Lotion
Licnil Lotion 500 mg/100 gm Lotion
জেনেরিক: আইভারমেকটিন
প্রস্তুতকারক: Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Narayanganj
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiparasitic (Avermectin)
Licnil Lotion এর কাজ কি?
লিকনিল লোশন ত্বক বা মাথার ত্বকে ব্যবহারের জন্য আইভারমেকটিনযুক্ত একটি টপিক্যাল প্রস্তুতি। এটি মূলত মাথার উকুনের মতো পরজীবী সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়, যেখানে পরজীবীর কারণে চুলকানি ও অস্বস্তি হয়।
Licnil Lotion কী?
লিকনিল লোশন ত্বক বা মাথার ত্বকে ব্যবহারের জন্য আইভারমেকটিনযুক্ত একটি টপিক্যাল প্রস্তুতি। এটি মূলত মাথার উকুনের মতো পরজীবী সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়, যেখানে পরজীবীর কারণে চুলকানি ও অস্বস্তি হয়।
Licnil Lotion 500 mg/100 gm lotion হলো Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Narayanganj এর একটি পরজীবীনাশক ওষুধ, যাতে Ivermectin রয়েছে। বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খোসপাঁচড়ায় (স্ক্যাবিস) — বিশেষত ক্রিমে কাজ না হলে বা পরিবারের অনেকে আক্রান্ত হলে — এবং স্ট্রংগিলয়েডিয়াসিস ও ফাইলেরিয়াসিসের মতো কৃমি সংক্রমণে। সাধারণ চিকিৎসায় না সারা উকুনেও ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসক রোগ নিশ্চিত করার পরই কেবল Licnil Lotion খাওয়া উচিত।
Ivermectin পরজীবীর স্নায়ু ও পেশি কোষের বিশেষ ক্লোরাইড চ্যানেলে যুক্ত হয়ে তাদের অবশ করে ফেলে, ফলে মাইট বা কৃমি মারা যায় এবং শরীর থেকে দূর হয়। মানুষের শরীরে এই চ্যানেল ভিন্নভাবে কাজ করায় নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধটি কেবল পরজীবীর বিরুদ্ধেই কার্যকর।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- খোসপাঁচড়া (স্ক্যাবিস), জটিল ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস ও পারিবারিক প্রাদুর্ভাবসহ
- স্ট্রংগিলয়েডিয়াসিস (অন্ত্রের সুতাকৃমি জাতীয় সংক্রমণ)
- লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (কর্মসূচিভিত্তিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে)
- অনকোসারসিয়াসিস (রিভার ব্লাইন্ডনেস)
- সাধারণ চিকিৎসায় না সারা মাথার উকুন
- কিউটেনিয়াস লার্ভা মাইগ্রান্স (চিকিৎসকের পরামর্শে)
সেবনবিধি ও মাত্রা
Licnil Lotion এর ডোজ শরীরের ওজন অনুযায়ী হিসাব করা হয় — সাধারণত প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০ মাইক্রোগ্রাম একক ডোজ হিসেবে; কয়টি ট্যাবলেট লাগবে তা চিকিৎসক ঠিক করবেন। Licnil Lotion খালি পেটে খান — খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে, যদি না চিকিৎসক অন্য কিছু বলেন। খোসপাঁচড়ায় নতুন ফোটা মাইট মারতে সাধারণত ৭–১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়, এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা সবাইকে একসাথে চিকিৎসা করাতে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজনের ভিত্তিতে (সাধারণত ১৫ কেজির ওপরে) চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেবেন। নিজে নিজে Licnil Lotion খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
একক ডোজে আইভারমেকটিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, বমিভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও ঝিমুনি। খোসপাঁচড়ায় মাইট মারা যাওয়ার সময় কয়েক দিন চুলকানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে — এটি প্রত্যাশিত, চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার লক্ষণ নয়। একসাথে অনেক পরজীবী মারা গেলে (বিশেষত ফাইলেরিয়াসিসে) জ্বর, র্যাশ, গাঁটে ব্যথা ও গ্রন্থি ফোলা হতে পারে। তীব্র র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
সতর্কতা
খোসপাঁচড়ায় পরিবারের সবাই ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের ব্যক্তিদের একই দিনে চিকিৎসা করান, বিছানার চাদর ও কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান — নাহলে আবার সংক্রমণ হয়। সফল চিকিৎসার পরও ২–৪ সপ্তাহ চুলকানি থাকতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বারবার ডোজ খাবেন না। লিভারের রোগ ও খুব দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ১৫ কেজির কম ওজনের শিশুদের জন্য আইভারমেকটিনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়। ডোজের পর মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হলে গাড়ি চালাবেন না।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আইভারমেকটিন ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই রক্ত জমাট পরীক্ষায় (আইএনআর) বাড়তি নজর লাগতে পারে। কেটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির ও ভেরাপামিলের মতো ওষুধ আইভারমেকটিনের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল শোষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়, তাই ডোজের আশপাশের সময়ে এড়িয়ে চলুন। আইভারমেকটিন খাওয়ার আগে ভেষজসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
আইভারমেকটিনে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়া যাবে না। ১৫ কেজির কম ওজনের শিশু, গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানের প্রথম সপ্তাহে এটি সুপারিশ করা হয় না — চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে ব্যতিক্রম। মস্তিষ্কের রক্ত-প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) দুর্বল করে এমন রোগে — যেমন গুরুতর মেনিনজাইটিসে — বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গর্ভাবস্থায় আইভারমেকটিন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; গর্ভবতী নারীর খোসপাঁচড়ায় সাধারণত পারমেথ্রিন ক্রিম দেওয়া হয়। স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত স্তন্যদানকালে অনেক নির্দেশিকা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে জন্মের প্রথম সপ্তাহে এড়িয়ে চলাই ভালো। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Licnil Lotion কেন খালি পেটে খেতে হয়?
খোসপাঁচড়ায় Licnil Lotion খাওয়ার পরও চুলকাচ্ছে — চিকিৎসা কি ব্যর্থ হলো?
খোসপাঁচড়ায় আমি Licnil Lotion খেলে কি বাড়ির সবাইকেও চিকিৎসা নিতে হবে?
সর্বশেষ হালনাগাদ: