See in English
Glymin 850 mg Tablet — Metformin Hydrochloride

ট্যাবলেট

Glymin 850 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড

প্রস্তুতকারক: Healthcare Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Biguanide — oral antidiabetic (first-line for type 2 diabetes)

Glymin এর কাজ কি?

Glymin (ট্যাবলেট)-এর উপাদান মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড 850 mg, প্রস্তুতকারক Healthcare Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Biguanide — oral antidiabetic (first-line for type 2 diabetes)।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 5.00
Strip of 8 ৳ 40.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Glymin কী?

গ্লাইমিন ৮৫০ মিগ্রা ট্যাবলেটে মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড থাকে, যা হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তৈরি বিগুয়ানাইড শ্রেণির মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও চিকিৎসকের ফলোআপের সাথে।

Glymin 850 mg tablet হলো Healthcare Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Metformin Hydrochloride। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় এটি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রথম সারির ওষুধ। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি রক্তের উচ্চ শর্করা কমাতে চিকিৎসকেরা এটি দিয়ে থাকেন; প্রয়োজনে অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের সঙ্গেও দেওয়া হয়।

মেটফরমিন কাজ করে সহজ নিয়মে — এটি লিভার থেকে রক্তে অতিরিক্ত চিনি ছাড়া কমিয়ে দেয় এবং শরীরের মাংসপেশি ও কোষগুলোকে নিজের ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে, ফলে রক্তের চিনি সহজে কোষে ঢুকে যায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে জোর করে বাড়তি ইনসুলিন তৈরি করায় না, তাই শুধু মেটফরমিন খেলে রক্তের সুগার বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। অনেকের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি কিছুটা সাহায্য করে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Glymin সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস — প্রথম পছন্দের ট্যাবলেট হিসেবে; এককভাবে বা অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ/ইনসুলিনের সঙ্গে।
  • প্রি-ডায়াবেটিস — ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে, যখন শুধু জীবনযাত্রা পরিবর্তনে কাজ হয় না (চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে)।
  • পিসিওএস (PCOS) — কিছু নারীর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও মাসিকের অনিয়ম ঠিক করতে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে এককভাবে এটি ব্যবহার হয় না, কারণ সেক্ষেত্রে ইনসুলিন অপরিহার্য। আপনার কিডনির অবস্থা, বয়স ও সার্বিক স্বাস্থ্য দেখে চিকিৎসকই ঠিক করবেন মেটফরমিন আপনার জন্য উপযুক্ত কি না।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Glymin 850 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Glymin-এর বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হালকা এবং শরীর অভ্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কয়েক সপ্তাহেই কমে যায়:

  • পেটের সমস্যা — বমিভাব, পাতলা পায়খানা, গ্যাস, হালকা পেটব্যথা বা মুখে ধাতব স্বাদ; খাবারের সঙ্গে খেলে এবং কম ডোজে শুরু করলে এগুলো অনেক কমে।
  • কারও কারও ক্ষুধা কমে যাওয়া ও সামান্য ওজন হ্রাস।
  • দীর্ঘদিন ব্যবহারে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি — চিকিৎসক মাঝে মাঝে বি১২ পরীক্ষা করাতে পারেন, প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট দেবেন।
  • ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস — খুবই বিরল কিন্তু গুরুতর; কিডনির মারাত্মক সমস্যা, পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত মদ্যপানে ঝুঁকি বাড়ে। অস্বাভাবিক মাংসপেশির ব্যথা, দ্রুত শ্বাস, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা ঝিমুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

Glymin খাওয়ার আগে ও চলাকালীন এই বিষয়গুলো মনে রাখুন:

  • কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান — সাধারণত শুরুর আগে এবং পরে অন্তত বছরে একবার কিডনি পরীক্ষা করা হয়।
  • কনট্রাস্ট ডাই দিয়ে এক্স-রে/সিটি স্ক্যান বা বড় অপারেশনের আগে ওষুধটি সাময়িক বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে; আপনি মেটফরমিন খান তা চিকিৎসক বা রেডিওলজিস্টকে মনে করিয়ে দিন।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন — এতে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস ও সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • বমি, ডায়রিয়া বা জ্বরে পানি কম খাওয়া হলে ডোজ সাময়িক বন্ধ রাখবেন কি না, চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
  • খাদ্যনিয়ম, ব্যায়াম এবং নিয়মিত সুগার ও HbA1c পরীক্ষা চালিয়ে যান — ট্যাবলেট জীবনযাত্রার যত্নের বিকল্প নয়, সহায়ক মাত্র।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Glymin-এর সঙ্গে আপনি যা যা ওষুধ খান, সবই চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান:

  • আয়োডিনযুক্ত কনট্রাস্ট ডাই (এক্স-রে/সিটি) — কিডনি রক্ষায় স্ক্যানের সময়টায় মেটফরমিন সাধারণত বন্ধ রাখা হয়।
  • অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন — একসঙ্গে খেলে সুগার বেশি কমতে পারে; মাত্রা সমন্বয়ের দরকার হতে পারে।
  • ডাইউরেটিক (পানির ট্যাবলেট), এসিই ইনহিবিটর, ব্যথানাশক NSAID — কিডনির কার্যক্ষমতা ও মেটফরমিনের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
  • স্টেরয়েড ও কিছু হরমোন ওষুধ — সুগার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করতে পারে।
  • অ্যালকোহল — ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস ও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • সিমেটিডিনের মতো কিছু ওষুধ রক্তে মেটফরমিনের মাত্রা বাড়াতে পারে — চিকিৎসক বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের অবস্থাগুলোতে Glymin খাওয়া উচিত নয়:

  • কিডনির মারাত্মক অকার্যকারিতা (খুব কম eGFR) — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিষেধ, কারণ ওষুধটি কিডনি দিয়েই শরীর থেকে বের হয়।
  • মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস — এসব জরুরি অবস্থায় দরকার ইনসুলিন, মেটফরমিন নয়।
  • মারাত্মক পানিশূন্যতা, শক, গুরুতর সংক্রমণ বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাকজনিত রক্তসঞ্চালন ব্যর্থতা — যেসব অবস্থায় শরীরের কোষ অক্সিজেন কম পায়।
  • লিভারের গুরুতর রোগ বা মদ্যাসক্তি।
  • মেটফরমিন বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।

চিকিৎসক এসব ঝুঁকি বিবেচনা করেই ব্যবস্থাপত্র দেবেন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: অনেক গাইডলাইনে গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসে (জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসসহ) মেটফরমিন ব্যবহারের কথা থাকলেও, মেটফরমিন না ইনসুলিন — এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকই নেবেন। গর্ভাবস্থায় নিজে থেকে Glymin শুরু, বন্ধ বা চালিয়ে যাবেন না। গর্ভাবস্থায় সুগার ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকলে মা ও শিশু দুজনেই সুরক্ষিত থাকে।

স্তন্যদান: বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায় এবং সুস্থ, পূর্ণ গর্ভকালীন শিশুর ক্ষেত্রে মেটফরমিন সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধরা হয়। তবুও আপনি বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তা চিকিৎসককে জানান, যাতে চিকিৎসা পরিকল্পনা ও শিশুর সুস্থতা একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়।

সংরক্ষণ

Glymin ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন — সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে; বাথরুম বা রান্নাঘরের চুলার পাশে রাখবেন না। স্ট্রিপ বা পাত্র ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং অবশ্যই শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ওষুধটি ব্যবহার করবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →