ট্যাবলেট
Domar 10 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: ডমপেরিডন
প্রস্তুতকারক: Pacific Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiemetic / Prokinetic (dopamine antagonist)
Domar এর কাজ কি?
Domar (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ডমপেরিডন 10 mg, প্রস্তুতকারক Pacific Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiemetic / Prokinetic (dopamine antagonist)।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 3.50 |
| Strip of 10 | ৳ 35.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Domar কী?
ডোমার ১০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটে ডমপেরিডন থাকে, যা ডোপামিন অ্যান্টাগনিস্ট শ্রেণির অ্যান্টিএমেটিক ও প্রোকাইনেটিক ওষুধ। বমিভাব ও বমি নিয়ন্ত্রণে এবং কিছু হজমজনিত অবস্থায় পাকস্থলীর চলাচল সহায়তায় এটি ব্যবহৃত হয়।
Domar 10 mg tablet হলো Pacific Pharmaceuticals Ltd.-এর তৈরি Domperidone গ্রুপের ওষুধ। এটি একটি বমিরোধী ও প্রোকাইনেটিক ওষুধ, যা বাংলাদেশে বমি ভাব ও বমি এবং পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার উপসর্গ — যেমন অল্প খেয়েই পেট ভরা লাগা, পেট ফাঁপা, ঢেকুর ও উপরের পেটে অস্বস্তি — কমাতে বহুল ব্যবহৃত। এটি স্বল্পমেয়াদে, চিকিৎসকের নির্দেশনায়, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় খাওয়ার ওষুধ।
Domperidone ডোপামিন ডি২ রিসেপ্টর বন্ধ করে কাজ করে। অন্ত্রের দেয়ালে এটি পাকস্থলীর সংকোচন জোরদার করে এবং পাকস্থলী ও উপরের অন্ত্রের নড়াচড়ার সমন্বয় ঘটায়, ফলে খাবার সামনে এগোয়। মস্তিষ্কের কেমোরিসেপ্টর ট্রিগার জোনেও এটি ডোপামিন বন্ধ করে বমির প্রতিফলন শান্ত করে, আর মূল রক্ত-মস্তিষ্ক বাধার বাইরে কাজ করায় ঝিমুনি কম হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- প্রাপ্তবয়স্কদের এবং চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুদের বমি ভাব ও বমি
- অল্পে পেট ভরা, ফাঁপা ও ঢেকুরসহ ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া
- গ্যাস্ট্রোপেরেসিস (পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়া), ডায়াবেটিসজনিতসহ
- চিকিৎসকের বিবেচনায়, পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার কারণে হওয়া রিফ্লাক্স উপসর্গ
- প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কিছু ওষুধজনিত বমি ভাব, যেমন মাইগ্রেনের সময়
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Domar 10 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নির্ধারিত মাত্রায় ডমপেরিডন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, পেট কামড়ানো ও ডায়রিয়া। এটি প্রোল্যাক্টিন হরমোন বাড়ায় বলে কারও কারও স্তনে ব্যথা, দুধ নিঃসরণ বা মাসিকের অনিয়ম হতে পারে; ওষুধ বন্ধ করলে এগুলো সেরে যায়।
বিরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হৃদ্যন্ত্র-সংক্রান্ত: ডমপেরিডন কিউটি ইন্টারভাল বাড়াতে পারে এবং বেশি মাত্রায়, বয়স্ক রোগীতে বা মিথস্ক্রিয়াকারী ওষুধের সঙ্গে গুরুতর ছন্দের গোলযোগ ঘটাতে পারে। মাংসপেশির খিঁচুনি বা অস্থিরতার মতো নড়াচড়াজনিত প্রতিক্রিয়া বিরল, মূলত শিশুদের হয়। বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনির মতো ঘটনা বা তীব্র অ্যালার্জিতে জরুরি চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
বয়স ৬০-এর বেশি হলে, কোনো হৃদরোগ, ছন্দের সমস্যার ইতিহাস বা জন্মগত লং কিউটি থাকলে কিংবা রক্তে পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম অস্বাভাবিক হলে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে সতর্কভাবে ডমপেরিডন ব্যবহার করুন; এসব অবস্থায় গুরুতর অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান; কিডনির দুর্বলতায় মাত্রা কমাতে হতে পারে।
চিকিৎসা সংক্ষিপ্ত রাখুন — চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি নয় — এবং কিউটি-বাড়ানো অন্য ওষুধ বা শক্তিশালী সিওয়াইপি৩এ৪ ইনহিবিটরের সঙ্গে কখনো মেলাবেন না। বমি না থামলে, বারবার ফিরলে বা তীব্র ব্যথা, রক্ত, ঝিমুনি বা পানিশূন্যতা সঙ্গে থাকলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন নিন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিউটি ইন্টারভাল বাড়ায় বা ডমপেরিডনের রক্তমাত্রা বাড়ায় এমন ওষুধের সঙ্গে এটি খাবেন না। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ: ছত্রাকনাশক কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ফ্লুকোনাজল ও ভরিকোনাজল; ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক এরিথ্রোমাইসিন ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন; কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (অ্যামিওডারন); কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও বিষণ্নতার ওষুধ; এবং এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর।
আঙুরের (গ্রেপফ্রুট) রসও ডমপেরিডনের মাত্রা বাড়াতে পারে, এড়িয়ে চলাই ভালো। অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ এর প্রোকাইনেটিক কাজ কমাতে পারে, আর পাকস্থলী দ্রুত খালি করায় এটি কিছু ওষুধের শোষণ বদলে দিতে পারে। শুরুর আগে আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
ডমপেরিডনে অ্যালার্জি, মাঝারি বা গুরুতর লিভারের দুর্বলতা, আগে থেকে কিউটি দীর্ঘায়ন, উল্লেখযোগ্য ইলেকট্রোলাইট অসামঞ্জস্য বা হার্ট ফেইলিউরের মতো হৃদরোগ থাকলে এটি নিষিদ্ধ। কিউটি-বাড়ানো ওষুধ বা কিটোকোনাজল, এরিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী সিওয়াইপি৩এ৪ ইনহিবিটরের সঙ্গে মেলানো যাবে না।
পাকস্থলীর নড়াচড়া বাড়ানো বিপজ্জনক এমন অবস্থায়ও এটি নিষিদ্ধ: অন্ত্রের রক্তক্ষরণ, যান্ত্রিক বাধা বা ছিদ্র। প্রোল্যাক্টিন-নিঃসরণকারী পিটুইটারি টিউমারে (প্রোল্যাক্টিনোমা) ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভাবস্থা, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহার নয়, চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট বিবেচনা দরকার।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ডমপেরিডনের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক প্রত্যাশিত উপকারকে সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল সর্বনিম্ন মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থার বমি ভাবে সাধারণত আগে প্রমাণিত নিরাপদ ব্যবস্থাগুলো বেছে নেওয়া হয়।
স্তন্যদান: অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়। ডমপেরিডন প্রোল্যাক্টিন বাড়ালেও দুধ বাড়ানোর অনুমোদিত বা নিয়মিত উপায় এটি নয়, এবং শিশুর হৃদ্ছন্দের ঝুঁকি পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। স্তন্যদানকারী মায়েরা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন, বিশেষত শিশু অপরিণত হলে বা হৃদ্সমস্যা থাকলে।
সংরক্ষণ
প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।