Injection
Histacin 10 mg/ml Injection
জেনেরিক: ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট
প্রস্তুতকারক: Jayson Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: First-generation (sedating) antihistamine
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Injection | ৳ 3.35 |
| Box of 10 | ৳ 33.50 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Histacin কী?
Histacin হলো chlorpheniramine maleate-এর ইনজেকশন, যা প্রথম প্রজন্মের ঘুমভাব আনতে পারে এমন অ্যান্টিহিস্টামিন। এটি চিকিৎসা পরিবেশে urticaria, angioedema, hay fever-এর উপসর্গ এবং হিস্টামিন-সম্পর্কিত অন্যান্য অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
Histacin 10 mg/ml injection হলো Jayson Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Chlorpheniramine Maleate। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও পরিচিত অ্যান্টিহিস্টামিনগুলোর একটি — কয়েক দশক ধরে অ্যালার্জির উপসর্গ যেমন সর্দি, হাঁচি, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, চামড়ার র্যাশ, আমবাত ও চুলকানি কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে; অনেক কাশি-সর্দির ওষুধেও এটি থাকে। দাম কম, দ্রুত কাজ করে এবং কার্যকর — তবে সাধারণত ঘুমঘুম ভাব আনে।
ক্লোরফেনিরামিন কাজ করে হিস্টামিন এইচ-১ রিসেপ্টর আটকে দিয়ে। অ্যালার্জির সময় শরীর হিস্টামিন নামের রাসায়নিক ছাড়ে — এতে ছোট রক্তনালি থেকে রস চুঁইয়ে পড়ে, নাক দিয়ে পানি ঝরে, চামড়া চুলকায় ও ফুলে যায়। হিস্টামিনের রিসেপ্টর দখল করে ওষুধটি এসব প্রতিক্রিয়া ঠেকায়। প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন বলে এটি মস্তিষ্কেও ঢোকে — এ কারণেই ঘুমভাব হয়, আবার চুলকানিতে ঘুম নষ্ট হলে রাতে খাওয়ার উপযোগিতাও এখানেই।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Histacin যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও হে-ফিভার — হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চুলকানো, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া।
- আমবাত (আর্টিকেরিয়া) ও চুলকানিযুক্ত চর্মরোগ — খাবার বা ওষুধে অ্যালার্জিজনিত র্যাশসহ।
- পোকামাকড়ের কামড় — চুলকানি ও ফোলা কমাতে।
- সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ — নাক ঝরা শুকাতে; প্রায়ই কম্বিনেশন ওষুধের অংশ হিসেবে।
- জলবসন্তসহ বিভিন্ন রোগের চুলকানি — বিশেষত রাতে।
- অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া — চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে; তবে মারাত্মক অ্যানাফাইল্যাক্সিসে সবার আগে জরুরি চিকিৎসা দরকার।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Histacin-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের দেওয়া মাত্রাই মেনে চলুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি ৪–৬ ঘণ্টায় ৪ মি.গ্রা.; ২৪ ঘণ্টায় ২৪ মি.গ্রা.-এর বেশি নয়। শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম মাত্রা লাগে (সাধারণত বয়সভেদে প্রতি ৪–৬ ঘণ্টায় ১–২ মি.গ্রা.) — শিশুর ডোজ অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন, আর ২ বছরের কম বয়সীকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেবেন না।
- খাবারসহ বা খালি পেটে খাওয়া যায়; চুলকানিতে ঘুম নষ্ট হলে প্রায়ই রাতের ডোজ বেছে নেওয়া হয়।
- যত কম মাত্রায় ও যত কম দিনে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ হয়, ততটুকুই ব্যবহার করুন।
- নির্ধারিত ডোজ মিস হলে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরেরটি কাছাকাছি হলে বাদ দিন — কখনো ডাবল নয়।
- কয়েক দিনেও উপসর্গ না কমলে নিজে নিজে চালিয়ে না গিয়ে চিকিৎসক দেখান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Histacin-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বেশিরভাগই মস্তিষ্কে এর প্রভাবের কারণে:
- ঘুমঘুম ভাব ও ঝিমুনি — খুবই সাধারণ; "সামান্য" ঘুম লাগলেও প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যায়। ওষুধ খাওয়ার পর গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন না, যন্ত্র চালাবেন না।
- মুখ, নাক ও গলা শুকিয়ে যাওয়া।
- মাথা ঘোরা, মনোযোগে ঘাটতি, ঝাপসা দেখা।
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবে কষ্ট — প্রোস্টেট বড় থাকা বয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়।
- শ্বাসনালির কফ ঘন হয়ে যাওয়া।
- শিশুদের উল্টো চঞ্চলতা — ঘুমের বদলে অস্থিরতা বা খিটখিটে ভাব হতে পারে।
- বয়স্কদের বিভ্রান্তি, পড়ে যাওয়া ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
সতর্কতা
Histacin ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো মানুন:
- ডোজ খাওয়ার পর গাড়ি বা যন্ত্র চালানো নয় — ভ্রমণ ও কাজের সময় হিসাব করে ডোজ ঠিক করুন; সম্ভব হলে রাতে খান।
- অ্যালকোহল ও অন্য ঘুম-আনা ওষুধ এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।
- গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে কষ্ট, মৃগী, হাঁপানি বা সিওপিডি, লিভারের রোগ, থাইরয়েড বা হার্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- বয়স্ক রোগীরা কম মাত্রা ব্যবহার করবেন; উপযুক্ত হলে ঘুম-না-আনা বিকল্পই ভালো।
- অন্য কাশি-সর্দির ওষুধের সঙ্গে মেলাবেন না — সেগুলোতে আগেই অ্যান্টিহিস্টামিন থাকতে পারে; অজান্তে ডাবল ডোজের ঝুঁকি।
- এটি স্বল্পমেয়াদি উপসর্গ কমানোর ওষুধ; অ্যালার্জি লেগে থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Histacin-এর সঙ্গে জানা দরকার এমন ইন্টার্যাকশন:
- অ্যালকোহল — ঝিমুনি ও অসাড়তা মারাত্মক বাড়ায়; ওষুধ চলাকালীন সম্পূর্ণ বর্জন করুন।
- ঘুমের ওষুধ, দুশ্চিন্তার ওষুধ, ওপিওয়েড ব্যথানাশক ও ঘুম-আনা বিষণ্নতার ওষুধ — ঝিমুনি ও শ্বাস দমে যাওয়ার ঝুঁকি যোগ হয়।
- এমএও-ইনহিবিটর বিষণ্নতার ওষুধ — শুকিয়ে দেওয়া (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) প্রভাব তীব্র ও দীর্ঘ করে; একসঙ্গে নিষিদ্ধ।
- অন্যান্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ (কিছু পেটব্যথার অ্যান্টিস্পাজমোডিক, ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতার ওষুধ, পারকিনসনের ওষুধ) — মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাব আটকে যাওয়া ও বিভ্রান্তি বাড়ে।
- ফেনিটয়েন — এর রক্তমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- অন্য অ্যান্টিহিস্টামিন বা কম্বিনেশন সর্দির ওষুধ — একই উপাদান দুবার পড়ার ঝুঁকি।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের ক্ষেত্রে Histacin ব্যবহার করা উচিত নয়:
- ক্লোরফেনিরামিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি।
- নবজাতক ও অপরিণত শিশু — এবং চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশু।
- এমএও-ইনহিবিটর ওষুধ চলছে এমন রোগী (বা গত ১৪ দিনের মধ্যে খেয়েছেন)।
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা।
- প্রস্রাব আটকে থাকা বা প্রোস্টেট উল্লেখযোগ্য বড় হওয়া।
- হাঁপানির তীব্র আক্রমণ — কফ ঘন হয়ে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।
- সরু-হয়ে-যাওয়া পেপটিক আলসার বা পাকস্থলীর নির্গমন পথে বাধা।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: ক্লোরফেনিরামিনের কয়েক দশকের ব্যবহার-অভিজ্ঞতা আছে এবং গর্ভাবস্থায় সত্যিই অ্যান্টিহিস্টামিন দরকার হলে এটি প্রায়ই পছন্দের তালিকায় থাকে — কিন্তু "প্রায়ই ব্যবহৃত" মানে "ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে" নয়। গর্ভাবস্থায় Histacin কেবল চিকিৎসকের পরামর্শের পরই খান — সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য; আর প্রসবের কাছাকাছি সময়ে নবজাতকের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে এড়িয়ে চলুন।
স্তন্যদান: বুকের দুধে সামান্য পরিমাণ যায়; শিশুর ঝিমুনি বা খিটখিটে ভাব হতে পারে এবং বারবার ডোজে বা ডিকনজেস্ট্যান্টের সঙ্গে খেলে দুধের পরিমাণও কমতে পারে। চিকিৎসা দরকার হলে ঘুম-না-আনা অ্যান্টিহিস্টামিনই ভালো — চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন। কোনো ডোজ খেলে শিশুর ঘুমঘুম ভাব বা দুধ টানায় অনীহা খেয়াল রাখুন।
সংরক্ষণ
Histacin ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; সিরাপের বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং লেবেলে না বললে ফ্রিজে রাখবেন না। অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ মিষ্টি বলে শিশুদের লোভনীয় — তাই এই ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে তালাবদ্ধ রাখায় বিশেষ যত্ন নিন। মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফার্মেসিতে দিয়ে নিষ্পত্তি করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Histacin খাওয়ার পর কি গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাতে পারব?
না — চালানো উচিত নয়। Histacin ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন: ডোজ খাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা এটি প্রতিক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়, মনোযোগ ভোঁতা করে, চোখে ঝাপসাও লাগতে পারে — এমনকি যখন আপনার সামান্য ঘুম লাগছে বা একদমই লাগছে না বলে মনে হয়, তখনও। বাংলাদেশের রাস্তায় এই অসাড়তা সত্যিকারের বিপদ — গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা — সব চালকের জন্যই। প্রভাব যখন চূড়ায় থাকে তখন যেন যাত্রায় না থাকেন সেভাবে ডোজ সাজান, সম্ভব হলে রাতে খান; আর দিনে সজাগ থাকা জরুরি হলে চিকিৎসককে ফেক্সোফেনাডিন বা লোরাটাডিনের মতো ঘুম-না-আনা অ্যান্টিহিস্টামিনের কথা জিজ্ঞেস করুন।
নতুন অ্যালার্জির ট্যাবলেটে ঘুম আসে না, অথচ Histacin খেলে এত ঘুম পায় কেন?
Histacin প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন। এর অণুগুলো ছোট ও চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই সহজে রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা পেরিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরের হিস্টামিন রিসেপ্টরও আটকে দেয় — আর মস্তিষ্কের হিস্টামিনই আপনাকে জাগিয়ে রাখার অন্যতম সংকেত। সেটি আটকালে অ্যালার্জি কমার সঙ্গে ঘুমও নেমে আসে। নতুন দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন (ফেক্সোফেনাডিন, লোরাটাডিন, সেটিরিজিন প্রভৃতি) এমনভাবে তৈরি যে সেগুলো মূলত মস্তিষ্কের বাইরে থাকে — তাই ঘুম প্রায় না এনেই অ্যালার্জি সামলায়। এই ঘুমভাব মাঝে মাঝে কাজেও লাগে — যেমন রাতের চুলকানিতে ঘুম নষ্ট হলে — কিন্তু এ কারণেই ওষুধটি সমীহ করে ব্যবহার করতে হয়।
সর্দির জন্য শিশুকে Histacin দেওয়া কি নিরাপদ?
কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে Histacin দেওয়া যাবে না, আর বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও ওজন মিলিয়ে মাত্রা সাবধানে ঠিক করতে হয় — বড়দের ট্যাবলেট ভেঙে দেওয়া বা আন্দাজে সিরাপ মাপা থেকেই দুর্ঘটনাজনিত ওভারডোজ ঘটে। শিশুদের উল্টো প্রতিক্রিয়াও হতে পারে — ঘুমের বদলে অস্থিরতা, ছটফটানি বা খিটখিটে ভাব। সাধারণ সর্দিতে নরমাল স্যালাইনের নাকের ড্রপ, পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রামেই বেশিরভাগ শিশু ভালো হয়ে যায়। অ্যালার্জির উপসর্গ বারবার ফিরে এলে ঘরে ঘরে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসককে দিয়ে কারণ নিশ্চিত করিয়ে বয়স-উপযোগী অ্যান্টিহিস্টামিন বেছে নিন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: