ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Tablet

Ivernil 12 12 mg Tablet

জেনেরিক: আইভারমেকটিন

প্রস্তুতকারক: Kumudini Pharma Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiparasitic (Avermectin)

Ivernil 12 কী?

ইভারনিল ১২ প্রতি ট্যাবলেটে ১২ মিগ্রা আইভারমেক্টিন সরবরাহ করে এবং এটি কুমুদিনী ফার্মার অ্যাভারমেক্টিন শ্রেণির পরজীবীনাশক। এই ওষুধ অন্ত্রের কৃমি থেকে স্ক্যাবিস মাইটের মতো ত্বকের পরজীবী পর্যন্ত নানা সংক্রমণের চিকিৎসা করে।

Ivernil 12 12 mg tablet হলো Kumudini Pharma Ltd. এর একটি পরজীবীনাশক ওষুধ, যাতে Ivermectin রয়েছে। বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খোসপাঁচড়ায় (স্ক্যাবিস) — বিশেষত ক্রিমে কাজ না হলে বা পরিবারের অনেকে আক্রান্ত হলে — এবং স্ট্রংগিলয়েডিয়াসিস ও ফাইলেরিয়াসিসের মতো কৃমি সংক্রমণে। সাধারণ চিকিৎসায় না সারা উকুনেও ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসক রোগ নিশ্চিত করার পরই কেবল Ivernil 12 খাওয়া উচিত।

Ivermectin পরজীবীর স্নায়ু ও পেশি কোষের বিশেষ ক্লোরাইড চ্যানেলে যুক্ত হয়ে তাদের অবশ করে ফেলে, ফলে মাইট বা কৃমি মারা যায় এবং শরীর থেকে দূর হয়। মানুষের শরীরে এই চ্যানেল ভিন্নভাবে কাজ করায় নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধটি কেবল পরজীবীর বিরুদ্ধেই কার্যকর।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • খোসপাঁচড়া (স্ক্যাবিস), জটিল ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস ও পারিবারিক প্রাদুর্ভাবসহ
  • স্ট্রংগিলয়েডিয়াসিস (অন্ত্রের সুতাকৃমি জাতীয় সংক্রমণ)
  • লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (কর্মসূচিভিত্তিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে)
  • অনকোসারসিয়াসিস (রিভার ব্লাইন্ডনেস)
  • সাধারণ চিকিৎসায় না সারা মাথার উকুন
  • কিউটেনিয়াস লার্ভা মাইগ্রান্স (চিকিৎসকের পরামর্শে)

সেবনবিধি ও মাত্রা

Ivernil 12 এর ডোজ শরীরের ওজন অনুযায়ী হিসাব করা হয় — সাধারণত প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০ মাইক্রোগ্রাম একক ডোজ হিসেবে; কয়টি ট্যাবলেট লাগবে তা চিকিৎসক ঠিক করবেন। Ivernil 12 খালি পেটে খান — খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে, যদি না চিকিৎসক অন্য কিছু বলেন। খোসপাঁচড়ায় নতুন ফোটা মাইট মারতে সাধারণত ৭–১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়, এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা সবাইকে একসাথে চিকিৎসা করাতে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজনের ভিত্তিতে (সাধারণত ১৫ কেজির ওপরে) চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেবেন। নিজে নিজে Ivernil 12 খাবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

একক ডোজে আইভারমেকটিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, বমিভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও ঝিমুনি। খোসপাঁচড়ায় মাইট মারা যাওয়ার সময় কয়েক দিন চুলকানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে — এটি প্রত্যাশিত, চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার লক্ষণ নয়। একসাথে অনেক পরজীবী মারা গেলে (বিশেষত ফাইলেরিয়াসিসে) জ্বর, র‍্যাশ, গাঁটে ব্যথা ও গ্রন্থি ফোলা হতে পারে। তীব্র র‍্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

খোসপাঁচড়ায় পরিবারের সবাই ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের ব্যক্তিদের একই দিনে চিকিৎসা করান, বিছানার চাদর ও কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান — নাহলে আবার সংক্রমণ হয়। সফল চিকিৎসার পরও ২–৪ সপ্তাহ চুলকানি থাকতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বারবার ডোজ খাবেন না। লিভারের রোগ ও খুব দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ১৫ কেজির কম ওজনের শিশুদের জন্য আইভারমেকটিনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়। ডোজের পর মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হলে গাড়ি চালাবেন না।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আইভারমেকটিন ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই রক্ত জমাট পরীক্ষায় (আইএনআর) বাড়তি নজর লাগতে পারে। কেটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির ও ভেরাপামিলের মতো ওষুধ আইভারমেকটিনের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল শোষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়, তাই ডোজের আশপাশের সময়ে এড়িয়ে চলুন। আইভারমেকটিন খাওয়ার আগে ভেষজসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

আইভারমেকটিনে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়া যাবে না। ১৫ কেজির কম ওজনের শিশু, গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানের প্রথম সপ্তাহে এটি সুপারিশ করা হয় না — চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে ব্যতিক্রম। মস্তিষ্কের রক্ত-প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) দুর্বল করে এমন রোগে — যেমন গুরুতর মেনিনজাইটিসে — বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গর্ভাবস্থায় আইভারমেকটিন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; গর্ভবতী নারীর খোসপাঁচড়ায় সাধারণত পারমেথ্রিন ক্রিম দেওয়া হয়। স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত স্তন্যদানকালে অনেক নির্দেশিকা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে জন্মের প্রথম সপ্তাহে এড়িয়ে চলাই ভালো। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Ivernil 12 কেন খালি পেটে খেতে হয়?

খাবার শরীরে আইভারমেকটিনের শোষণের পরিমাণ বদলে দেয়। খালি পেটে — খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে — Ivernil 12 খেলে ওষুধ প্রত্যাশিতভাবে শোষিত হয়, যার ভিত্তিতেই স্বাভাবিক ডোজ নির্ধারিত। আপনার রোগের জন্য চিকিৎসক ভিন্ন নির্দেশ দিলে সেটিই মেনে চলুন।

খোসপাঁচড়ায় Ivernil 12 খাওয়ার পরও চুলকাচ্ছে — চিকিৎসা কি ব্যর্থ হলো?

অগত্যা নয়। মৃত মাইটের প্রতি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কমতে সময় লাগে বলে স্ক্যাবিসের চিকিৎসার পরও সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ চুলকানি থাকে। Ivernil 12 এর দ্বিতীয় ডোজ সাধারণত ৭–১৪ দিন পর দেওয়া হয়। ৪ সপ্তাহের বেশি চুলকানি থাকলে বা নতুন দাগ/সুড়ঙ্গরেখা দেখা দিলে নিজে ডোজ না বাড়িয়ে চিকিৎসকের কাছে যান।

খোসপাঁচড়ায় আমি Ivernil 12 খেলে কি বাড়ির সবাইকেও চিকিৎসা নিতে হবে?

হ্যাঁ। ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শ ও একই বিছানা ব্যবহারে স্ক্যাবিস ছড়ায়, এবং উপসর্গ ছাড়াই কেউ কয়েক সপ্তাহ মাইট বহন করতে পারে। আপনি Ivernil 12 খাওয়ার দিনই পরিবারের সবাই ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের ব্যক্তিদের চিকিৎসা করানো উচিত, আর চাদর, তোয়ালে ও কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে — নাহলে সংক্রমণ আবার ফিরে আসে।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →