ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Tablet

Olmemax Plus 5 mg + 40 mg Tablet

জেনেরিক: অ্যামলোডিপিন + ওলমেসার্টান মেডোক্সোমিল

প্রস্তুতকারক: Desh Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antihypertensive Combination (Calcium Channel Blocker + ARB)

Olmemax Plus কী?

Olmemax Plus হলো amlodipine ও olmesartan medoxomil সমন্বিত একটি ট্যাবলেট, যেখানে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ও ARB একসঙ্গে থাকে। চিকিৎসকের বিবেচনায় এই সমন্বয় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

Olmemax Plus 5 mg + 40 mg tablet হলো Desh Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে রয়েছে Amlodipine + Olmesartan Medoxomil। একটি ওষুধে রক্তচাপ লক্ষ্যমাত্রায় না এলে, বা যাদের শুরু থেকেই দুটি ওষুধ লাগতে পারে — এমন রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।

দুটি উপাদান ভিন্ন পথে রক্তচাপ কমায়। অ্যামলোডিপিন একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার — এটি ধমনির দেয়ালের পেশি শিথিল করে নালিগুলো প্রশস্ত রাখে। ওলমেসার্টান একটি অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (ARB) — এটি অ্যানজিওটেনসিন-২ হরমোনকে রক্তনালি সংকোচন ও লবণ ধরে রাখা থেকে বিরত রাখে। একসাথে এরা আলাদা যেকোনোটির চেয়ে শক্তিশালীভাবে চাপ নিয়ন্ত্রণ করে, আর অ্যামলোডিপিনে যে গোড়ালি ফোলা হতে পারে, ওলমেসার্টান তা-ও কমায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • শুধু অ্যামলোডিপিন বা শুধু ওলমেসার্টানে নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)
  • চিকিৎসকের বিবেচনায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে দুটি ওষুধ লাগবে — এমন ক্ষেত্রে শুরু থেকেই
  • যারা অ্যামলোডিপিন ও ওলমেসার্টান আলাদা ট্যাবলেটে খান — সুবিধা ও নিয়মিত খাওয়ার জন্য

সেবনবিধি ও মাত্রা

আপনার রক্তচাপের রিডিং ও আগের ওষুধ দেখে চিকিৎসক Olmemax Plus-এর শক্তি ঠিক করবেন এবং ১–২ সপ্তাহ পর পূর্ণ প্রভাব দেখে প্রয়োজনে মাত্রা সমন্বয় করতে পারেন।

  • দিনে একবার, প্রতিদিন একই সময়ে খান; খাবারের সাথে বা খালি পেটে চলে।
  • পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান।
  • ডোজ মিস হলে ওই দিনেই মনে পড়ামাত্র খান; পরের ডোজ কাছে হলে বাদ দিন — কখনো দুটি একসাথে নয়।
  • সম্ভব হলে বাসায় রক্তচাপ মাপুন এবং রেকর্ড ফলো-আপে নিয়ে যান।

এটি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ। প্রতিটি রিডিং স্বাভাবিক দেখালেও নিজে থেকে Olmemax Plus বন্ধ করবেন না — ওষুধ কাজ করছে বলেই রিডিং স্বাভাবিক। বন্ধ করলে চাপ আবার নীরবে বেড়ে যাবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • গোড়ালি বা পা ফুলে যাওয়া (অ্যামলোডিপিন — এই কম্বিনেশনে সাধারণত কম হয়)
  • মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব, বিশেষত দাঁড়ালে
  • মুখ-গরম ভাব (ফ্লাশিং), বুক ধড়ফড়
  • মাথাব্যথা, ক্লান্তি
  • রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া (ওলমেসার্টান)
  • বিরল: ওজন কমাসহ দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক ডায়রিয়া (ওলমেসার্টানজনিত স্প্রু-জাতীয় এন্টারোপ্যাথি; কয়েক মাস–বছর পরেও হতে পারে)
  • বিরল কিন্তু গুরুতর: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া (অ্যানজিওইডিমা), রক্তচাপ মারাত্মক কমে যাওয়া — জরুরি চিকিৎসা নিন

সতর্কতা

  • নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন; সব ফলো-আপে যান।
  • চিকিৎসক মাঝে মাঝে কিডনির কার্যকারিতা ও পটাশিয়াম পরীক্ষা করতে পারেন।
  • কিডনি বা লিভার রোগ, হার্টের ভাল্ভ মারাত্মক সরু (অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস) বা হার্ট ফেইলিউর থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • বমি, ডায়রিয়া, ডাইউরেটিক বা কড়া কম-লবণ ডায়েটে পানিশূন্য থাকলে শুরুতে চাপ অতিরিক্ত কমতে পারে — দুর্বলতা বা অজ্ঞান ভাব হলে জানান।
  • বসা বা শোয়া থেকে ধীরে উঠুন; ওষুধের প্রভাব না বুঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।
  • প্রেসক্রিপশন ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামযুক্ত লবণ-বিকল্প নেবেন না।
  • ওজন কমাসহ দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক ডায়রিয়া হলে জানান।
  • বেশি পরিমাণ গ্রেপফ্রুট (আঙুরজাতীয়) রস এড়িয়ে চলুন (অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়তে পারে)।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমায় ও কিডনিতে চাপ ফেলে
  • অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইউরেটিক: চাপ বেশি কমে যেতে পারে
  • পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়াম-ধরে-রাখা ডাইউরেটিক: পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
  • এসিই ইনহিবিটর বা অ্যালিস্কিরেন: একসাথে সাধারণত দেওয়া হয় না — কিডনির ক্ষতি, পটাশিয়াম বাড়া ও চাপ কমার ঝুঁকি
  • লিথিয়াম: মাত্রা বাড়তে পারে
  • সিমভাস্ট্যাটিন (উচ্চ মাত্রা): অ্যামলোডিপিন এর মাত্রা বাড়ায় — মাত্রার সীমা মানতে হয়
  • শক্তিশালী CYP3A4 প্রতিরোধী (কিটোকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন): অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়ায়
  • কোলেসেভেলাম: এর অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে এই ওষুধ খান

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • অ্যামলোডিপিন বা অন্য ডাইহাইড্রোপিরিডিন, ওলমেসার্টান বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • গর্ভাবস্থা — ওলমেসার্টান উপাদানটি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে
  • মারাত্মক নিম্ন রক্তচাপ বা শক
  • মারাত্মক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস, হার্টের রক্তপ্রবাহের পথে বাধা
  • পিত্তনালির মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা (বিলিয়ারি অবস্ট্রাকশন)
  • ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যালিস্কিরেনের সাথে ব্যবহার

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওলমেসার্টান উপাদানটি গর্ভের শিশুর কিডনির ক্ষতি, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া এমনকি শিশুর মৃত্যু ঘটাতে পারে — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে ওষুধ বন্ধ করে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন — গর্ভাবস্থায় নিরাপদ বিকল্প শুরু করা হবে।

স্তন্যদান: ওলমেসার্টানের তথ্য সীমিত বলে দুধ খাওয়ানোর সময় এটি না খাওয়াই ভালো; অ্যামলোডিপিন অল্প পরিমাণে দুধে যায়। চিকিৎসক ভালোভাবে পরীক্ষিত বিকল্প দিতে পারবেন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভালো বোধ করলে কি Olmemax Plus বন্ধ করে দিতে পারি?

না। উচ্চ রক্তচাপে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না, তাই "ভালো লাগা" মানে Olmemax Plus ঠিকঠাক কাজ করছে। রোগটি কিন্তু থেকেই যায়; ট্যাবলেট বন্ধ করলে কয়েক দিনের মধ্যে চাপ আবার বাড়তে শুরু করে — নীরবে — আর স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন একই সময়ে খান, বাসার রিডিং লিখে রাখুন, এবং ওষুধ কমানো বা বদলানোর সিদ্ধান্ত শুধু চিকিৎসকের হাতে ছাড়ুন।

দুটি আলাদা ট্যাবলেটের বদলে চিকিৎসক Olmemax Plus দিলেন কেন?

Olmemax Plus-এ দুটি প্রমাণিত ওষুধ আছে, যারা ভিন্ন দিক থেকে উচ্চ রক্তচাপের ওপর কাজ করে: অ্যামলোডিপিন ধমনির দেয়াল শিথিল রাখে, আর ওলমেসার্টান সেই হরমোন ব্লক করে যা নালি সংকুচিত করে ও লবণ ধরে রাখে। একসাথে এরা আলাদা যেকোনোটির চেয়ে বেশি চাপ কমায়, প্রায়ই ছোট মাত্রায় ও কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় — অ্যামলোডিপিনের গোড়ালি ফোলাও ওলমেসার্টান কমিয়ে দেয়। আর দিনে একটি ট্যাবলেট দুটির চেয়ে মনে রাখা সহজ, যা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ সত্যিই ভালো করে।

গর্ভাবস্থায় কি Olmemax Plus খাওয়া যাবে?

না। Olmemax Plus-এ আছে ওলমেসার্টান, একটি ARB — আর গর্ভাবস্থায় ARB সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি গর্ভের শিশুর কিডনির ক্ষতি, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া এমনকি শিশুর মৃত্যুও ঘটাতে পারে, বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গর্ভবতী হলে, পরিকল্পনা থাকলে বা ওষুধ খাওয়া অবস্থায় গর্ভধারণ ধরা পড়লে ওষুধ বন্ধ করে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ বিকল্প রয়েছে।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: