Powder For Suspension
Cefokid DS 80 mg/5 ml Powder For Suspension
জেনেরিক: সেফপোডক্সিম
প্রস্তুতকারক: Euro Pharma Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Third-generation oral cephalosporin antibiotic
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Powder For Suspension | ৳ 175.00 |
| 50ml bot | ৳ 175.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Cefokid DS কী?
Cefokid DS 80 mg/5 ml হলো সেফপোডক্সিম প্রক্সেটিলযুক্ত সাসপেনশন তৈরির পাউডার, যা তৃতীয় প্রজন্মের মুখে খাওয়ার সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক। সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া শ্বাসনালি, কান, মূত্রনালি ও ত্বকের কিছু সংক্রমণে এটি ব্যবহার করা হয়।
Euro Pharma Ltd.-এর Cefokid DS 80 mg/5 ml powder for suspension-এ রয়েছে সেফপোডক্সিম, একটি তৃতীয় প্রজন্মের মুখে খাওয়ার সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক। বুক, গলা, কান, মূত্রনালী ও ত্বকের নানা সংক্রমণে এটি দেওয়া হয় এবং পুরোনো অনেক অ্যান্টিবায়োটিক যেসব ব্যাকটেরিয়ায় কাজ করে না তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর।
সেফপোডক্সিম ব্যাকটেরিয়ার সুরক্ষাকারী কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়। প্রাচীর দুর্বল হয়ে ভেঙে গেলে ব্যাকটেরিয়া আর বাঁচতে পারে না। ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রতিরক্ষা এনজাইম প্রতিরোধ করায় এই তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন কিছু জেদি সংক্রমণেও কাজ করে, তবে সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশমতোই ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণে চিকিৎসকেরা Cefpodoxime (Cefpodoxime Proxetil) দিয়ে থাকেন, যেমনঃ
- শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ — তীব্র ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি বুকের রোগের তীব্রতা
- গলা ও টনসিলের সংক্রমণ
- কান ও সাইনাসের সংক্রমণ
- মূত্রনালীর সংক্রমণ
- ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ ও কিছু গনোকক্কাল সংক্রমণ
সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়া ও আপনার অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক সেফপোডক্সিম বেছে নেন; সাধারণ সর্দি-কাশির মতো ভাইরাসজনিত অসুখে এটি কার্যকর নয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Cefokid DS-এর মাত্রা সংক্রমণ, তার তীব্রতা ও কিডনির কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে। নিচের তথ্য কেবল সাধারণ ধারণা।
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিন কোর্স চলে, ট্যাবলেট সাধারণত দিনে দুইবার, প্রায় ১২ ঘণ্টা অন্তর খেতে হয়।
- শিশু: মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় ও চিকিৎসকের পরামর্শে দিতে হয়, প্রায়ই সাসপেনশন হিসেবে।
Cefokid DS খাবারের সঙ্গে খান, কারণ এতে ঔষধটি শরীরে ঠিকমতো শোষিত হয়। পানি দিয়ে গিলে খান, ডোজ সমান বিরতিতে নিন এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সেফপোডক্সিম সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়, তবে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ
- সাধারণ: ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা ও মাথাব্যথা
- কম সাধারণ: ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ ও মাথা ঘোরা
- গুরুতর (দ্রুত সাহায্য নিন): তীব্র বা রক্তযুক্ত ডায়রিয়া, গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ ফোলা, শ্বাসকষ্ট), কিংবা চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া
বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া হালকা এবং কোর্স শেষ হলে কমে যায়। তীব্র, পানির মতো বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হলে দেরি না করে চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
Cefpodoxime (Cefpodoxime Proxetil) একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শেই খান — নিজে নিজে ঔষধ খাবেন না, অন্যকে দেবেন না বা পুরোনো ট্যাবলেট নতুন অসুখে ব্যবহার করবেন না।
- দ্রুত ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন, যাতে সংক্রমণ সম্পূর্ণ দূর হয়।
- বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট। সেফপোডক্সিমের মতো নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ কঠিন সংক্রমণে এগুলো প্রয়োজন।
- যেকোনো পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিন অ্যালার্জির কথা চিকিৎসককে জানান।
- কিডনি সমস্যা বা তীব্র পেটের গোলযোগের ইতিহাস থাকলে জানান এবং প্রতিটি ডোজ খাবারের সঙ্গে নিন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান। সেফপোডক্সিম নিচের ঔষধের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারেঃ
- অ্যান্টাসিড ও অ্যাসিড কমানোর ঔষধ (যেমন ওমিপ্রাজল বা র্যানিটিডিন) — এগুলো শোষণ কমায়, তাই ডোজের মধ্যে ব্যবধান রাখুন
- প্রোবেনেসিড — সেফপোডক্সিমের মাত্রা বাড়ায়
- ওয়ারফারিন — রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে
- কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন অন্যান্য ঔষধ
অ্যান্টাসিড কার্যকারিতা কমায় বলে Cefokid DS খাবারের সঙ্গে নিন এবং অ্যান্টাসিড থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের ক্ষেত্রে Cefpodoxime (Cefpodoxime Proxetil) খাবেন নাঃ
- সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে পরিচিত অ্যালার্জি থাকলে
- পেনিসিলিনে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে — আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন
উল্লেখযোগ্য কিডনির রোগ বা কোলাইটিসের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন। এই ঔষধ শুরুর আগে সম্পূর্ণ রোগের ইতিহাস জানান।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সেফপোডক্সিম সাধারণত ব্যবহারযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, কারণ সেফালোস্পোরিনের ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস আছে, তবে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই খাওয়া উচিত।
সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; এটি সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ধরা হয়, তবে শিশুর পাতলা পায়খানা বা ছত্রাক সংক্রমণ লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনায় থাকলে বা স্তন্যদান করালে Cefokid DS শুরুর আগে চিকিৎসককে জানান যাতে আপনার ও শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়া যায়।
সংরক্ষণ
Cefokid DS ৩০°C-এর নিচে শীতল ও শুষ্ক স্থানে, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।
- ট্যাবলেট মূল প্যাকে রাখুন।
- গুলে তৈরি সাসপেনশন সাধারণত ফ্রিজে রাখতে হয় — লেবেল অনুসরণ করুন এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ফেলে দিন।
- সব ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
- মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ঔষধ নিরাপদে ফেলার জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো লাগামাত্রই কি আমি Cefokid DS বন্ধ করতে পারি?
না। কয়েক দিনে উপসর্গ কমলেও চিকিৎসকের দেওয়া Cefokid DS-এর পুরো কোর্স শেষ করুন। শরীরে তখনো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, আর আগেভাগে বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্তিশালীগুলো বেঁচে গিয়ে প্রায়ই চিকিৎসা-প্রতিরোধী হয়ে ফিরে আসে। নতুন সেফালোস্পোরিন হিসেবে সেফপোডক্সিম কঠিন সংক্রমণে মূল্যবান, তাই এর অপব্যবহার বিশেষভাবে ক্ষতিকর। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশে একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট। প্রতিটি ডোজ নিন এবং চিকিৎসক ভিন্ন কিছু না বললে কোর্স শেষ করুন।
Cefokid DS কেন খাবারের সঙ্গে খেতে হবে?
পেটে খাবার থাকলে সেফপোডক্সিম অনেক ভালোভাবে শোষিত হয়, তাই Cefokid DS খাবারের সঙ্গে খেলে প্রতিটি ডোজের পূর্ণ উপকার পাওয়া যায়। খাবার পেট খারাপের ঝুঁকিও কমায়। প্রতিদিন একই খাবারের সময়ে, প্রায় ১২ ঘণ্টা অন্তর এটি খান এবং পানি দিয়ে গিলুন। একই সময়ে অ্যান্টাসিড বা অ্যাসিড কমানোর ঔষধ খাবেন না, কারণ এগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমিয়ে দেয়।
Cefokid DS খাওয়ার সময় কি অ্যান্টাসিড খেতে পারি?
সতর্ক থাকুন। ওমিপ্রাজল বা র্যানিটিডিনের মতো অ্যান্টাসিড ও অ্যাসিড কমানোর ঔষধ শরীরে সেফপোডক্সিম শোষণ কমিয়ে দেয়, ফলে Cefokid DS কম কার্যকর হতে পারে। অ্যান্টাসিড প্রয়োজন হলে অ্যান্টিবায়োটিক ডোজ থেকে অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। নিয়মিত কোনো বদহজমের ঔষধ খেলে তা চিকিৎসককে জানান, যাতে তিনি সময় ঠিক করে দিতে পারেন বা কোর্সের সময় বিকল্প পরামর্শ দিতে পারেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: