ChamberBD Logo ChamberBD

Syrup

Miraten 150 mg/100 ml Syrup

জেনেরিক: বিউটামিরেট সাইট্রেট

প্রস্তুতকারক: Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur

থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally acting cough suppressant (non-opioid antitussive)

Miraten কী?

Miraten 150 mg/100 ml syrup প্রস্তুত করে Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur। এতে রয়েছে Butamirate Citrate, মস্তিষ্কের কাশি-কেন্দ্রের ওপর কাজ করা একটি কাশি দমনকারী (অ্যান্টিটাসিভ) ওষুধ, যা শুকনো, খুসখুসে ও কফবিহীন কাশি উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি কোডেইনের মতো আফিমজাত (ওপিওয়েড) ওষুধ নয়, তাই নির্ধারিত মাত্রায় খেলে নেশা বা নির্ভরশীলতা তৈরি করে না।

Butamirate Citrate সরাসরি মস্তিষ্কের কাশি-কেন্দ্রে কাজ করে কাশির প্রবণতা শান্ত করে। পাশাপাশি এটি শ্বাসনালিকে কিছুটা শিথিল করে ও বাতাস চলাচলের বাধা কমায়, ফলে শুকনো কাশির দমকের সময় শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। যেহেতু এটি কফ পরিষ্কার না করে কাশির রিফ্লেক্স দমন করে, তাই Miraten শুধু শুকনো কাশির জন্য — কফযুক্ত (ভেজা) কাশি সাধারণত দমন করা উচিত নয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Miraten যেসব ক্ষেত্রে উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়:

  • সর্দি, ফ্লু বা গলা ও শ্বাসনালির অস্বস্তিজনিত শুকনো, খুসখুসে, কফবিহীন কাশি
  • হুপিং কাশির মতো দমকা কাশি
  • ঘুম নষ্ট করা রাতের শুকনো কাশি
  • চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার বা ব্রঙ্কোস্কপির আগে-পরে কাশি দমনে

Miraten শুধু কাশির উপসর্গ কমায় — মূল সংক্রমণ বা অ্যালার্জির চিকিৎসা করে না। এটি কফযুক্ত (ভেজা) কাশির জন্য নয়, কারণ কফ শরীর থেকে বের হওয়া দরকার। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখান।

সেবনবিধি ও মাত্রা

Miraten ঠিক চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খান। ড্রপ, সিরাপ না ট্যাবলেট — ফর্ম, শক্তি ও বয়সভেদে মাত্রা আলাদা হয়, তাই সঠিক মাত্রা ও নিয়ম চিকিৎসকই ঠিক করবেন

  • সিরাপ মাপার জন্য সঙ্গে দেওয়া কাপ বা চামচ ব্যবহার করুন — ঘরের চামচ নয়
  • শিশুদের ক্ষেত্রে: বয়স ও ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারিত হয়; চিকিৎসকের বলা ফর্ম ও পরিমাণই দিন, বড়দের ওষুধ শিশুকে কখনো দেবেন না
  • মডিফাইড-রিলিজ ট্যাবলেট চিবানো বা গুঁড়া না করে আস্ত গিলে খান
  • নির্ধারিত মাত্রা বা বারের চেয়ে বেশি খাবেন না

Miraten খাওয়ার পরও কাশি ৭ দিনের বেশি থাকলে, কিংবা জ্বর, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ওষুধ চালিয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Miraten-এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয় এবং হলেও সাধারণত মৃদু। যা হতে পারে:

  • বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি
  • পাতলা পায়খানা
  • মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব
  • কারও কারও ঘুম-ঘুম ভাব
  • ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা আমবাত (বিরল অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া)

এগুলো সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন। বমি ভাব বা মাথা ঘোরা না কমলে কিংবা অন্য কোনো উপসর্গে দুশ্চিন্তা হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

সতর্কতা

  • কফযুক্ত (ভেজা) কাশিতে Miraten ব্যবহার করবেন না। কফওয়ালা কাশি দমন করলে কফ শ্বাসনালিতে আটকে থেকে বুকের সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে
  • কফ পাতলা করার ওষুধের (এক্সপেক্টোরেন্ট/মিউকোলাইটিক) সঙ্গে কখনো খাবেন না — যেমন অ্যামব্রক্সল, ব্রোমহেক্সিন বা গুয়াইফেনেসিন; একটি কফ আলগা করে, অন্যটি কাশি আটকে দেয়
  • কাশি ৭ দিনের বেশি থাকলে, কিংবা জ্বর, কফে রক্ত, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে শুধু কাশির ওষুধ নয় — চিকিৎসক দেখান
  • Miraten খেলে কারও কারও ঘুম-ভাব বা মাথা ঘোরা হতে পারে — গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন
  • ডায়াবেটিস থাকলে লেবেল দেখে নিন — কিছু সিরাপে সরবিটলের মতো মিষ্টিকারক থাকে
  • শিশুদের কেবল চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Butamirate Citrate-এর সঙ্গে অন্য ওষুধের পরিচিত মিথস্ক্রিয়া কম, তবে কিছু সমন্বয় এড়িয়ে চলা উচিত:

  • এক্সপেক্টোরেন্ট ও মিউকোলাইটিক (অ্যামব্রক্সল, ব্রোমহেক্সিন, গুয়াইফেনেসিন) — একসঙ্গে খাবেন না; কফ আলগা করার সঙ্গে কাশি দমন করলে কফ শ্বাসনালিতে জমে সংক্রমণ হতে পারে
  • ঘুমের ওষুধ ও অ্যালকোহল — ঘুম-ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে
  • অন্যান্য সর্দি-কাশির ওষুধ — অনেকগুলোতে একই ধরনের উপাদান থাকে, তাই আগে ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলুন

Miraten শুরুর আগে আপনার সব ওষুধ, ভেষজ পণ্য ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Miraten খাবেন না:

  • বিউটামিরেট সাইট্রেট বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • প্রচুর কফসহ ভেজা (কফযুক্ত) কাশি থাকলে

ড্রপ, শিশুদের সিরাপ ও বড়দের ট্যাবলেট — প্রতিটি ফর্মের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা আলাদা, তাই শিশুকে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শমতো ফর্মটিই দিন। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এটি সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। হাঁপানি বা সিওপিডির মতো দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ থাকলে Miraten খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থায়: গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে Butamirate Citrate এড়িয়ে চলা উচিত। পরের দিকে কেবল চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করা যায় — গর্ভাবস্থায় কাশির জন্য নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না, আগে কারণ নির্ণয় জরুরি।

স্তন্যদানকালে: বুকের দুধে বিউটামিরেট যায় কি না জানা নেই। সতর্কতা হিসেবে স্তন্যদানকালে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে, সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় ও অল্প সময়ের জন্য Miraten ব্যবহার করুন। শিশু অস্বাভাবিক ঘুমালে বা দুধ টানতে না চাইলে ওষুধ বন্ধ করে চিকিৎসককে জানান।

সংরক্ষণ

Miraten ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।

  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — সিরাপ মিষ্টি বলে শিশুরা ভুলে খেয়ে ফেলতে পারে
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না
  • বোতল খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন, বাকিটা ফেলে দিন
  • সবসময় প্যাকের সঙ্গে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ ব্যবহার করুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কফসহ ভেজা কাশিতে কি Miraten খাওয়া যাবে?

না। Miraten একটি কাশি দমনকারী ওষুধ, যা শুধু শুকনো খুসখুসে কাশির জন্য। ভেজা কাশির মাধ্যমে শরীর বুক থেকে কফ বের করে দেয় — এই কাশি দমন করলে কফ শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে বুকের সংক্রমণ বাড়তে পারে। কফযুক্ত কাশির জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত কফ পাতলা করার ওষুধ এবং মূল কারণের চিকিৎসা দেন। আপনার কাশিটি কোন ধরনের তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।

কোডেইন সিরাপের মতো Miraten কি নেশা বা অভ্যাস তৈরি করে?

না। Miraten-এর উপাদান বিউটামিরেট সাইট্রেট কোনো ওপিওয়েড নয় এবং কোডেইনের সঙ্গে এর রাসায়নিক সম্পর্ক নেই। নির্ধারিত মাত্রায় এটি নেশা, নির্ভরশীলতা কিংবা ওপিওয়েড কাশির ওষুধের মতো কোষ্ঠকাঠিন্য বা তীব্র ঘুম-ভাব তৈরি করে না। তাই শুকনো কাশির জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবু নির্ধারিত মাত্রায় অল্প সময়ের জন্যই খাওয়া উচিত, আর কাশি লেগে থাকলে চিকিৎসককে দেখানো জরুরি।

Miraten কতদিন পর্যন্ত খাওয়া যায়?

Miraten স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য। প্রায় ৭ দিন খাওয়ার পরও কাশি না কমলে — কিংবা যেকোনো সময় জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বুকে শাঁই শাঁই শব্দ বা কফে রক্ত দেখা দিলে — কাশির ওষুধের ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের কাছে যান। দীর্ঘস্থায়ী কাশি হাঁপানি, সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রিকের রিফ্লাক্স, এমনকি যক্ষ্মার লক্ষণও হতে পারে — যার দরকার সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা, কেবল উপসর্গ চাপা দেওয়া নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: