ট্যাবলেট
Dilup 40 mg + 50 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: ফ্রুসেমাইড + স্পাইরোনোল্যাকটোন
প্রস্তুতকারক: Advanced Chemical Industries Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Diuretic Combination (Loop Diuretic + Potassium-sparing Diuretic)
Dilup এর কাজ কি?
Dilup (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ফ্রুসেমাইড + স্পাইরোনোল্যাকটোন 40 mg + 50 mg, প্রস্তুতকারক Advanced Chemical Industries Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Diuretic Combination (Loop Diuretic + Potassium-sparing Diuretic)।
Dilup কী?
Dilup একটি ট্যাবলেট, যাতে ফ্রুসেমাইড ও স্পাইরোনোল্যাকটোন আছে—লুপ ডাইইউরেটিক ও পটাশিয়াম-সাশ্রয়ী ডাইইউরেটিকের সমন্বয়। এটি ইডিমা, অ্যাসাইটিস বা হার্ট ফেইলিউরজনিত শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
Dilup 40 mg + 50 mg tablet হলো Advanced Chemical Industries Limited-এর একটি কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে এক ট্যাবলেটে রয়েছে Frusemide + Spironolactone — একটি শক্তিশালী লুপ ডাইউরেটিকের সাথে একটি পটাশিয়াম-রক্ষাকারী ডাইউরেটিক। হার্ট ফেইলিউর, পেটে পানি জমাসহ লিভার সিরোসিস ও কিছু কিডনি রোগে শরীরের অতিরিক্ত পানি (ইডিমা) বের করতে এটি ব্যবহৃত হয় — রক্তের পটাশিয়াম তুলনামূলক স্থিতিশীল রেখে।
উপাদান দুটি একে অপরের ভারসাম্য রাখে। ফ্রুসেমাইড কিডনির লুপ অব হেনলে-তে কাজ করে লবণ ও পানি বের করে দেয় — কিন্তু একা এটি পটাশিয়ামও বের করে ফেলে। স্পাইরোনোল্যাকটোন কিডনির সংগ্রাহক নালিতে অ্যালডোস্টেরন হরমোন ব্লক করে — ধীরভাবে পানি বের করে আর পটাশিয়াম ধরে রাখে। একসাথে এরা কার্যকরভাবে ফোলা কমায়, এবং একক শক্তিশালী ডাইউরেটিকের তুলনায় পটাশিয়ামের গোলমালের ঝুঁকি কম থাকে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- পেটে পানি জমাসহ লিভার সিরোসিস (অ্যাসাইটিস) — এ ক্ষেত্রে এই কম্বিনেশন বিশেষভাবে পছন্দ করা হয়
- দীর্ঘমেয়াদি হার্ট ফেইলিউর — যেখানে পানি বের করা ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য দুটোই দরকার
- একগুঁয়ে ইডিমা — একটি ডাইউরেটিকে ফোলা নিয়ন্ত্রণ না হলে
- পটাশিয়াম কমার ঝুঁকিসহ ইডিমা — শুধু লুপ ডাইউরেটিকে যাঁদের পটাশিয়াম কমে গিয়েছিল
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Dilup 40 mg + 50 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ডোজের পরে প্রস্রাব বেশি হওয়া (স্বাভাবিক)
- মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব, পিপাসা বা মুখ শুকানো
- পেট খারাপ, বমি ভাব, ডায়রিয়া
- পটাশিয়ামের গোলমাল দুই দিকেই হতে পারে — কমে যাওয়া (টান, দুর্বলতা) বা বেড়ে যাওয়া (মাংসপেশি দুর্বল, ধীর/অনিয়মিত হৃদস্পন্দন), কিডনির অবস্থা অনুযায়ী
- সোডিয়াম কমা — মারাত্মক হলে এলোমেলো ভাব, ঝিমুনি
- স্পাইরোনোল্যাকটোনের কারণে: পুরুষের স্তনে ব্যথা বা বড় হওয়া (গাইনেকোমাস্টিয়া), মাসিকের অনিয়ম
- ইউরিক অ্যাসিড বাড়া (গাউট) বা সুগারের পরিবর্তন
- গুরুতর: অজ্ঞান হওয়া, প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া, মাংসপেশির তীব্র দুর্বলতা বা বুক ধড়ফড় — দ্রুত চিকিৎসা নিন
সতর্কতা
- পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও কিডনির নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য — কখনো বাদ দেবেন না।
- চিকিৎসক নির্দিষ্টভাবে না দিলে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামযুক্ত লবণ-বিকল্প খাবেন না — স্পাইরোনোল্যাকটোন অংশটি এমনিতেই পটাশিয়াম ধরে রাখে।
- পরামর্শমতো ওজন মাপুন; দ্রুত ওজন বাড়লে বা কমলে জানান।
- ডায়রিয়া, বমি বা খুব গরমে দ্রুত পানিশূন্যতা ও লবণের গোলমাল হয় — চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
- মাথা ঘোরা ও পড়ে যাওয়া এড়াতে ধীরে উঠুন, বিশেষত বয়স্করা।
- ডায়াবেটিস, গাউট, কিডনির দুর্বলতা বা প্রস্রাবে কষ্ট থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- পুরুষদের স্তনে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসককে বলুন — সাধারণত মাত্রা সমন্বয়ে ঠিক হয়ে যায়।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ACE inhibitor ও ARB (র্যামিপ্রিল, লোসার্টান, টেলমিসার্টান): হার্ট ফেইলিউরে একসাথে উপকারী, তবে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় — মনিটরিং দরকার
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও অন্য পটাশিয়াম-রক্ষাকারী ডাইউরেটিক: পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে — প্রেসক্রিপশন ছাড়া নয়
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক): ডাইউরেটিকের কাজ কমায়, কিডনিতে চাপ ফেলে ও পটাশিয়াম বাড়ায়
- ডিগক্সিন: স্পাইরোনোল্যাকটোন ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে; পটাশিয়ামের ওঠানামায় এর নিরাপত্তা বদলায়
- লিথিয়াম: মাত্রা বিষাক্ত পর্যায়ে বাড়তে পারে
- ট্রাইমেথোপ্রিম/কো-ট্রাইমক্সাজল: পটাশিয়াম ধরে রাখা আরও বাড়ায়
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ: চাপ বেশি কমে যেতে পারে
আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- ফ্রুসেমাইড, স্পাইরোনোল্যাকটোন বা সালফোনামাইড-জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জি
- রক্তে পটাশিয়াম বেশি (হাইপারক্যালেমিয়া)
- মারাত্মক কিডনি বিকল বা প্রস্রাব একেবারে বন্ধ (অ্যানুরিয়া)
- অ্যাডিসন'স ডিজিজ (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির দুর্বলতা)
- মারাত্মক পানিশূন্যতা বা ঠিক-না-হওয়া কম সোডিয়াম
- হেপাটিক কোমা বা তার পূর্বাবস্থা (কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে)
- তত্ত্বাবধান ছাড়া অন্য পটাশিয়াম-রক্ষাকারী ডাইউরেটিক বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাথে ব্যবহার
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। ফ্রুসেমাইড কেবল নির্দিষ্ট জরুরি অবস্থায় বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়, আর স্পাইরোনোল্যাকটোন সাধারণত বাদ রাখা হয় — এর হরমোন-প্রতিরোধী কাজ তাত্ত্বিকভাবে ছেলে শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী হলে বা সম্ভাবনা থাকলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান।
স্তন্যদান: দুটি উপাদানই অল্প পরিমাণে মায়ের দুধে যায়, এবং ফ্রুসেমাইড দুধ উৎপাদন কমাতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করে শিশুকে পর্যবেক্ষণে না রাখলে চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো নিরুৎসাহিত করা হয়।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল প্যাকে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Dilup-এ একসাথে দুটি ডাইউরেটিক কেন?
কারণ এরা একে অপরের প্রধান দুর্বলতা পুষিয়ে দেয়। ফ্রুসেমাইড অংশটি শক্তিশালী, কিন্তু প্রস্রাবের সাথে পটাশিয়াম বের করে ফেলে; স্পাইরোনোল্যাকটোন অংশটি ধীর, এবং সক্রিয়ভাবে পটাশিয়াম ধরে রাখে। একসাথে আপনি পান কার্যকর পানি-নিষ্কাশন আর তুলনামূলক স্থিতিশীল পটাশিয়াম — যা জরুরি, কারণ পটাশিয়াম কম বা বেশি দুটোই হার্টের বিপজ্জনক ছন্দের কারণ হতে পারে। এ জন্যই চিকিৎসক তবুও নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করেন: ভারসাম্যটি আপনার কিডনি ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে — কম্বিনেশন আছে বলে পরীক্ষা বাদ দেওয়া যাবে না।
Dilup খাওয়ার সময় কি কলা খাওয়া বা বিট লবণ/লবণ-বিকল্প ব্যবহার করা যাবে?
কলা বা ডাবের পানির মতো খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে সাধারণত সমস্যা নয়, তবে ইচ্ছা করে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া, পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা "লো-সোডিয়াম" লবণ-বিকল্প (যা সাধারণত পটাশিয়াম ক্লোরাইড) ব্যবহার করবেন না — Dilup-এর স্পাইরোনোল্যাকটোন অংশ এমনিতেই পটাশিয়াম ধরে রাখে; বাড়তি যোগ হলে তা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, বিশেষত কিডনি দুর্বল হলে। মাংসপেশি দুর্বলতা, ঝিনঝিন ভাব বা ধীর-অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখলে জানান। রক্তের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক যে খাদ্যতালিকা দেন তা মেনে চলুন।