See in English
Nitrocap 2.6 mg Capsule — Glyceryl Trinitrate (GTN / Nitroglycerin)

ক্যাপসুল

Nitrocap 2.6 mg ক্যাপসুল

জেনেরিক: গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট (জিটিএন / নাইট্রোগ্লিসারিন)

প্রস্তুতকারক: Orion Pharma Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Nitrate Vasodilator (Anti-anginal)

Nitrocap এর কাজ কি?

Nitrocap (ক্যাপসুল)-এর উপাদান গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট (জিটিএন / নাইট্রোগ্লিসারিন) 2.6 mg, প্রস্তুতকারক Orion Pharma Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Nitrate Vasodilator (Anti-anginal)।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ক্যাপসুল ৳ 5.03
Strip of 10 ৳ 50.30

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Nitrocap কী?

নাইট্রোক্যাপ ২.৬ মি.গ্রা. ক্যাপসুলে আছে গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট, যা নাইট্রোগ্লিসারিন নামেও পরিচিত; এটি একটি নাইট্রেট ভ্যাসোডাইলেটর। হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে হওয়া এনজাইনার বুকে ব্যথা কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।

Nitrocap 2.6 mg capsule হলো Orion Pharma Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Glyceryl Trinitrate (GTN / Nitroglycerin) — দ্রুত কার্যকর একটি নাইট্রেট। এটি অ্যানজাইনা — হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে বুকে যে চাপ ধরা, মোচড়ানো ব্যথা হয় — তা উপশম ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। জিহ্বার নিচের (সাবলিঙ্গুয়াল) ফর্ম কয়েক মিনিটে কাজ করে; দীর্ঘমেয়াদি ফর্ম প্রতিরোধে ব্যবহার হয়।

গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয় — এটি একটি প্রাকৃতিক সংকেত যা রক্তনালির দেয়ালের পেশি শিথিল করে। প্রথমে শিরা প্রশস্ত হয়, ফলে হার্টে রক্ত কম ফিরে আসে ও হার্টের পরিশ্রম কমে; হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনিও প্রশস্ত হয়। তখন হার্টের অক্সিজেন কম লাগে অথচ পায় বেশি — তাই জিহ্বার নিচে ওষুধ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুকের ব্যথা কমে আসে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • হঠাৎ অ্যানজাইনার আক্রমণ — বুকে ব্যথার দ্রুত উপশম (জিহ্বার নিচের ট্যাবলেট বা স্প্রে)
  • পরিশ্রমের আগে প্রতিরোধ — সিঁড়ি ভাঙার মতো যে কাজে ব্যথা ওঠে, তার কয়েক মিনিট আগে
  • অ্যানজাইনা প্রতিরোধ — আক্রমণের সংখ্যা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ট্যাবলেট বা প্যাচ
  • হাসপাতালে ব্যবহার — হার্ট অ্যাটাক, তীব্র হার্ট ফেইলিউর ও অপারেশনের সময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (ইনফিউশন ফর্ম)
  • এনাল ফিশার — বিশেষ মলম ফর্মে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Nitrocap 2.6 mg ক্যাপসুল-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তনালি প্রশস্ত হওয়ার কারণে হয় এবং প্রথম দিকের ডোজে বেশি থাকে:

  • দপদপে মাথাব্যথা — খুবই সাধারণ; ব্যবহার চলতে থাকলে সাধারণত কমে আসে, প্যারাসিটামলে আরাম হয়
  • মুখ-ঘাড় লাল হয়ে গরম লাগা
  • মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম বা মূর্ছা ভাব — বিশেষত দাঁড়ালে
  • বুক ধড়ফড়
  • রক্তচাপ কমে যাওয়া; বমি ভাব
  • জিহ্বার নিচে জ্বালা বা ঝিনঝিন (সাবলিঙ্গুয়াল ফর্মে) — ট্যাবলেট কার্যকর থাকার লক্ষণ
  • সাহায্য নিন যদি: অজ্ঞান হওয়া, তীব্র ও দীর্ঘ মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, বা ব্যথা না কমা

সতর্কতা

  • জিহ্বার নিচে ডোজ নেওয়ার আগে অবশ্যই বসে নিন — দাঁড়িয়ে থাকলে হঠাৎ চাপ কমে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
  • Nitrocap সবসময় সাথে রাখুন; অ্যানজাইনার আক্রমণ বলেকয়ে আসে না।
  • ডোজের আশপাশে মদ্যপান করবেন না — রক্তচাপ অনেক বেশি কমিয়ে দেয়।
  • ডোজের পরে ধীরে উঠুন; মাথা ঘোরা না কাটা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
  • আক্রমণ ঘন ঘন হলে, বিশ্রামে হলে বা রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিলে চিকিৎসককে জানান — এটি আনস্টেবল অ্যানজাইনা, দ্রুত পরীক্ষা দরকার।
  • নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি নাইট্রেটে শরীরে সহনশীলতা তৈরি হয় — চিকিৎসক প্রতিদিন একটি নাইট্রেট-মুক্ত বিরতি রাখবেন; নিজে বাড়তি ডোজ যোগ করবেন না।
  • মেয়াদ দেখে নিন; বোতল খোলার পর পরামর্শমতো সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট বদলান — পুরোনো ট্যাবলেটের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • যৌন দুর্বলতার ওষুধ (সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল): কোনোভাবেই একসাথে নয় — একত্রে রক্তচাপ প্রাণঘাতী পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। অন্তত ২৪ ঘণ্টা (সিলডেনাফিল) বা ৪৮ ঘণ্টা (টাডালাফিল) ব্যবধান লাগে, যা চিকিৎসক ঠিক করবেন
  • রিওসিগুয়াট: একইভাবে নিষিদ্ধ
  • অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ, বিটা-ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, ডাইউরেটিক: চাপ বেশি কমে যেতে পারে
  • অ্যালকোহল: মাথা ঘোরা ও নিম্ন রক্তচাপ বাড়ায়
  • আর্গোটামিন (মাইগ্রেন): নাইট্রেটের কাজ কমাতে পারে এবং আর্গোটামিন অ্যানজাইনা বাড়াতে পারে
  • হেপারিন (ইনফিউশনের ক্ষেত্রে): কার্যকারিতা কমতে পারে

আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান — বিশেষ করে যৌন দুর্বলতার কোনো ওষুধ খেলে।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট বা অন্য নাইট্রেটে অ্যালার্জি
  • নিষিদ্ধ সময়সীমার মধ্যে সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল বা রিওসিগুয়াট ব্যবহার
  • রক্তচাপ অতিরিক্ত কম বা শক; মারাত্মক রক্তস্বল্পতা
  • মাথার খুলির ভেতরে চাপ বেশি (মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)
  • হাইপারট্রফিক অবস্ট্রাকটিভ কার্ডিওমায়োপ্যাথি, মারাত্মক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস, কনস্ট্রিকটিভ পেরিকার্ডাইটিস (বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন দরকার)
  • ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: মানুষের ক্ষেত্রে তথ্য সীমিত বলে চিকিৎসক লাভ-ঝুঁকি বিচার করে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট ব্যবহার করা হয়। হাসপাতালে প্রসূতি চিকিৎসায় কখনো কখনো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত ব্যবহারের আগে গর্ভবতী হলে বা সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসককে জানান।

স্তন্যদান: মায়ের দুধে কতটা যায় তা জানা নেই। মাঝেমধ্যে জিহ্বার নিচে ব্যবহারে সমস্যার আশঙ্কা কম, তবে নিয়মিত ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন — প্রয়োজনে তিনি শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

সংরক্ষণ

এই ওষুধে সংরক্ষণই সবচেয়ে জরুরি: গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট সহজে উবে গিয়ে কার্যক্ষমতা হারায়। সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট মূল কাচের পাত্রে, শক্ত করে বন্ধ রাখুন; ভেতরে তুলা বা অন্য ট্যাবলেট রাখবেন না; তাপ, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন — গাড়িতে বা দীর্ঘ সময় শরীর-ঘেঁষা পকেটে নয়। ২৫–৩০° সেলসিয়াসের নিচে রাখুন; বোতল খোলার পর পরামর্শ অনুযায়ী ট্যাবলেট বদলান (প্রস্তুতকারকভেদে প্রায়ই ৮ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস); শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। স্প্রে ফর্ম বেশি দিন টেকে — লেবেল ও মেয়াদ দেখে নিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Nitrocap কীভাবে রাখলে কার্যকারিতা ঠিক থাকবে?

এই ওষুধ সহজে উবে যায়, আর দুর্বল ট্যাবলেট জরুরি মুহূর্তে কাজ না-ও করতে পারে। সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট মূল কাচের পাত্রে, শক্ত করে বন্ধ অবস্থায় রাখুন — কখনো পিল বক্স বা প্লাস্টিকের ব্যাগে সরাবেন না, বোতলে তুলা বা অন্য ট্যাবলেট রাখবেন না, এবং তাপ, আলো ও স্যাঁতসেঁতে জায়গা থেকে দূরে রাখুন (গাড়ির ড্যাশবোর্ডে নয়, সারাদিন শরীর-ঘেঁষা প্যান্টের পকেটেও নয়)। প্যাকের পরামর্শমতো খোলা ট্যাবলেট বদলান, আর জিহ্বার নিচের ঝিনঝিন ভাবটা খেয়াল করুন — ঝিনঝিন কম বা না হলে বুঝবেন ট্যাবলেট দুর্বল হয়ে গেছে, বদলানো দরকার। ওষুধটি সবসময় সাথে রাখুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →