ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Tablet

Oritam 250 250 mg Tablet

জেনেরিক: লেভেটিরাসেটাম

প্রস্তুতকারক: Orion Pharma Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiepileptic (Anticonvulsant)

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 16.00
Strip of 10 ৳ 160.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Oritam 250 কী?

Oritam 250 হলো Orion Pharma Ltd.-এর তৈরি লেভেটিরাসিটামযুক্ত একটি ট্যাবলেট, যা অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি মৃগীরোগে ফোকাল খিঁচুনি ও কিছু জেনারালাইজড খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

Oritam 250 250 mg tablet বাংলাদেশে Orion Pharma Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Levetiracetam — মৃগীরোগে খিঁচুনি প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত একটি আধুনিক অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ। এটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর এবং বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত খিঁচুনির ওষুধগুলোর একটি, কারণ এটি কয়েক ধরনের খিঁচুনিতে কাজ করে এবং অন্য ওষুধের সঙ্গে এর ক্রিয়া কম।

মস্তিষ্কের কোষগুলো অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত মাত্রায় বৈদ্যুতিক সংকেত ছাড়লে খিঁচুনি হয়। লেভেটিরাসেটাম স্নায়ুপ্রান্তের SV2A নামের প্রোটিনে যুক্ত হয়, যা কোষ থেকে কোষে রাসায়নিক বার্তা পাঠানো নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিঃসরণ স্থিতিশীল করে এটি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের উত্তেজনা কমায় — ফলে খিঁচুনি শুরু হওয়া ও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

কয়েক ধরনের মৃগীজনিত খিঁচুনি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা Oritam 250 দেন:

  • ফোকাল (আংশিক) খিঁচুনি — পুরো মস্তিষ্কে ছড়াক বা না ছড়াক
  • জেনারালাইজড টনিক-ক্লোনিক খিঁচুনি
  • মায়োক্লোনিক খিঁচুনি, যার মধ্যে জুভেনাইল মায়োক্লোনিক এপিলেপসিও আছে
  • একটি ওষুধে খিঁচুনি পুরো নিয়ন্ত্রণ না হলে বাড়তি (অ্যাড-অন) ওষুধ হিসেবে

জরুরি খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে ইনজেকশন ফর্মও ব্যবহৃত হয়। কোন ওষুধ, কী সমন্বয়ে, কত দিন চলবে — তা খিঁচুনির ধরন, বয়স, অন্যান্য রোগ এবং নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ পরিকল্পনা বুঝে বিশেষজ্ঞই ঠিক করেন। নিয়মিত ফলোআপ এই চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ।

সেবনবিধি ও মাত্রা

মাত্রা রোগীভেদে আলাদা, তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ নিয়ম:

  • শুরু: ২৫০–৫০০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার
  • সমন্বয়: খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ ও সহ্য ক্ষমতা অনুযায়ী ২–৪ সপ্তাহ পরপর বৃদ্ধি
  • সাধারণ সর্বোচ্চ: ১,৫০০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার (দৈনিক ৩,০০০ মি.গ্রা.)
  • কিডনি রোগে: কম মাত্রা দরকার — চিকিৎসককে জানান

Oritam 250 প্রতিদিন একই সময়ে, প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে দিনে ২ বার খান; খাবারসহ বা খালি পেটে চলবে। কখনো ডোজ মিস করবেন না, কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — খিঁচুনির ওষুধ বাদ পড়লে বা হঠাৎ বন্ধ হলে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে, এমনকি বিপজ্জনক দীর্ঘ খিঁচুনিও হতে পারে। ডোজ মিস হলে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজ কাছাকাছি হলে বাদ দিন; কখনোই দ্বিগুণ খাবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকেই Levetiracetam ভালোভাবে সহ্য করেন; সমস্যা সাধারণত প্রথম কয়েক সপ্তাহে বেশি থাকে:

  • সাধারণ: ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, সর্দি বা নাক বন্ধ
  • মন ও আচরণ: খিটখিটে মেজাজ, অল্পতে রাগ, দুশ্চিন্তা, মন খারাপ বা অস্থিরতা — শিশুদের মধ্যে বেশি; কদাচিৎ নিজের ক্ষতির চিন্তা। পরিবারের সদস্যরা আচরণের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখুন ও আগেভাগে জানান
  • কম দেখা যায়: ক্ষুধামান্দ্য, কাঁপুনি, টলমল ভাব, র‍্যাশ
  • গুরুতর (জরুরি): জ্বর বা ফোস্কাসহ মারাত্মক র‍্যাশ, অস্বাভাবিক কালশিটে বা বারবার সংক্রমণ, আত্মহত্যার চিন্তা, খিঁচুনি বেড়ে যাওয়া

মেজাজজনিত বেশির ভাগ সমস্যা মাত্রা সমন্বয়ে বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধ বদলে ভালো হয় — নিজে ওষুধ বন্ধ করে নয়।

সতর্কতা

Oritam 250 নিয়ে অপরিহার্য সতর্কতা:

  • কখনো ডোজ বাদ দেবেন না বা বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধে মারাত্মক, দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনি (স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস) হতে পারে
  • ওষুধ যেন কখনো ফুরিয়ে না যায় সে জন্য বাড়তি মজুত রাখুন, বিশেষত ভ্রমণে
  • মনমেজাজের পরিবর্তন, বিষণ্নতা, অস্বাভাবিক আগ্রাসন বা নিজের ক্ষতির চিন্তা হলে দ্রুত জানান
  • কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসককে বলুন — মাত্রা সমন্বয় করতে হয়
  • মদ ও অতিরিক্ত রাত জাগা এড়িয়ে চলুন — দুটোই খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়
  • গাড়ি চালানো নিয়ে দেশের নিয়ম ও চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন — সাধারণত দীর্ঘদিন খিঁচুনিমুক্ত থাকার পরই অনুমতি মেলে
  • গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে নিজে ওষুধ বন্ধ না করে আগে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Levetiracetam-এর একটি বাস্তব সুবিধা হলো এর ওষুধ-ক্রিয়া কম — অন্য ওষুধ ভাঙার লিভার এনজাইমে এটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। তবুও:

  • ঘুম-আনা ওষুধ ও মদ — একসঙ্গে ঝিমুনি ও টলমল ভাব বেশ বাড়তে পারে
  • অন্যান্য খিঁচুনির ওষুধ — সাধারণত নিরাপদে একসঙ্গে চলে, তবে খিঁচুনি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বদলালে বিশেষজ্ঞ মাত্রা সমন্বয় করেন
  • মেথোট্রেক্সেট — একসঙ্গে ব্যবহারে এর মাত্রা বাড়তে পারে; নজরদারি দরকার
  • প্রোবেনেসিড — লেভেটিরাসেটামের ভাঙা উপাদানের মাত্রা বাড়াতে পারে

প্রোফাইল ভালো হলেও আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের কথা চিকিৎসক-ফার্মাসিস্টকে জানান এবং নতুন কিছু যোগের পর ঝিমুনি বাড়লে বলুন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

Oritam 250-এর পুরোপুরি নিষেধ খুব কম ক্ষেত্রেই:

  • লেভেটিরাসেটাম, পাইরোলিডন গোত্রের অন্য যৌগ (যেমন পিরাসেটাম) বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • এই ওষুধে আগে গুরুতর চর্ম বা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া

উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতায় ওষুধ বাদ নয়, বরং মাত্রা কমিয়ে ও ঘন ঘন ফলোআপে ব্যবহার করতে হয়; আর আগে থেকে গুরুতর মানসিক রোগ থাকলে সতর্ক নজরদারি লাগে, কারণ তাদের ক্ষেত্রে মন-আচরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি ভোগাতে পারে। পুরোনো খিঁচুনির ওষুধ যাদের সহ্য হয় না তাদের অনেকের জন্যও এটি উপযোগী — তবে সে বিচার কেবল চিকিৎসকের।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি — অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশুর দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। তুলনামূলক আশ্বস্তকর তথ্য থাকায় গর্ভাবস্থায় যেসব খিঁচুনির ওষুধ অগ্রাধিকার পায়, Levetiracetam তার অন্যতম; তবে সিদ্ধান্ত ও মাত্রা নিউরোলজিস্টের — গর্ভাবস্থায় রক্তে ওষুধের মাত্রা কমে যেতে পারে বলে নজরদারি ও সমন্বয় লাগতে পারে। গর্ভধারণ জানার পর নিজে ওষুধ বন্ধ করবেন না। গর্ভধারণের আগে ও শুরুর দিকে সাধারণত বেশি মাত্রার ফলিক অ্যাসিড দেওয়া হয়।

বুকের দুধ খাওয়ানো: লেভেটিরাসেটাম বুকের দুধে যায়, তবুও শিশুর অতিরিক্ত ঝিমুনি ও ওজন বৃদ্ধির দিকে নজর রেখে প্রায়ই বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। সিদ্ধান্ত নিন চিকিৎসকের সঙ্গে মিলে।

সংরক্ষণ

Oritam 250 মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, রোদ, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; সিরাপ/সলিউশন হলে লেবেলের নির্দেশমতো বোতল ভালোভাবে আটকে রাখুন। খিঁচুনির সব ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। এই ওষুধ ফুরিয়ে যাওয়া সত্যিকারের বিপদ — তাই বাড়িতে অন্তত এক সপ্তাহের মজুত রাখুন এবং আগে থেকেই ওষুধ তুলে রাখুন, বিশেষত ছুটি, ভ্রমণ বা বন্যার আগে যখন ফার্মেসি পাওয়া কঠিন হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন না এবং অব্যবহৃত ওষুধ নিরাপদে ফেলে দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Oritam 250-এর একটি ডোজ মিস হয়ে গেলে কী করব?

মনে পড়ামাত্র মিস হওয়া ডোজটি খেয়ে নিন; তবে পরের ডোজের সময় প্রায় হয়ে গেলে বাদ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে ফিরুন। পুষিয়ে নিতে কখনোই দ্বিগুণ ডোজ খাবেন না। ডোজ বাদ পড়াই খিঁচুনি ফিরে আসার একটি বড় কারণ — তাই তা ঠেকানোর অভ্যাস গড়ুন: দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে বাঁধা নির্দিষ্ট সময়, ফোনের অ্যালার্ম, সাপ্তাহিক পিল বক্স এবং ব্যাগে অল্প বাড়তি ওষুধ। ডোজ খাওয়ার পরপরই বমি হলে বা বারবার ডোজ মিস হলে চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরামর্শ নিন।

দীর্ঘদিন খিঁচুনি না হলে কি Oritam 250 বন্ধ করা যাবে?

এ সিদ্ধান্ত কেবল নিউরোলজিস্টই নিতে পারেন। দীর্ঘ সময় — প্রায়ই দুই বছর বা তার বেশি — খিঁচুনিমুক্ত থাকার পর কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা যায়; তবে সিদ্ধান্তে খিঁচুনির ধরন, ইইজি রিপোর্ট, গাড়ি চালানো ও পেশাগত ঝুঁকি, রোগীর ইচ্ছা — সবই বিবেচ্য। বন্ধ করতে হলে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে কমানো হয়, কখনোই হঠাৎ নয় — হঠাৎ বন্ধে মারাত্মক খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে। অনেককে দীর্ঘমেয়াদে, এমনকি আজীবন ওষুধ খেতে হয় — সহনীয় ওষুধে খিঁচুনিমুক্ত থাকাটাই বড় সাফল্য।

Oritam 250 কি রাগ বা মনমেজাজের পরিবর্তন ঘটায়?

ঘটাতে পারে। খিটখিটে মেজাজ, অল্পতে রাগ, দুশ্চিন্তা, মন খারাপ ও অস্থিরতা লেভেটিরাসেটামের স্বীকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — সাধারণত প্রথম কয়েক সপ্তাহে দেখা দেয় এবং শিশুদের মধ্যে বেশি। আপনি বা পরিবারের কেউ আচরণে পরিবর্তন টের পেলে আগেভাগে চিকিৎসককে জানান; মাত্রা সমন্বয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিটামিন বি৬ যোগ, বা ভিন্ন খিঁচুনির ওষুধে বদল — এসব ব্যবস্থায় কাজ হয়। কদাচিৎ বিষণ্নতা বা নিজের ক্ষতির চিন্তা আসতে পারে — তখন জরুরি পরামর্শ দরকার। মেজাজের কারণে Oritam 250 হঠাৎ বন্ধ করবেন না — তাতে বিপজ্জনক খিঁচুনির ঝুঁকি; বরং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিবর্তন আনুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: