See in English

ট্যাবলেট

Carlina-M 2.5/850 2.5 mg + 850 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: লিনাগ্লিপটিন + মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড

প্রস্তুতকারক: Radiant Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antidiabetic Combination (DPP-4 Inhibitor + Biguanide)

Carlina-M 2.5/850 এর কাজ কি?

Carlina-M 2.5/850 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান লিনাগ্লিপটিন + মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড 2.5 mg + 850 mg, প্রস্তুতকারক Radiant Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antidiabetic Combination (DPP-4 Inhibitor + Biguanide)।

Carlina-M 2.5/850 কী?

Carlina-M 2.5/850 হলো লিনাগ্লিপটিন ও মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইডযুক্ত একটি ট্যাবলেট, যেখানে দুই ধরনের অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ আছে। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের সঙ্গে।

Carlina-M 2.5/850 2.5 mg + 850 mg tablet হলো Radiant Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে রয়েছে Linagliptin + Metformin Hydrochloride। শুধু মেটফরমিনে রক্তের সুগার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে না এলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি ব্যবহৃত হয়।

দুটি উপাদান ভিন্ন ও পরিপূরক উপায়ে সুগার কমায়। মেটফরমিন লিভার থেকে গ্লুকোজ নিঃসরণ কমায় এবং মাংসপেশিকে ইনসুলিন ভালোভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। লিনাগ্লিপটিন DPP-4 এনজাইম ব্লক করে শরীরের নিজস্ব ইনক্রেটিন হরমোন বাড়ায় — এই হরমোন কেবল সুগার বেশি থাকলেই অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন ছাড়তে বলে, তাই লিনাগ্লিপটিন থেকে সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি কম।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি:
  • শুধু মেটফরমিনে সুগার লক্ষ্যমাত্রায় না এলে
  • যারা ইতিমধ্যে লিনাগ্লিপটিন ও মেটফরমিন আলাদা ট্যাবলেটে খান — তাদের জন্য একটি ট্যাবলেট বেশি সুবিধাজনক
  • চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে অন্য ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের সাথে

টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে নয়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Carlina-M 2.5/850 2.5 mg + 850 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বমিভাব, পাতলা পায়খানা, গ্যাস, মুখে ধাতব স্বাদ — মূলত মেটফরমিনের কারণে; খাবারের সাথে খেলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহে কমে যায়
  • গলা ব্যথা, নাক বন্ধ (ন্যাজোফ্যারিনজাইটিস)
  • রক্তে সুগার কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) — মূলত ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে খেলে
  • বহু বছর মেটফরমিন ব্যবহারে ভিটামিন বি১২ কমে যাওয়া
  • গাঁটে ব্যথা; কদাচিৎ তীব্র (লিনাগ্লিপটিন)
  • বিরল: তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস — পেটের উপরিভাগে একটানা তীব্র ব্যথা যা পিঠে ছড়ায়; ওষুধ বন্ধ করে চিকিৎসা নিন
  • খুবই বিরল: ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস (মেটফরমিন) — মারাত্মক অসুস্থতা বা পানিশূন্যতার সাথে অস্বাভাবিক মাংসপেশি ব্যথা, দ্রুত শ্বাস, চরম দুর্বলতা; এটি জরুরি অবস্থা
  • চামড়ায় ফোসকা (বুলাস পেমফিগয়েড, বিরল)

সতর্কতা

  • চিকিৎসক শুরুর আগে ও পরে নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন — কিডনি দুর্বল হলে মেটফরমিনের মাত্রা কমাতে বা বন্ধ করতে হয়।
  • কন্ট্রাস্ট ডাই দিয়ে এক্স-রে/সিটি স্ক্যান বা যেকোনো অপারেশনের আগে চিকিৎসককে জানান — এ সময় মেটফরমিন সাধারণত সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।
  • মারাত্মক বমি, ডায়রিয়া, জ্বর বা খাওয়া-দাওয়া করতে না পারলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন — মেটফরমিন সাময়িক বন্ধের দরকার হতে পারে (অসুস্থ-দিনের নিয়ম)।
  • অ্যালকোহল সীমিত করুন — এতে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস ও সুগার কমার ঝুঁকি বাড়ে।
  • পেটে একটানা তীব্র ব্যথা (প্যানক্রিয়াটাইটিসের সতর্কতা) হলে সাথে সাথে জানান।
  • দীর্ঘদিনের ব্যবহারকারীরা মাঝে মাঝে ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা করান।
  • ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়াও খেলে সাথে গ্লুকোজ বা মিষ্টি রাখুন।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া (গ্লিমিপিরাইড, গ্লিক্লাজাইড): সুগার বেশি কমে যাওয়ার ঝুঁকি — মাত্রা কমানোর দরকার হতে পারে
  • রিফাম্পিসিন: লিনাগ্লিপটিনের কার্যকারিতা অনেক কমিয়ে দেয়
  • কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল: লিনাগ্লিপটিন দুর্বল করতে পারে
  • আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট ডাই: নির্দেশ অনুযায়ী স্ক্যানের আগে-পরে মেটফরমিন বন্ধ রাখুন
  • অ্যালকোহল: ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস ও সুগার কমার ঝুঁকি বাড়ায়
  • কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইউরেটিক, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক: সুগার বাড়ায় — নিয়ন্ত্রণ পুনরায় দেখা লাগতে পারে
  • সিমেটিডিনসহ কিডনি-নির্ভর কিছু ওষুধ: মেটফরমিনের মাত্রা বাড়াতে পারে

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • লিনাগ্লিপটিন, মেটফরমিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • কিডনির মারাত্মক অকার্যকারিতা (eGFR ৩০-এর নিচে)
  • মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস
  • মারাত্মক সংক্রমণ, শক, পানিশূন্যতা বা টিস্যুতে অক্সিজেন কমে যাওয়ার অবস্থা (সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, মারাত্মক হার্ট বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা)
  • লিভারের মারাত্মক রোগ বা অতিরিক্ত মদ্যপান
  • DPP-4 ইনহিবিটরজনিত প্যানক্রিয়াটাইটিসের ইতিহাস (চিকিৎসকের বিবেচনায় সতর্কতা)

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন সাধারণত দেওয়া হয় না — লিনাগ্লিপটিনের পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ইনসুলিন (কখনো শুধু মেটফরমিন) দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান, যাতে নিরাপদে চিকিৎসা বদলানো যায়।

স্তন্যদান: মেটফরমিন অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, কিন্তু লিনাগ্লিপটিনের তথ্য নেই — তাই দুধ খাওয়ানোর সময় এই কম্বিনেশন এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকিৎসক উপযুক্ত বিকল্প ঠিক করবেন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →