান উপাদানটি গর্ভের শিশুর কিডনির ক্ষতি, অ্যামনিওটিক পানি কমা ও শিশুর মৃত্যু ঘটাতে পারে — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে; ডাইউরেটিকটিও শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে ওষুধ বন্ধ করে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
স্তন্যদান: দুধ খাওয়ানোর সময় এটি না খাওয়াই ভালো — হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড দুধে যায় ও দুধ উৎপাদন কমাতে পারে, আর লোসার্টানের নিরাপত্তা-তথ্য সীমিত। নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো বোধ করলে কি Partilos Plus বন্ধ করে দিতে পারি?
না। উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না — Partilos Plus প্রতিদিন চাপ কমাচ্ছে ও শরীরের বাড়তি লবণ-পানি বের করছে বলেই আপনার রিডিং স্বাভাবিক। বন্ধ করলে চাপ আবার নীরবে বেড়ে যাবে এবং স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিতে ফিরে যাবেন। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে খান; যেকোনো পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে করুন।
Partilos Plus খাওয়ার সময় রক্ত পরীক্ষা লাগে কেন?
Partilos Plus-এ থাকা ডাইউরেটিক কিডনিতে লবণ, পানি, পটাশিয়াম ও ইউরিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বদলে দেয়, আবার লোসার্টান অংশটি পটাশিয়ামকে উল্টো দিকে ঠেলতে পারে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কিডনির কার্যকারিতা, সুগার ও ইউরিক অ্যাসিড দেখা হয়, যাতে দুর্বলতা, পেশিতে টান বা বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যা হওয়ার অনেক আগেই চিকিৎসক যেকোনো অসামঞ্জস্য ধরতে পারেন। এই সহজ পরীক্ষাগুলোই একটি কার্যকর ওষুধকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখে।
Partilos Plus খেলে কি সত্যিই রোদে চামড়া পুড়ে যায়?
হ্যাঁ, হতে পারে। হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড উপাদানটি কারও কারও চামড়াকে রোদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে (ফটোসেনসিটিভিটি), ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম রোদেই চামড়া পোড়া, র্যাশ বা কালো দাগ দেখা দিতে পারে। ঘরে বন্দি থাকার দরকার নেই — শুধু বুদ্ধিমানের মতো সুরক্ষা নিন: ছাতা বা চওড়া টুপি, ফুলহাতা জামা, খোলা চামড়ায় সানস্ক্রিন, আর দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা। রোদ-লাগা জায়গায় লক্ষণীয় র্যাশ হলে চিকিৎসককে দেখান।
সর্বশেষ হালনাগাদ: