ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Liofen 10 10 mg Tablet — Baclofen

Tablet

Liofen 10 10 mg Tablet

জেনেরিক: ব্যাক্লোফেন

প্রস্তুতকারক: Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally Acting Skeletal Muscle Relaxant

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 8.03
Strip of 10 ৳ 80.30

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Liofen 10 কী?

লিওফেন ১০ হলো সান ফার্মাসিউটিক্যাল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ১০ মি.গ্রা. ব্যাক্লোফেন ট্যাবলেট, যা কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা স্কেলেটাল মাংসপেশি শিথিলকারী। এটি স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের সঙ্গে হওয়া মাংসপেশির শক্তভাব বা স্পাজম কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Liofen 10 10 mg tablet বাংলাদেশে Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Baclofen — কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা একটি মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ। স্নায়ুরোগজনিত কারণে বা ঘাড়-কোমরের ব্যথাজনক খিঁচুনিতে অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়া মাংসপেশি শিথিল করতে চিকিৎসকরা এটি দেন। এটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, সাধারণ ব্যথানাশক নয়।

ব্যাক্লোফেন মেরুদণ্ডের GABA-B রিসেপ্টরে কাজ করে। শরীরের স্বাভাবিক এই শান্তকারী সংকেত বাড়িয়ে এটি মাংসপেশিকে টানটান করে রাখা অতিসক্রিয় স্নায়ু-সংকেত দমন করে — ফলে পেশি শিথিল হয়, জড়তা কমে ও নড়াচড়া সহজ হয়। এই শান্তকারী প্রভাব মস্তিষ্কেও পৌঁছায় বলে চিকিৎসার শুরুর দিকে ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা বেশ দেখা যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

মাংসপেশি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনির সমস্যায় প্রেসক্রিপশনে Liofen 10 ব্যবহৃত হয়:

  • স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, সেরিব্রাল পালসি বা মেরুদণ্ডের আঘাত-রোগজনিত স্প্যাস্টিসিটি (পেশির জড়তা)
  • কোমর-ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে যুক্ত ব্যথাজনক মাংসপেশির খিঁচুনি — সাধারণত স্বল্পমেয়াদি কোর্স হিসেবে
  • বিশেষ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি — বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে

এটি সরাসরি ব্যথার ওষুধ নয়, পেশির টান কমায়; তাই অনেক সময় ফিজিওথেরাপি ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের বাছাই করা ব্যথানাশকের সঙ্গে দেওয়া হয়। কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে নড়াচড়া সহজ হওয়া ও খিঁচুনি কমা দিয়ে উন্নতি বোঝা যায়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

মাত্রা রোগীভেদে আলাদা এবং ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ নিয়ম:

  • শুরু: ৫ মি.গ্রা. করে দিনে ৩ বার, খাবার বা দুধের সঙ্গে
  • বৃদ্ধি: পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি ৩ দিনে ধাপে ধাপে; সাধারণত দিনে ৩০–৬০ মি.গ্রা. ভাগ করে
  • সর্বোচ্চ: সাধারণত দিনে ৮০ মি.গ্রা., চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সমান ব্যবধানে Liofen 10 খান এবং নিজে মাত্রা বদলাবেন না। সবচেয়ে জরুরি — কয়েক সপ্তাহ খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; হঠাৎ বন্ধে অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন, জ্বর, পেশির জড়তা ফিরে আসা, এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। বন্ধের সময় চিকিৎসক এক-দুই সপ্তাহ বা আরও বেশি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে কমাবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মাত্রা শুরু বা বাড়ানোর সময়ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি টের পাওয়া যায়:

  • সাধারণ: ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, বমিভাব, মাথাব্যথা, মুখ শুকানো
  • কম দেখা যায়: রক্তচাপ কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি (বিশেষত বয়স্কদের), ঘুমের ব্যাঘাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা, মনমেজাজের পরিবর্তন
  • গুরুতর: হঠাৎ বন্ধ করার পর হ্যালুসিনেশন বা খিঁচুনি, পড়ে যাওয়ার মতো তীব্র পেশি দুর্বলতা, বেশি মাত্রায় বা সিডেটিভের সঙ্গে শ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া

শরীর মানিয়ে নিলে হালকা সমস্যাগুলো এক-দুই সপ্তাহে কমে আসে। ঝিমুনি বা দুর্বলতায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে নিজে বন্ধ না করে চিকিৎসককে দিয়ে মাত্রা ঠিক করান।

সতর্কতা

Liofen 10 ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো মানুন:

  • ঝিমুনি স্বাভাবিক — নিজের প্রতিক্রিয়া না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্র চালাবেন না
  • মদ ও অন্যান্য ঘুম-আনা দ্রব্য এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি ও টলমল ভাব বাড়ায়
  • শোয়া বা বসা থেকে ধীরে উঠুন — মাথা ঘোরা ও পড়ে যাওয়া এড়াতে, বিশেষত বয়স্করা
  • মৃগী, কিডনি রোগ, পাকস্থলীর আলসার, মানসিক রোগ, ডায়াবেটিস বা শ্বাসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • কিডনি দুর্বল হলে অনেক কম মাত্রা লাগে — কিডনি খারাপ থাকলে ব্যাক্লোফেন শরীরে বিপজ্জনকভাবে জমে যায়
  • হঠাৎ বন্ধ করবেন না; সবসময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে কমান
  • ফিজিওথেরাপি ও ফলোআপ চালিয়ে যান, যেন উন্নতি অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা যায়

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

যেসব ওষুধ স্নায়ুকে শান্ত করে বা রক্তচাপ কমায়, মূলত সেগুলোর সঙ্গেই Liofen 10-এর ক্রিয়া হয়:

  • সিডেটিভ: ঘুমের ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন, ওপিয়ড (যেমন ট্রামাডল), অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক — ঝিমুনি বাড়ে ও শ্বাস দমে যেতে পারে
  • মদ — ঝিমুনি ও টলমল ভাব অনেক বাড়ায়; সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
  • রক্তচাপের ওষুধ — চাপ বেশি কমে যেতে পারে; নজরদারি দরকার
  • ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট — পেশি দুর্বলতা বাড়িয়ে দিতে পারে
  • লেভোডোপা (পারকিনসনের ওষুধ) — বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও অস্থিরতার ঘটনা আছে
  • লিথিয়াম — কিছু নড়াচড়াজনিত উপসর্গ বাড়াতে পারে

আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের পূর্ণ তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের অবস্থায় Liofen 10 খাবেন না:

  • ব্যাক্লোফেন বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • সক্রিয় পেপটিক (গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল) আলসার থাকলে — মুখে খাওয়া ব্যাক্লোফেন তা বাড়িয়ে দিতে পারে

মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস, উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতা, গুরুতর মানসিক রোগ, মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগ থাকলে, কিংবা আপনি বয়স্ক ও পড়ে যাওয়া-বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে থাকলে কেবল বিশেষ সতর্কতায়, চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন — কখনোই নিজে নিজে নয়। বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপত্র ও হিসাব করা মাত্রা ছাড়া শিশুদেরও Liofen 10 দেওয়া যাবে না।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় Baclofen ব্যবহারযোগ্য। গর্ভে থাকা অবস্থায়, বিশেষত মায়ের বেশি মাত্রার ওষুধে, জন্মের পর নবজাতকের কাঁপুনি, অস্থিরতা বা কদাচিৎ খিঁচুনির মতো উইথড্রয়াল উপসর্গ হতে পারে — তাই নবজাতকের চিকিৎসক দলকে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন।

বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে সামান্য ব্যাক্লোফেন যায়। স্বাভাবিক মাত্রায় সমস্যা বিরল, তবে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের — তিনি উপকার-ঝুঁকি বিচার করবেন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা খাওয়ার অনীহার দিকে নজর রাখতে বলতে পারেন। গর্ভাবস্থা বা দুগ্ধদানকালে নিজে নিজে ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।

সংরক্ষণ

Liofen 10 মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখবেন না। ওষুধটি শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন — যে মাত্রা প্রাপ্তবয়স্কের পেশি কেবল শিথিল করে, তা শিশুকে মারাত্মকভাবে অচেতন করে দিতে পারে। প্রতিবার ওষুধ কেনার সময় মেয়াদ দেখে নিন; ভাঙা, রংচটা বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন না। অপ্রয়োজনীয় ট্যাবলেট নিরাপদে ফেলে দিন; টয়লেটে ফেলবেন না বা পরে খাওয়ার জন্য রেখে দেবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Liofen 10 খেলে কি ঘুম ঘুম ভাব হয়?

হ্যাঁ, ঝিমুনি Liofen 10-এর সবচেয়ে পরিচিত প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি — বিশেষত প্রথম কয়েক দিন এবং প্রতিবার মাত্রা বাড়ানোর পর। ওষুধটি আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্র চালানো বন্ধ রাখুন এবং মদ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। শরীর মানিয়ে নিলে এক-দুই সপ্তাহে অনেকের ঝিমুনি কমে আসে। তবুও কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসককে বলুন — দিনের মাত্রার বড় অংশ রাতে নেওয়া বা ধীরে মাত্রা বাড়ানো প্রায়ই কাজে দেয়।

পেশি ভালো লাগলে কি Liofen 10 হঠাৎ বন্ধ করা যাবে?

না — Liofen 10 নিয়ে এটাই সবচেয়ে জরুরি নিয়ম। কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত খাওয়ার পর ব্যাক্লোফেন হঠাৎ বন্ধ করলে উইথড্রয়াল হতে পারে: অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, জ্বর, পেশির জড়তা ফিরে আসা, এমনকি খিঁচুনি। চিকিৎসক চিকিৎসা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলে এক-দুই সপ্তাহ বা আরও বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমানো হয়। তত দিন পেশি স্বাভাবিক লাগলেও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই ওষুধ চালিয়ে যান।

Liofen 10 কি ব্যথানাশক ওষুধ?

প্রচলিত অর্থে নয়। প্যারাসিটামল বা NSAID-এর মতো Liofen 10 সরাসরি ব্যথা বন্ধ করে না — এটি অতিসক্রিয় মাংসপেশি শিথিল করে। ব্যথার কারণ যখন পেশির খিঁচুনি বা জড়তা, তখন টান কমলে ব্যথাও কমে — এ জন্যই ঘাড়-কোমর ও স্নায়ুরোগজনিত জড়তায় এটি কাজে দেয়। মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা বা জ্বরে এটি কাজ করবে না। বাড়তি ব্যথানাশক দরকার হলে নিজে বেছে না নিয়ে কোনটি এর সঙ্গে নিরাপদ তা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →