ক্যাপসুল
Esobest 40 mg ক্যাপসুল
জেনেরিক: ইসোমিপ্রাজল
প্রস্তুতকারক: Sharif Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Proton Pump Inhibitor (PPI)
Esobest 40 এর কাজ কি?
Esobest 40 (ক্যাপসুল)-এর উপাদান ইসোমিপ্রাজল 40 mg, প্রস্তুতকারক Sharif Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Proton Pump Inhibitor (PPI)।
Esobest 40 কী?
Esobest 40 হলো Sharif Pharmaceuticals Ltd. এর ৪০ মি.গ্রা. এসোমেপ্রাজল ক্যাপসুল, যা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড কমায় এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ, ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস ও পেপটিক আলসার রোগে ব্যবহৃত হয়।
Esobest 40 40 mg capsule হলো Sharif Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত Esomeprazole গ্রুপের একটি ওষুধ। এটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) শ্রেণির ওষুধ, যা পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশে চিকিৎসকেরা সাধারণত গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি), গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার এবং সাধারণ অ্যান্টাসিডে না কমা বুক জ্বালাপোড়ার জন্য Esobest 40 লিখে থাকেন।
Esomeprazole পাকস্থলীর অ্যাসিড-উৎপাদনকারী কোষের প্রোটন পাম্প বন্ধ করে কাজ করে। অ্যাসিড নিঃসরণের শেষ ধাপ এই পাম্প, তাই এটি বন্ধ হলে দীর্ঘ সময় অ্যাসিড কম তৈরি হয়। অ্যাসিড কমে গেলে খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সেরে ওঠার সুযোগ পায়, জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমে এবং অ্যাসিড বা ব্যথানাশক (এনএসএআইডি) জনিত আলসার ভালো হতে সাহায্য করে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি), ক্ষয়জনিত ইসোফেজাইটিসসহ
- অ্যান্টাসিডে না কমা বুক জ্বালাপোড়া ও টক ঢেকুর
- গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল (পেপটিক) আলসার
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নির্মূল
- এনএসএআইডি ব্যথানাশকজনিত আলসার প্রতিরোধ ও নিরাময়
- জলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোমসহ অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণজনিত সমস্যা
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসিডজনিত বদহজম বা ডিসপেপসিয়া
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Esobest 40 mg ক্যাপসুল-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষ ইসোমিপ্রাজল ভালোভাবে সহ্য করেন। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মৃদু, যেমন মাথাব্যথা, বমি ভাব, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া। শরীর অভ্যস্ত হলে এগুলো প্রায়ই কমে যায়।
কম দেখা যায় এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথা ঘোরা, র্যাশ ও চুলকানি। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে (সাধারণত এক বছরের বেশি) রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমা, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাড় ভাঙার ঝুঁকি সামান্য বাড়া ও অন্ত্রের সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করলে সাময়িকভাবে অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে। তীব্র অ্যালার্জি, না থামা পাতলা পায়খানা, অস্বাভাবিক মাংসপেশির টান বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
সতর্কতা
ইসোমিপ্রাজল শুরুর আগে লিভারের রোগ, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কম, হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) বা অন্ত্রের সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। বয়স্কদের দীর্ঘস্থায়ী রিফ্লাক্স, অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস, গিলতে অসুবিধা, রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে আগে রোগ নির্ণয় জরুরি, কারণ অ্যাসিড কমানোর ওষুধ গুরুতর রোগের লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন; দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে পর্যালোচনা করুন। লম্বা কোর্সে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা লাগতে পারে। দীর্ঘদিনের কোর্স পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না, অ্যাসিড আবার বেড়ে যেতে পারে। রাতে দেরিতে ভারী খাবার, ধূমপান ও অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলুন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ইসোমিপ্রাজল বেশ কিছু ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করতে পারে, তাই ভেষজসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। এটি ক্লোপিডোগ্রেলের রক্ত জমাট-রোধী কার্যকারিতা কমাতে পারে বলে দুটি একসঙ্গে সাধারণত দেওয়া হয় না। পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে এটি কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, আয়রন ও কিছু এইচআইভি ওষুধের (যেমন আটাজানাভির) শোষণ কমাতে পারে।
এটি ডায়াজেপাম, ফেনিটয়েন, ওয়ারফারিন (রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে) ও মেথোট্রেক্সেটের রক্তমাত্রা বাড়াতে পারে। ডিগক্সিন ও ট্যাক্রোলিমাসের মাত্রাও বদলাতে পারে। সেন্ট জনস ওয়ার্ট বা রিফাম্পিসিনের সঙ্গে খাবেন না, এতে কার্যকারিতা কমে যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসক মাত্রা বা সময় ঠিক করে দেবেন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
ইসোমিপ্রাজল, ওমিপ্রাজল বা পান্টোপ্রাজলের মতো অন্য কোনো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর কিংবা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। আগের অ্যালার্জির লক্ষণের মধ্যে আছে র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
রিলপিভিরিনযুক্ত এইচআইভি ওষুধের সঙ্গে এটি একেবারেই খাওয়া যাবে না, আর আটাজানাভির বা নেলফিনাভিরের সঙ্গে ব্যবহার সাধারণত করা হয় না। ক্লোপিডোগ্রেলের সঙ্গেও সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। গুরুতর লিভারের রোগে সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দরকার, মাত্রা কমাতে হতে পারে। শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে উপযুক্ততা নিশ্চিত করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ইসোমিপ্রাজল নিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট ক্ষতি দেখা যায়নি, তবে প্রমাণ সীমিত। চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থার বুক জ্বালাপোড়ায় প্রথমে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও অ্যান্টাসিড চেষ্টা করা হয়।
স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে। শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা কম মনে করা হলেও তথ্য সীমিত, তাই স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন। শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা খাওয়ায় অসুবিধা দেখলে চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত capsule মূল ব্লিস্টার বা পাত্রে রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না এবং অব্যবহৃত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্ভব হলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন, ঘরের ময়লায় ফেলবেন না।