See in English
Glims 3 mg Tablet — Glimepiride

ট্যাবলেট

Glims 3 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: গ্লিমেপিরাইড

প্রস্তুতকারক: Opsonin Pharma Limited

থেরাপিউটিক ক্লাস: Sulfonylurea — oral antidiabetic for type 2 diabetes

Glims এর কাজ কি?

Glims (ট্যাবলেট)-এর উপাদান গ্লিমেপিরাইড 3 mg, প্রস্তুতকারক Opsonin Pharma Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Sulfonylurea — oral antidiabetic for type 2 diabetes।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 7.74
Strip of 15 ৳ 116.10

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Glims কী?

Glims 3 mg Tablet-এ glimepiride আছে, যা sulfonylurea শ্রেণির মুখে খাওয়ার অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে ব্যবহার করা হয়, সাধারণত উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ ও চিকিৎসকের ফলো-আপের সঙ্গে।

Glims 3 mg tablet হলো Opsonin Pharma Limited-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Glimepiride। এটি সালফোনাইলইউরিয়া গোত্রের ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট — খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামে সুগার নিয়ন্ত্রণে না এলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে এককভাবে বা মেটফরমিনসহ অন্য ওষুধের সঙ্গে বাংলাদেশে এটি বহুল ব্যবহৃত।

গ্লিমেপিরাইড অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষকে উদ্দীপিত করে শরীরের নিজস্ব ইনসুলিন বেশি নিঃসরণ করায় এবং সেই ইনসুলিন যাতে শরীর ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে তাতেও সাহায্য করে। যেহেতু এটি সক্রিয়ভাবে ইনসুলিন বের করে, তাই সুগার বেশ শক্তিশালীভাবে কমায় — কিন্তু একই কারণে খাবার বাদ দিলে বা নির্ধারিত মাত্রার বেশি খেলে রক্তের সুগার বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) পারে। তাই এই ওষুধের সঙ্গে নিয়মিত সময়মতো খাওয়া খুব জরুরি।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Glims যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস — যখন শুধু খাদ্যনিয়ম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে আসে না।
  • কম্বিনেশন চিকিৎসা — একটি ওষুধে কাজ না হলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে মেটফরমিন, ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর, এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর বা ইনসুলিনের সঙ্গে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে এটি চলে না, কারণ তখন অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন দিতে পারে না — ইনজেকশন ইনসুলিনই অপরিহার্য। আপনার বয়স, কিডনি-লিভারের অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি দেখে চিকিৎসক গ্লিমেপিরাইড বেছে নেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Glims 3 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Glims-এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • হাইপোগ্লাইসেমিয়া (সুগার কমে যাওয়া) — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ঘাম, কাঁপুনি, হঠাৎ প্রচণ্ড ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, এলোমেলো লাগা; গুরুতর হলে অজ্ঞান বা খিঁচুনিও হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিনি, গ্লুকোজ বা মিষ্টি খেয়ে তারপর ভাত/ভারী খাবার খান।
  • ওজন কিছুটা বাড়া — ইনসুলিন বাড়ার কারণে।
  • পেটের সমস্যা — বমিভাব, পেট ভার বা হালকা ব্যথা; সাধারণত সাময়িক।
  • চর্মে প্রতিক্রিয়া — কারও কারও র‍্যাশ বা চুলকানি।
  • বিরল ক্ষেত্রে রক্তকণিকার পরিবর্তন বা লিভার এনজাইম বৃদ্ধি — চিকিৎসক মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন।

বারবার সুগার কমে গেলে চিকিৎসককে জানান; মাত্রা কমানোর দরকার হতে পারে।

সতর্কতা

Glims চলাকালীন:

  • সময়মতো খাবার খান, কোনো বেলা বাদ দেবেন না; সঙ্গে গ্লুকোজ, চিনি বা মিষ্টি রাখুন — বিশেষত ভ্রমণে বা রোজা-উপবাসের সম্ভাবনায়।
  • সুগার কমার লক্ষণগুলো চিনে রাখুন এবং পরিবারের সদস্যদেরও শিখিয়ে রাখুন কী করতে হবে।
  • ওষুধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা বোঝার আগে গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানোয় বাড়তি সতর্ক থাকুন — সুগার কমলে মনোযোগ নষ্ট হয়।
  • বয়স্ক রোগী এবং কিডনি বা লিভারের রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেশি; তাদের মাত্রা কম রাখা হয়।
  • অ্যালকোহল সুগার কমার লক্ষণ ঢেকে দিতে ও বাড়িয়ে দিতে পারে — এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • রমজান বা যেকোনো রোজা/উপবাসের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; ডোজের সময় সাধারণত বদলাতে হয়।
  • নিয়মিত সুগার ও HbA1c পরীক্ষা চালিয়ে যান।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

অনেক ওষুধই Glims-এর সঙ্গে ক্রিয়া করে; আপনার সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসককে দেখান:

  • সুগার কমার ঝুঁকি বাড়ায় — অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ, ইনসুলিন, অ্যাসপিরিন ও NSAID ব্যথানাশক, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন ফ্লুরোকুইনোলোন, সালফোনামাইড/কো-ট্রাইমক্সাজল), ফ্লুকোনাজল ও কিছু বিষণ্নতার ওষুধ।
  • সুগার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে — স্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইউরেটিক, কিছু হরমোন ওষুধ।
  • বিটা-ব্লকার — সুগার কমার সতর্ক সংকেত (কাঁপুনি, ধড়ফড়) ঢেকে দিতে পারে।
  • ওয়ারফারিন — দুটির যেকোনোটির কার্যকারিতা বদলাতে পারে; নজরদারি দরকার।
  • অ্যালকোহল — সুগার অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়াতে-কমাতে পারে; বর্জন করুন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের অবস্থায় Glims খাবেন না:

  • টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (কোমাসহ বা ছাড়া) — এসব ক্ষেত্রে ইনসুলিন বাধ্যতামূলক।
  • কিডনি বা লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা — দীর্ঘস্থায়ী বিপজ্জনক হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি; সাধারণত ইনসুলিনই পছন্দ।
  • গ্লিমেপিরাইড, অন্য সালফোনাইলইউরিয়া বা সালফোনামাইড ওষুধে অ্যালার্জি।
  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান — গ্লিমেপিরাইড সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; বিকল্প হিসেবে ইনসুলিনই প্রচলিত।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Glims খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না। গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা গর্ভবতী জানতে পারলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন — সাধারণত চিকিৎসা ইনসুলিনে বদলে দেওয়া হয়, যা শিশুর জন্য নিরাপদভাবে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস মা ও শিশু দুজনেরই ক্ষতি করে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা না করে হুট করে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

স্তন্যদান: সালফোনাইলইউরিয়া বুকের দুধে যেতে পারে এবং শিশুর সুগার কমিয়ে দিতে পারে, তাই স্তন্যদানকালে গ্লিমেপিরাইড সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। এ সময়ে চিকিৎসক ইনসুলিন বা অন্য উপযুক্ত বিকল্প দেবেন।

সংরক্ষণ

Glims ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার স্ট্রিপেই রাখুন এবং সব ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটের মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসির মাধ্যমে নষ্ট করুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →