ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Asiben 400 mg Tablet — Albendazole

Tablet

Asiben 400 mg Tablet

জেনেরিক: অ্যালবেনডাজল

প্রস্তুতকারক: Asiatic Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Anthelmintic (Benzimidazole)

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 1.00
Tablet ৳ 1.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Asiben কী?

Asiben 400 mg Tablet-এ albendazole আছে, যা benzimidazole ধরনের কৃমিনাশক ওষুধ। এটি রাউন্ডওয়ার্ম, হুকওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম ও পিনওয়ার্মের মতো কৃমি সংক্রমণে ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু অন্যান্য পরজীবী সংক্রমণেও ব্যবহার হতে পারে।

Asiben 400 mg tablet হলো Asiatic Laboratories Ltd. এর একটি ব্রড-স্পেকট্রাম কৃমিনাশক ওষুধ, যাতে Albendazole রয়েছে। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কৃমির ওষুধ — গোলকৃমি, বক্রকৃমি (হুকওয়ার্ম), চাবুককৃমি, সুতাকৃমিসহ বিভিন্ন অন্ত্রের পরজীবীর বিরুদ্ধে কার্যকর। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হাইডাটিড রোগ ও নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো টিস্যু সংক্রমণেও উচ্চ মাত্রায় দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত হয়।

Albendazole কৃমির গ্লুকোজ শোষণের ক্ষমতা বন্ধ করে দেয় — গ্লুকোজই তাদের শক্তির প্রধান উৎস। শক্তি না পেয়ে কৃমি অবশ হয়ে মারা যায় এবং পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়। মাটি, অপরিষ্কার হাত ও দূষিত খাবারের মাধ্যমে কৃমি পরিবারের মধ্যে সহজে ছড়ায় বলে পরিবারের সবাই একসাথে ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • গোলকৃমি (অ্যাসকারিস) সংক্রমণ
  • বক্রকৃমি (হুকওয়ার্ম) ও চাবুককৃমি সংক্রমণ
  • সুতাকৃমি (এন্টারোবিয়াস) সংক্রমণ
  • স্ট্রংগিলয়েডস ও মিশ্র অন্ত্রের কৃমি সংক্রমণ
  • শিশুদের জিয়ার্ডিয়াসিস (চিকিৎসকের পরামর্শে)
  • হাইডাটিড রোগ ও নিউরোসিস্টিসারকোসিস (বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে)

সেবনবিধি ও মাত্রা

সাধারণ অন্ত্রের কৃমিতে প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য Asiben এর স্বাভাবিক ডোজ একটি মাত্র ৪০০ মি.গ্রা. — খাবারের সাথে বা খালি পেটে খাওয়া যায়; চিবানোর ট্যাবলেট ভালোভাবে চিবিয়ে খান। সুতাকৃমিতে প্রায়ই ২ সপ্তাহ পর আরেকটি ডোজ লাগে, আর হুকওয়ার্ম বা চাবুককৃমিতে চিকিৎসকের পরামর্শে ৩ দিন খেতে হতে পারে। ১–২ বছরের শিশুদের সাধারণত ২০০ মি.গ্রা. দেওয়া হয় — চিকিৎসকের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন। পরিবারের সবাই একসাথে ওষুধ খান, এবং জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুযায়ী শিশুদের প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয়। টিস্যু সংক্রমণের ডোজ অনেক বেশি এবং অবশ্যই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিতে হবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

একক ডোজে অ্যালবেনডাজল খুব কমই সমস্যা করে। কারো কারো হালকা পেটব্যথা, বমিভাব, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা হতে পারে, যা নিজে থেকেই সেরে যায়। কৃমির সংখ্যা বেশি হলে কৃমি মারা যাওয়ার সময় সাময়িক পেটের অস্বস্তি হতে পারে। টিস্যু সংক্রমণে উচ্চ মাত্রায় দীর্ঘ চিকিৎসায় লিভার এনজাইমের পরিবর্তন, চুল পাতলা হওয়া, জ্বর বা রক্তকণিকা কমে যেতে পারে — এসব রোগীর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন। র‍্যাশ, জন্ডিস বা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসকের কাছে যান।

সতর্কতা

কৃমির ওষুধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা জরুরি: খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, শাকসবজি ভালোভাবে ধোয়া এবং বাইরে স্যান্ডেল পরা — এতে পুনঃসংক্রমণ ঠেকানো যায়। পরিবারের সবাইকে একই দিনে ওষুধ খাওয়ান। লিভারের রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন; দীর্ঘ কোর্সে লিভার ও রক্তের পরীক্ষা প্রয়োজন। সন্তান ধারণক্ষম নারীরা ওষুধ খাওয়ার আগে নিশ্চিত হন যে গর্ভবতী নন, এবং উচ্চ মাত্রার চিকিৎসার সময় ও কিছুদিন পর পর্যন্ত গর্ভধারণ এড়িয়ে চলুন।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

সাধারণ একক ডোজের কৃমিনাশক চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ওষুধ মিথস্ক্রিয়া বিরল। তবে দীর্ঘ উচ্চ মাত্রার চিকিৎসায় ডেক্সামেথাসন, প্রাজিকোয়ান্টেল ও সিমেটিডিন অ্যালবেনডাজলের মাত্রা বাড়ায়, আর খিঁচুনির ওষুধ কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও ফেনোবারবিটাল তা কমিয়ে দেয়। আঙুরের রস (গ্রেপফ্রুট জুস) শোষণ বাড়াতে পারে। লম্বা কোর্স দেওয়া হলে আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

অ্যালবেনডাজল বা অন্য বেনজিমিডাজল জাতীয় ওষুধে (যেমন মেবেনডাজল) অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়া যাবে না। গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে এটি নিষিদ্ধ। ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের সাধারণত দেওয়া হয় না। চোখের রেটিনায় সিস্টিসারকোসিস থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন — মৃত পরজীবী চোখের ক্ষতি করতে পারে।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায়, বিশেষত প্রথম তিন মাসে অ্যালবেনডাজল নিষিদ্ধ — গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতির ঝুঁকি আছে। ওষুধ খাওয়ার আগে নিশ্চিত হন যে আপনি গর্ভবতী নন। গর্ভাবস্থায় কৃমিনাশক প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে কেবল প্রথম তিন মাসের পরে চিকিৎসকের নির্দেশনায় দেওয়া হয়। স্তন্যদান: একক ডোজ সাধারণত স্তন্যদানকালে গ্রহণযোগ্য, তবে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ট্যাবলেট মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পরিবারের সবাই কি একসাথে Asiben খাবে?

হ্যাঁ। মাটি, হাত ও খাবারের মাধ্যমে কৃমি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহজে ছড়ায়, তাই শুধু একজন ওষুধ খেলে আবার সংক্রমণ হয়। একই দিনে পরিবারের সবাইকে Asiben খাওয়ালে এবং সাথে হাত ধোয়া ও নখ কাটার অভ্যাস রাখলে কৃমির সংক্রমণ চক্র ভেঙে যায়।

শিশুদের কত দিন পরপর Asiben খাওয়ানো উচিত?

বাংলাদেশের জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুযায়ী ১–২ বছর বয়স থেকে শিশুদের প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয়। সাধারণত Asiben এর একটি ডোজই দেওয়া হয় (১–২ বছরে ২০০ মি.গ্রা., ২ বছরের ওপরে ৪০০ মি.গ্রা.)। শিশুর গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়লে চিকিৎসক ভিন্ন নিয়ম দিতে পারেন।

Asiben খাওয়ার পর কি পায়খানার সাথে কৃমি বের হবে?

কখনো কখনো হ্যাঁ। Asiben কৃমি মেরে ফেলার পর কয়েক দিনের মধ্যে বড় গোলকৃমি পায়খানার সাথে দৃশ্যমানভাবে বের হতে পারে — এটি স্বাভাবিক এবং ওষুধ কাজ করেছে তার লক্ষণ। ছোট কৃমি সাধারণত হজম হয়ে যায়, দেখা যায় না। দুই সপ্তাহ পরেও জীবিত কৃমি বের হলে আবার ডোজ নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: