ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Kidzin 10 mg/5 ml Syrup — Zinc

Syrup

Kidzin 10 mg/5 ml Syrup

জেনেরিক: জিংক

প্রস্তুতকারক: Sharif Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Mineral supplement (trace element)

Kidzin এর কাজ কি?

১০ মিলিগ্রাম/৫ মিলি সিরাপ হিসেবে কিডজিন সম্পূরক জিংকের একটি উৎস। জিংক একটি অপরিহার্য ক্ষুদ্রমাত্রিক খনিজ, যা শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণ ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। Kidzin 10 mg/5 ml syrup হলো Sharif Pharmaceuticals Ltd.

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Syrup ৳ 35.11
100ml bot ৳ 35.11

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Kidzin কী?

১০ মিলিগ্রাম/৫ মিলি সিরাপ হিসেবে কিডজিন সম্পূরক জিংকের একটি উৎস। জিংক একটি অপরিহার্য ক্ষুদ্রমাত্রিক খনিজ, যা শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণ ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

Kidzin 10 mg/5 ml syrup হলো Sharif Pharmaceuticals Ltd.-এর তৈরি Zinc প্রস্তুতি, যা জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধ ও পূরণে ব্যবহৃত হয়। জিংক একটি অত্যাবশ্যক ট্রেস খনিজ, যা রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি, ক্ষত শুকানো, স্বাদ ও ত্বকের সুস্থতার জন্য দরকার। বাংলাদেশে শিশুর ডায়রিয়ায় ওরস্যালাইনের (ওআরএস) পাশাপাশি Kidzin বহুল ব্যবহৃত; ক্ষুধামান্দ্য, বারবার সংক্রমণ ও ক্ষত দেরিতে শুকানোর ক্ষেত্রেও পুষ্টি সহায়তায় দেওয়া হয়।

Zinc প্রোটিন তৈরি, কোষ বিভাজন ও রোগ প্রতিরোধী কোষের কাজে জড়িত কয়েকশ এনজাইমের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে জিংক বেরিয়ে যায়, ফলে অন্ত্রের আবরণ ও রোগ প্রতিরোধ দুর্বল হয়; তা পূরণ করলে অন্ত্রের দেয়াল সেরে ওঠে, ডায়রিয়ার মেয়াদ কমে এবং পরের কয়েক সপ্তাহে আবার ডায়রিয়ার আশঙ্কা কমে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • শিশুর তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ায় ওরস্যালাইনের সহায়ক চিকিৎসা
  • জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধ ও পূরণ
  • অপুষ্টি ও বারবার সংক্রমণে পুষ্টি সহায়তা
  • চিকিৎসকের পরামর্শে জিংক ঘাটতিজনিত ক্ষত ও ত্বকের সমস্যায় সহায়তা
  • জিংক ঘাটতিজনিত স্বাদ বা ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • চিকিৎসকের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানে সম্পূরক

সেবনবিধি ও মাত্রা

Kidzin-এর মাত্রা একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই ঠিক করবেন। শিশুর ডায়রিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রমিত নিয়ম হলো ওরস্যালাইনের সঙ্গে ১০-১৪ দিন দিনে একবার জিংক — সাধারণত ছয় মাসের বেশি বয়সে দৈনিক ২০ মিলিগ্রাম এবং তার কম বয়সে ১০ মিলিগ্রাম, ডিসপারসিবল ট্যাবলেট অল্প পানি বা বুকের দুধে গুলিয়ে; যেকোনো শিশুর সঠিক মাত্রা ওজন ও বয়স অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শে।

ঘাটতিতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রচলিত এলিমেন্টাল জিংকের মাত্রা দৈনিক প্রায় ১০-৪০ মিলিগ্রাম, পেট খারাপ এড়াতে প্রায়ই খাবারের পরে। Kidzin-এর নির্ধারিত মাত্রা বা মেয়াদ ছাড়াবেন না; অতিরিক্ত জিংক ক্ষতিকর।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

নির্ধারিত মাত্রায় জিংক সাপ্লিমেন্ট সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো হালকা পেট খারাপ, বমি ভাব, ডোজের পরপর কখনো বমি, মুখে ধাতব স্বাদ এবং পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য। খাবারের পরে খেলে অধিকাংশের এই সমস্যা কমে।

বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত খেলে কপারের ঘাটতি হয়ে রক্তশূন্যতা ও শ্বেতকণিকা কমে যেতে পারে, এইচডিএল কোলেস্টেরল কমে এবং রোগ প্রতিরোধ দুর্বল হয় — অর্থাৎ উদ্দেশ্যের উল্টো ফল। একবারে খুব বেশি খেলে পেটব্যথা ও বমি হয়। অ্যালার্জি বিরল। বমি না থামলে, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

শিশুর ডায়রিয়ায় জিংক সহায়ক মাত্র — মূল চিকিৎসা ওরস্যালাইন এবং খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া (বুকের দুধসহ)। চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাব খুব কম, নিস্তেজ ভাব, পায়খানায় রক্ত বা বেশি জ্বরের মতো বিপদচিহ্নে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ডিসপারসিবল ট্যাবলেট পুরো গুলিয়ে দিন; বমি করা শিশুকে পরামর্শ ছাড়া বারবার জোর করবেন না।

নির্ধারিত মাত্রার বেশি জিংক দীর্ঘদিন খাবেন না; নীরবে কপারের ঘাটতি হতে পারে। কিডনি রোগীরা কেবল চিকিৎসকের নির্দেশনায় খাবেন। চা, কফি, ভুসিযুক্ত খাবার এবং আয়রন বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট থেকে জিংক প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যবধানে খান, কারণ এগুলো এর শোষণ কমায়।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

জিংক কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমায় — টেট্রাসাইক্লিন (ডক্সিসাইক্লিন) ও কুইনোলোন (সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লিভোফ্লক্সাসিন) — তাই এগুলো জিংকের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বা চার-ছয় ঘণ্টা পরে খান। এটি পেনিসিলামিন ও হাড় ক্ষয়ের কিছু ওষুধের শোষণও কমায়; ব্যবধান রাখা জরুরি।

আয়রন, ক্যালসিয়াম ও কপার সাপ্লিমেন্ট শোষণের জন্য জিংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, আর উচ্চমাত্রার জিংক কপার কমিয়ে দেয়। দীর্ঘ ব্যবহারে থায়াজাইড ডাইইউরেটিক প্রস্রাবে জিংক ক্ষয় বাড়ায়। ফাইটেটসমৃদ্ধ খাবার (ভুসি, কিছু শস্য) ও চা জিংকের শোষণ কমায়। সময় ঠিক করতে আপনার সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

জিংক লবণ বা প্রস্তুতিটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। জিংক এককভাবে ডায়রিয়ার চিকিৎসা নয় এবং পানিশূন্য শিশুর ক্ষেত্রে ওরস্যালাইন ও চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।

কপারের ঘাটতি বা অজানা কারণের রক্তশূন্যতা থাকলে মূল্যায়নের আগে উচ্চমাত্রার জিংক এড়িয়ে চলুন। কিডনির উল্লেখযোগ্য দুর্বলতায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া জিংক সাপ্লিমেন্ট খাবেন না, কারণ নিঃসরণ কমে যায়। প্রতিটি ডোজের পর বমি, পেটব্যথা বা র‍্যাশ হলে বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: নির্ধারিত সম্পূরক মাত্রায় জিংক গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ধরা হয় এবং কখনো কখনো দেওয়া হয়, কারণ এ সময় জিংকের চাহিদা বাড়ে। বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন। একাধিক সাপ্লিমেন্টে উপাদান মিলে যেতে পারে, তাই নিজে নিজে না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রসবপূর্ব যত্নের অংশ হিসেবে খান।

স্তন্যদান: জিংক বুকের দুধে যায় এবং স্বাভাবিক সম্পূরক মাত্রা স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; দুধ খাওয়ানোর সময় চাহিদা সামান্য বেশি। নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়াবেন না, কারণ দীর্ঘ অতিরিক্ত গ্রহণ মা ও শিশুর কপারের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সব সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে মোট গ্রহণ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ডিসপারসিবল ট্যাবলেট ব্যবহারের মুহূর্ত পর্যন্ত ব্লিস্টারে রাখুন, কারণ এগুলো দ্রুত আর্দ্রতা টানে। সিরাপের বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন এবং মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শিশুর ডায়রিয়ায় ওরস্যালাইনের সঙ্গে Kidzin কেন দেওয়া হয়?

ওরস্যালাইন হারানো পানি ও লবণ পূরণ করে, আর Kidzin ডায়রিয়ায় বেরিয়ে যাওয়া জিংক পূরণ করে। ১০-১৪ দিনের পুরো জিংক কোর্স অন্ত্রের আবরণ সারিয়ে তোলে, অসুখের মেয়াদ কমায় এবং পরের দুই-তিন মাসে আবার ডায়রিয়ার আশঙ্কা কমায়। দুটিই একসঙ্গে কাজ করে, আর খাওয়ানোও চালিয়ে যেতে হবে।

ছোট শিশুকে Kidzin ডিসপারসিবল ট্যাবলেট কীভাবে খাওয়াব?

পরিষ্কার চামচে Kidzin ট্যাবলেট রেখে সামান্য নিরাপদ পানি বা গালানো বুকের দুধ দিন; প্রায় এক মিনিটে এটি গুলে যায়। গুলে যাওয়া পুরো ডোজ একবারে খাওয়ান। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে কেবল চিকিৎসকের বলে দেওয়া মাত্রা ও মেয়াদে দিন।

ডায়রিয়া থেমে গেলে কি Kidzin বন্ধ করে দেব?

না। দু-তিন দিনে পায়খানা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও Kidzin-এর পুরো ১০-১৪ দিনের কোর্স শেষ করুন। বাকি দিনগুলোর জিংক শরীরের ভান্ডার ও অন্ত্রের আবরণ পুনর্গঠন করে, যা পরের সপ্তাহগুলোতে শিশুকে আবার ডায়রিয়া থেকে রক্ষা করে।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা পুষ্টিবিদ খুঁজুন →