ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Kitocos 10 mg Tablet — Ketorolac Tromethamine

Tablet

Kitocos 10 mg Tablet

জেনেরিক: কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন

প্রস্তুতকারক: Cosmo Pharma Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID) — potent short-term analgesic

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 9.50
Tablet ৳ 9.50

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Kitocos কী?

Kitocos 10 mg Tablet-এ ketorolac tromethamine আছে, যা একটি non-steroidal anti-inflammatory drug এবং স্বল্পমেয়াদে তীব্র ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত অস্ত্রোপচার বা আঘাতের পরের মাঝারি থেকে তীব্র আকস্মিক ব্যথায়, NSAID উপযোগী হলে, দেওয়া হয়।

Kitocos 10 mg tablet বাংলাদেশে Cosmo Pharma Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Ketorolac Tromethamine, যা সবচেয়ে শক্তিশালী NSAID ব্যথানাশকগুলোর একটি — এর ব্যথা কমানোর ক্ষমতা কিছু ওপিওয়েড ওষুধের কাছাকাছি। চিকিৎসকেরা এটি মাঝারি থেকে তীব্র স্বল্পমেয়াদি ব্যথায় দেন — যেমন অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার পরের ব্যথা, কিডনির পাথরের ব্যথা — সর্বোচ্চ ৫ দিনের জন্য।

কিটোরোলাক সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম শক্তভাবে বন্ধ করে ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এই শক্তিশালী ক্রিয়ার কারণেই এটি যেমন চমৎকার ব্যথা কমায়, তেমনি পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি — তাই এটি কখনোই নিত্যদিনের ব্যথানাশক হিসেবে বা ৫ দিনের বেশি ব্যবহারযোগ্য নয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Kitocos শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি (সর্বোচ্চ ৫ দিন) মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথায় ব্যবহৃত হয়, যেমন:

  • অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা — সিজারিয়ান ও হাড়ের অপারেশনসহ
  • দাঁত তোলা বা দাঁতের সার্জারির পরের ব্যথা
  • কিডনির পাথরের ব্যথা (রেনাল কোলিক)
  • হাড়-মাংসপেশির গুরুতর আঘাতের ব্যথা
  • তীব্র মাইগ্রেন (চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে)

হালকা ব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি আর্থ্রাইটিস, পুরোনো কোমরব্যথা বা সাধারণ জ্বরের জন্য এটি নয় — সেসবের জন্য নিরাপদ বিকল্প আছে। চিকিৎসা প্রায়ই হাসপাতালে ইনজেকশন দিয়ে শুরু হয়ে ট্যাবলেটে চলে।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Kitocos ট্যাবলেটের সাধারণ মাত্রা প্রয়োজনে প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পর ১০ মি.গ্রা., দিনে সর্বোচ্চ ৪০ মি.গ্রা.। কিটোরোলাকের মোট মেয়াদ — ইনজেকশন ও ট্যাবলেট মিলিয়ে — কোনোভাবেই ৫ দিনের বেশি নয়

  • খাবারের সঙ্গে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান
  • বয়স্ক এবং ৫০ কেজির কম ওজনের রোগীদের কম মাত্রা প্রয়োজন
  • বিশেষজ্ঞের হাসপাতাল-তত্ত্বাবধান ছাড়া শিশুদের জন্য নয়

নিজে থেকে কোর্স বাড়াবেন না। মাত্রা, পদ্ধতি ও মেয়াদ চিকিৎসকই ঠিক করবেন — তিনি আগে আপনার পাকস্থলী, কিডনি ও হার্টের ঝুঁকি বিবেচনা করবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

খুব শক্তিশালী NSAID হওয়ায় Kitocos-এ হালকা ব্যথানাশকের চেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি:

  • পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব, বদহজম
  • ঝিমুনি, মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
  • শরীরে পানি জমা ও রক্তচাপ বৃদ্ধি
  • পাকস্থলী বা অন্ত্রের আলসার ও রক্তক্ষরণ — কয়েক দিনের মধ্যেই হতে পারে, বিশেষত বয়স্কদের
  • কিডনির ক্ষতি, বিশেষত পানিশূন্য রোগীদের
  • অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণের প্রবণতা বৃদ্ধি
  • অ্যালার্জি; অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানিতে শ্বাসকষ্ট

কালো পায়খানা, রক্তবমি, তীব্র পেটব্যথা বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

Kitocos ব্যবহারের প্রধান সতর্কতা:

  • মোট ৫ দিনের বেশি কখনোই ব্যবহার করবেন না — এরপর রক্তক্ষরণ ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে
  • সবসময় খাবারের সঙ্গে ও পর্যাপ্ত পানি দিয়ে খান
  • ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর সন্দেহে একদম নয় — মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি; বদলে প্যারাসিটামল
  • পানিশূন্যতায় এড়িয়ে চলুন; বয়স্কদের শুধু কম মাত্রায়, তত্ত্বাবধানে
  • অন্য কোনো NSAID, অ্যাসপিরিন বা স্টেরয়েডের সঙ্গে মেলাবেন না
  • আলসার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা রক্তক্ষরণজনিত রোগে অত্যন্ত সাবধানে
  • সার্জিক্যাল টিমের নির্দেশ ছাড়া বড় অস্ত্রোপচারের আগে বা চলাকালীন নয়

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Kitocos-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • অন্য NSAID, অ্যাসপিরিন, স্টেরয়েড — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ; কখনোই একসঙ্গে নয়
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল) — বিপজ্জনক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি
  • SSRI (যেমন সারট্রালিন, এসসিটালোপ্রাম) — পেটে রক্তক্ষরণের বাড়তি ঝুঁকি
  • ACE ইনহিবিটর, ARB, ডাইউরেটিক — কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
  • লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া
  • প্রোবেনেসিড — কিটোরোলাকের মাত্রা অনেক বাড়ায়; একসঙ্গে নিষিদ্ধ
  • পেন্টক্সিফাইলিন — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ে

শুরুর আগে আপনার সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Kitocos ব্যবহার করবেন না:

  • সক্রিয় বা সাম্প্রতিক পেপটিক আলসার বা পেটে রক্তক্ষরণ, অথবা NSAID-জনিত রক্তক্ষরণের ইতিহাস
  • রক্তক্ষরণজনিত রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সন্দেহ বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী উচ্চ রক্তক্ষরণ ঝুঁকি
  • মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি দুর্বলতা বা পানিশূন্যতাজনিত কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি
  • গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়ন্ত্রিত হৃদরোগ
  • অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা ফোলা বা অ্যালার্জির ইতিহাস
  • ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
  • গর্ভাবস্থা (বিশেষত শেষ তিন মাস), প্রসবকাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া স্তন্যদানকাল
  • সার্জিক্যাল টিমের নির্দেশ ছাড়া বড় অস্ত্রোপচারের আগে বা চলাকালীন

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থাজুড়েই Kitocos এড়িয়ে চলা উচিত; শেষ তিন মাসে ও প্রসবের সময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — এটি গর্ভের শিশুর হার্টের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি অসময়ে বন্ধ করে দিতে পারে, শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসব বিলম্বিত করে রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে।

স্তন্যদান: বুকের দুধে অল্প পরিমাণ যায়; বিশেষত নবজাতকের ক্ষেত্রে স্তন্যদানকালে এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শই বেশি। সিজারের পর তীব্র ব্যথায় দরকার হলে কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতোই ব্যবহার করুন — তিনি নিরাপদ বিকল্পও বেছে নিতে পারেন।

সংরক্ষণ

Kitocos ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টারেই রাখুন; ইনজেকশন লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী আলো থেকে রক্ষা করে সংরক্ষণ করুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Kitocos কত দিন পর্যন্ত খাওয়া নিরাপদ?

ইনজেকশন ও ট্যাবলেট মিলিয়ে সর্বোচ্চ মোট ৫ দিন। কিটোরোলাক শুধু স্বল্প সময়ের তীব্র ব্যথার জন্য তৈরি; ৫ দিনের পর বাড়তি কোনো উপকার ছাড়াই পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ, আলসার ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়। ৫ দিন পরেও ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের কাছে ফিরে যান — তিনি কিটোরোলাক চালিয়ে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেবেন।

Kitocos কি প্যারাসিটামল বা অন্য ব্যথানাশকের চেয়ে শক্তিশালী?

হ্যাঁ। কিটোরোলাক সবচেয়ে শক্তিশালী NSAID ব্যথানাশকগুলোর একটি — তীব্র ব্যথায় এর কার্যকারিতা কিছু ওপিওয়েড ইনজেকশনের কাছাকাছি। কিন্তু শক্তির সঙ্গে ঝুঁকিও আসে: প্যারাসিটামলের তুলনায় এটি পাকস্থলী, কিডনি ও রক্তক্ষরণের দিক থেকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই Kitocos শুধু প্রেসক্রিপশনে স্বল্পমেয়াদি মাঝারি-তীব্র ব্যথার জন্য, আর দৈনন্দিন ব্যথা ও জ্বরে প্যারাসিটামলই প্রথম পছন্দ।

ডেঙ্গু জ্বরের গা-ব্যথায় কি Kitocos খাওয়া যাবে?

কখনোই না। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যায় ও রক্তনালি দুর্বল হয়, আর শক্তিশালী NSAID হিসেবে কিটোরোলাক প্লাটিলেটের কাজ আরও ব্যাহত করে ও পাকস্থলীর আবরণে ক্ষত তৈরি করতে পারে। দুটো মিলে বিপজ্জনক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর সন্দেহে জ্বর ও গা-ব্যথায় শুধু প্যারাসিটামল খান, পর্যাপ্ত তরল পান করুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা ও ফলোআপ করান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →