Tablet
Bilicir 150 150 mg Tablet
জেনেরিক: আরসোডিঅক্সিকোলিক অ্যাসিড
প্রস্তুতকারক: Advanced Chemical Industries Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Bile acid — gallstone dissolution and cholestatic liver disease therapy
Bilicir 150 কী?
Bilicir 150 150 mg tablet Advanced Chemical Industries Limited-এর তৈরি, এতে রয়েছে Ursodeoxycholic Acid (ইউডিসিএ)—একটি প্রাকৃতিক পিত্ত অ্যাসিড। অস্ত্রোপচার ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের কোলেস্টেরল পিত্তপাথর গলাতে এবং পিত্তপ্রবাহ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে—যেমন প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলানজাইটিসে—এটি ব্যবহৃত হয়।
Ursodeoxycholic Acid মূলত দুইভাবে কাজ করে। পিত্তথলিতে এটি লিভার থেকে পিত্তে নিঃসৃত কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়, ফলে পিত্ত কম ঘন হয় এবং ছোট কোলেস্টেরল পাথর কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে গলে যায়। লিভারের রোগে এটি ক্ষতিকর প্রাকৃতিক পিত্ত অ্যাসিডের জায়গা নিয়ে নেয়, পিত্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং পিত্তজনিত ক্ষতি থেকে লিভারের কোষ রক্ষা করে—এ কারণে চিকিৎসা চলাকালীন লিভার পরীক্ষার ফলাফল প্রায়ই ভালো হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
চিকিৎসকেরা Bilicir 150 দেন:
- পিত্তপাথর গলাতে—ছোট, চুন না-জমা (এক্স-রেতে ছায়া না ফেলা) কোলেস্টেরল পাথরের ক্ষেত্রে, যখন পিত্তথলি এখনো কাজ করে এবং রোগী অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না বা চাইছেন না
- প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলানজাইটিসে (পিবিসি)—রোগের অগ্রগতি ধীর করার আদর্শ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা
- বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য পিত্তপ্রবাহজনিত সমস্যায়—যেমন গর্ভাবস্থার ইন্ট্রাহেপাটিক কোলেস্টেসিস বা পিত্তের কাদা (স্লাজ)
চুন-জমা বা পিগমেন্ট পাথরে এটি কাজ করে না, আর তীব্র প্রদাহযুক্ত পিত্তথলির চিকিৎসাও এটি নয়—তখন সাধারণত জরুরি অস্ত্রোপচার লাগে। Bilicir 150 আপনার জন্য সঠিক কি না, তা আলট্রাসাউন্ড ও লিভার পরীক্ষার ভিত্তিতে ঠিক হয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Bilicir 150-এর মাত্রা শরীরের ওজন ধরে হিসাব করা হয়—পিত্তপাথরে সাধারণত দিনে প্রায় ৮–১২ মি.গ্রা./কেজি এবং পিবিসিতে ১৩–১৫ মি.গ্রা./কেজি—রাতে এক ডোজে বা ভাগ করে। সঠিক মাত্রা, সময়সূচি ও মেয়াদ চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
- খাবার বা দুধের সাথে খান; খাবার পিত্তপ্রবাহ চালু করে ওষুধের কাজ ভালো করে, আর পিত্তপাথরের ক্ষেত্রে রাতের ডোজটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- পিত্তপাথরের চিকিৎসা দীর্ঘ কোর্স—সাধারণত ৬ থেকে ২৪ মাস, প্রায় ৬ মাস পরপর আলট্রাসাউন্ডসহ; পাথর মিলিয়ে যাওয়ার পরও প্রায়ই আরও ৩ মাস চালানো হয়।
- প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে খান; ডোজ বাদ পড়লে পরের ডোজ স্বাভাবিক নিয়মে খান—কখনো দ্বিগুণ নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Bilicir 150 সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- নরম বা পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া—সবচেয়ে সাধারণ; মাত্রা সমন্বয়ের পর প্রায়ই কমে যায়
- বমি ভাব, পেটের হালকা অস্বস্তি বা গ্যাস
- চুলকানি বা ত্বকে র্যাশ
- বিরল ক্ষেত্রে চিকিৎসা চলাকালীন পাথরের গায়ে চুনের আস্তর জমতে পারে, তখন পাথর আর গলে না
- লিভারের উন্নত সিরোসিসে বিরলভাবে অবস্থা খারাপ হওয়ার কথা জানা গেছে—এমন রোগীদের বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ দরকার
চিকিৎসা চলাকালীন পেটের ডান-উপরে তীব্র ব্যথা, কাঁপুনিসহ জ্বর, বমি বা চোখ-ত্বক হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন—এগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, বরং পিত্তনালি বন্ধ বা পিত্তথলির প্রদাহের ইঙ্গিত।
সতর্কতা
Bilicir 150 দিয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসার জন্য:
- পুরো কোর্স শেষ করুন—আংশিক গলে যাওয়া পাথর চিকিৎসা আগেভাগে বন্ধ করলে দ্রুত আবার বড় হয়।
- নির্ধারিত আলট্রাসাউন্ড ও লিভার পরীক্ষাগুলো করান; এতে বোঝা যায় পাথর ছোট হচ্ছে কি না এবং লিভার সাড়া দিচ্ছে কি না।
- মনে রাখুন, সফল চিকিৎসার পরও পাথর আবার হতে পারে—স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, হঠাৎ কঠোর ডায়েটে ওজন না কমানো এবং কম চর্বিযুক্ত সুষম খাবার সেই ঝুঁকি কমায়।
- সিরোসিস, পেপটিক আলসার বা বারবার পিত্তব্যথার মতো লক্ষণের পরিবর্তন থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- অন্য সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন, কারণ বেশ কিছু ওষুধ ইউডিসিএ-র শোষণ বা কার্যকারিতা কমায়।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধ Bilicir 150-কে ঠিকমতো কাজ করতে দেয় না:
- কোলেস্টাইরামিন, কোলেস্টিপল ও অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড অন্ত্রে ইউডিসিএ-কে আটকে ফেলে। এগুলো ও Bilicir 150-এর মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন (কোলেস্টাইরামিনের ক্ষেত্রে আরও বেশি, সম্ভব হলে ৪ ঘণ্টা)।
- ইস্ট্রোজেন (কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলসহ) এবং ক্লোফাইব্রেটের মতো চর্বি-কমানো ওষুধ পিত্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে পাথর গলার বিপরীতে কাজ করতে পারে।
- Ursodeoxycholic Acid সাইক্লোস্পোরিনের শোষণ বাড়াতে পারে—প্রতিস্থাপনের রোগীদের রক্তে মাত্রা পরীক্ষা দরকার—এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিনের শোষণ কমাতে পারে।
- কিছু ডায়াবেটিস ওষুধের গ্লুকোজ-কমানো প্রভাব এটি বাড়িয়ে দিতে পারে; পরামর্শমতো পর্যবেক্ষণ করুন।
অ্যান্টাসিড ও ভেষজ পণ্যসহ আপনার পূর্ণ ওষুধের তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দেখান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
Bilicir 150 খাবেন না যদি আপনার থাকে:
- Ursodeoxycholic Acid, অন্য পিত্ত অ্যাসিড বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
- পিত্তথলি বা পিত্তনালির তীব্র প্রদাহ (কোলেসিস্টাইটিস, কোলানজাইটিস)
- প্রধান পিত্তনালি বা সিস্টিক নালির প্রতিবন্ধকতা
- ঘন ঘন তীব্র পিত্তশূল (বিলিয়ারি কোলিক)
- চুন-জমা পিত্তপাথর, বা এমন পিত্তথলি যা আর কাজ করে না বা ইমেজিংয়ে দেখা যায় না
- লিভার বা অগ্ন্যাশয়ের গুরুতর রোগ—বিশেষজ্ঞ ভিন্ন সিদ্ধান্ত না দিলে
এসব ক্ষেত্রে ওষুধটি হয় কাজ করতে পারে না, নয়তো সত্যিকারের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে পারে—তাই চিকিৎসক আগে আলট্রাসাউন্ড করে উপযুক্ততা নিশ্চিত করবেন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
পিত্তপাথরের চিকিৎসায় গর্ভাবস্থায় Bilicir 150 সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, আর দীর্ঘ কোর্সের সময় সন্তান ধারণের বয়সী নারীদের কার্যকর অ-হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়—কারণ হরমোনাল পিল পাথর গলার বিপরীতেও কাজ করতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার ইন্ট্রাহেপাটিক কোলেস্টেসিসে—তীব্র চুলকানি সৃষ্টিকারী লিভারের সমস্যা—বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থাতেই ইউডিসিএ ব্যবহার করেন; অভিজ্ঞতা বলছে তত্ত্বাবধানে এটি মোটামুটি নিরাপদ।
খুব সামান্য পরিমাণই বুকের দুধে যায় এবং স্বাভাবিক মাত্রায় দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষতির কোনো তথ্য নেই; তবু Bilicir 150 চলাকালীন বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে তার অনুমোদন নিয়েই করা উচিত।
সংরক্ষণ
Bilicir 150 ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি সূর্যালোক ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত tablet মূল ব্লিস্টার বা প্যাকেটে রাখুন এবং বাথরুম বা রান্নাঘরের মতো আর্দ্র জায়গা এড়িয়ে চলুন—মনে রাখবেন, পিত্তপাথরের কোর্স অনেক মাস চলে, তাই পুরো ওষুধ ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
- সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।
- প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
- অব্যবহৃত ওষুধ ময়লা বা নালায় ফেলবেন না; নিরাপদে নষ্ট করার নিয়ম ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পিত্তপাথরের জন্য Bilicir 150 কত দিন খেতে হবে?
<p>দীর্ঘ কোর্সের জন্য প্রস্তুত থাকুন। কোলেস্টেরল পাথর খুব ধীরে গলে—আকারভেদে সাধারণত <strong>৬ থেকে ২৪ মাস</strong>—তাই Bilicir 150 মাসের পর মাস প্রতিদিন খেতে হয় এবং অগ্রগতি দেখতে প্রায় ৬ মাস পরপর আলট্রাসাউন্ড করা হয়। পাথর মিলিয়ে যাওয়ার পরও অদৃশ্য টুকরো পরিষ্কার করতে চিকিৎসকেরা সাধারণত আরও প্রায় ৩ মাস চিকিৎসা চালান। আগেভাগে বন্ধ করাই ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ: আংশিক গলা পাথর আবার বড় হয়ে যায়। প্রায় এক বছরেও উন্নতি না হলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন।</p>
Bilicir 150 কি খাবারের সাথে খেতে হবে?
<p>হ্যাঁ। <strong>খাবারের সাথে বা খাওয়ার পরপরই, কিংবা দুধের সাথে</strong> খেলে Bilicir 150 সবচেয়ে ভালো কাজ করে। খাবার খেলে পিত্তথলি সংকুচিত হয়ে পিত্ত প্রবাহিত হয়, যা ওষুধকে কাজের জায়গায় পৌঁছে দেয়; খাবারের সাথে খেলে পেটের অস্বস্তিও কমে। পিত্তপাথর গলানোর ক্ষেত্রে <strong>রাতের বা ঘুমানোর আগের ডোজটি</strong> বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খাবারের দীর্ঘ বিরতিতে রাতে পিত্তে কোলেস্টেরল সবচেয়ে ঘন হয়—ওষুধ ঠিক সেটিই প্রতিরোধ করে। চিকিৎসকের দেওয়া সময়সূচি মেনে চলুন এবং প্রতিদিন একই রুটিন রাখুন যাতে ডোজ বাদ না পড়ে।</p>
Bilicir 150 কি সব ধরনের পিত্তপাথর গলাতে পারে?
<p>না। Bilicir 150 কেবল <strong>কোলেস্টেরল পাথর</strong> গলায়—যেগুলো ছোট (সাধারণত প্রায় ১৫ মি.মি.-এর নিচে), চুন-জমা নয় এবং কর্মক্ষম পিত্তথলিতে আছে। পিগমেন্ট পাথর ও চুনের আস্তরযুক্ত পাথরে এটি কাজ করে না, আর পিত্তথলি বন্ধ বা অকার্যকর হলে ওষুধ পাথর পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারে না। এ কারণেই চিকিৎসা শুরুর আগে আলট্রাসাউন্ড—কখনো অন্য ইমেজিংও—করা হয় এবং চিকিৎসা চলাকালীন আবার করা হয়। পাথর অনুপযুক্ত হলে, বারবার ব্যথা দিলে বা সংক্রমণ-জন্ডিসের মতো জটিলতা থাকলে অস্ত্রোপচারই (সাধারণত ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলি অপসারণ) বেশি নির্ভরযোগ্য সমাধান; সে সিদ্ধান্তে চিকিৎসকই পথ দেখাবেন।</p>
সর্বশেষ হালনাগাদ: