ট্যাবলেট
Napgin Plus-500 20 mg + 500 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: ইসোমিপ্রাজল + ন্যাপ্রোক্সেন
প্রস্তুতকারক: Biopharma Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: NSAID with Proton Pump Inhibitor (fixed combination)
Napgin Plus-500 এর কাজ কি?
Napgin Plus-500 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ইসোমিপ্রাজল + ন্যাপ্রোক্সেন 20 mg + 500 mg, প্রস্তুতকারক Biopharma Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: NSAID with Proton Pump Inhibitor (fixed combination)।
Napgin Plus-500 কী?
Napgin Plus-500 হলো esomeprazole ও naproxen সমন্বিত একটি ফিক্সড-ডোজ ট্যাবলেট। আর্থ্রাইটিসের মতো ব্যথা ও প্রদাহজনিত অবস্থায় এটি ব্যবহৃত হয়, আর esomeprazole পাকস্থলীর অ্যাসিড ও naproxen-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিক জ্বালার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
Napgin Plus-500 20 mg + 500 mg tablet হলো Biopharma Ltd.-এর তৈরি Esomeprazole + Naproxen-এর একটি ফিক্সড কম্বিনেশন। এতে ব্যথা ও প্রদাহনাশক এনএসএআইডি ন্যাপ্রোক্সেনের সঙ্গে অ্যাসিড-কমানো পিপিআই ইসোমিপ্রাজল একই ডোজে থাকে। যাঁদের নিয়মিত এনএসএআইডি দরকার কিন্তু পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি আছে, এমন আর্থ্রাইটিস রোগীদের ব্যথায় চিকিৎসকেরা Napgin Plus-500 দিয়ে থাকেন।
Esomeprazole + Naproxen-এর দুটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করে। ন্যাপ্রোক্সেন সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (কক্স) এনজাইম বন্ধ করে প্রোস্টাগ্লান্ডিন কমায়, যা জয়েন্টের ব্যথা, ফোলা ও জড়তার মূল কারণ। একই ক্রিয়া পাকস্থলীর সুরক্ষা-আবরণ দুর্বল করতে পারে বলে ইসোমিপ্রাজল অংশটি আগে নিঃসৃত হয়ে অ্যাসিড তৈরি কমায় এবং চিকিৎসা চলাকালে এনএসএআইডিজনিত গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসারের ঝুঁকি কমায়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- এনএসএআইডিজনিত আলসারের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও জড়তা
- চিকিৎসকের নির্দেশিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
- দীর্ঘস্থায়ী কোমরব্যথা ও জড়তাসহ অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস
- চিকিৎসকের বিবেচনায় পাকস্থলী সুরক্ষাসহ নিয়মিত এনএসএআইডি দরকার এমন অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত জয়েন্টের ব্যথা
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Napgin Plus-500 20 mg + 500 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বদহজম, পেটব্যথা, বমি ভাব, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও মাথাব্যথা। ন্যাপ্রোক্সেন অংশের কারণে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি ও কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হতে পারে; দীর্ঘ ব্যবহারে পায়ের গোড়ালি সামান্য ফোলা বা রক্তচাপ বাড়তে পারে।
গুরুতর ঝুঁকিগুলো খেয়াল রাখা জরুরি। অ্যাসিড-সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও এনএসএআইডি পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা ও ত্বকের বা অ্যালার্জির তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, বুকব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বেশি ফোলা বা ছড়িয়ে পড়া র্যাশ হলে ওষুধ বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
বয়স্ক হলে কিংবা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, আগের স্ট্রোক, কিডনি বা লিভারের দুর্বলতা, হাঁপানি, আলসার বা রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকলে বা ধূমপান করলে এই কম্বিনেশন বিশেষ সতর্কতায় ব্যবহার করুন। শুরুর আগে এসব অবস্থার কথা চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘ চিকিৎসায় রক্তচাপ, কিডনির কার্যকারিতা ও রক্তের কাউন্ট পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
নির্দেশমতো খাবারের আগে খান, মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং ফার্মেসি থেকে কেনা অন্য কোনো এনএসএআইডি বা ব্যথানাশকের সঙ্গে মেলাবেন না। সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা সবচেয়ে কম সময় ব্যবহার করুন। পানিশূন্যতায় কিডনির ঝুঁকি বাড়ে, তাই জ্বর বা ডায়রিয়ায় পর্যাপ্ত তরল খান এবং প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এই কম্বিনেশন বহু ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করে। ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অ্যান্টিপ্লেটলেট, কর্টিকোস্টেরয়েড ও এসএসআরআই-এর সঙ্গে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাসপিরিনের ব্যথার ডোজসহ অন্য কোনো এনএসএআইডি যোগ করা যাবে না। ন্যাপ্রোক্সেন রক্তচাপের ওষুধের (এসিই ইনহিবিটর, এআরবি, ডাইইউরেটিক) কাজ কমাতে পারে এবং একসঙ্গে কিডনির ওপর চাপ ফেলে; লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রাও বাড়াতে পারে।
ইসোমিপ্রাজল অংশ ক্লোপিডোগ্রেলের কার্যকারিতা কমায় এবং কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, আয়রন ও আটাজানাভিরের শোষণ কমায়; রিলপিভিরিনের সঙ্গে ব্যবহার নিষেধ। ঝুঁকি সামলাতে আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
ইসোমিপ্রাজল, অন্য পিপিআই, ন্যাপ্রোক্সেন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, কিংবা অ্যাসপিরিন বা কোনো এনএসএআইডিতে কখনো হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা মুখ ফুলে যাওয়া হয়ে থাকলে এই ওষুধ খাবেন না। সক্রিয় গ্যাস্ট্রিক বা অন্ত্রের আলসার ও রক্তক্ষরণ, তীব্র হার্ট ফেইলিউর এবং করোনারি বাইপাস (সিএবিজি) অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে-পরে ব্যথার জন্য এটি নিষিদ্ধ।
গুরুতর কিডনি বা লিভারের রোগে, গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে এবং রিলপিভিরিনযুক্ত ওষুধের সঙ্গে এড়িয়ে চলুন। এটি শিশুদের জন্য নয়। এনএসএআইডিতে আগে অন্ত্রের রক্তক্ষরণ হয়েছে এমন রোগীদের আবার এনএসএআইডি নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন জরুরি।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন এড়িয়ে চলা উচিত। ন্যাপ্রোক্সেন অংশটি শেষ তিন মাসে নিষিদ্ধ, কারণ এটি শিশুর হৃদ্-রক্তসঞ্চালন ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসব বিলম্বিত করতে পারে; গর্ভাবস্থার আগের দিকেও চিকিৎসকের ঝুঁকি-মূল্যায়ন দরকার।
স্তন্যদান: দুটি উপাদানই অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যেতে পারে। ন্যাপ্রোক্সেনের দীর্ঘ কার্যকাল স্তন্যদানে একে কম উপযোগী করে, বিশেষত নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে। চিকিৎসক উপযুক্ত মনে করলেই কেবল স্তন্যদানকারী মা এটি খাবেন এবং শিশুর অস্বাভাবিক লক্ষণে নজর রাখবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। স্তরযুক্ত আবরণ ঠিক রাখতে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত tablet মূল প্যাকেটে রাখুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন। প্যাকেটের মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না এবং অব্যবহৃত ওষুধ সম্ভব হলে নিরাপদে ফেলার জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।