Injection
P-Gut IV 40 mg/VIAL Injection
জেনেরিক: প্যান্টোপ্রাজল
প্রস্তুতকারক: Globe Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Proton Pump Inhibitor (PPI)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Injection | ৳ 70.00 |
| Injection | ৳ 70.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
P-Gut IV কী?
গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস-এর পি-গাট আইভি প্রতি ভায়ালে ৪০ মিলিগ্রাম প্যান্টোপ্রাজল ইনজেকশন আকারে সরবরাহ করে। প্যান্টোপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর যা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমায়, এবং রিফ্লাক্স বা আলসারে মুখে ওষুধ নেওয়া সম্ভব না হলে এই ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়।
P-Gut IV 40 mg/VIAL injection হলো Globe Pharmaceuticals Ltd.-এর তৈরি Pantoprazole গ্রুপের একটি ওষুধ। এটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) পরিবারের সদস্য, যা পাকস্থলীর অ্যাসিড তৈরি কমায়। চিকিৎসকেরা জিইআরডি, রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিস, গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসারে এবং দীর্ঘদিন এনএসএআইডি ব্যথানাশক খেতে হয় এমন রোগীদের পাকস্থলী সুরক্ষায় P-Gut IV দিয়ে থাকেন।
Pantoprazole পাকস্থলীর অ্যাসিড-নিঃসরণকারী কোষের প্রোটন পাম্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেয়। অ্যাসিড নিঃসরণের শেষ ধাপ এই পাম্পগুলোই সম্পন্ন করে, তাই এগুলো বন্ধ হলে বহু ঘণ্টা অ্যাসিড তৈরি অনেক কমে যায়। অ্যাসিড কমলে জ্বালা ও ব্যথা কমে, পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ক্ষতিগ্রস্ত আবরণ সেরে ওঠে এবং হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরির অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা সহজ হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) ও রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিস
- বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি ও টক ঢেকুর
- গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল (পেপটিক) আলসার
- দীর্ঘমেয়াদি এনএসএআইডি গ্রহণকারীদের আলসার প্রতিরোধ
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিকসহ হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নির্মূল
- জলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোমসহ অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণজনিত অবস্থা
- হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্ট্রেস আলসার প্রতিরোধ
সেবনবিধি ও মাত্রা
রোগ নির্ণয় ও আপনার সার্বিক অবস্থা দেখে কেবল একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই P-Gut IV-এর মাত্রা ও মেয়াদ ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্যান্টোপ্রাজলের প্রচলিত মাত্রা দিনে একবার ২০-৪০ মিলিগ্রাম, সাধারণত সকালের নাশতার ৩০-৬০ মিনিট আগে। সাধারণ কোর্স ২ থেকে ৮ সপ্তাহ; প্রয়োজনে রক্ষণ চিকিৎসা সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় পর্যালোচনাসহ চলে।
injection না ভেঙে, না চিবিয়ে পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, কারণ এন্টেরিক আবরণ ওষুধকে পাকস্থলীর অ্যাসিড থেকে রক্ষা করে। হাসপাতালে সাময়িকভাবে ইনজেকশন ব্যবহৃত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন অনুযায়ী, কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্যান্টোপ্রাজল সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ভাব, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও মাথা ঘোরা। বেশিরভাগই মৃদু এবং ওষুধ বন্ধ না করেই সেরে যায়।
কম দেখা যায় র্যাশ, চুলকানি, ঘুমের সমস্যা ও লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া। অন্যান্য পিপিআই-এর মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে (সাধারণত এক বছরের বেশি) ম্যাগনেসিয়াম কমা, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাড় ভাঙার ঝুঁকি সামান্য বাড়া ও অন্ত্রের সংক্রমণের কথা জানা গেছে। বিরল ক্ষেত্রে তীব্র অ্যালার্জি বা ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হয়। মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ফোসকাযুক্ত র্যাশ, না থামা পাতলা পায়খানা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনসহ মাংসপেশির টানে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
প্যান্টোপ্রাজল খাওয়ার আগে লিভারের রোগ, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কম, হাড় ক্ষয়, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি বা অন্ত্রের সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। অকারণ ওজন হ্রাস, বারবার বমি, রক্তবমি, কালো পায়খানা বা গিলতে কষ্টের মতো বিপদচিহ্ন থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে, কারণ অ্যাসিড কমালে গুরুতর রোগ আড়ালে থেকে যেতে পারে।
সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা যত কম সময় সম্ভব নিন; দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীদের নিয়মিত চিকিৎসা-পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে ম্যাগনেসিয়াম ও বি১২ পরীক্ষা দরকার। দীর্ঘ ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না, অ্যাসিডের উপসর্গ সাময়িকভাবে ফিরে আসতে পারে। নিয়মিত খাওয়া, ঝাল-তেল কম, ধূমপান ও চা-কফি সীমিত রাখা চিকিৎসায় সহায়ক।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য কিছু পিপিআই-এর তুলনায় প্যান্টোপ্রাজলের ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া কম, তবু সতর্কতা দরকার। পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে এটি কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, আয়রন এবং আটাজানাভির ও নেলফিনাভিরের মতো কিছু এইচআইভি ওষুধের শোষণ কমাতে পারে; এগুলোর সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়।
এটি ওয়ারফারিনসহ কুমারিন-জাতীয় রক্ত পাতলা করার ওষুধের প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই আইএনআর পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়; উচ্চমাত্রার মেথোট্রেক্সেটের রক্তমাত্রাও বাড়তে পারে। ডিগক্সিন, ডাইইউরেটিক (ম্যাগনেসিয়াম কমার ঝুঁকি) বা রিলপিভিরিনযুক্ত ওষুধ খেলে চিকিৎসককে জানান। সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজসহ সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
প্যান্টোপ্রাজল, অন্য কোনো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। কোনো পিপিআই খাওয়ার পর র্যাশ, মুখ বা জিভ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকলে বিশেষজ্ঞের পর্যালোচনা ছাড়া আবার খাবেন না।
রিলপিভিরিনযুক্ত এইচআইভি ওষুধের সঙ্গে এটি দেওয়া নিষেধ, আর আটাজানাভির বা নেলফিনাভিরের সঙ্গে ব্যবহারও অনুচিত। গুরুতর লিভারের সমস্যায় মাত্রা কমানো ও নিবিড় তত্ত্বাবধান লাগে। সব প্রেসক্রিপশন ওষুধের মতো, শুরুর আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে উপযুক্ততা নিশ্চিত করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় প্যান্টোপ্রাজলের তথ্য সীমিত, যদিও প্রাপ্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট ক্ষতি দেখা যায়নি। চিকিৎসক উপকারকে সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থার বুক জ্বালাপোড়ায় সাধারণত আগে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও অ্যান্টাসিড চেষ্টা করা হয়।
স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ প্যান্টোপ্রাজল বুকের দুধে যায়। শিশুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা কম মনে করা হলেও স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি, খাওয়ায় অনীহা বা র্যাশ দেখলে চিকিৎসককে জানাবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। এন্টেরিক আবরণ রক্ষায় ব্যবহারের আগ পর্যন্ত injection মূল ব্লিস্টার বা পাত্রে রাখুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। লেখা মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না এবং বাকি ওষুধ দায়িত্বের সঙ্গে, সম্ভব হলে ফার্মেসির মাধ্যমে, ফেলে দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গিলতে কষ্ট হলে P-Gut IV কি ভেঙে বা চিবিয়ে খাওয়া যাবে?
P-Gut IV কত দ্রুত বুক জ্বালাপোড়া কমাবে?
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে P-Gut IV কি অন্য অ্যাসিডের ওষুধের চেয়ে নিরাপদ?
সর্বশেষ হালনাগাদ: