ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Powder For Suspension

Azitra 200 mg/5 ml Powder For Suspension

জেনেরিক: অ্যাজিথ্রোমাইসিন

প্রস্তুতকারক: MST Pharma and Healthcare Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Macrolide antibiotic

Azitra কী?

Azitra 200 mg/5 ml হলো MST Pharma and Healthcare Ltd. তৈরি azithromycin পাউডার ফর ওরাল সাসপেনশন। এই macrolide antibiotic চিকিৎসকের পরামর্শে শ্বাসনালি, কান, গলা, ত্বক এবং কিছু যৌনাঙ্গের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।

MST Pharma and Healthcare Ltd.-এর তৈরি Azitra 200 mg/5 ml powder for suspension-এ রয়েছে Azithromycin, যা স্বল্প ও সুবিধাজনক কোর্সের জন্য পরিচিত একটি ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক। কিছু শ্বাসতন্ত্র, গলা, কান, ত্বক ও যৌনবাহিত সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয় এবং শরীরে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকে বলে প্রায়ই মাত্র ৩ থেকে ৫ দিনের জন্য দেওয়া হয়। Azitra একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ এবং অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে।

Azithromycin ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরির যন্ত্র (রাইবোজোম)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। এই প্রোটিন না পেলে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে না এবং শরীর তাদের দূর করে দেয়। এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না, তাই সর্দি, ফ্লু বা সাধারণ কাশি-গলাব্যথা সারাতে পারে না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • কিছু নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসসহ বুকের সংক্রমণ
  • পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকা রোগীর গলা, টনসিল ও সাইনাসের সংক্রমণ
  • কিছু কানের সংক্রমণ
  • ত্বক ও নরম-কলার সংক্রমণ
  • কয়েকটি যৌনবাহিত সংক্রমণ (যেমন ক্ল্যামাইডিয়া)
  • চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু টাইফয়েড বা ভ্রমণজনিত ডায়রিয়া

সেবনবিধি ও মাত্রা

Azitra-এর মাত্রা সংক্রমণভেদে আলাদা, তবে কোর্স সাধারণত ছোট হয়। বড়দের প্রচলিত নিয়ম হলো ৫০০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৩ দিন, অথবা প্রথম দিন ৫০০ মি.গ্রা. ও পরের ৪ দিন ২৫০ মি.গ্রা. দিনে একবার; কিছু সংক্রমণে চিকিৎসক একক বড় ডোজ দেন। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে Azitra খান।

শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। কোর্স ছোট হলেও প্রতিটি ডোজ খেয়ে পুরোপুরি শেষ করুন — ছোট কোর্স মানে ভালো লাগা মাত্র বন্ধ করা যাবে, তা নয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Azithromycin সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া বা পেটব্যথা
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
  • স্বাদের পরিবর্তন
  • যকৃতের এনজাইমে সাময়িক পরিবর্তন

বিরল ক্ষেত্রে ম্যাক্রোলাইড হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে (QT প্রলম্বন) বুক ধড়ফড় বা অজ্ঞান হওয়া ঘটাতে পারে এবং গুরুতর অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। Azitra খাওয়ার সময় দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র ডায়রিয়া বা অ্যালার্জির লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

সতর্কতা

Azitra একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক — কখনো নিজে থেকে খাবেন না। অ্যাজিথ্রোমাইসিন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি, যা প্রায়ই সাধারণ সর্দি, কাশি ও জ্বরে খাওয়া হয় যেখানে এটি কোনো কাজ না করে শুধু রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়। শুধু নিবন্ধিত চিকিৎসক লিখে দিলে খান, ভাইরাসজনিত রোগে নিজে কিনে খাবেন না।

কোর্স ছোট ও দ্রুত ভালো লাগলেও সবসময় পুরো কোর্স শেষ করুন। হৃৎস্পন্দনের কোনো সমস্যা বা হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এমন ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশে মারাত্মক জাতীয় সংকট, আর অ্যাজিথ্রোমাইসিনের অপব্যবহার এর অন্যতম প্রধান কারণ।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Azithromycin-এর গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া:

  • অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড — অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন
  • QT বাড়ায় এমন অন্যান্য ওষুধ (কিছু হৃদরোগ, বমিরোধী ও অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ) — হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ে
  • ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে
  • ডিগোক্সিন, কোলচিসিন, সাইক্লোস্পোরিন — রক্তে মাত্রা বাড়তে পারে
  • কিছু এরগট-জাতীয় ওষুধ

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

এই অবস্থাগুলোতে Azitra খাবেন না:

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিন বা অন্য ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিকে (যেমন এরিথ্রোমাইসিন বা ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন) অ্যালার্জি থাকলে
  • আগে অ্যাজিথ্রোমাইসিনে যকৃতের সমস্যা বা জন্ডিস হয়ে থাকলে

হৃৎস্পন্দনের সমস্যা (লং QT), খুব ধীর হৃৎস্পন্দন, রক্তে কম পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম অথবা গুরুতর যকৃতের রোগে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। আপনার পূর্ণ ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

চিকিৎসক প্রয়োজন ও সংক্রমণের জন্য উপযুক্ত মনে করলে গর্ভাবস্থায় Azithromycin ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান, যাতে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; এটি প্রায়ই স্তন্যদানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ধরা হয়, তবে শিশুর পাতলা পায়খানা বা ছত্রাক সংক্রমণ লক্ষ রাখতে হবে। Azitra শুরুর আগে স্তন্যদান নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

Azitra মূল প্যাকেটে, ৩০°C-এর নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের জন্য তৈরি সাসপেনশন লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। সব ধরন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমার সর্দি-কাশি হয়েছে — দ্রুত সারতে কি ৩ দিন Azitra খেতে পারি?

না। সর্দি, বেশিরভাগ কাশি, গলাব্যথা ও ফ্লু ভাইরাসজনিত, আর Azitra শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই এটি আপনাকে দ্রুত সারাবে না। এসব ভাইরাসজনিত রোগে অ্যাজিথ্রোমাইসিন খাওয়া বাংলাদেশে অত্যন্ত সাধারণ এবং এখানে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ার অন্যতম বড় কারণ। এতে কোনো উপকার ছাড়াই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। চিকিৎসক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিশ্চিত করে নির্দিষ্টভাবে লিখে দিলে তবেই Azitra খান।

Azitra-এর কোর্স তো মাত্র ৩ দিন — শেষ ডোজ বাদ দিলে কি সত্যিই কিছু যায় আসে?

হ্যাঁ, অনেক কিছু যায় আসে। অ্যাজিথ্রোমাইসিন শরীরে কয়েক দিন সক্রিয় থাকে বলে অল্প সময়ের জন্য দেওয়া হয়, কিন্তু ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি দূর করতে প্রতিটি নির্ধারিত ডোজ দরকার। ডোজ বাদ দিলে বা আগেভাগে বন্ধ করলে বেঁচে থাকা ব্যাকটেরিয়া আবার বেড়ে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে উঠতে পারে, ফলে সংক্রমণ ফিরে এসে আরও কঠিন হতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশে অ্যাজিথ্রোমাইসিন এমনিতেই বেশি অপব্যবহৃত, ছোট Azitra কোর্সও নির্দেশমতো শেষ করা সবার জন্য এর কার্যকারিতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

Azitra কি আমার হৃদয়ের জন্য নিরাপদ?

বেশিরভাগ মানুষের জন্য Azitra নিরাপদ, তবে অ্যাজিথ্রোমাইসিন মাঝে মাঝে হৃদয়ের বৈদ্যুতিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে, যাকে QT প্রলম্বন বলে। হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, রক্তে কম পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম থাকলে অথবা হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এমন অন্য ওষুধ খেলে এটি বেশি উদ্বেগের। শুরুর আগে যেকোনো হৃদরোগ ও সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Azitra খাওয়ার সময় বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব হলে দ্রুত সাহায্য নিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →