Solution
Emirest Oral Solution 80 mg/100 ml Solution
জেনেরিক: অনডানসেট্রন
প্রস্তুতকারক: Pharmasia Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiemetic (5-HT3 receptor antagonist)
Emirest Oral Solution কী?
ইমিরেস্ট ওরাল সলিউশনে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৮০ মিলিগ্রাম অনডানসেট্রন থাকে। ৫-এইচটি৩ রিসেপ্টর প্রতিরোধক হিসেবে অনডানসেট্রন কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও অস্ত্রোপচারজনিত বমি ও বমিভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
Emirest Oral Solution 80 mg/100 ml solution হলো Pharmasia Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত Ondansetron গ্রুপের ওষুধ। এটি ৫-এইচটি৩ রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট শ্রেণির শক্তিশালী বমিরোধী ওষুধ, যা বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় দেওয়া হয়। ক্যানসারের কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিজনিত বমি, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী বমি এবং তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসসহ অন্য বমির অসুখে সহজ ব্যবস্থা যথেষ্ট না হলে চিকিৎসকেরা Emirest Oral Solution ব্যবহার করেন।
Ondansetron সেরোটোনিন (৫-এইচটি৩) রিসেপ্টর বন্ধ করে কাজ করে। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন ও অন্ত্রের প্রদাহে অন্ত্রের কোষ থেকে সেরোটোনিন নিঃসৃত হয়ে ভেগাস স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কের বমিকেন্দ্রে সংকেত পাঠায়। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের ট্রিগার জোনের এই রিসেপ্টর বন্ধ করে Ondansetron সংকেতের পথ কেটে দেয়, ফলে বমির বেগ অনেক কমে যায়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- কেমোথেরাপিজনিত বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
- রেডিওথেরাপিজনিত বমি ভাব ও বমি
- অস্ত্রোপচার-পরবর্তী বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
- চিকিৎসকের পরামর্শে, স্যালাইন ও সাধারণ ব্যবস্থায় না কমা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের তীব্র বমি
- গর্ভাবস্থার তীব্র বমি (হাইপারএমেসিস) — কেবল চিকিৎসক ঝুঁকি বিবেচনার পর দিলে
সেবনবিধি ও মাত্রা
Emirest Oral Solution-এর মাত্রা সবসময় বমির কারণ, শরীরের ওজন ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনডানসেট্রনের প্রচলিত মাত্রা প্রতিবার ৪-৮ মিলিগ্রাম, দিনে দুই-তিনবার পর্যন্ত, মুখে; কেমোথেরাপির আগে-পরে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে আরও সুনির্দিষ্ট নিয়ম ব্যবহৃত হয়। খাবারসহ বা খালি পেটে খাওয়া যায়।
শিশুদের মাত্রা ওজনভিত্তিক এবং চিকিৎসকই ঠিক করবেন। নির্ধারিত দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা ছাড়াবেন না, কারণ বেশি মাত্রায় হৃদ্ছন্দের ঝুঁকি বাড়ে। বমির কারণে ট্যাবলেট গিলতে না পারলে চিকিৎসককে জানান; ইনজেকশন বা মুখে গলে যাওয়া ফর্ম বিবেচনা করা যেতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অনডানসেট্রনের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীর গরম লাগা বা মুখ লাল হওয়া, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা। কারও কারও হেঁচকি হয়। এগুলো সাধারণত মৃদু ও অল্প সময়ের।
কম প্রচলিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া, সাময়িক দৃষ্টির সমস্যা ও লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া। অনডানসেট্রন কিউটি ইন্টারভাল বাড়াতে পারে, বিশেষত উচ্চমাত্রার শিরায় প্রয়োগে বা কিউটি-বাড়ানো অন্য ওষুধের সঙ্গে; বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যারিদমিয়া হয়। অন্যান্য সেরোটোনার্জিক ওষুধের সঙ্গে এটি সেরোটোনিন সিনড্রোম ঘটাতে পারে — অস্থিরতা, কাঁপুনি, জ্বর ও দ্রুত হৃদস্পন্দন। বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র অ্যালার্জি বা এই লক্ষণগুলোতে জরুরি চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, ধীর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, জন্মগত লং কিউটি সিনড্রোম, রক্তে পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম কিংবা লিভারের রোগ থাকলে অনডানসেট্রন খাওয়ার আগে চিকিৎসককে জানান — উল্লেখযোগ্য লিভার দুর্বলতায় দৈনিক মাত্রার সীমা আছে। বমিতে হারানো পানি ও লবণ পূরণ অপরিহার্য; ওষুধ বমি কমায়, কিন্তু ওরস্যালাইনের মতো রিহাইড্রেশনের বিকল্প নয়।
অনডানসেট্রনে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, তাই সাম্প্রতিক অন্ত্রের অস্ত্রোপচার বা অন্ত্র বন্ধের লক্ষণ থাকলে সতর্ক থাকুন; এটি পেটের অবনতি ঢেকে দিতে পারে। বমি না থামলে, রক্ত থাকলে বা মাথায় আঘাতের পরে হলে বারবার বমির ওষুধ না খেয়ে রোগ নির্ণয় করান। মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি লাগলে গাড়ি চালাবেন না।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যাপোমরফিনের সঙ্গে অনডানসেট্রন কখনোই ব্যবহার করা যাবে না; এই সংমিশ্রণে রক্তচাপ মারাত্মক কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি আছে। কিউটি-বাড়ানো অন্য ওষুধ — কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, অ্যান্টিসাইকোটিক, ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক ও ম্যালেরিয়ার ওষুধ — এবং পটাশিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম কমানো ডাইইউরেটিকের সঙ্গে সতর্কতা দরকার।
এসএসআরআই, এসএনআরআই, ট্রামাডল বা ট্রিপটানের মতো সেরোটোনার্জিক ওষুধের সঙ্গে মেলালে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে। ট্রামাডলের ব্যথা কমানোর কাজও কমে যেতে পারে। রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েনের মতো শক্তিশালী এনজাইম-উদ্দীপক ওষুধ অনডানসেট্রনের মাত্রা কমাতে পারে। ব্যবহারের আগে পুরো ওষুধের তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
অনডানসেট্রন বা গ্র্যানিসেট্রনের মতো অন্য ৫-এইচটি৩ অ্যান্টাগনিস্টে অ্যালার্জি থাকলে এবং অ্যাপোমরফিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ। এই গ্রুপে আগে তীব্র অ্যালার্জি — ফোলাসহ র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট — হয়ে থাকলে আর ব্যবহার করা যাবে না।
জন্মগত লং কিউটি সিনড্রোমে এটি এড়িয়ে চলা উচিত এবং অসংশোধিত পটাশিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি বা উল্লেখযোগ্য ছন্দের রোগে খুব সতর্কতার সঙ্গে, প্রয়োজনে আদৌ নয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে কেবল চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে দেওয়া হয়। ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের কাছে উপযুক্ততা নিশ্চিত করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: সাধারণ মর্নিং সিকনেসের জন্য অনডানসেট্রন নিয়মিত ওষুধ নয়। অধিকাংশ গবেষণা আশ্বস্তকর হলেও কিছু গবেষণায় প্রথম তিন মাসে ব্যবহারে ঠোঁট/তালু কাটা শিশুর ঝুঁকি সামান্য বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তাই নিরাপদ বিকল্প ব্যর্থ হলে তীব্র বমিতে (হাইপারএমেসিস), ঝুঁকি আলোচনার পর কেবল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে এটি দেওয়া হয়।
স্তন্যদান: বুকের দুধে অনডানসেট্রনের তথ্য সীমিত, যদিও সিজারিয়ান প্রসবের পরে এটি প্রায়ই দেওয়া হয় এবং ক্ষতির খবর নেই। স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা খাওয়ায় অনীহায় নজর রাখবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত solution মূল ব্লিস্টার বা পাত্রে রাখুন; মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেট শুকনো হাতে ধরুন এবং ব্লিস্টার খোলার পরপরই ব্যবহার করুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। লেখা মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গর্ভাবস্থার বমিতে কি Emirest Oral Solution খাওয়া যাবে?
পেটের সংক্রমণে Emirest Oral Solution কি ডায়রিয়াও বন্ধ করে?
Emirest Oral Solution খাওয়ার পরপরই বমি হয়ে গেলে কী করব?
সর্বশেষ হালনাগাদ: