Tablet
Med Cal 1250 mg Tablet
জেনেরিক: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
প্রস্তুতকারক: Medimet Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Mineral supplement / Antacid
Med Cal কী?
মেড ক্যাল ১২৫০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে, যা শরীরে ক্যালসিয়াম সরবরাহকারী একটি মিনারেল সাপ্লিমেন্ট। এটি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় সাহায্য করে এবং বুকজ্বালা বা অ্যাসিড বদহজমে অ্যান্টাসিড হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
Med Cal 1250 mg tablet হলো Medimet Pharmaceuticals Ltd.-এর তৈরি Calcium Carbonate প্রস্তুতি। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম লবণ, যাতে প্রতি ডোজে এলিমেন্টাল ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ ও পূরণে, অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের সুরক্ষায়, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান ও বার্ধক্যের বাড়তি চাহিদা মেটাতে এবং কখনো বুক জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টাসিড হিসেবে চিকিৎসকেরা Med Cal দিয়ে থাকেন।
Calcium Carbonate দুইভাবে কাজ করে। সম্পূরক হিসেবে এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডে গলে ক্যালসিয়াম আয়ন ছাড়ে, যা অন্ত্র শোষণ করে হাড় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পেশির সংকোচন, স্নায়ুর সংকেত ও রক্ত জমাট বাঁধায় কাজে লাগে। অ্যান্টাসিড হিসেবে কার্বোনেট অংশ সরাসরি পাকস্থলীর অ্যাসিড প্রশমিত করে অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালায় দ্রুত, স্বল্পস্থায়ী আরাম দেয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ ও পূরণ
- সাধারণত ভিটামিন ডি ও চিকিৎসকের নির্দেশিত চিকিৎসার সঙ্গে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওপেনিয়ায় সহায়তা
- গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান, কৈশোর ও বার্ধক্যে ক্যালসিয়ামের বাড়তি চাহিদা
- চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহারে হাড়ের সুরক্ষা
- বুক জ্বালাপোড়া ও অ্যাসিডজনিত বদহজমে উপসর্গভিত্তিক আরাম (অ্যান্টাসিড)
- কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ফসফেট বাইন্ডার
সেবনবিধি ও মাত্রা
আপনার খাদ্যাভ্যাস, বয়স ও রোগ বিবেচনা করে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই Med Cal-এর মাত্রা ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রচলিত সম্পূরক মাত্রা দৈনিক প্রায় ৫০০-১০০০ মিলিগ্রাম এলিমেন্টাল ক্যালসিয়াম, এক বা দুই ভাগে, খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে — খাবারের সময় নিঃসৃত অ্যাসিড শোষণ বাড়ায়। একবারে ৫০০-৬০০ মিলিগ্রামের বেশি না খেলে শরীর সবচেয়ে ভালো শোষণ করে, তাই বেশি দৈনিক মাত্রা ভাগ করে খাওয়া হয়।
মাঝেমধ্যে অ্যান্টাসিড হিসেবে উপসর্গের সময় Med Cal চিবিয়ে বা নির্দেশমতো খাওয়া যায়, তবে লেবেলে লেখা দৈনিক সর্বোচ্চ ছাড়ানো যাবে না। শিশুদের মাত্রা ওজন ও বয়স অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শে। আয়রন ট্যাবলেট ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক থেকে দুই ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নির্ধারিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও ঢেকুর। কারও কারও হালকা বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি হয়, যা খাবারের সঙ্গে খেলে বা দিনে ভাগ করে নিলে সাধারণত কমে।
অতিরিক্ত বা দীর্ঘ উচ্চমাত্রায় রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি ও কিডনিতে পাথর হতে পারে; শোষণযোগ্য অ্যান্টাসিডসহ খুব বেশি খেলে মিল্ক-অ্যালকালি সিনড্রোম হতে পারে। অ্যান্টাসিড হিসেবে প্রভাব কেটে গেলে অ্যাসিড রিবাউন্ড হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে, হাড়ব্যথা, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা প্রস্রাব কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ বা পাথর, সারকয়ডোসিস, প্যারাথাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কিংবা উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি খেলে নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জানান; এসবে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। মোট গ্রহণই আসল — খাবার, ফর্টিফায়েড পণ্য ও সব সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২০০০-২৫০০ মিলিগ্রামের বেশি যেন না হয়।
শোষণের জন্য Med Cal খাবারের সঙ্গে খান এবং আয়রন, জিংক ও থাইরয়েডের ওষুধ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর কিছু অ্যান্টিবায়োটিক থেকে নির্দেশমতো ব্যবধান রাখুন। দীর্ঘদিন নিজে নিজে অ্যান্টাসিড খেলে পাকস্থলীর গুরুতর রোগ আড়ালে থাকতে পারে; ঘন ঘন বুক জ্বালা হলে চিকিৎসক দেখান। পর্যাপ্ত পানি কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাথরের ঝুঁকি কমায়।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একসঙ্গে খেলে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট অনেক ওষুধের শোষণ কমায়: টেট্রাসাইক্লিন ও কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন), লিভোথাইরক্সিন, আয়রন ও জিংক লবণ এবং অ্যালেনড্রোনেটের মতো বিসফসফোনেট — চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের বলা ব্যবধান মানুন, প্রায়ই দুই থেকে চার ঘণ্টা বা বেশি।
থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ক্যালসিয়াম নিঃসরণ কমায়, একসঙ্গে নিলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অ্যান্টাসিড হিসেবে এটি আরও কিছু ওষুধের শোষণ বদলাতে পারে; উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি বা এ ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য পাল্টায়। বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও ফাইটেটসমৃদ্ধ খাবারও শোষণ কমায়। শুরুর আগে পুরো ওষুধের তালিকা জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি (হাইপারক্যালসেমিয়া) বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে, এর কারণ হওয়া রোগে — যেমন হাইপারপ্যারাথাইরয়ডিজম, ভিটামিন ডি-এর আধিক্য, সারকয়ডোসিস ও হাড়ে ছড়ানো কিছু ক্যানসার — এবং বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান ছাড়া গুরুতর কিডনি দুর্বলতা ও বারবার ক্যালসিয়াম পাথরে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ব্যবহার করা যাবে না।
প্রস্তুতিটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলেও এটি নিষিদ্ধ। পাকস্থলীর অ্যাসিড কম (অ্যাক্লোরহাইড্রিয়া) হলে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ভালো শোষিত হয় না; ক্যালসিয়াম সাইট্রেটের মতো ভিন্ন লবণ লাগতে পারে। কখনো কিডনিতে পাথর বা প্যারাথাইরয়েডের রোগ হয়ে থাকলে নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে এবং নির্ধারিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট নিরাপদ ধরা হয়; কোথাও কোথাও গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে চিকিৎসকেরা এটি নিয়মিত দেন। খাবার ও সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে পরামর্শকৃত মোট মাত্রা ছাড়াবেন না এবং আয়রন ট্যাবলেট থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
স্তন্যদান: ক্যালসিয়াম স্বাভাবিক উপাদান হিসেবেই বুকের দুধে থাকে এবং নির্ধারিত মাত্রার সম্পূরক স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মায়েদের চাহিদা ভিন্ন হয় বলে কেবল চিকিৎসকের বলা পরিমাণ চালিয়ে যান এবং অতিরিক্তের লক্ষণ — বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য, তৃষ্ণা বা ঘন ঘন প্রস্রাব — দেখা দিলে জানান।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রেখে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত tablet মূল প্যাকেটে রাখুন; বিশেষত চিবানোর ট্যাবলেট আর্দ্রতা টেনে নরম হয়ে যায়। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Med Cal কি খাবারের সঙ্গে খাব, না খালি পেটে?
Med Cal আর আয়রন ট্যাবলেট কি একসঙ্গে খাওয়া যাবে?
শুধু Med Cal খেলেই কি হাড় শক্ত হবে?
সর্বশেষ হালনাগাদ: