ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Eye Drops

Asmafen .025 % Eye Drops

জেনেরিক: কিটোটিফেন

প্রস্তুতকারক: Globe Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Antihistamine & Mast Cell Stabiliser

Asmafen কী?

Asmafen 0.025% Eye Drops-এ ketotifen আছে, যা চোখে ব্যবহৃত একটি antihistamine ও mast cell stabiliser। এটি মূলত অ্যালার্জিজনিত কনজাংটিভাইটিসের উপসর্গ, যেমন চোখ চুলকানো, লাল হওয়া বা পানি পড়া কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Asmafen .025 % eye drops হলো Globe Pharmaceuticals Ltd. এর একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ও মাস্ট সেল স্টেবিলাইজার, যাতে Ketotifen রয়েছে। বাংলাদেশে এটি বহুল প্রেসক্রাইবড — বিশেষত শিশুদের — হাঁপানি ও সাঁই সাঁই কাশির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধে (প্রোফাইল্যাক্সিস) এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, চোখের অ্যালার্জি ও ত্বকের অ্যালার্জিতে। Asmafen প্রতিদিন খাওয়ার প্রতিরোধমূলক ওষুধ; শুরু হয়ে যাওয়া হাঁপানির অ্যাটাক থামাতে এটি কাজ করে না।

Ketotifen দুইভাবে কাজ করে: এটি হিস্টামিন এইচ-১ রিসেপ্টর ব্লক করে হাঁচি, সর্দি ও চুলকানির মতো অ্যালার্জির উপসর্গ কমায়, আবার মাস্ট সেলকে স্থিতিশীল করে যাতে অ্যালার্জি-উদ্দীপক রাসায়নিক কমই নিঃসৃত হয়। কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত খেলে অ্যালার্জি ও হাঁপানির আক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা — দুটোই কমে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার প্রতিরোধ (প্রোফাইল্যাক্সিস), বিশেষত শিশুদের
  • সাঁই সাঁই শব্দযুক্ত ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যালার্জিজনিত কাশি
  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (হাঁচি, সর্দি, নাক চুলকানো)
  • অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস (চোখ চুলকানো ও পানি পড়া)
  • আমবাত (আর্টিকেরিয়া) ও চুলকানিসহ ত্বকের অ্যালার্জি

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Asmafen এর স্বাভাবিক ডোজ খাবারের সাথে দিনে দুইবার ১ মি.গ্রা.; ঝিমুনি বেশি হলে চিকিৎসক রাতে ০.৫–১ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন। ৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা সাধারণত দিনে দুইবার ১ মি.গ্রা. খায়, আর ছোট শিশুদের সিরাপে ওজন অনুযায়ী ডোজ দেওয়া হয় — সবসময় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পূর্ণ প্রতিরোধী প্রভাব পেতে Asmafen প্রতিদিন অন্তত কয়েক সপ্তাহ খেতে হয়; মাত্র কয়েক দিনে ফল বিচার করবেন না এবং হঠাৎ বন্ধও করবেন না — হাঁপানির প্রতিরোধী ওষুধ সাধারণত চিকিৎসকের নির্দেশনায় ধীরে ধীরে কমিয়ে বন্ধ করা হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ঝিমুনি বা ঘুম ঘুম ভাবই সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — বিশেষত প্রথম এক-দুই সপ্তাহে; শরীর মানিয়ে নিলে এটি সাধারণত কমে আসে। অন্যান্য প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং — বিশেষত শিশুদের — ক্ষুধা বেড়ে কয়েক মাসে ওজন বাড়া। কিছু শিশু উল্টো খিটখিটে বা অতিচঞ্চল হয়ে যেতে পারে। কম দেখা যায় ঘুমের ব্যাঘাত ও পেটের অস্বস্তি। ঝিমুনিতে স্কুলের পড়া বা দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হলে, বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

চিকিৎসার শুরুতে ঝিমুনি স্বাভাবিক: Ketotifen আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালানো, যন্ত্র চালানো বা মনোযোগ দরকার এমন কাজ এড়িয়ে চলুন, এবং স্কুলের আগে শিশুর প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন। অ্যালকোহল ও অন্যান্য ঘুম-আনা ওষুধ এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি বেড়ে যায়। কিটোটিফেন বিরল ক্ষেত্রে খিঁচুনির প্রবণতা বাড়াতে পারে, তাই মৃগী রোগে সতর্ক থাকুন। ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়াল রাখুন — কিছু সিরাপে চিনি থাকে। রিলিভার ইনহেলারসহ হাঁপানির অন্য ওষুধ প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চালিয়ে যান — কিটোটিফেন সেগুলোর বিকল্প নয়।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

কিটোটিফেন অ্যালকোহল, ঘুমের ওষুধ, দুশ্চিন্তার ওষুধ, ওপিওয়েড ব্যথানাশক ও অন্যান্য ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিনের নিদ্রাকর প্রভাব বাড়িয়ে দেয় — এসব সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলুন। বিশেষ সতর্কতা: মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে কিটোটিফেন বিরল ক্ষেত্রে রক্তের প্লাটিলেট কমার সাথে যুক্ত হয়েছে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। এটি ত্বকের অ্যালার্জি পরীক্ষার ফল ঢেকে দিতে পারে; পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বন্ধ রাখুন। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

কিটোটিফেনে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। স্তন্যদানকালে এটি সুপারিশ করা হয় না, এবং প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত বয়সের নিচের শিশুদের (পণ্যভেদে সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের কম) সিরাপ কেবল চিকিৎসকের সিদ্ধান্তেই দেওয়া উচিত। মৃগী রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের ভিন্ন বিবেচনা ছাড়া এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়। কেবল চিকিৎসক স্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করা উচিত; অনেক চিকিৎসক দীর্ঘ নিরাপত্তা-রেকর্ডসম্পন্ন বিকল্প পছন্দ করেন। স্তন্যদান: কিটোটিফেন বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঝিমিয়ে দিতে পারে, তাই স্তন্যদানকালে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হলে অ্যালার্জি ও হাঁপানির চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। সিরাপের বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। সব ফর্ম শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — সিরাপ মিষ্টি বলে শিশুরা আকৃষ্ট হতে পারে — এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হলে কখনো ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Asmafen খেলে কি আমার শিশু স্কুলে ঝিমাবে?

হতে পারে, বিশেষত প্রথম এক-দুই সপ্তাহে। শরীর মানিয়ে নিলে ঝিমুনি সাধারণত কমে যায়। সন্ধ্যার ডোজ ঠিকমতো দেওয়া, বা চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে কম ডোজে শুরু করা — এতে সুবিধা হয়। দুই সপ্তাহ পরও ক্লাসে ঝিমুনি থাকলে চিকিৎসককে জানান — ডোজ বা সময় বদলানোর দরকার হতে পারে।

হাঁপানিতে কাজ পেতে আমার শিশুকে কত দিন Asmafen খাওয়াতে হবে?

Asmafen একটি প্রতিরোধমূলক ওষুধ, যার প্রভাব ধীরে ধীরে তৈরি হয় — প্রতিদিন খাওয়ালে সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ পর লক্ষণীয় উপকার দেখা যায়, আর পূর্ণ প্রভাব পেতে ৮–১২ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। শিশু সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত খাওয়াতে থাকুন এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না; সময় হলে চিকিৎসক ধীরে ধীরে কমিয়ে দেবেন।

শুরু হয়ে যাওয়া হাঁপানির অ্যাটাক কি Asmafen থামাতে পারে?

না। Asmafen কেবল সপ্তাহের পর সপ্তাহ প্রতিদিন খেলে অ্যাটাক প্রতিরোধ করে; দ্রুত উপশমের ক্ষমতা এর নেই। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা সাঁই সাঁই শব্দ হলে চিকিৎসকের দেওয়া দ্রুত কার্যকর রিলিভার ইনহেলার (যেমন সালবিউটামল) ব্যবহার করুন এবং উপসর্গ না কমলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। পাশাপাশি Asmafen নিয়ম অনুযায়ী চালিয়ে যান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: