See in English
C-Bac 10 mg Tablet — Baclofen

ট্যাবলেট

C-Bac 10 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: ব্যাক্লোফেন

প্রস্তুতকারক: Chemist Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally Acting Skeletal Muscle Relaxant

C-Bac এর কাজ কি?

C-Bac (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ব্যাক্লোফেন 10 mg, প্রস্তুতকারক Chemist Laboratories Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Centrally Acting Skeletal Muscle Relaxant।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 8.00
Tablet ৳ 8.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

C-Bac কী?

সি-ব্যাক ১০ মিগ্রা ট্যাবলেটে ব্যাকলোফেন থাকে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা একটি কঙ্কাল পেশি শিথিলকারী ওষুধ। এটি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা মেরুদণ্ডের রোগ বা আঘাতজনিত পেশির শক্তভাব, খিঁচুনি ও টান কমাতে ব্যবহৃত হয়।

C-Bac 10 mg tablet বাংলাদেশে Chemist Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে আছে Baclofen — কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা একটি মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ। স্নায়ুরোগজনিত কারণে বা ঘাড়-কোমরের ব্যথাজনক খিঁচুনিতে অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়া মাংসপেশি শিথিল করতে চিকিৎসকরা এটি দেন। এটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, সাধারণ ব্যথানাশক নয়।

ব্যাক্লোফেন মেরুদণ্ডের GABA-B রিসেপ্টরে কাজ করে। শরীরের স্বাভাবিক এই শান্তকারী সংকেত বাড়িয়ে এটি মাংসপেশিকে টানটান করে রাখা অতিসক্রিয় স্নায়ু-সংকেত দমন করে — ফলে পেশি শিথিল হয়, জড়তা কমে ও নড়াচড়া সহজ হয়। এই শান্তকারী প্রভাব মস্তিষ্কেও পৌঁছায় বলে চিকিৎসার শুরুর দিকে ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা বেশ দেখা যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

মাংসপেশি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনির সমস্যায় প্রেসক্রিপশনে C-Bac ব্যবহৃত হয়:

  • স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, সেরিব্রাল পালসি বা মেরুদণ্ডের আঘাত-রোগজনিত স্প্যাস্টিসিটি (পেশির জড়তা)
  • কোমর-ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে যুক্ত ব্যথাজনক মাংসপেশির খিঁচুনি — সাধারণত স্বল্পমেয়াদি কোর্স হিসেবে
  • বিশেষ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি — বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে

এটি সরাসরি ব্যথার ওষুধ নয়, পেশির টান কমায়; তাই অনেক সময় ফিজিওথেরাপি ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের বাছাই করা ব্যথানাশকের সঙ্গে দেওয়া হয়। কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে নড়াচড়া সহজ হওয়া ও খিঁচুনি কমা দিয়ে উন্নতি বোঝা যায়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর C-Bac 10 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মাত্রা শুরু বা বাড়ানোর সময়ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি টের পাওয়া যায়:

  • সাধারণ: ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, বমিভাব, মাথাব্যথা, মুখ শুকানো
  • কম দেখা যায়: রক্তচাপ কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি (বিশেষত বয়স্কদের), ঘুমের ব্যাঘাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা, মনমেজাজের পরিবর্তন
  • গুরুতর: হঠাৎ বন্ধ করার পর হ্যালুসিনেশন বা খিঁচুনি, পড়ে যাওয়ার মতো তীব্র পেশি দুর্বলতা, বেশি মাত্রায় বা সিডেটিভের সঙ্গে শ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া

শরীর মানিয়ে নিলে হালকা সমস্যাগুলো এক-দুই সপ্তাহে কমে আসে। ঝিমুনি বা দুর্বলতায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে নিজে বন্ধ না করে চিকিৎসককে দিয়ে মাত্রা ঠিক করান।

সতর্কতা

C-Bac ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো মানুন:

  • ঝিমুনি স্বাভাবিক — নিজের প্রতিক্রিয়া না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্র চালাবেন না
  • মদ ও অন্যান্য ঘুম-আনা দ্রব্য এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি ও টলমল ভাব বাড়ায়
  • শোয়া বা বসা থেকে ধীরে উঠুন — মাথা ঘোরা ও পড়ে যাওয়া এড়াতে, বিশেষত বয়স্করা
  • মৃগী, কিডনি রোগ, পাকস্থলীর আলসার, মানসিক রোগ, ডায়াবেটিস বা শ্বাসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • কিডনি দুর্বল হলে অনেক কম মাত্রা লাগে — কিডনি খারাপ থাকলে ব্যাক্লোফেন শরীরে বিপজ্জনকভাবে জমে যায়
  • হঠাৎ বন্ধ করবেন না; সবসময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে কমান
  • ফিজিওথেরাপি ও ফলোআপ চালিয়ে যান, যেন উন্নতি অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা যায়

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

যেসব ওষুধ স্নায়ুকে শান্ত করে বা রক্তচাপ কমায়, মূলত সেগুলোর সঙ্গেই C-Bac-এর ক্রিয়া হয়:

  • সিডেটিভ: ঘুমের ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন, ওপিয়ড (যেমন ট্রামাডল), অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক — ঝিমুনি বাড়ে ও শ্বাস দমে যেতে পারে
  • মদ — ঝিমুনি ও টলমল ভাব অনেক বাড়ায়; সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
  • রক্তচাপের ওষুধ — চাপ বেশি কমে যেতে পারে; নজরদারি দরকার
  • ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট — পেশি দুর্বলতা বাড়িয়ে দিতে পারে
  • লেভোডোপা (পারকিনসনের ওষুধ) — বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও অস্থিরতার ঘটনা আছে
  • লিথিয়াম — কিছু নড়াচড়াজনিত উপসর্গ বাড়াতে পারে

আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের পূর্ণ তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের অবস্থায় C-Bac খাবেন না:

  • ব্যাক্লোফেন বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • সক্রিয় পেপটিক (গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল) আলসার থাকলে — মুখে খাওয়া ব্যাক্লোফেন তা বাড়িয়ে দিতে পারে

মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস, উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতা, গুরুতর মানসিক রোগ, মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগ থাকলে, কিংবা আপনি বয়স্ক ও পড়ে যাওয়া-বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে থাকলে কেবল বিশেষ সতর্কতায়, চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন — কখনোই নিজে নিজে নয়। বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপত্র ও হিসাব করা মাত্রা ছাড়া শিশুদেরও C-Bac দেওয়া যাবে না।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় Baclofen ব্যবহারযোগ্য। গর্ভে থাকা অবস্থায়, বিশেষত মায়ের বেশি মাত্রার ওষুধে, জন্মের পর নবজাতকের কাঁপুনি, অস্থিরতা বা কদাচিৎ খিঁচুনির মতো উইথড্রয়াল উপসর্গ হতে পারে — তাই নবজাতকের চিকিৎসক দলকে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন।

বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে সামান্য ব্যাক্লোফেন যায়। স্বাভাবিক মাত্রায় সমস্যা বিরল, তবে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের — তিনি উপকার-ঝুঁকি বিচার করবেন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা খাওয়ার অনীহার দিকে নজর রাখতে বলতে পারেন। গর্ভাবস্থা বা দুগ্ধদানকালে নিজে নিজে ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।

সংরক্ষণ

C-Bac মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখবেন না। ওষুধটি শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন — যে মাত্রা প্রাপ্তবয়স্কের পেশি কেবল শিথিল করে, তা শিশুকে মারাত্মকভাবে অচেতন করে দিতে পারে। প্রতিবার ওষুধ কেনার সময় মেয়াদ দেখে নিন; ভাঙা, রংচটা বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন না। অপ্রয়োজনীয় ট্যাবলেট নিরাপদে ফেলে দিন; টয়লেটে ফেলবেন না বা পরে খাওয়ার জন্য রেখে দেবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

C-Bac কি ব্যথানাশক ওষুধ?

প্রচলিত অর্থে নয়। প্যারাসিটামল বা NSAID-এর মতো C-Bac সরাসরি ব্যথা বন্ধ করে না — এটি অতিসক্রিয় মাংসপেশি শিথিল করে। ব্যথার কারণ যখন পেশির খিঁচুনি বা জড়তা, তখন টান কমলে ব্যথাও কমে — এ জন্যই ঘাড়-কোমর ও স্নায়ুরোগজনিত জড়তায় এটি কাজে দেয়। মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা বা জ্বরে এটি কাজ করবে না। বাড়তি ব্যথানাশক দরকার হলে নিজে বেছে না নিয়ে কোনটি এর সঙ্গে নিরাপদ তা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →