ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Cream

Kanis 10 mg/gm Cream

জেনেরিক: ক্লোট্রিমাজল

প্রস্তুতকারক: G. A. Company Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Topical imidazole antifungal

Kanis কী?

কানিস ১০ মিগ্রা/গ্রাম ক্রিমে ক্লোট্রিমাজল আছে, যা ত্বকে ব্যবহারের একটি ইমিডাজল শ্রেণির অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। এটি দাদ, পায়ের ফাঙ্গাল সংক্রমণ, কুঁচকির ফাঙ্গাল সংক্রমণ এবং ইস্টজনিত ত্বকের জ্বালায় চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।

Kanis 10 mg/gm cream প্রস্তুত করে G. A. Company Ltd.। এতে রয়েছে Clotrimazole, ত্বকে ব্যবহারের একটি ব্রড-স্পেকট্রাম ইমিডাজল ছত্রাকনাশক, যা দাদ, পায়ের আঙুলের ফাঁকের সংক্রমণ (অ্যাথলেটস ফুট), কুঁচকির দাদ ও ত্বকের ক্যানডিডা সংক্রমণের মতো সাধারণ ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছত্রাকনাশকগুলোর একটি।

Clotrimazole ছত্রাকের কোষঝিল্লি নষ্ট করে কাজ করে। এটি ছত্রাকের ঝিল্লির অপরিহার্য উপাদান আর্গোস্টেরল তৈরিতে বাধা দেয়; ফলে ঝিল্লি ছিদ্রযুক্ত হয়ে কোষের ভেতরের উপাদান বেরিয়ে যায় এবং ছত্রাক মারা যায়। পুরো কোর্স নিয়মিত ব্যবহারে Kanis সংক্রমণ সারিয়ে তোলে এবং সঙ্গের চুলকানি, লালভাব ও খোসা ওঠা কমায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Kanis ত্বকের যেসব ছত্রাক সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়:

  • শরীরের দাদ (টিনিয়া করপোরিস) — গোল চাকার মতো ছড়ানো, চুলকানিযুক্ত অতি পরিচিত র‍্যাশ
  • কুঁচকির দাদ (টিনিয়া ক্রুরিস) — কুঁচকি ও ঊরুর ভেতরের দিকের ছত্রাক সংক্রমণ
  • অ্যাথলেটস ফুট (টিনিয়া পেডিস) — পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, খোসা ওঠা ও ফাটা
  • ত্বকের ভাঁজের ক্যানডিডা (ইস্ট) সংক্রমণ — ইন্টারট্রাইগো ও শিশুর ন্যাপি র‍্যাশসহ
  • ছুলি (পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলার) — বুক, পিঠ ও বাহুতে হালকা বা গাঢ় রঙের ছোপ

নখের চারপাশ বা অন্য স্থানের ছত্রাক সংক্রমণেও চিকিৎসক এটি দিতে পারেন। যোনিপথের ইস্ট সংক্রমণের জন্য আলাদা ভ্যাজাইনাল প্রস্তুতি আছে — সেগুলো কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

চিকিৎসকের পরামর্শমতো Kanis ব্যবহার করুন — সাধারণত আক্রান্ত ত্বক ও তার চারপাশের প্রায় ২ সে.মি. সুস্থ ত্বকে পাতলা প্রলেপ, দিনে ২–৩ বার

  1. জায়গাটি হালকা সাবান-পানিতে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন — ভেজা জায়গাতেই ছত্রাক বাড়ে
  2. পাতলা প্রলেপ দিয়ে আলতো করে মালিশ করুন; অল্প পরিমাণই যথেষ্ট
  3. হাতের চিকিৎসা না হলে ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে ফেলুন

চিকিৎসা সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ চলে, সংক্রমণভেদে কম-বেশি হয়। র‍্যাশ ভালো দেখালেও আরও ১–২ সপ্তাহ লাগাতে থাকুন — আগে বন্ধ করে দেওয়াই সংক্রমণ ফিরে আসার সবচেয়ে বড় কারণ। শিশুদের চিকিৎসা করুন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। নিয়মিত ব্যবহারের ২–৪ সপ্তাহ পরও উন্নতি না হলে আবার চিকিৎসক দেখান।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Kanis ত্বকে ব্যবহৃত হয় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত মৃদু ও স্থানীয়:

  • লাগানোর জায়গায় সাময়িক জ্বালা, হুল ফোটানো বা শিরশির অনুভূতি
  • লালভাব বা অস্বস্তি
  • চুলকানি
  • ত্বকের হালকা খোসা ওঠা বা শুষ্কতা
  • বিরল ক্ষেত্রে — অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস: ফোসকা, ফোলা বা র‍্যাশ বেড়ে যাওয়া

প্রথম কয়েক দিনের হালকা অস্বস্তি ত্বক সেরে উঠতে উঠতে সাধারণত কমে যায়। অস্বস্তি তীব্র হলে, র‍্যাশ বেড়ে গেলে, কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো বিরল অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে Kanis বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

সতর্কতা

  • শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য — চোখ, মুখ ও নাকের ভেতরে লাগাবেন না; চোখে গেলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
  • পুরো কোর্স শেষ করুন — ত্বক ভালো দেখানোর পরও বাড়তি ১–২ সপ্তাহসহ; আগে বন্ধ করলে সংক্রমণ ফিরে আসে
  • আক্রান্ত জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন; গোসলের পর ত্বকের ভাঁজ ও আঙুলের ফাঁক যত্ন করে মুছে নিন
  • ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন, মোজা ও অন্তর্বাস প্রতিদিন বদলান; তোয়ালে, চিরুনি বা কাপড় ভাগাভাগি করবেন না — পরিবারের মধ্যে দাদ সহজে ছড়ায়
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জায়গাটি বায়ুরোধী ব্যান্ডেজে ঢাকবেন না
  • সংক্রমণ বারবার ফিরে এলে, অনেক জায়গাজুড়ে হলে, কিংবা মাথার ত্বক বা নখে হলে চিকিৎসক দেখান — খাওয়ার ওষুধ লাগতে পারে

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Kanis ত্বকে ব্যবহৃত হয় এবং শরীরে খুব সামান্যই শোষিত হয়, তাই মুখে খাওয়া ওষুধের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য মিথস্ক্রিয়ার আশঙ্কা কম। তবু কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন:

  • ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম — গোপনাঙ্গের আশপাশে ক্লোট্রিমাজল ক্রিম ব্যবহারে ল্যাটেক্স দুর্বল হয়ে যেতে পারে; চিকিৎসা চলাকালে ও তার কয়েক দিন পর পর্যন্ত জন্মনিয়ন্ত্রণে এগুলোর ভরসা কমে যায়
  • অন্যান্য ত্বকের পণ্য — চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় অন্য ক্রিম, মলম বা স্টেরয়েড লাগাবেন না

Kanis শুরুর আগে আপনার সব ওষুধ ও ত্বকের পণ্যের কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Kanis ব্যবহার করবেন না:

  • ক্লোট্রিমাজল, অন্যান্য ইমিডাজল ছত্রাকনাশক (যেমন মাইকোনাজল, কিটোকোনাজল) বা ক্রিমের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • আগে এই ওষুধ লাগিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া — প্রচণ্ড জ্বালা, ফোসকা বা ফোলা — হয়ে থাকলে

চোখে, মুখের ভেতরে বা গভীর খোলা ক্ষতে লাগাবেন না। এটি শুধু ছত্রাক সংক্রমণের জন্য — ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত ত্বকের সমস্যায় কাজ করবে না, তাই সঠিক রোগনির্ণয় জরুরি। র‍্যাশটি কী তা নিশ্চিত না হলে Kanis ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে দেখিয়ে নিন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থায়: ত্বক থেকে খুব সামান্য ক্লোট্রিমাজলই শরীরে প্রবেশ করে, তাই গর্ভাবস্থায় ত্বকে ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। তবু গর্ভাবস্থায় Kanis ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জানান, আর ভ্যাজাইনাল প্রস্তুতি গর্ভাবস্থায় কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই ব্যবহার করুন।

স্তন্যদানকালে: ত্বকে ব্যবহার স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ধরা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্তনবৃন্তে বা তার কাছাকাছি ক্রিম লাগিয়ে শিশুকে দুধ খাওয়াবেন না — ওই জায়গার চিকিৎসা দরকার হলে কখন লাগাবেন ও কীভাবে পরিষ্কার করবেন তা চিকিৎসক বুঝিয়ে দেবেন, যাতে ওষুধ শিশুর পেটে না যায়।

সংরক্ষণ

Kanis ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।

  • ব্যবহারের পর টিউবের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন
  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
  • টিউব বা প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না
  • প্রথম খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার শেষ করুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

দাদের জন্য Kanis কত দিন ব্যবহার করতে হবে?

ত্বকের বেশিরভাগ ছত্রাক সংক্রমণে Kanis দিনে ২–৩ বার করে নিয়মিত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগাতে হয়। অ্যাথলেটস ফুটে ৪ সপ্তাহ বা তার বেশিও লাগতে পারে। সবচেয়ে জরুরি কথা — র‍্যাশ ভালো দেখানোর পরও আরও ১–২ সপ্তাহ লাগাতে থাকুন, কারণ চোখে না পড়লেও ত্বকে ছত্রাক থেকে যায়। ২–৪ সপ্তাহে সত্যিকারের উন্নতি না হলে চিকিৎসক দেখান — শক্তিশালী বা খাওয়ার ছত্রাকনাশক লাগতে পারে, কিংবা র‍্যাশটি আদৌ ছত্রাকজনিত না-ও হতে পারে।

চুলকানি ও র‍্যাশ চলে গেলেই কি Kanis বন্ধ করা যাবে?

না — ছত্রাকনাশক ক্রিম নিয়ে এটিই সবচেয়ে বড় ভুল। চুলকানি ও লালভাব কয়েক দিনেই কমে আসে, কিন্তু জীবন্ত ছত্রাক ত্বকের গভীর স্তরে আরও অনেক দিন থেকে যায়। ত্বক স্বাভাবিক দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে Kanis বন্ধ করলে সংক্রমণ সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে আসে এবং তখন সারানো আরও কঠিন হয়। চিকিৎসকের বলা পুরো কোর্স শেষ করুন এবং র‍্যাশ মিলিয়ে যাওয়ার পরও ১–২ সপ্তাহ ব্যবহার চালিয়ে যান।

Kanis কোথায় লাগানো যাবে না?

Kanis শুধু ত্বকের বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখে বা চোখের কাছে, মুখ বা নাকের ভেতরে এবং গভীর, খোলা বা রক্তপাত হওয়া ক্ষতে লাগাবেন না। মুখমণ্ডল, গোপনাঙ্গ বা শিশুর ত্বকে কেবল তখনই ব্যবহার করুন, যখন চিকিৎসক সেই জায়গার জন্য বলে দিয়েছেন। মনে রাখবেন, গোপনাঙ্গের আশপাশে এই ক্রিম ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করে দিতে পারে। যোনি ও কানের সংক্রমণের জন্য ক্লোট্রিমাজলের আলাদা প্রস্তুতি আছে — চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেসব জায়গায় ত্বকের ক্রিম ব্যবহার করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: