Capsule
Maxclin 150 150 mg Capsule
জেনেরিক: ক্লিন্ডামাইসিন
প্রস্তুতকারক: Alco Pharma Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Lincosamide antibiotic
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Capsule | ৳ 8.00 |
| Capsule | ৳ 8.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Maxclin 150 কী?
ম্যাক্সক্লিন ১৫০ হলো ক্লিনডামাইসিনযুক্ত একটি ক্যাপসুল, যা লিনকোসামাইড অ্যান্টিবায়োটিক। উপযুক্ত হলে এটি ত্বক, নরম টিস্যু, শ্বাসতন্ত্র, হাড়, জয়েন্ট বা দাঁতের কিছু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।
Alco Pharma Limited-এর Maxclin 150 150 mg capsule-এ রয়েছে ক্লিন্ডামাইসিন, একটি লিনকোসামাইড অ্যান্টিবায়োটিক। ত্বক, দাঁত, হাড় ও পেটের কিছু গুরুতর ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয় এবং অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া ও কিছু প্রতিরোধী স্ট্যাফের বিরুদ্ধে মূল্যবান।
ক্লিন্ডামাইসিন ব্যাকটেরিয়ার রাইবোজোমে — যেখানে প্রোটিন তৈরি হয় — যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। এই প্রোটিন ছাড়া ব্যাকটেরিয়া বাড়তে বা বংশবিস্তার করতে পারে না এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে। গভীর, দাঁতের কিংবা অন্য অ্যান্টিবায়োটিক যেসব ব্যাকটেরিয়ায় কাজ করে না, সেসব সংক্রমণে এটি প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণে চিকিৎসকেরা Clindamycin দিয়ে থাকেন, যেমনঃ
- ত্বক ও নরম কলার গুরুতর সংক্রমণ
- দাঁত ও চোয়ালের সংক্রমণ, বিশেষত ফোড়া হলে
- হাড় ও গাঁটের সংক্রমণ
- পেট ও পেলভিসের সংক্রমণ (প্রায়ই অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে)
- কিছু ক্ষেত্রে ব্রণ (লাগানোর বা মুখে খাওয়ার) ও কিছু প্রতিরোধী স্ট্যাফ সংক্রমণ
পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকা রোগী ও অ্যানারোবিক সংক্রমণে এটি বিশেষ উপযোগী। আপনার অবস্থায় ক্লিন্ডামাইসিন উপযুক্ত কিনা চিকিৎসক ঠিক করবেন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Maxclin 150-এর মাত্রা সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে। নিচের তথ্য কেবল সাধারণ ধারণা।
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিন কোর্স চলে, ক্যাপসুল সাধারণত দিনে তিন থেকে চারবার নিতে হয়।
- শিশু: মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় ও চিকিৎসকের পরামর্শে দিতে হয়।
Maxclin 150 এক গ্লাস পানি দিয়ে খান এবং খাদ্যনালীতে জ্বালা এড়াতে কিছুক্ষণ সোজা হয়ে থাকুন। ক্যাপসুল আস্ত গিলুন, ডোজ সমান বিরতিতে নিন এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ক্লিন্ডামাইসিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি অন্ত্রকে প্রভাবিত করেঃ
- সাধারণ: ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও মুখে ধাতব স্বাদ
- কম সাধারণ: ত্বকে র্যাশ ও চুলকানি
- গুরুতর (দ্রুত সাহায্য নিন): তীব্র, পানির মতো বা রক্তযুক্ত ডায়রিয়া — যা চিকিৎসা চলাকালীন বা কোর্স শেষের কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে — পেটে খিঁচুনি ও জ্বরসহ; কিংবা গুরুতর অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ
তীব্র ডায়রিয়া বিপজ্জনক অন্ত্রের সংক্রমণের (সি. ডিফিসিল) ইঙ্গিত হতে পারে। এমন হলে ঔষধ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সতর্কতা
Clindamycin একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শেই খান — নিজে নিজে ঔষধ খাবেন না, অন্যকে দেবেন না বা পুরোনো ক্যাপসুল নতুন অসুখে ব্যবহার করবেন না।
- তীব্র বা পানির মতো ডায়রিয়া সঙ্গে সঙ্গে জানান। ক্লিন্ডামাইসিন গুরুতর অন্ত্রের সংক্রমণ (ক্লোস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিল) ঘটাতে পারে, যা কোর্স শেষের পরও হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়ার ঔষধ খাবেন না।
- নির্দেশমতো পুরো কোর্স শেষ করুন; আগেভাগে বন্ধ করলে ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে ফিরে আসে।
- বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট, তাই অ্যান্টিবায়োটিক কখনো অপব্যবহার করা যাবে না।
- অন্ত্র, যকৃত বা কিডনির কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের পূর্ণ তালিকা চিকিৎসককে দিন। ক্লিন্ডামাইসিন নিচের ঔষধের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারেঃ
- অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধ — এদের প্রভাব বাড়তে পারে; অ্যানেস্থেটিস্টকে ক্লিন্ডামাইসিন খাওয়ার কথা জানান
- ইরাইথ্রোমাইসিনের মতো অন্য অ্যান্টিবায়োটিক — এরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে
- অন্ত্রের নড়াচড়া কমায় এমন ঔষধ, যেমন শক্তিশালী ডায়রিয়া-বিরোধী ঔষধ (ওপিওয়েড) — এরা অন্ত্রের প্রদাহ বাড়াতে পারে
ক্লিন্ডামাইসিনের সঙ্গে অন্য ঔষধ মেশানোর আগে সবসময় চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের ক্ষেত্রে Clindamycin খাবেন নাঃ
- ক্লিন্ডামাইসিন বা লিনকোমাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে
- অ্যান্টিবায়োটিক-সম্পর্কিত কোলাইটিস বা গুরুতর অন্ত্রের প্রদাহের ইতিহাস থাকলে
যকৃতের রোগ, কিডনি সমস্যা বা হজমজনিত রোগের ইতিহাস থাকলে সতর্কতা ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন। এই ঔষধ শুরুর আগে, বিশেষত অতীতের অন্ত্রের সমস্যা, সম্পূর্ণ রোগের ইতিহাস জানান।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ক্লিন্ডামাইসিন ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে এবং উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি হলে।
এটি বুকের দুধে যেতে পারে এবং শিশুর কখনো কখনো পেটের অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে, তাই স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই এটি ব্যবহার করবেন এবং শিশুর ডায়রিয়া বা পায়খানায় রক্ত আছে কিনা লক্ষ্য রাখবেন। আপনি গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনায় থাকলে বা স্তন্যদান করালে Maxclin 150 খাওয়ার আগে চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
Maxclin 150 ৩০°C-এর নিচে শীতল ও শুষ্ক স্থানে, রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।
- ক্যাপসুল মূল প্যাকে রাখুন।
- গুলে তৈরি সলিউশন নির্দেশমতো সংরক্ষণ করুন এবং লেবেলে নিষেধ থাকলে ফ্রিজে রাখবেন না, কারণ তা ঘন হয়ে যেতে পারে।
- সব ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
- মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ঔষধ ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Maxclin 150 খাওয়ার সময় তীব্র ডায়রিয়া হয়েছে — কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, অবহেলা করবেন না। ক্লিন্ডামাইসিন অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে ক্লোস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিল নামের ক্ষতিকর জীবাণু বাড়িয়ে দিতে পারে, যা খিঁচুনি ও জ্বরসহ তীব্র, পানির মতো বা রক্তযুক্ত ডায়রিয়া ঘটায়। এটি কোর্স চলাকালীন বা Maxclin 150 শেষের কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে। নিজে থেকে ডায়রিয়ার ঔষধ খাবেন না, কারণ তা অবস্থা খারাপ করতে পারে। সঠিক চিকিৎসার জন্য আপনি ক্লিন্ডামাইসিন খাচ্ছিলেন তা চিকিৎসককে জানান।
ভালো লাগলে কি Maxclin 150 আগেভাগে বন্ধ করতে পারি?
না। উপসর্গ দ্রুত কমলেও চিকিৎসকের দেওয়া Maxclin 150-এর পুরো কোর্স শেষ করুন। শরীরে তখনো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, আর আগেভাগে বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্তিশালীগুলো বেঁচে গিয়ে বংশবিস্তার করে — কখনো চিকিৎসা-প্রতিরোধী হয়ে ফিরে আসে। অসম্পূর্ণ ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বড় কারণ, যা বাংলাদেশে একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট। প্রতিটি ডোজ সঠিক সময়ে নিন এবং তীব্র ডায়রিয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসক বন্ধ করতে না বললে কোর্স শেষ করুন।
গলা বা পেটে জ্বালা এড়াতে Maxclin 150 কীভাবে খাব?
প্রতিটি Maxclin 150 ক্যাপসুল এক গ্লাস পানি দিয়ে আস্ত গিলুন এবং পরপরই শুয়ে না পড়ে কিছুক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকুন। এতে ক্যাপসুলটি পুরোপুরি পাকস্থলীতে নেমে যায় এবং খাদ্যনালীতে জ্বালার ঝুঁকি কমে। এটি খাবারের সঙ্গে বা ছাড়া খাওয়া যায়। দিনে ডোজগুলো সমান বিরতিতে নিন, আর গিলতে অসুবিধা বা বুকের হাড়ের পেছনে ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসককে জানান।
সর্বশেষ হালনাগাদ: