ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Nexito 10 10 mg Tablet — Escitalopram

Tablet

Nexito 10 10 mg Tablet

জেনেরিক: এসসিটালোপ্রাম

প্রস্তুতকারক: Sun Pharmaceuticals (EZ) Ltd., Narayanganj

থেরাপিউটিক ক্লাস: Selective Serotonin Reuptake Inhibitor (SSRI) Antidepressant

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 11.00
Strip of 10 ৳ 110.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Nexito 10 কী?

Nexito 10 হলো escitalopram 10 mg সমৃদ্ধ একটি ট্যাবলেট, যা Sun Pharmaceuticals (EZ) Ltd., Narayanganj তৈরি করে। এটি মূলত বিষণ্নতা ও কিছু উদ্বেগজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের কার্যক্রম সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করে।

Nexito 10 10 mg tablet বাংলাদেশে Sun Pharmaceuticals (EZ) Ltd., Narayanganj কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Escitalopram — একটি সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI), যা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক বিষণ্নতার ওষুধগুলোর একটি। বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তাজনিত কয়েকটি রোগে চিকিৎসকরা এটি দেন। এটি চিকিৎসকের ফলোআপে প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়ার প্রেসক্রিপশন ওষুধ — মাঝেমধ্যে খাওয়ার ঘুম বা টেনশনের বড়ি নয়।

এসসিটালোপ্রাম কাজ করে সেরোটোনিন নিয়ে — মস্তিষ্কের যে রাসায়নিক মনমেজাজ, দুশ্চিন্তা ও ঘুম নিয়ন্ত্রণে জড়িত। এটি স্নায়ুকোষে সেরোটোনিন ফিরিয়ে নেওয়ার পাম্প আটকে দেয়, ফলে স্নায়ুসংযোগে সেরোটোনিন বেশি থাকে। প্রতিদিন নিয়মিত খেলে মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী সার্কিটের সংকেত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় — এ কারণেই উপকার সঙ্গে সঙ্গে নয়, দুই থেকে চার সপ্তাহে টের পাওয়া যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Nexito 10 যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • মেজর ডিপ্রেশন — দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, কিছু ভালো না লাগা, ঘুম ও শক্তির ঘাটতি
  • জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার — অতিরিক্ত, নিয়ন্ত্রণহীন দুশ্চিন্তা
  • প্যানিক ডিজঅর্ডার — হঠাৎ তীব্র ভয় বা আতঙ্কের আক্রমণ
  • সোশ্যাল অ্যাংজাইটি — মানুষের সামনে অস্বাভাবিক ভয়-সংকোচ
  • শুচিবাই (OCD) — মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে

প্রথমবার বিষণ্নতা থেকে সেরে ওঠার পরও সাধারণত অন্তত ছয় মাস ওষুধ চালিয়ে যেতে হয় — বারবার হলে বা দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তায় আরও বেশি — যেন রোগ ফিরে না আসে। কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি, নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা ও ফলোআপের সঙ্গে মিলেই ওষুধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে; ভালো বোধ করলেও নির্ধারিত ভিজিটে যান।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Nexito 10-এর সাধারণ মাত্রা:

  • সাধারণ মাত্রা: ১০ মি.গ্রা. দিনে একবার — সকালে বা রাতে, খাবারসহ বা খালি পেটে
  • সমন্বয়: সাড়া দেখে চিকিৎসক সর্বোচ্চ দৈনিক ২০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়াতে পারেন
  • বয়স্ক বা লিভারের রোগী: সাধারণত দৈনিক ১০ মি.গ্রা.-এর মধ্যে, অনেক সময় ৫ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু

প্রতিদিন একই সময়ে খান। স্পষ্ট উন্নতি পেতে দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগে — আর ভালো বোধ করার পরও চিকিৎসক যত দিন বলেন তত দিন চালিয়ে যান। কখনোই হঠাৎ বন্ধ করবেন না: হঠাৎ বন্ধে মাথা ঘোরা, শরীরে বিদ্যুৎ-শকের মতো অনুভূতি, খিটখিটে মেজাজ, বমিভাব ও ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে। বন্ধের সময় এলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমানো হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুরুর দিকে দেখা দেয় এবং এক-দুই সপ্তাহে কমে আসে:

  • সাধারণ: বমিভাব, মাথাব্যথা, মুখ শুকানো, ঘাম, ঘুমঘুম ভাব বা অনিদ্রা, সাময়িকভাবে দুশ্চিন্তা-অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া
  • কারও কারও থেকে যেতে পারে: যৌন আগ্রহ কমা বা তৃপ্তিতে দেরি, ওজনের পরিবর্তন, স্পষ্ট স্বপ্ন দেখা
  • গুরুতর (দ্রুত সাহায্য নিন): নতুন বা বেড়ে যাওয়া আত্মহত্যার চিন্তা — বিশেষত ২৫ বছরের কম বয়সীদের প্রথম সপ্তাহগুলোতে; অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কালশিটে; জ্বর ও মাংসপেশি কাঁপাসহ তীব্র অস্থিরতা (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম); অজ্ঞান হওয়া বা বুক ধড়ফড়; বয়স্কদের বিভ্রান্তি ও দুর্বলতা (রক্তে লবণ কমার লক্ষণ)

ওষুধ বন্ধ না করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানান — সময় বা মাত্রা বদলে বেশির ভাগই সামলানো যায়।

সতর্কতা

Nexito 10 নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • ২৫ বছরের কম বয়সীদের প্রথম সপ্তাহগুলোতে নিবিড় নজরদারি দরকার — এ সময় অস্থিরতা বা আত্মহত্যার চিন্তা সাময়িক বাড়তে পারে; পরিবারের সচেতনতা কাজে দেয়
  • উপকার পেতে ২–৪ সপ্তাহ সময় দিন; আগেই হাল ছাড়বেন না
  • কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে কমান
  • মৃগী, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, হার্টের ছন্দের সমস্যা, রক্তক্ষরণের প্রবণতা, গ্লুকোমা, লিভার-কিডনির রোগ ও ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • NSAID বা অ্যাসপিরিনের সঙ্গে খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে — যে ব্যথানাশকই খান, জানিয়ে রাখুন
  • মদ এড়িয়ে চলুন — এটি বিষণ্নতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দুটোই বাড়ায়
  • চিকিৎসার শুরুতে গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন, যত দিন না বুঝছেন ওষুধ আপনাকে কেমন প্রভাবিত করে

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Nexito 10 শুরুর আগে আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান:

  • MAO ইনহিবিটর — একসঙ্গে বা ১৪ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষেধ; প্রাণঘাতী সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি
  • অন্যান্য সেরোটোনিন-বর্ধক ওষুধ — ট্রামাডল, মাইগ্রেনের ট্রিপটান, অন্য অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, লিথিয়াম, সেন্ট জনস ওয়ার্ট — সেরোটোনিন সিনড্রোম ও খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়
  • NSAID, অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ে; সুরক্ষা-ব্যবস্থা লাগতে পারে
  • ওমিপ্রাজল ও সিমেটিডিন — এসসিটালোপ্রামের মাত্রা বাড়াতে পারে; মাত্রার সীমা প্রযোজ্য হতে পারে
  • QT-দীর্ঘকারী ওষুধ (কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিসাইকোটিক, হার্টের ছন্দের ওষুধ) — হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ে

মদ এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসককে না জিজ্ঞেস করে মন ভালো করার কোনো হারবাল ওষুধ যোগ করবেন না।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের কোনোটি প্রযোজ্য হলে Nexito 10 খাওয়া যাবে না:

  • MAO ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ চলমান বা গত ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহৃত হলে
  • জন্মগত লং-QT সিনড্রোম বা হার্টের ছন্দের উল্লেখযোগ্য অসংশোধিত সমস্যা
  • QT-দীর্ঘকারী অন্য শক্তিশালী ওষুধের সঙ্গে — বিশেষজ্ঞ গ্রহণ ও নজরদারি না করলে
  • এসসিটালোপ্রাম বা সিটালোপ্রামে অ্যালার্জি

বাইপোলার ডিজঅর্ডারে (একা ব্যবহারে ম্যানিয়া উসকে দিতে পারে), গুরুতর লিভার রোগে, অনিয়ন্ত্রিত মৃগীরোগে এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে কেবল মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্ত ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহারযোগ্য।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: সিদ্ধান্ত রোগীভেদে আলাদা। চিকিৎসাহীন বিষণ্নতা-দুশ্চিন্তা মা ও শিশুর জন্য বাস্তব ঝুঁকি, আর হঠাৎ ওষুধ বন্ধে রোগ প্রায়ই ফিরে আসে — তাই উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে হলে চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায়ও Escitalopram ব্যবহার করেন। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে ওষুধের সংস্পর্শে থাকা নবজাতকের জন্মের পর সাময়িক মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা (অস্থিরতা, দুধ টানা বা শ্বাসে অসুবিধা) হতে পারে — তাই ডেলিভারি টিমকে ওষুধের কথা জানিয়ে রাখুন।

বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে সামান্য পরিমাণ যায়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অনেক মা সফলভাবে বুকের দুধ চালিয়ে যান — শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি, খিটখিটে ভাব বা খাওয়ার অনীহার দিকে নজর রেখে। গর্ভধারণ ও শিশুকে খাওয়ানোর পরিকল্পনা সবসময় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মিলে করুন।

সংরক্ষণ

Nexito 10 মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন — বাথরুম বা রান্নাঘরের ভেজা পরিবেশে নয়। ওষুধটি শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া খেয়ে ফেলতে পারে এমন কারও থেকে দূরে রাখুন। লম্বা ভ্রমণের আগে ওষুধের হিসাব করে নিন, যেন দৈনিক ডোজ কোনো দিন বাদ না পড়ে — দিন বাদ গেলে ডিসকন্টিনিউয়েশন উপসর্গ হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন না, আর বাড়তি ওষুধ একই রকম উপসর্গের আত্মীয়কে না দিয়ে নিরাপদে ফেলে দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Nexito 10 কাজ শুরু করতে কত দিন লাগে?

লক্ষণীয় উন্নতি পেতে দুই থেকে চার সপ্তাহ ধরুন; পূর্ণ উপকার পেতে প্রায়ই ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগে। সাধারণত ঘুম ও ক্ষুধা আগে ভালো হয়, মনমেজাজ ও দুশ্চিন্তা কমে ধীরে। বিভ্রান্তিকর ব্যাপার হলো — উপকারের আগেই প্রথম কয়েক দিনে বমিভাব বা অস্থিরতার মতো হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যে কারণে অনেকে খুব তাড়াতাড়ি ওষুধ ছেড়ে দেন। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রতিদিন খেতে থাকুন। চার থেকে ছয় সপ্তাহেও অর্থবহ পরিবর্তন না এলে চিকিৎসককে দেখান — মাত্রা বদল বা ভিন্ন ওষুধ লাগতে পারে।

ভালো বোধ করলেই কি Nexito 10 বন্ধ করে দেওয়া যাবে?

না। ভালো লাগার অর্থ সাধারণত ওষুধ কাজ করছে — রোগ শেষ হয়ে গেছে তা নয়। আগেভাগে বন্ধ করাই রোগ ফিরে আসার সবচেয়ে বড় কারণ: নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথমবার সেরে ওঠার পর অন্তত ছয় মাস, আর বারবার হলে আরও বেশি দিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। আপনি ও চিকিৎসক মিলে সঠিক সময় ঠিক করলে কয়েক সপ্তাহ ধরে মাত্রা ধীরে ধীরে কমানো হয়; হঠাৎ বন্ধে মাথা ঘোরা, বিদ্যুৎ-শকের মতো অনুভূতি, খিটখিটে মেজাজ, বমিভাব ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনায় সিদ্ধান্ত নিতে ফলোআপে যাওয়া বন্ধ করবেন না।

ঘুমের ওষুধের মতো Nexito 10-ও কি অভ্যাসে পরিণত হয়?

না। নেশাজাতীয় দ্রব্যের মতো তীব্র টান, নেশা বা ক্রমাগত মাত্রা বাড়ানোর প্রবণতা Nexito 10-এ হয় না — কেউ নেশার জন্য এটি খায় না। তবে শরীর ওষুধটিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাই হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, বিদ্যুৎ-শকের মতো অনুভূতি, দুশ্চিন্তা ও ঘুমের সমস্যার মতো ডিসকন্টিনিউয়েশন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি শারীরিক অভিযোজন, আসক্তি নয় — এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে মাত্রা কমালেই তা সহজে এড়ানো যায়। এটিকে পরিকল্পিত চিকিৎসা হিসেবে নিন: প্রতিদিন, নির্ধারিত মাত্রায়, নিয়মিত ফলোআপসহ।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →