খাওয়ার দ্রবণ
Lifcin 125 mg/5 ml খাওয়ার দ্রবণ
জেনেরিক: লেভোফ্লক্সাসিন
প্রস্তুতকারক: Biopharma Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Fluoroquinolone antibiotic
Lifcin এর কাজ কি?
Lifcin (খাওয়ার দ্রবণ)-এর উপাদান লেভোফ্লক্সাসিন 125 mg/5 ml, প্রস্তুতকারক Biopharma Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Fluoroquinolone antibiotic।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি খাওয়ার দ্রবণ | ৳ 75.28 |
| 100ml bot | ৳ 75.28 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Lifcin কী?
লিফসিন হলো মুখে খাওয়ার সলিউশন, যাতে প্রতি ৫ মিলিতে ১২৫ মিগ্রা ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক লিভোফ্লক্সাসিন থাকে। ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে বাধা দিয়ে এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Biopharma Ltd.-এর তৈরি Lifcin 125 mg/5 ml oral solution-এ রয়েছে Levofloxacin, যা একটি ব্রড-স্পেকট্রাম ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক। তুলনামূলক গুরুতর বা প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয়, যেমন কিছু নিউমোনিয়া ও বুকের সংক্রমণ, জটিল মূত্রনালি ও কিডনির সংক্রমণ, সাইনাসের প্রদাহ এবং কিছু ত্বকের সংক্রমণ। Lifcin একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ এবং অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খেতে হবে।
Levofloxacin ব্যাকটেরিয়ার DNA নকল ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম (DNA গাইরেজ ও টপোআইসোমারেজ-IV)-কে বাধা দেয়। এই এনজাইম ছাড়া ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না ও দ্রুত মারা যায়। এটি শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে বলে সর্দি, ফ্লু বা সাধারণ কাশি-গলাব্যথার মতো ভাইরাসজনিত রোগে Lifcin কোনো কাজ করে না।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- নিউমোনিয়া ও বুকের সংক্রমণ
- জটিল মূত্রনালি ও কিডনির সংক্রমণ
- তীব্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সাইনাসের প্রদাহ
- ত্বক ও নরম-কলার সংক্রমণ
- কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রোস্টেট সংক্রমণ
- অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত না হলে কিছু গুরুতর সংক্রমণ
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Lifcin 125 mg/5 ml খাওয়ার দ্রবণ-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অনেকে Levofloxacin ভালোভাবে সহ্য করলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। সাধারণগুলো:
- বমি ভাব, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ঘুমের সমস্যা
- চামড়ার র্যাশ
বিরল কিন্তু গুরুতর সমস্যার মধ্যে আছে টেন্ডনে (বিশেষত অ্যাকিলিস টেন্ডন) ব্যথা বা ছিঁড়ে যাওয়া, স্নায়ুর ক্ষতিতে ঝিঁঝিঁ বা অবশভাব, মেজাজ বা বিভ্রান্তির পরিবর্তন, খিঁচুনি এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন। টেন্ডনে ব্যথা, মেজাজের তীব্র পরিবর্তন, অবশভাব বা গুরুতর অ্যালার্জি হলে Lifcin বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
Lifcin একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক — কখনো নিজে থেকে খাবেন না। ফ্লুরোকুইনোলোন শক্তিশালী এবং সাধারণত অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত না হলে তবেই ব্যবহার করা হয়, তাই শুধু নিবন্ধিত চিকিৎসক লিখে দিলে Lifcin খান; নিজে কিনবেন না বা কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। ভালো বোধ করলেও সবসময় নির্ধারিত পুরো কোর্স শেষ করুন, কারণ তাড়াতাড়ি বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্ত ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে রেজিস্ট্যান্ট হয়।
টেন্ডনের সমস্যা, মৃগী, স্নায়ুর রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশে মারাত্মক জাতীয় সংকট, আর Levofloxacin-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের অযত্ন ব্যবহার তা ত্বরান্বিত করে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনি যা যা খান সব চিকিৎসককে জানান। Levofloxacin-এর গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া:
- দুধ, অ্যান্টাসিড, আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়াম — শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন
- NSAID ব্যথানাশক — খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে
- ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়
- হৃৎস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ (QT বাড়ায় এমন)
- ডায়াবেটিসের ওষুধ — রক্তে শর্করা বাড়তে বা কমতে পারে
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
এই অবস্থাগুলোতে Lifcin খাবেন না:
- লেভোফ্লক্সাসিন বা অন্য ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে
- আগে ফ্লুরোকুইনোলোন খেয়ে টেন্ডনের সমস্যা হলে
- মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে (চিকিৎসক ভিন্ন সিদ্ধান্ত না দিলে)
সাধারণত শিশু, কিশোর এবং গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এড়িয়ে চলা হয়; মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, ডায়াবেটিস বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যায় সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
হাড়ের গঠন ও কার্টিলেজের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে নিরাপদ বিকল্প না থাকলে গর্ভাবস্থায় সাধারণত Levofloxacin দেওয়া হয় না। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান, যাতে আরও নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নেওয়া যায়।
এই ওষুধ বুকের দুধে চলে যায়, তাই স্তন্যদানকালে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। চিকিৎসক বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক বা চিকিৎসার সময় সাময়িকভাবে স্তন্যদান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিতে পারেন।
সংরক্ষণ
প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।