See in English

ট্যাবলেট

Diazid MR 30 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: গ্লিক্লাজাইড

প্রস্তুতকারক: NIPRO JMI Pharma Limited

থেরাপিউটিক ক্লাস: Sulfonylurea — oral antidiabetic for type 2 diabetes

Diazid MR 30 mg এর কাজ কি?

Diazid MR 30 mg (ট্যাবলেট)-এর উপাদান গ্লিক্লাজাইড 30 mg, প্রস্তুতকারক NIPRO JMI Pharma Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Sulfonylurea — oral antidiabetic for type 2 diabetes।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 7.00
Strip of 10 ৳ 70.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Diazid MR 30 mg কী?

Diazid MR 30 mg হলো গ্লিক্লাজাইডযুক্ত একটি মডিফায়েড-রিলিজ ট্যাবলেট, যা সালফোনাইলইউরিয়া শ্রেণির মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ। জীবনযাপনের পরিবর্তন যথেষ্ট না হলে প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়।

Diazid MR 30 mg 30 mg tablet হলো NIPRO JMI Pharma Limited-এর তৈরি একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Gliclazide। এটি সালফোনাইলইউরিয়া গোত্রের ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট — খাদ্যনিয়ম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামে সুগার লক্ষ্যমাত্রায় না থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে বাংলাদেশে এটি বহুল প্রচলিত। সাধারণ ও মডিফাইড-রিলিজ (এমআর) — দুই ধরনের ট্যাবলেট পাওয়া যায় এবং প্রায়ই মেটফরমিনের সঙ্গে দেওয়া হয়।

গ্লিক্লাজাইড অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন-উৎপাদক বিটা কোষকে উদ্দীপিত করে, ফলে খাবারের পর শরীরের নিজস্ব ইনসুলিন বেশি নিঃসৃত হয় এবং সুগার কমে। ছোট রক্তনালির ওপরও এর কিছু উপকারী প্রভাব আছে। আপনি খান বা না খান — এটি ইনসুলিন বাড়িয়ে দেয়; তাই ট্যাবলেট খাওয়ার পর খাবার বাদ দিলে সুগার অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। এই ওষুধের সঙ্গে নিয়মিত সময়ে খাওয়াটা চিকিৎসারই অংশ।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Diazid MR 30 mg যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস — যখন শুধু খাদ্যনিয়ম, ব্যায়াম ও ওজন কমিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।
  • কম্বিনেশন চিকিৎসা — একটি ওষুধে যথেষ্ট কাজ না হলে চিকিৎসকের বিবেচনায় মেটফরমিন বা অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে এটি ব্যবহার হয় না — সেখানে ইনসুলিন ইনজেকশনই অপরিহার্য। গ্লিক্লাজাইড এবং এর ধরন (সাধারণ না এমআর) বেছে নেওয়ার আগে চিকিৎসক আপনার কিডনি-লিভারের অবস্থা, বয়স, খাদ্যাভ্যাস ও সুগার কমার ঝুঁকি বিবেচনা করবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Diazid MR 30 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Diazid MR 30 mg-এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • হাইপোগ্লাইসেমিয়া — প্রধান ঝুঁকি: ঘাম, কাঁপুনি, তীব্র ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, খিটখিটে ভাব, ঝাপসা দেখা বা এলোমেলো লাগা; গুরুতর হলে অজ্ঞানও হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিনি বা গ্লুকোজ খেয়ে পরে ভারী খাবার খান।
  • হজমের সমস্যা — বমিভাব, বদহজম, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া; নাশতার সঙ্গে খেলে কম হয়।
  • কারও কারও সামান্য ওজন বৃদ্ধি।
  • চর্মে প্রতিক্রিয়া — র‍্যাশ, চুলকানি; বেশি হলে বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • বিরল ক্ষেত্রে লিভার এনজাইম বা রক্তকণিকার পরিবর্তন, যা ওষুধ বন্ধে সেরে যায় — মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

সতর্কতা

Diazid MR 30 mg ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • নিয়মিত, শর্করাযুক্ত খাবার অপরিহার্য — খাবার বাদ/দেরি, অস্বাভাবিক পরিশ্রম বা মদ্যপানে সুগার হঠাৎ কমে যেতে পারে।
  • হাতের কাছে গ্লুকোজ বা মিষ্টি রাখুন এবং পরিবারের সদস্যরা যেন সুগার কমার লক্ষণ চেনে তা নিশ্চিত করুন।
  • গাড়ি বা যন্ত্র চালানোয় সতর্ক থাকুন — বিশেষত চিকিৎসার শুরুতে বা ডোজ বদলের পর।
  • বয়স্ক রোগী এবং কিডনি/লিভারের সমস্যা থাকলে কম মাত্রা ও ঘনিষ্ঠ নজরদারি দরকার।
  • অসুস্থতা, জ্বর, বমি, অপারেশন বা বড় মানসিক চাপে সুগার নিয়ন্ত্রণ এলোমেলো হতে পারে — চিকিৎসক সাময়িকভাবে ইনসুলিনে নিতে পারেন।
  • রোজা রাখার আগে (যেমন রমজানে) ডোজ ও সময় সমন্বয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • নিয়মিত সুগার ও HbA1c পরীক্ষা চালিয়ে যান।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Diazid MR 30 mg-এর সঙ্গে যা যা ওষুধ খান, সব চিকিৎসককে জানান:

  • সুগার কমার ঝুঁকি বাড়ায় — অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন, মাইকোনাজল-ফ্লুকোনাজল (ছত্রাকনাশক), ফিনাইলবিউটাজোন, NSAID ও অ্যাসপিরিন, সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিক (কো-ট্রাইমক্সাজল), কিছু বিষণ্নতার ওষুধ ও এসিই ইনহিবিটর।
  • সুগার নিয়ন্ত্রণ কমায় — কর্টিকোস্টেরয়েড, ডানাজল, উচ্চমাত্রার ক্লোরপ্রোমাজিন, থায়াজাইড ডাইউরেটিক ও কিছু হরমোন ওষুধ।
  • বিটা-ব্লকার — সুগার কমার আগাম লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
  • ওয়ারফারিন — রক্ত পাতলা করার ক্ষমতা বদলে যেতে পারে; INR নজরদারি দরকার।
  • অ্যালকোহল — মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঘটাতে পারে; বর্জন করুন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Diazid MR 30 mg ব্যবহার করা যাবে না:

  • টাইপ-১ ডায়াবেটিস।
  • ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস, প্রি-কোমা বা কোমা — এসব জরুরি অবস্থায় ইনসুলিন চিকিৎসা দরকার।
  • কিডনি বা লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা — বিকল্প হিসেবে ইনসুলিনই সুপারিশকৃত।
  • গ্লিক্লাজাইড, অন্য সালফোনাইলইউরিয়া বা সালফোনামাইডে অ্যালার্জি।
  • মাইকোনাজল ওষুধ চলাকালীন।
  • স্তন্যদানকালে, এবং সাধারণভাবে গর্ভাবস্থায় — তখন ইনসুলিনই প্রচলিত পছন্দ।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Diazid MR 30 mg সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বা গর্ভধারণ জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান — সাধারণত চিকিৎসা ইনসুলিনে বদলে দেওয়া হয়, যা শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রমাণিত ব্যবস্থা। বিকল্প ঠিক না করে হুট করে ট্যাবলেট বন্ধ করবেন না, কারণ গর্ভাবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত সুগার নিজেই ক্ষতিকর।

স্তন্যদান: বুকের দুধে গ্লিক্লাজাইড কতটা যায় তা নিশ্চিত জানা নেই এবং শিশুর সুগার কমে যাওয়ার তাত্ত্বিক ঝুঁকি আছে, তাই স্তন্যদানকালে এটি নিষিদ্ধ। এ সময় চিকিৎসক ইনসুলিন বা অন্য উপযুক্ত বিকল্পের ব্যবস্থা করবেন।

সংরক্ষণ

Diazid MR 30 mg ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন — সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে। খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল স্ট্রিপেই রাখুন এবং সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মেয়াদ পেরোনো ওষুধ কখনো ব্যবহার করবেন না; তা ঘরের ময়লায় না ফেলে নিরাপদে নষ্টের জন্য ফার্মেসিতে দিয়ে দিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →