Capsule
Flucoder 200 200 mg Capsule
জেনেরিক: ফ্লুকোনাজল
প্রস্তুতকারক: Eskayef Pharmaceuticals Ltd. Chandana, Gazipur
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antifungal (Triazole)
Flucoder 200 কী?
Flucoder 200 200 mg capsule হলো Eskayef Pharmaceuticals Ltd. Chandana, Gazipur এর একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ, যাতে Fluconazole রয়েছে। এটি যোনিপথের ক্যান্ডিডিয়াসিস (থ্রাশ), মুখ ও খাদ্যনালির ছত্রাক সংক্রমণ, ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ এবং ক্রিপ্টোকক্কাল মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ছত্রাক সংক্রমণ খুব সাধারণ, আর Flucoder 200 সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গালগুলোর একটি।
Fluconazole ছত্রাকের কোষপর্দার অপরিহার্য উপাদান আর্গোস্টেরল তৈরির এনজাইম বন্ধ করে দেয়। ফলে ছত্রাকের কোষপর্দা ছিদ্রযুক্ত হয়ে যায় এবং ছত্রাক বাঁচতে বা বাড়তে পারে না। মুখে খেলে ভালোভাবে শোষিত হয় বলে কিছু সংক্রমণে একটি মাত্র ডোজই যথেষ্ট, আবার কিছুতে লম্বা কোর্স লাগে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- যোনিপথের ক্যান্ডিডিয়াসিস (ভ্যাজাইনাল থ্রাশ)
- মুখ ও খাদ্যনালির ক্যান্ডিডিয়াসিস
- ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ (দাদ, ছুলি)
- নখের ছত্রাক সংক্রমণ
- ক্রিপ্টোকক্কাল মেনিনজাইটিস ও অন্যান্য সিস্টেমিক ছত্রাক সংক্রমণ
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা রোগীদের ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ
সেবনবিধি ও মাত্রা
Flucoder 200 এর ডোজ সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণের ধরনের ওপর নির্ভর করে। যোনিপথের থ্রাশে প্রায়ই একটি মাত্র ১৫০ মি.গ্রা. ডোজই যথেষ্ট। ত্বকের সংক্রমণে সপ্তাহে একবার ১৫০ মি.গ্রা. করে ২–৪ সপ্তাহ, আর নখ বা সিস্টেমিক সংক্রমণে আরও বেশি মাত্রায় সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী চিকিৎসা লাগে। একটি ডোজ লাগবে নাকি লম্বা কোর্স — তা কেবল চিকিৎসকই ঠিক করবেন; নিজে অনুমান করবেন না। Flucoder 200 খাবারের সাথে বা খালি পেটে খাওয়া যায়। শিশুদের ডোজ ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
কোর্স দেওয়া হলে উপসর্গ কমলেও পুরোটা শেষ করুন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ফ্লুকোনাজল সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও ত্বকে র্যাশ। কখনো স্বাদের পরিবর্তন বা মাথা ঘোরা হতে পারে। বিরল কিন্তু গুরুতর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে লিভারের সমস্যা (চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, একটানা বমি), ফোসকাসহ মারাত্মক ত্বকের প্রতিক্রিয়া এবং উচ্চ মাত্রায় হৃদস্পন্দনের ছন্দ পরিবর্তন। এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
সতর্কতা
লিভারের রোগ, কিডনির রোগ বা হৃদস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা (লং কিউটি) থাকলে ফ্লুকোনাজল সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। কিডনির সমস্যায় একাধিক ডোজের কোর্সে চিকিৎসক ডোজ কমাতে পারেন। চিকিৎসার সময় র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত জানান; র্যাশ ছড়িয়ে পড়লে বা ফোসকা হলে ওষুধ বন্ধ করুন। বছরে চারবার বা তার বেশি থ্রাশ হলে বারবার নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের কাছে যান — ডায়াবেটিসের মতো লুকানো কারণ থাকতে পারে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুকোনাজল লিভারের এনজাইম বাধাগ্রস্ত করে অনেক ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় — যেমন ওয়ারফারিন (রক্তক্ষরণের ঝুঁকি), ফেনিটয়েন, গ্লিবেনক্লামাইড ও গ্লিমেপিরাইডের মতো ডায়াবেটিসের ওষুধ (রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি), স্ট্যাটিন (মাংসপেশির ক্ষতির ঝুঁকি) এবং ট্যাক্রোলিমাস বা সাইক্লোস্পোরিন। সিসাপ্রাইড বা টারফেনাডিনের সাথে একসাথে খাওয়া যাবে না — হৃদস্পন্দনের বিপজ্জনক সমস্যা হতে পারে। রিফাম্পিসিন ফ্লুকোনাজলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
ফ্লুকোনাজল বা অন্য অ্যাজল জাতীয় অ্যান্টিফাঙ্গালে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। সিসাপ্রাইড বা টারফেনাডিনের সাথে একসাথে নেওয়া নিষিদ্ধ। বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্ত ছাড়া গর্ভাবস্থায় বারবার বা উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। গুরুতর লিভারের রোগ ও জন্মগত লং কিউটি সিনড্রোমে এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ফ্লুকোনাজল এড়িয়ে চলুন — বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে বারবার বা উচ্চ মাত্রায় ব্যবহারে জন্মগত ত্রুটি ও গর্ভপাতের ঝুঁকি দেখা গেছে। গর্ভাবস্থায় যোনিপথের থ্রাশে চিকিৎসকেরা সাধারণত লাগানোর (টপিক্যাল) ওষুধ পছন্দ করেন। স্তন্যদান: একটি ১৫০ মি.গ্রা. ডোজ সাধারণত স্তন্যদানে নিরাপদ, তবে লম্বা কোর্স কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই নেওয়া উচিত। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ক্যাপসুল মূল প্যাকেটে রাখুন এবং সব ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তৈরি করা সাসপেনশন লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
একটি Flucoder 200 ক্যাপসুলেই কি আমার সংক্রমণ সেরে যাবে?
এটি সংক্রমণের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ ভ্যাজাইনাল থ্রাশে একটি Flucoder 200 ১৫০ মি.গ্রা. ডোজই প্রায়ই যথেষ্ট। কিন্তু ত্বক, নখ ও শরীরের ভেতরের ছত্রাক সংক্রমণে সাপ্তাহিক বা দৈনিক ডোজে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা লাগে। এক ডোজ নাকি পুরো কোর্স লাগবে তা কেবল চিকিৎসকই বলতে পারবেন, তাই নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না।
ভ্যাজাইনাল থ্রাশে Flucoder 200 কাজ করতে কত দিন লাগে?
Flucoder 200 এর একটি ডোজ খাওয়ার পর চুলকানি ও স্রাব সাধারণত ১–২ দিনের মধ্যে কমতে শুরু করে এবং ৩ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। ৩ দিনেও উন্নতি না হলে, বা দুই মাসের মধ্যে আবার ফিরে এলে চিকিৎসকের কাছে যান — ভিন্ন চিকিৎসা বা ডায়াবেটিসের মতো লুকানো কারণের পরীক্ষা লাগতে পারে।
ডায়াবেটিস বা রক্ত পাতলা করার ওষুধের সাথে কি Flucoder 200 খাওয়া যাবে?
আগে চিকিৎসককে জানান। Flucoder 200 সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে এবং ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়িয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। ফ্লুকোনাজল চলাকালীন চিকিৎসক আপনার রক্তের শর্করা বা আইএনআর ঘনঘন পরীক্ষা করতে বা ডোজ সমন্বয় করতে পারেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: