ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Tablet

Asorin 75 mg Tablet

জেনেরিক: অ্যাসপিরিন (অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক অ্যাসিড)

প্রস্তুতকারক: Kemiko Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiplatelet / NSAID

Asorin কী?

Asorin 75 mg tablet হলো Kemiko Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Aspirin (Acetylsalicylic Acid)। কম মাত্রায় এটি চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহৃত হয় — হৃদরোগী বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে।

অ্যাসপিরিন প্লেটলেটের (রক্ত জমাট বাঁধানো ক্ষুদ্র কণিকা) ভেতরের একটি এনজাইম (COX-1) স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে প্লেটলেটগুলোর আঠালো ভাব কমে যায় এবং সহজে জমাট বাঁধতে পারে না — তাই হার্ট বা মস্তিষ্কের সরু ধমনিতে বিপজ্জনক রক্তজমাট তৈরির আশঙ্কা অনেক কমে। প্রতিটি প্লেটলেটের পুরো আয়ুজুড়ে এই সুরক্ষা থাকে বলে দিনে একটি ছোট ডোজই যথেষ্ট।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • হৃদরোগ, আগের হার্ট অ্যাটাক/স্ট্রোক, স্টেন্ট বা বাইপাস হয়েছে এমন রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে (সেকেন্ডারি প্রিভেনশন)
  • উচ্চ ঝুঁকির রোগী — শুধু যখন চিকিৎসক মনে করেন উপকার রক্তক্ষরণের ঝুঁকির চেয়ে বেশি
  • হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে — জরুরি চিকিৎসা সেবার পরামর্শ অনুযায়ী
  • বেশি মাত্রায় ব্যথা, জ্বর ও প্রদাহে ব্যবহৃত হয়, তবে সাধারণ জ্বরে বাংলাদেশে প্যারাসিটামলই উত্তম (ডেঙ্গু সতর্কতা দেখুন)

সেবনবিধি ও মাত্রা

হার্টের সুরক্ষায় Asorin শুধুই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে খেতে হয় — আদৌ দরকার কি না, কত মাত্রায়, কত দিন — সবই চিকিৎসক ঠিক করবেন। নিজে থেকে কম-মাত্রার অ্যাসপিরিন শুরু বা বন্ধ করবেন না।

  • দিনে একবার একই সময়ে, খাবারের সাথে বা পরে খান — এতে পাকস্থলী সুরক্ষিত থাকে।
  • এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; ভাঙবেন বা চিবাবেন না (হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহে চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশ ছাড়া)।
  • ডোজ মিস হলে ওই দিনেই মনে পড়ামাত্র খান; পরের ডোজ কখনো দ্বিগুণ করবেন না।

এটি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষামূলক চিকিৎসা। ভালো বোধ করছেন বলে নিজে থেকে Asorin বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধ করলে রক্তজমাট, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত স্টেন্ট থাকলে। যেকোনো অপারেশন বা দাঁতের কাজের আগেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • পাকস্থলীর জ্বালা, বুক জ্বালা, বমিভাব
  • রক্তক্ষরণের প্রবণতা — সহজে কালশিটে পড়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কাটা জায়গায় বেশি সময় রক্ত পড়া
  • পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার; কালো আলকাতরার মতো পায়খানা বা রক্তবমি হলে তা জরুরি অবস্থা
  • অ্যালার্জি — র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট (অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি)
  • বেশি মাত্রায় কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস)
  • ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বিরল: রেই'স সিনড্রোম — মস্তিষ্ক ও লিভারের প্রাণঘাতী ক্ষতি

সতর্কতা

  • ডেঙ্গু সতর্কতা: ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে কখনোই অ্যাসপিরিন খাবেন না — এতে বিপজ্জনক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে। বাংলাদেশে যেকোনো হঠাৎ জ্বরে আগে প্যারাসিটামল খান এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করান।
  • শিশু: জ্বর, ফ্লু বা জলবসন্তে আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের অ্যাসপিরিন দেবেন না — রেই'স সিনড্রোমের ঝুঁকি, যা বিরল হলেও প্রায়ই প্রাণঘাতী। বদলে প্যারাসিটামল দিন।
  • যেকোনো অপারেশন, দাঁত তোলা বা প্রসিডিউরের আগে প্রতিটি চিকিৎসক ও ডেন্টিস্টকে জানান যে আপনি অ্যাসপিরিন খান — তবে নিজে বন্ধ করবেন না।
  • আগের আলসার, রক্তক্ষরণজনিত রোগ, হাঁপানি, গাউট, কিডনি বা লিভার রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • নিয়মিত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন — পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
  • কালো পায়খানা, বমি বা প্রস্রাবে রক্ত, অস্বাভাবিক কালশিটে — দেখা মাত্র জানান।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, রিভারক্সাবান, হেপারিন): মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি — শুধু কঠোর চিকিৎসা-তত্ত্বাবধানে একসাথে খাওয়া যায়
  • ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়; আইবুপ্রোফেন অ্যাসপিরিনের হার্ট-সুরক্ষাও নষ্ট করতে পারে — ব্যথার ওষুধের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন
  • কর্টিকোস্টেরয়েড: আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়
  • SSRI (ফ্লুঅক্সেটিন, এসসিটালোপ্রাম): রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ায়
  • মেথোট্রেক্সেট: অ্যাসপিরিন এর বিষক্রিয়া বাড়ায়
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ: বেশি মাত্রার অ্যাসপিরিন সুগার আরও কমাতে পারে
  • রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইউরেটিক: কার্যকারিতা কমতে পারে

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ অ্যালার্জি, বা অ্যাসপিরিনজনিত হাঁপানি
  • সক্রিয় পাকস্থলী/ডিওডেনাল আলসার বা শরীরের যেকোনো স্থানে চলমান রক্তক্ষরণ
  • রক্তক্ষরণজনিত রোগ (হিমোফিলিয়া), প্লেটলেটের মারাত্মক ঘাটতি
  • ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
  • ভাইরাল জ্বর, ফ্লু বা জলবসন্তে আক্রান্ত শিশু-কিশোর (রেই'স সিনড্রোম)
  • লিভার বা কিডনির মারাত্মক অকার্যকারিতা
  • গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিক (ব্যথানাশক মাত্রায়)

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: ব্যথানাশক মাত্রার নিয়মিত অ্যাসপিরিন এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষত তৃতীয় ত্রৈমাসিকে — এতে মা ও শিশুর রক্তক্ষরণ এবং শিশুর হার্টের একটি রক্তনালি অকালে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে প্রি-এক্লাম্পসিয়া প্রতিরোধে চিকিৎসকরা কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কম-মাত্রার অ্যাসপিরিন দেন — শুধু গাইনি চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ীই খাবেন।

স্তন্যদান: মাঝেমধ্যে কম মাত্রায় ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবে শিশুর রেই'স সিনড্রোমের তাত্ত্বিক ঝুঁকির কারণে নিয়মিত ব্যবহার সাধারণত এড়ানো হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যথা-জ্বরে প্যারাসিটামলই উত্তম।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন — আর্দ্র পরিবেশে অ্যাসপিরিন নষ্ট হয়ে যায় (ভিনেগারের মতো গন্ধ মানে ট্যাবলেট নষ্ট হয়েছে)। মূল প্যাকেটে ভালোভাবে বন্ধ করে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভালো বোধ করলে কি Asorin বন্ধ করে দিতে পারি?

<p>না। কম-মাত্রার Asorin কোনো উপসর্গ সারাতে খাওয়া হয় না — এটি নীরবে আপনার প্লেটলেটকে সরু ধমনিতে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ওষুধ খান বা না খান, অনুভূতি একই থাকবে; কিন্তু হঠাৎ বন্ধ করলে জমাট বাঁধার প্রবণতা উল্টো বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সত্যিই বাড়ে — প্রথম কয়েক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি, স্টেন্ট থাকলে আরও বিপজ্জনক। শুধু চিকিৎসক বললেই বন্ধ করুন, পরিকল্পিত অপারেশনের আগেও।</p>

জ্বর হলে কি Asorin খেতে পারি, বা শিশুকে দিতে পারি?

<p>খুব সাবধান। বাংলাদেশে যেকোনো হঠাৎ জ্বর ডেঙ্গু হতে পারে, আর ডেঙ্গুতে অ্যাসপিরিন মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে — তাই নতুন জ্বরে কখনোই Asorin খাবেন না; প্যারাসিটামল খান ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। <strong>জ্বর, ফ্লু বা জলবসন্তে শিশু-কিশোরদের অ্যাসপিরিন একেবারেই দেওয়া যাবে না</strong> — রেই'স সিনড্রোম নামের বিরল রোগে মস্তিষ্ক ফুলে যায় ও লিভার নষ্ট হয়। কম-মাত্রার Asorin খাওয়া হৃদরোগীর ডেঙ্গু হলে ওষুধ সাময়িক বন্ধের ব্যাপারে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।</p>

অপারেশন বা দাঁত তোলার আগে কি Asorin বন্ধ করব?

<p>এই সিদ্ধান্ত কখনো নিজে নেবেন না। Asorin রক্তের আঠালো ভাব কমায়, তাই প্রসিডিউরে রক্তপাত বেশি হতে পারে — কিন্তু হঠাৎ বন্ধ করলে জমাট, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আপনার হার্টের ইতিহাস (বিশেষত স্টেন্ট) ও প্রসিডিউরের ধরনের ওপর: দাঁত ও চামড়ার অনেক ছোট কাজ অ্যাসপিরিন না থামিয়েই নিরাপদে করা যায়, আবার কিছু অপারেশনের প্রায় ৫–৭ দিন আগে তা থামাতে হয়। সার্জন বা ডেন্টিস্টকে জানান যে আপনি Asorin খান, এবং তাঁরা আপনার হৃদরোগ চিকিৎসকের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবেন।</p>

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: