ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Griseofulvin 500 mg Tablet — Griseofulvin

Tablet

Griseofulvin 500 mg Tablet

জেনেরিক: গ্রিসিওফুলভিন

প্রস্তুতকারক: Bristol Pharma Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Oral Antifungal (Dermatophyte-Specific)

Griseofulvin এর কাজ কি?

Griseofulvin 500 mg Tablet-এ গ্রাইসিওফালভিন থাকে, যা ডার্মাটোফাইট ছত্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। ত্বক, মাথার ত্বক, চুল বা নখের দাদজাতীয় সংক্রমণে চিকিৎসক মুখে খাওয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন মনে করলে এটি ব্যবহার করা হয়।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 6.50
Tablet ৳ 6.50

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Griseofulvin কী?

Griseofulvin 500 mg Tablet-এ গ্রাইসিওফালভিন থাকে, যা ডার্মাটোফাইট ছত্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। ত্বক, মাথার ত্বক, চুল বা নখের দাদজাতীয় সংক্রমণে চিকিৎসক মুখে খাওয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন মনে করলে এটি ব্যবহার করা হয়।

Griseofulvin 500 mg tablet হল Bristol Pharma Ltd.-এর তৈরি Griseofulvin, মুখে খাওয়ার প্রাচীনতম অ্যান্টিফাঙ্গালগুলোর একটি, যা আজও মূল্যবান—বিশেষত শিশুদের মাথার তালুর দাদে (টিনিয়া ক্যাপিটিস), আর ক্রিমে কাজ না হলে ত্বক ও নখের দাদে। এটি কেবল ডার্মাটোফাইট অর্থাৎ দাদ-সৃষ্টিকারী ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে; ক্যানডিডার মতো ইস্ট সংক্রমণে কাজ করে না। এটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং দীর্ঘ, ধৈর্যের কোর্স লাগে।

Griseofulvin-এর কাজের ধরনটি ব্যতিক্রমী: এটি নতুন গজানো ত্বক, চুল ও নখের কেরাটিনে জমা হয়ে নতুন অংশকে ছত্রাকের জন্য বিষাক্ত করে তোলে, পাশাপাশি ছত্রাকের কোষ-বিভাজন যন্ত্রও অচল করে দেয়। সুরক্ষিত নতুন কেরাটিন ধীরে ধীরে সংক্রমিত পুরোনো স্তরের জায়গা নিলে সংক্রমণ সারে—এ কারণেই চিকিৎসায় সপ্তাহ থেকে মাস লাগে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

মলম-ক্রিমে না সারা দাদ (ডার্মাটোফাইট) সংক্রমণে Griseofulvin ব্যবহৃত হয়:

  • মাথার তালুর দাদ (টিনিয়া ক্যাপিটিস)—প্রধান ব্যবহার, বিশেষত স্কুলবয়সী শিশুদের, কারণ চুলের গোড়ার ভেতরের ছত্রাকে ক্রিম পৌঁছায় না
  • ছড়িয়ে পড়া বা একগুঁয়ে শরীর, কুঁচকি বা পায়ের দাদ
  • নখের দাদ (টিনিয়া আনগুইয়াম)—নতুন অ্যান্টিফাঙ্গাল উপযুক্ত না হলে

দীর্ঘ চিকিৎসা তখনই সার্থক যখন সত্যিই ছত্রাক আছে—তাই চিকিৎসকরা প্রায়ই আগে ত্বক চেঁছে বা চুলের নমুনায় রোগ নিশ্চিত করেন। ক্যানডিডা, ছুলি বা ব্যাকটেরিয়াজনিত চর্মরোগে Griseofulvin কাজ করে না—ভুল র‍্যাশে খেলে মাসের পর মাস নষ্ট হয়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

Griseofulvin চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে বা পরপরই খান—দুধ, ডিম, বাদাম বা তেলে রান্না তরকারি—কারণ চর্বি শোষণ বহুগুণ বাড়ায়। Griseofulvin (মাইক্রোসাইজ)-এর সাধারণ মাত্রা:

  • প্রাপ্তবয়স্ক: দৈনিক ৫০০ মি.গ্রা. থেকে ১ গ্রাম, একবারে বা ভাগ করে
  • শিশু: দৈনিক ১০–২০ মি.গ্রা./কেজি, অবশ্যই চিকিৎসকের হিসাবে

প্রত্যাশিত মেয়াদ—চিকিৎসকই ঠিক করবেন, কমানোর সুযোগ নেই: ত্বকের দাদ ২–৬ সপ্তাহ; মাথার তালুর দাদ ৬–৮ সপ্তাহ বা বেশি; আঙুলের নখ প্রায় ৪–৬ মাস; পায়ের নখ ৬–১২ মাস। ওষুধটি কেবল নতুন গজানো অংশ রক্ষা করে, তাই সংক্রমিত চুল-ত্বক-নখ পুরোপুরি বদলে না যাওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হয়। দাগ সেরে গেছে মনে হলেও প্রতিদিন Griseofulvin খান।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Griseofulvin-এর অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হালকা এবং চিকিৎসা চলতে চলতে কমে আসে:

  • মাথাব্যথা—প্রথম কয়েক দিনে সাধারণ, এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়
  • বমিভাব, পেট খারাপ বা ডায়রিয়া
  • রোদে সংবেদনশীলতা: রোদ-লাগা ত্বকে র‍্যাশ বা জ্বালা
  • মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা স্বাদ বদল

লিভারের সমস্যার লক্ষণ (গাঢ় প্রস্রাব, চোখ হলুদ, অরুচি), তীব্র চর্মপ্রতিক্রিয়া (ফোসকা, চামড়া ওঠা, মুখে ঘা), অস্বাভাবিক কালশিটে বা একটানা গলাব্যথা-জ্বর (রক্তকণিকার ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা), কিংবা গাঁটব্যথাসহ মুখে প্রজাপতি-আকৃতির র‍্যাশ (বিরল লুপাস-সদৃশ প্রতিক্রিয়া) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। এই ওষুধের সাথে মদ্যপানে মুখ লাল হয়ে যাওয়া ও বুক ধড়ফড় হতে পারে—পুরো কোর্সে তা বর্জনীয়।

সতর্কতা

Griseofulvin তখনই সফল হয় যখন এর দুটি নিয়ম মানা হয়: প্রতিদিন চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খাওয়া, আর পুরো দীর্ঘ কোর্স শেষ করা। নতুন সুরক্ষিত কেরাটিন গজানোর সাথে সাথে ছত্রাক ধীরে ধীরে মরে—দাগ পরিষ্কার দেখালেই বন্ধ করলে রোগ ফেরা প্রায় নিশ্চিত, আর আধা-চিকিৎসিত দাদই বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অ্যান্টিফাঙ্গাল-রেজিস্ট্যান্স সমস্যার জ্বালানি।

  • কড়া রোদ থেকে নিজেকে বাঁচান: ঢাকা পোশাক পরুন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন—ওষুধটি ত্বককে সহজে পুড়িয়ে দেয়
  • চিকিৎসা চলাকালে মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
  • লিভারের রোগ, পরফাইরিয়া বা লুপাস থাকলে শুরুর আগে জানান
  • নারীরা চিকিৎসাকালে ও পরের ১ মাস গর্ভধারণ এড়াবেন; পুরুষরা চিকিৎসাকালে ও পরের ৬ মাস সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন
  • এটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের কার্যকারিতা কমাতে পারে—বাড়তি সুরক্ষা ব্যবহার করুন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Griseofulvin লিভারের কিছু এনজাইমের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে। যা যা খান সব জানান, বিশেষত:

  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল: গ্রিসিওফুলভিন পিল ব্যর্থ করে দিতে পারে—অনিয়মিত রক্তপাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ সম্ভব; চিকিৎসাকালে ও পরের এক মাস কনডম বা বাড়তি পদ্ধতি ব্যবহার করুন
  • ওয়ারফারিন: রক্ত পাতলা করার ক্ষমতা কমে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি—আইএনআর ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার
  • সাইক্লোস্পোরিন: মাত্রা কমে গিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের সুরক্ষা হুমকিতে পড়তে পারে
  • ফেনোবারবিটালসহ এনজাইম-উদ্দীপক ওষুধ গ্রিসিওফুলভিনের শোষণ ও কার্যকারিতা কমায়
  • মদ: মুখ লাল, মাথাব্যথা ও বুক ধড়ফড় ঘটায় (ডাইসালফিরাম-সদৃশ প্রতিক্রিয়া)

দীর্ঘ কোর্স চলাকালে Griseofulvin খাচ্ছেন তা না জানিয়ে কোনো নিয়মিত ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Griseofulvin খাবেন না:

  • গর্ভাবস্থায়—গ্রিসিওফুলভিন অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে পারে; এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং বন্ধের পরও ১ মাস গর্ভধারণ এড়াতে হবে
  • লিভার ফেইলিউর বা গুরুতর লিভার রোগে
  • পরফাইরিয়ায় (রক্তরঞ্জকের বিরল বংশগত রোগ)—ওষুধটি আক্রমণ উসকে দিতে পারে
  • সিস্টেমিক লুপাস (SLE) বা সংশ্লিষ্ট কানেক্টিভ-টিস্যু রোগে—রোগ বেড়ে যেতে পারে
  • গ্রিসিওফুলভিনে অ্যালার্জি থাকলে

ওষুধটি শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে পুরুষদের চিকিৎসাকালে ও পরের ৬ মাস সন্তান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মাসব্যাপী চিকিৎসায় যাওয়ার আগে পরিবার-পরিকল্পনার সময় নিয়ে চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Griseofulvin সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এটি গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে এবং পরীক্ষাগার-গবেষণায় ক্রোমোজোমের ক্ষতির সাথেও যুক্ত। নারীদের পুরো কোর্স এবং শেষ ডোজের পর ১ মাস নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ (পিলের সাথে বাড়তি পদ্ধতিসহ, কারণ ওষুধটি পিল দুর্বল করে) ব্যবহার করতে হবে। পুরুষরা চিকিৎসাকালে ও পরের ৬ মাস সন্তান নেবেন না। চিকিৎসা চলাকালে গর্ভধারণ হলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান।

স্তন্যদান: বুকের দুধে Griseofulvin নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, তাই স্তন্যদানকালে এটি এড়িয়ে চলা উচিত। কোর্স যেহেতু সপ্তাহ-মাসব্যাপী, আগে চিকিৎসকের সাথে নিরাপদ বিকল্প বা খাওয়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

Griseofulvin ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন—ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার ও বাক্সে রাখুন, স্যাঁতসেঁতে বাথরুমের তাক বা রান্নাঘরের গরম কোণ থেকে দূরে। গ্রিসিওফুলভিনের কোর্স সপ্তাহ-মাসব্যাপী বলে কেবল সিল করা, মেয়াদের মধ্যে থাকা প্যাক কিনুন এবং চলতি ওষুধ এক জায়গায় ঠান্ডা আলমারিতে, শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।

  • Griseofulvin সাসপেনশন প্রতিবার ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে খাওয়ান এবং খোলা বোতলের মেয়াদ লেবেলের নির্দেশমতো মানুন
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট কখনও খাবেন না—কার্যকারিতা কমলে চিকিৎসা ব্যর্থ হয় ও রেজিস্ট্যান্স বাড়ে
  • চিকিৎসা শেষে অব্যবহৃত ট্যাবলেট ফার্মেসিতে ফেরত দিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Griseofulvin কেন চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খেতে হয়?

গ্রিসিওফুলভিন পানিতে ভালো গলে না, আর খালি পেটে অন্ত্র একে খুব কমই শোষণ করে—প্রায়ই সংক্রমণ সারানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। চর্বি পিত্তরস নিঃসরণ ঘটিয়ে ওষুধটিকে অন্ত্রের দেয়াল পার করিয়ে দেয়, শোষণ কয়েক গুণ বাড়ে। Griseofulvin-এর প্রতিটি ডোজ চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে বা পরপরই খান: এক গ্লাস সরসহ দুধ, ডিম, বাদাম, পনির বা সাধারণ তেলে রান্না তরকারি—সবই চলে। এই ধাপ বাদ দেওয়াই মাসব্যাপী চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

মাথার তালুর দাদে শিশুকে কত দিন Griseofulvin খাওয়াতে হবে—ভালো দেখালে কি বন্ধ করা যায়?

মাথার তালুর দাদে অন্তত ৬–৮ সপ্তাহ Griseofulvin লাগে, কখনও আরও বেশি—এবং না, আগে বন্ধ করবেন না। ছত্রাক চুলের শ্যাফটের ভেতরে লুকিয়ে থাকে, যেখানে ওষুধ কেবল নতুন গজানো চুলেই পৌঁছায়; চিকিৎসিত চুল সংক্রমিত চুলের জায়গা নিলে তবেই রোগ সারে। দাগ ভালো দেখালেই বন্ধ করলে জীবিত ছত্রাক থেকে যায়, কয়েক সপ্তাহে রোগ ফেরে এবং সহপাঠী ও ভাই-বোনদের মধ্যে ছড়াতে পারে। প্রতিদিন চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে ওষুধ দিন, চিরুনি-টুপি ধুয়ে নিন, পরিবারের সবাইকে পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসক নিরাময় নিশ্চিত করা পর্যন্ত—আদর্শভাবে ফলো-আপ পরীক্ষাসহ—চালিয়ে যান।

Griseofulvin খাওয়ার সময় কি রোদে বের হওয়া যাবে?

সাবধানে—গ্রিসিওফুলভিন ত্বককে রোদের প্রতি অস্বাভাবিক সংবেদনশীল করে তোলে; ভর দুপুরের অল্প রোদেও খোলা জায়গায় জ্বালা, লালচে ভাব বা চুলকানিযুক্ত র‍্যাশ হতে পারে। পুরো কোর্স ঘরবন্দি থাকার দরকার নেই: সম্ভব হলে সকাল-সকাল বা পড়ন্ত বিকেলে বের হন, ফুলহাতা পোশাক ও টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন, এবং বাইরে যাওয়ার আগে মুখ-গলা-হাতে সানস্ক্রিন লাগান। এত কিছুর পরও রোদে র‍্যাশ উঠলে চিকিৎসককে দেখান; নিজে নিজে Griseofulvin বন্ধ করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →