Tablet
Montair 10 10 mg Tablet
জেনেরিক: মন্টেলুকাস্ট
প্রস্তুতকারক: Incepta Pharmaceuticals Ltd. (Dhamrai Unit)
থেরাপিউটিক ক্লাস: Leukotriene Receptor Antagonist
Montair 10 কী?
Montair 10 10 mg tablet হলো Incepta Pharmaceuticals Ltd. (Dhamrai Unit) এর একটি লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট, যাতে Montelukast রয়েছে। হাঁপানির দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়ামজনিত শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ এবং হাঁচি, সর্দি ও নাক বন্ধের মতো অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গ উপশমে এটি দেওয়া হয়। Montair 10 দিনে একবার খাওয়ার কন্ট্রোলার ওষুধ — হঠাৎ হাঁপানির অ্যাটাকের জরুরি চিকিৎসা নয়।
Montelukast শ্বাসনালির সিস্টেইনাইল লিউকোট্রিন রিসেপ্টর ব্লক করে। অ্যালার্জির সময় নিঃসৃত লিউকোট্রিন নামের রাসায়নিক শ্বাসনালির পেশি সংকুচিত করে, ফোলায় এবং কফ বাড়ায়। এগুলো ব্লক করায় Montelukast শ্বাসনালির প্রদাহ ও সংকোচন কমায় — ফলে হাঁপানির উপসর্গ কমে, রাতের নিয়ন্ত্রণ ভালো হয় এবং সময়ের সাথে রিলিভার ইনহেলারের প্রয়োজনও কমে আসে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- হাঁপানির দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ (প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু)
- ব্যায়ামজনিত শ্বাসনালি সংকোচন প্রতিরোধ
- মৌসুমি ও সারা বছরের অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
- অ্যালার্জিক রাইনাইটিসসহ হাঁপানি
- অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি (চিকিৎসকের পরামর্শে)
সেবনবিধি ও মাত্রা
Montair 10 দিনে একবার খেতে হয় — হাঁপানির জন্য সন্ধ্যায় খাওয়াই ভালো, খাবারের সাথে বা খালি পেটে। স্বাভাবিক ডোজ: ১৫ বছরের বেশি বয়সী ও প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ মি.গ্রা., ৬–১৪ বছরের শিশুদের ৫ মি.গ্রা. (চিবানোর ট্যাবলেট) এবং ২–৫ বছরের শিশুদের ৪ মি.গ্রা. (চিবানোর ট্যাবলেট বা গ্র্যানিউল) — শিশুদের চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনায় হবে। ব্যায়ামজনিত উপসর্গে ব্যায়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে একটি ডোজ নেওয়া যায়, তবে আগের ডোজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নয়। উপসর্গ না থাকলেও প্রতিদিন নিয়মিত খান, এবং শুরু হয়ে যাওয়া অ্যাটাকের চিকিৎসায় কখনো Montair 10 ব্যবহার করবেন না — সেজন্য দ্রুত কার্যকর রিলিভার ইনহেলার সাথে রাখুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মন্টেলুকাস্ট সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও হালকা ঠান্ডা-জ্বরভাব; শিশুদের পিপাসা বা অতিচঞ্চলতা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: মন্টেলুকাস্ট বিরল ক্ষেত্রে মেজাজ ও আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে পারে — অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব, দুঃস্বপ্ন, ঘুমের ব্যাঘাত, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা এবং বিরল ক্ষেত্রে আত্মহানির চিন্তা। বিশেষত শিশুদের মেজাজ বা আচরণে যেকোনো পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন এবং দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান; এমন হলে ওষুধটি সাধারণত বন্ধ করে দেওয়া হয়। খুব বিরল ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা র্যাশসহ ফ্লুর মতো অসুস্থতা হতে পারে।
সতর্কতা
মন্টেলুকাস্ট শুরুর আগে বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা বা অন্য মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান, এবং চিকিৎসা চলাকালীন — বিশেষত শিশুদের — মেজাজ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন। মন্টেলুকাস্ট যোগ হলেও নিজে থেকে ইনহেলড স্টেরয়েড বা হাঁপানির অন্য ওষুধ কমাবেন বা বন্ধ করবেন না; পরিবর্তন হবে ধীরে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনায়। রিলিভার ইনহেলার সবসময় সাথে রাখুন। চিবানোর ট্যাবলেটে অ্যাসপার্টাম থাকে — ফিনাইলকিটোনিউরিয়া রোগীদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খাওয়ার পরও হাঁপানি বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মন্টেলুকাস্টের চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া কম। রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন ও ফেনোবারবিটালের মতো এনজাইম-উদ্দীপক ওষুধ এর মাত্রা কমিয়ে কার্যকারিতা কমাতে পারে; জেমফাইব্রোজিল মাত্রা বাড়াতে পারে। থিওফাইলিন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ওয়ারফারিন বা ডিগক্সিনের সাথে সাধারণত ডোজ বদলাতে হয় না, তবে আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান, যাতে তারা সমস্যা যাচাই করতে পারেন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
মন্টেলুকাস্ট বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়া যাবে না। তীব্র হাঁপানির অ্যাটাক বা স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাসের একক চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না। আগে মন্টেলুকাস্টে গুরুতর মানসিক-স্নায়বিক উপসর্গ হয়ে থাকলে সাধারণত আর শুরু করা উচিত নয়। অ্যাসপার্টাম থাকায় চিবানোর ট্যাবলেট ফিনাইলকিটোনিউরিয়া রোগীদের জন্য নিষিদ্ধ।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: প্রাপ্ত তথ্যে বড় ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি, তবে কেবল চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলেই গর্ভাবস্থায় মন্টেলুকাস্ট ব্যবহার করা হয় — সাধারণত যাদের হাঁপানি আগে এতে ভালো নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; উপকার-ঝুঁকি বিবেচনা করে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে স্তন্যদানকালে ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় হাঁপানির চিকিৎসা বন্ধ করবেন না — অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি মা ও শিশুর দুজনেরই ক্ষতি করে।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টারে রাখুন; গ্র্যানিউলের প্যাকেট খোলার ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Montair 10 কেন সন্ধ্যায় খেতে বলা হয়?
হাঁপানির উপসর্গ সাধারণত রাতে ও ভোরে বাড়ে — তখনই লিউকোট্রিনের কার্যকলাপ ও শ্বাসনালির সংকোচন সবচেয়ে বেশি থাকে। সন্ধ্যায় Montair 10 খেলে ওষুধের প্রভাব এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়টা সবচেয়ে ভালোভাবে ঢেকে রাখে। শুধু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের জন্য হলে চিকিৎসক দিনের যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন।
হঠাৎ হাঁপানির অ্যাটাকে কি Montair 10 ব্যবহার করা যাবে?
না। Montair 10 প্রতিদিনের কন্ট্রোলার ওষুধ, যা সময়ের সাথে উপসর্গ প্রতিরোধ করে; জরুরি মুহূর্তে শ্বাসনালি খুলতে এটি অনেক ধীরে কাজ করে। হঠাৎ অ্যাটাকে সাথে সাথে দ্রুত কার্যকর রিলিভার ইনহেলার (যেমন সালবিউটামল) ব্যবহার করুন এবং শ্বাসকষ্ট না কমলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। পাশাপাশি Montair 10 প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী চালিয়ে যান।
শুনেছি Montair 10 মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে — চিন্তার কিছু আছে কি?
মন্টেলুকাস্টে মেজাজ ও আচরণের পরিবর্তন বিরল হলেও বাস্তব, এজন্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা যোগ করেছে। নতুন অস্থিরতা, দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সমস্যা, দুশ্চিন্তা, মনমরা ভাব বা অস্বাভাবিক আচরণের দিকে নজর রাখুন — বিশেষত শিশুদের। এমন কিছু দেখা দিলে একা দুশ্চিন্তা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; সাধারণত ওষুধটি বন্ধ করে বিকল্প দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর এসব সমস্যা কখনোই হয় না।
সর্বশেষ হালনাগাদ: